খেলাধুলা

বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে গাজায় স্পেনের পক্ষে উচ্ছ্বাস

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

অবশেষে অপেক্ষার অবসান। বিশ্বফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট কার মাথায় উঠছে, তা নির্ধারণ করতে আজ নিউ জার্সিতে মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন ও আর্জেন্টিনা।

 

এই ম্যাচ ঘিরে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায়ও ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। অনেক ফিলিস্তিনি সমর্থক স্পেনকে সমর্থন করছেন, কারণ তাদের বিশ্বাস—ফিলিস্তিনের প্রতি স্পেনের রাজনৈতিক ও মানবিক অবস্থানই এই সমর্থনের প্রধান কারণ।

 

২০২৪ সালের মে মাসে স্পেন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ তখন বলেছিলেন, এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য ছিল ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে এগিয়ে নেওয়া, গাজার মানবিক সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখা, যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।

 

স্পেন জাতীয় দলের কয়েকজন খেলোয়াড় ও কোচও গাজার মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন লামিনে ইয়ামাল এবং ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলা। ফিলিস্তিনিদের কাছে এসব পদক্ষেপ ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রতীকী গুরুত্ব বহন করছে।

 

গাজার পঙ্গুদের ফুটবল দল গাজা আল ইরাদা (গাজা ডিটারমিনেশন)-এর প্রধান কোচ হাতেম আল মাগরিবি বলেন, ‘পুরো ফিলিস্তিনি জাতি চায় স্পেন বিশ্বকাপ জিতুক।’ 

 

তিনি বলেন, ‘এই খেলোয়াড়রা তাদের পা বা হাত হারিয়েছে, কিন্তু যারা ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশ করার শক্তি হারায়নি।’

 

এ সময় তিনি বিশ্বকাপ চলাকালে প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানানোর জন্য মিসরের কোচ হোসাম হাসানকেও ধন্যবাদ জানান।

 

বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে বিশ্বজুড়ে যেমন উত্তেজনা বাড়ছে, তেমনি গাজাতেও ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে। তবে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরাইলি হামলার কারণে টুর্নামেন্টের ম্যাচ দেখা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠেছে।

 

সাবেক ফুটবলার ও স্টেডিয়াম ব্যবস্থাপক আদনান আল আফিফি বলেন, ‘বিদ্যুৎ থাকলেই কেবল মানুষ খেলা দেখতে পারে। কিন্তু জ্বালানির সংকট ও অতিরিক্ত দামের কারণে জেনারেটরও চালানো যাচ্ছে না। এর মূল্য দিচ্ছেন সাধারণ ফিলিস্তিনিরা।’

 

যুদ্ধের কারণে প্রায় হারিয়ে যাওয়া ক্রীড়া পরিবেশ কিছুটা ফিরিয়ে আনতে গাজা সিটির প্যালেস্টাইন স্পোর্টস ক্লাবে বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রদর্শনী ম্যাচের আয়োজন করছেন আল-আফিফি। বর্তমানে এটিই গাজা উপত্যকার একমাত্র সচল ফুটবল ক্লাব, যেখানে খেলোয়াড়রা অনুশীলন ও খেলতে পারেন।

 

বৃহস্পতিবার ও শনিবার সেখানে ফিলিস্তিন ও স্পেনের প্রতিনিধিত্বকারী দুটি দলের মধ্যে বিশ্বকাপ অনুকরণে দুটি প্রদর্শনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাচগুলোতে রেফারির পাশাপাশি প্রতীকী ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবস্থাও রাখা হয়, যাতে খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক ম্যাচের পরিবেশ অনুভব করতে পারেন।

 

৩৭ বছর বয়সী আল-আফিফি বলেন, ‘পুরো পরিবেশ ছিল আবেগ ও ইতিবাচকতায় ভরা। স্পেন জাতীয় দলের প্রতি আমাদের সমর্থনের এটিই ছিল সবচেয়ে বড় প্রকাশ।

 

৩৩ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি আহমেদ আল বোজম বলেন, ‘আমি পুরোপুরি স্পেনের পক্ষে। কারণ তারা ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে।’ গাজার অনেক মানুষের মধ্যেই এমন অনুভূতি রয়েছে। 

 

এর পেছনে রয়েছে ইসরাইলের যুদ্ধের সময় ফিলিস্তিন বিষয়ে স্প্যানিশ সরকারের অবস্থান এবং বার্সেলোনার তারকা লামিনে ইয়ামালসহ স্পেনের কয়েকজন ক্রীড়াবিদের প্রকাশ্য সংহতি।

 

এদিকে হাইভোল্টেজ এই ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।  খবর টাইমস অব ইসরাইলের

 

ইসরাইলে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত রাব্বি শিমন অ্যাক্সেল ওয়ানিশের সঙ্গে বৈঠকে নেতানিয়াহু এই সমর্থনের কথা জানান। 

 

এ সময় রাষ্ট্রদূত আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর পক্ষ থেকে নেতানিয়াহুর জন্য একটি বার্তাও পৌঁছে দেন।  জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ‘হাভিয়ের, আপনি একজন সত্যিকারের বন্ধু।  আপনি আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমরা আর্জেন্টিনার পাশে আছি এবং নানা ক্ষেত্রেই তাদের সমর্থন করি। আগামীকালের (রোববার) ম্যাচের জন্যও শুভকামনা রইল।  শুভকামনা আর্জেন্টিনার জন্য।’

 

সূত্র: আল-জাজিরা

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
চোখের জলে বিশ্বকাপকে বিদায় বললেন মেসি

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারল আর্জেন্টিনা। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জেতা হলো না। অধিনায়ক লিওনেল মেসি রানার্সআপ মেডেল গলায় ঝুলালেন স্বাভাবিকভাবে। তারপর মঞ্চ থেকে নেমে আর্জেন্টাইন ভক্ত-সমর্থকদের দিকে যেতেই আবেগে ভাসলেন তিনি। হৃদয় ভাঙার দুঃখ বেরিয়ে এলো চোখের জল হয়ে। মাঠের মধ্যেই কান্নায় ভেঙে পড়েন মেসি। আর্জেন্টাইন অধিনায়ক নিউ জার্সির এই জমজমাট লড়াইয়ে স্পেনের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। তার দল ১২০ মিনিটে জালের ঠিকানা খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়। আমেরিকার এই টুর্নামেন্টটি ছিল প্রায় নিশ্চিতভাবেই মেসির শেষ। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর তার আবেগঘন প্রতিক্রিয়া একরকম সেটাই নিশ্চিত করেছিল। যখন ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজল, তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং দুই হাত দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে নেন। সতীর্থ বা প্রতিপক্ষ কেউই তাকে সান্ত্বনা দিতে পারছিলেন না। রানার্স-আপ মেডেল সংগ্রহের জন্য নিজেকে সামলে নেওয়ার পর সেই মুহূর্তের আবেগের চাপ ফুটবলের সর্বকালের সেরা এই খেলোয়াড়ের জন্য বড্ড বেশি হয়ে গিয়েছিল। ফলে স্পেন ট্রফি তোলার ঠিক কয়েক মিনিট আগেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। মেসি হয়তো ইন্টার মায়ামির  সঙ্গে খেলে যাবেন। তবে তার দেশের হয়ে আর কখনোই সর্বোচ্চ স্তরে খেলার সম্ভাবনা নেই। কারণ পরবর্তী বিশ্বকাপ যখন অনুষ্ঠিত হবে তখন তার বয়স হবে ৪৩ বছর। মেসি তার তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে খেললেন। চার বছর আগে তিনি কাতারে তার দেশের হয়ে ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিলেন। ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে রানার্সআপ হন তিনি। এক নজরে মেসির বিশ্বকাপ ৬টি ফিফা বিশ্বকাপে মেসি ৩৪টি ম্যাচ খেলেছেন। গোল ২১টি গোল। ১২টি অ্যাসিস্ট এবং ১টি চ্যাম্পিয়নশিপ ও ২ বার রানার্স-আপ। মেসির ক্যারিয়ারের ফিফা বিশ্বকাপ পরিসংখ্যান: ৬টি টুর্নামেন্ট ৩৪টি ম্যাচ (ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি) ২১টি গোল (ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ) ১২টি অ্যাসিস্ট (ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি) ২৩টি জয় ৫টি ড্র ৬টি হার ১৬ বার ম্যাচ সেরা নির্বাচিত ১টি চ্যাম্পিয়নশিপ (২০২২) ২টি রানার্সআপ ফিনিশ (২০১৪, ২০২৬)

মারিয়া রহমান জুলাই ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ জয়ের পর ব্যক্তিগত অর্জনেও স্পেনের একচ্ছত্র আধিপত্য

ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে স্পেনের উল্লাস। ছবি-বিবিসি

অতিরিক্ত সময়ের গোলে মেসিদের হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফাইনালে অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নামছে স্পেন

ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের নিরাপত্তায় কড়াকড়ি, ফাইনালের আগে স্টেডিয়ামে প্রবেশ নিয়ে শঙ্কা

স্পেন–আর্জেন্টিনার মধ্যকার বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ দেখতে মাঠে যাবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই এই ম্যাচটিকে ‘ন্যাশনাল স্পেশাল সিকিউরিটি ইভেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।  স্পেন–আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচ দেখতে মাঠে আসা সব দর্শকের শরীর ও ব্যাগ আলাদাভাবে তল্লাশি করছে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস। এ কারণে ম্যাচ শুরুর আগে ৮২ হাজার ৫০০ টিকিটধারীর সবাই স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।   মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের একজন এজেন্ট ‘দ্য গার্ডিয়ান’কে জানিয়েছেন, স্টেডিয়ামে আসা সমর্থকদের বিমানবন্দরের মতো কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। ম্যাচ শুরুর পাঁচ ঘণ্টা আগেই আকাশপথে হেলিকপ্টার টহলসহ হাজার হাজার সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় সময় আজ সকাল ৮টা থেকেই ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মী ও সাংবাদিকেরা বিশাল লাইন ধরেছেন। সকাল নয়টায় গেট খোলার সময় সেই সংখ্যা প্রায় ১০ হাজারে পৌঁছায়। স্টাফদের মাত্র একটি প্রবেশপথ দিয়ে ভেতরে পাঠানো হচ্ছে, যেখানে অ্যাক্রেডিটেশন পাস স্ক্যান করার জন্য মাত্র দুজন কাজ করছেন। এরপর তাদের ছয়টি এয়ারপোর্ট স্ক্যানারে পার হয়ে ব্যক্তিগত শরীর তল্লাশির জন্য আরেকটি দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। ম্যাচ শুরুর ঠিক এক ঘণ্টা আগে নিজের অফিশিয়াল হেলিকপ্টার ‘মেরিন ওয়ান’ চড়ে স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে ট্রাম্পের। ফাইনাল শেষে বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন তিনি।

মারিয়া রহমান জুলাই ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার একাদশে তিন পরিবর্তন

ছবি: সংগৃহীত

খাঁটি সোনা ও কঠোর নিয়ম, বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে ৫টি ইন্টারেস্টিং ফ্যাক্ট

ছবি: সংগৃহীত

সহজ সমীকরণ কঠিন করে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ জিততে দুই ‘অভিশাপ’ কাটাতে হবে আর্জেন্টিনাকে

কাতার বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তি থেকে মাত্র এক ম্যাচ দূরে আছে আর্জেন্টিনা। আজ রাতে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের বৈতরণি পার হলেই দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা উঁচিয়ে ধরবেন লিওনেল মেসি। কিন্তু সেই শিরোপা জিততে হলে শুধু স্পেনের বিপক্ষে নয়, আর্জেন্টিনাকে লড়তে হবে পরিসংখ্যানের দুই ‘অভিশাপের’ বিপক্ষেও, কয়েক দশক ধরে যা তাড়া করে ফিরছে বিশ্বজয়ীদের।    ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর হওয়ার ‘অভিশাপ’ আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ শুরু করেছিল ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থেকে। মাঝপথে শীর্ষস্থান হারালেও সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আবারও পুনরুদ্ধার করে শীর্ষস্থান। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন গল্প, ১৯৯৩ সালে ফিফা র্যাঙ্কিং চালু হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো দলই ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপ জিততে পারেনি।   ১৯৯৪ যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ থেকে শুরু। সেবার র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা জার্মানি বাদ পড়েছিল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। তিন দশক পেরিয়ে গেলেও সেই অভিশাপ এখনো কাটেনি। র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দলের কপালে বিশ্বকাপ শিরোপা আর জোটে না। আর্জেন্টিনা কি এবার পারবে সেই অভিশাপ কাটিয়ে। শিরোপাটা নিজেদের করে নিতে?    পরপর দুই ট্রফির অপেক্ষা ৬৪ বছরের দ্বিতীয় অভিশাপটা বিশ্বজয়ী দলের গায়ে লেপ্টে আছে ৬০ বছরের বেশি সময় ধরে। পরপর দুবার বিশ্বকাপ জেতার রেকর্ড আছে মাত্র দুটি দলের। ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে ইতালি এবং ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে ব্রাজিল। এই দুই দল বাদে পরপর দুবার বিশ্বকাপ জিততে পারেনি আর কোনো দলই।   তবে মজার ব্যাপার হলো এই দুই দলই জিতেছিল জুলে রিমে ট্রফি। নতুন বিশ্বকাপ ট্রফি আসার পর পরপর দুবার সেটা উঁচিয়ে ধরার সৌভাগ্য হয়নি কারোরই। এর মধ্যে পরপর দুবার ফাইনাল খেলেছে আর্জেন্টিনা, জার্মানি (১৯৮৬ ও ১৯৯০), টানা তিনবার খেলেছে ব্রাজিল (১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২। কিন্তু পরপর দুবার নতুন বিশ্বকাপ জেতা হয়নি কারোরই।   স্পেনের বিপক্ষে তাই লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা আজ মাঠে নামবেন ‘অভিশাপ’ কাটানোর লড়াইয়ে। যদি ‘অভিশাপ’ কাটিয়ে শিরোপা ঘরে তুলতে পারে, তবেই জার্মানি, ইতালির সঙ্গে নাম লেখা হবে আর্জেন্টিনার। জার্সিতে শোভা পাবে চারটি তারকা। নতুন করে ইতিহাস কি গড়তে পারবে তারা?

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সামনে ১৪৪ রানের লক্ষ্য

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে গাজায় স্পেনের পক্ষে উচ্ছ্বাস

ব্রাজিলের রোনালদো। ছবি: সংগৃহীত

চ্যাম্পিয়নের নাম জানিয়ে আর্জেন্টিনাকে দুঃসংবাদ দিলেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি

0 Comments