আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ সংখ্যক ৩০ বা এর বেশি রানের ইনিংস খেলে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক অ্যামেলিয়া কের। টি-টোয়েন্টিতে টানা ১০ ইনিংসে ত্রিশোর্ধ্ব রানের ইনিংস খেলে তিনি করেছেন ৫৫৪ রান।
রোববার (২২ মার্চ) ঘরের মাঠ ওয়েলিংটনে চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে প্রোটিয়াদের ৬ উইকেটে হারায় নিউজিল্যান্ড। এক ম্যাচ বাকি থাকতেই স্বাগতিকরা ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করেছে।
আগে ব্যাট করতে নেমে প্রোটিয়া মেয়েদের পুঁজি ছিল ১৫৯ রানের। সোফি ডিভাইনের ৩৪ বলে ৬৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে ৯ বল হাতে রেখেই পেরিয়েছে কিউইরা। ৩১ রান করেন অ্যামেলিয়া কের।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চলমান টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রেখেছেন কের। মাউন্ট মঙ্গানুইতে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৪৪ বলে ৭৮ রানের ইনিংস খেলার পর, হ্যামিল্টনে ১৮ বলে ৩২ এবং অকল্যান্ডে ২৮ বলে ৩০ রান করেন তিনি। সর্বশেষ ১০ ইনিংসে (১১ ম্যাচে) কেরের সংগ্রহ ৫৫৪ রান, স্ট্রাইকরেট ১৪২। পাশাপাশি বল হাতেও দারুণ পারফরম্যান্সে ১২টি উইকেট নিয়েছেন, যেখানে ইকোনমি রেট মাত্র ৬.৭৪।
মেয়েদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এতদিন টানা সর্বোচ্চ ৯ ইনিংসে ৩০+ রানের ইনিংস খেলার রেকর্ড ছিল তিন ব্যাটারের। সেই কীর্তি শ্রীলঙ্কার চামারি আতাপাত্তু ও রোমানিয়ার রেবেকা ব্লেকের সঙ্গে ভাগাভাগি করছিলেন কের। এবার অপর দুজনকেই তিনি ছাড়িয়ে গেলেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সিডনির আইকনিক স্থাপনা অপেরা হাউস ও হারবার ব্রিজের মনোরম পটভূমিতে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হলো বাংলা হান্ড্রেড লিগ (বিএইচএল)-এর স্বপ্নিল ট্রফি। এই বিশেষ মুহূর্তকে আরো তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক তারকা ও টুর্নামেন্টের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ইমরুল কায়েস। অপেরা হাউসের সামনে ট্রফি উন্মোচনের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ক্রিকেট আয়োজন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটির কোনো ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ট্রফি বিশ্বের অন্যতম দর্শনীয় এই স্থানে উন্মোচনের ঘটনা এবারই প্রথম।যা নিঃসন্দেহে এক নতুন মাইলফলক। অনুষ্ঠানের শুরুতেই অংশগ্রহণকারী ছয় দলের অধিনায়কদের উপস্থিতিতে জার্সি উন্মোচন করা হয়। এতে প্রবাসী কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন, যার মধ্যে ছিলেন প্রোপার্টি ওয়ানের কর্ণধার মোহাম্মদ আলী শিকদার, ইউজিএস-এর ডিরেক্টর সেলিম রেজা এবং অস্ট্রেলিয়া আরব বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট জর্জ বুসমরা। আয়োজনে অংশ নিয়ে সংশ্লিষ্টরা ভবিষ্যতে এই টুর্নামেন্টকে আরো বড় ও আন্তর্জাতিক মানের পরিসরে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রপার্টি ওয়ানের কর্ণধার মোহাম্মদ আলী শিকদার বাংলা কমিউনিটির ক্রীড়া উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। অন্যদিকে, এমন ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ইমরুল কায়েস জানান, আগামী মৌসুমে টুর্নামেন্টকে আরো আকর্ষণীয় ও প্রতিযোগিতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। টুর্নামেন্ট ডিরেক্টর আতিকুর রহমান সজীব জানান, গত মাসে সিডনির ল্যাকেম্বায় সফল অকশনের পর আয়োজনের ভিন্নতা ও আকর্ষণ বাড়াতেই অপেরা হাউস ও হারবার ব্রিজের কোল ঘেঁষে এমন ব্যতিক্রম আয়োজনের ভাবনা। যা পরবর্তীতেও ধরে রাখার প্রত্যয় তার। রবিবার থেকে শুরু হবে মাঠের লড়াই। ১৩টি ম্যাচের জমজমাট লড়াইয়ের পর সব কিছু ঠিক থাকলে ফাইনাল ১৬ মে। ক্রিকেট এই টুর্নামেন্ট সামনে রেখে প্রবাসীদের মাঝে ভিন্ন রকমের আনন্দ উদ্দীপনা কাজ করছে।
স্প্যানিশ ফুটবল ক্লাবের মালিক হলেন আর্জেন্টিনার তারকা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি| স্পেনের পঞ্চম টায়ারের ক্লাব কর্নেয়া ক্লাব কিনেছেন তিনি| এই প্রথমবারের মতো ইউরোপের কোনো ক্লাবের মালিক হলেন মেসি| তবে উরুগুয়ের পেশাদার ক্লাব দেপোর্তিভো এলএসএম ক্লাবে বিনিয়োগ রয়েছে তার| কর্নেয়া ক্লাবের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, আনুষ্ঠানিকভাবে স্প্যানিশ ফুটবলের পঞ্চম টায়ারে থাকা কর্নেয়া ক্লাবের মালিক হয়েছেন আটবারের ব্যালন ডি'অর জয়ী লিওনেল মেসি| এতে বার্সেলোনার সাথে মেসির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং কাতালোনিয়ায় খেলাধুলা ও স্থানীয় প্রতিভার বিকাশে তার অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করবে| ক্লাব কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ‘মেসির আগমন ক্লাবের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে| এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো- ক্রীড়া ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে সহায়তা করা, ক্লাবের ভিত্তিকে শক্তিশালী এবং তরুণ প্রতিভা বিকাশে বিনিয়োগ বাড়ানো| দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে এই প্রকল্প এগিয়ে যাবে|’ ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কর্নেয়া| ২০১৩-১৪ মৌসুমে তৃতীয় টায়ারের লিগ সেগুন্দা ডিভিশন ‘বি’-তে খেলে তারা| ২০২১ সালে কোপা দেল’রের দ্বিতীয় রাউন্ডে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে চমক দেখায় কর্নেয়া| কর্নেয়া স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা দেড় হাজার| এই ক্লাব থেকেই উঠে এসেছেন জোর্ডি আলবা, গেরার্ড মার্টিন এবং ডেভিড রায়ার মতো তারকারা|
আসন্ন বিশ্বকাপের আকাশ ছোঁয়া টিকিটের দাম নিয়ে আবারো সাফাই গাইলেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় হবে বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাওয়া একাধিক দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে টিকিটের আকাশ ছোঁয়া মূল্যের কারণে ভক্ত-সমর্থকদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ফিফা। কেউ কেউ একে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু এনিয়ে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই ইনফান্তিনোর। বিশ্বের সর্বোচ্চ ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান নতুন বক্তব্যে জানালেন, এই পদক্ষেপটি আর্থিকভাবে অপরিহার্য। আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে তিন ক্যাটাগরির টিকিটমূল্য প্রকাশ করে আগে থেকেই সমালোচিত ফিফা। কারণ ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতিতে একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হলেও একেক ম্যাচের টিকিট একেক দামে কিনতে হবে। এমনিতে টিকিট কিনতে হবে উচ্চমূল্যে, ডায়নামিক প্রাইসিংয়ের কারণে ক্ষেত্রবিশেষে সেটি আরও ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়ায়। এবার গ্যালারির সামনে সারিতে বসে খেলা দেখতে নতুন মূল্য প্রকাশ করেছে ফিফা। আসনপ্রতি দর্শকদের গুনতে হবে ৪১০৫ ডলার বা ৫ লাখ টাকারও বেশি। তীব্র সমালোচনা সত্ত্বেও বর্তমান মূল্য কাঠামোতে অটল থাকার কারণ স্পষ্ট করলেন ফিফা প্রধান। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, ৩৯ দিন ধরে চজলতীব্র সমালোচনা সত্ত্বেও নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি কেন বর্তমান মূল্য কাঠামোতে অটল রয়েছে, তা স্পষ্ট করতে এগিয়ে এসেছেন ফিফা প্রধান। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, ৩৯ দিন ধরে চলা এই টুর্নামেন্ট থেকে অর্জিত আয় দিয়েই দুটি আসরের মধ্যবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাপী কার্যক্রম টিকিয়ে রাখে ফিফা। ফরাসি গণমাধ্যম লে’কিপ-কে ইনফান্তিনো বলেছেন, ‘ফিফার জন্য প্রধান ও এখন পর্যন্ত একমাত্র আয়ের উৎস হলো বিশ্বকাপ। বাকি ৪৭ মাসের জন্য, পরবর্তী বিশ্বকাপ পর্যন্ত আমরা এই অর্থ খরচ করে থাকি।’ শুধু টিকিট নয়, যাতায়াত ও অন্যান্য খরচও ভক্তদের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের কিছু স্টেডিয়ামে পার্কিং খরচই টিকিটের চেয়েও বেশি। আবার গণপরিবহনে নির্ধারিত ভাড়া বাড়ছে কয়েক গুণ।