মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার শিলুয়া এলাকার বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাসির উদ্দীন মিঠুর নেতৃত্বে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসময় বিএনপি প্রার্থীর সহযোগীরা হামলা চালিয়ে গাড়ি ভাংচুর করেছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের শিলুয়া এলাকা ও নাসির উদ্দীন মিঠু জুড়ীর বাসার সামনে ঘটনাগুলো ঘটে।
হামলার ঘটনায় জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের বড় ভাই আতিকুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। এছাড়া জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রহমান, শিবির নেতা তারেক, আব্দুল্লাহ, এনসিপির একজন নেতাসহ অন্তত ১০ জন মারাত্মক আহত হন। পরে তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের সিলেট হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হামলায় আহত তারেক রহমান জানান, চাকু দিয়ে দুই জনকে স্টেপ করা হয়েছে। এছাড়াও তাদের কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছেন। এদিকে জুড়ী বাজারে বিএনপি প্রার্থী নাসির উদ্দীন মিঠুর বাসার সামনে আরও তিনজন দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছেন। তাদেরকে মিঠুর লোকজন আহত করেছে বলে জানিয়েছেন আব্দুল্লাহ নামের একজন আহত ব্যক্তি।
জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুর রহমান বলেন, নাসির উদ্দীন মিঠুর নেতৃত্বে তাদের উপর হামলা হয়েছে। তিনি নিজেও আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
হামলার খবর শুনে এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাতের মধ্যে জুড়ী থানার সামনে অবরোধ করেন জামায়াত নেতাকর্মীরা এবং সাধারণ জনতা। এসময় থানার সামনে উপস্থিত হয়ে ইউএনও মো. মারুফ দস্তেগী অপরাধীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন। পরে বিক্ষোভরতদের উদ্দেশ্যে কথা বলেন।
মারুফ দস্তেগী বলেন, যেই দুঃখজনক ঘটনাটি ঘটেছে তার জন্য ইতিমধ্যেই একটি মামলা ফাইল করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মামলা ফাইল হবার পরে পুলিশ অপরাধীদের গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তিনি আরও বলেন, আগামীকাল রাতের পরদিন ভোটগ্রহণ হবে। নির্বাচনের সর্বশেষ কার্যক্রম, ব্যালট পেপারসহ অন্যান্য সরঞ্জাম কেন্দ্রে পৌঁছানোর কাজ আগামীকাল সকাল থেকে শুরু হবে। ইলেকশন নির্বিঘ্নে করার জন্য আমাদের হাতে অনেক কাজ রয়েছে। এই কাজগুলো করার জন্য জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।
ইউএনও বলেন, পুলিশ ইতিমধ্যেই অপরাধীদের গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। পরশুদিন নির্বাচনের জন্য বাকি কাজগুলো জনগণের সহযোগিতায় সম্পন্ন করা হবে।
এবিষয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাসির উদ্দীন মিঠু বলেন, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমানসহ কয়েকজন শিলুয়া এলাকায় যান। সেখানে গিয়ে টাকা বিতরণ করার চেষ্টা করলে তার নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। এদিকে আরও কয়েকজন তার বাসার সামনে হামলার চেষ্টা করে। তিনি ইউএনওকে বিষয়টি অবগত করেছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বৈশ্বিক অস্থিরতা, যুদ্ধ বা অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিলে সাধারণত বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগমাধ্যম হিসেবে সোনার দিকে ঝোঁকেন। ফলে মূল্যবান ধাতুটির দামও বেড়ে যায়। কিন্তু এবার চিত্রটা ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে হামলা চালিয়ে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে সোনার দাম বরং নিম্নমুখী। চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি প্রতি ট্রয় আউন্স (৩১ দশমিক ১ গ্রাম) সোনার দাম সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৩০৩ ডলারে উঠেছিল। গত শুক্রবার তা ৪ হাজার ২৩৫ ডলারে নেমে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সোনার দাম কমার এ প্রবণতার প্রধান কারণ, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার না কমানোর আশঙ্কা। উল্টো দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে ধরতে সুদের হার বাড়ানো হতে পারে। মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার পেছনে বড় কারণগুলোর একটি, হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের একটি বড় অংশের জ্বালানি এ পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরানের পাল্টা হামলা শুরু করার পর থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। ফলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় তেল ও গ্যাসের দাম লাফিয়ে বাড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে মূল্যস্ফীতিতে। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে মূল্যস্ফীতি তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটিতে মূল্যস্ফীতির হার এখন ৪ দশমিক ২ শতাংশ। একই সময় যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ফলে খুব শিগগির দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা অনেকটা কমে গেছে। বরং অনেক বিনিয়োগকারী মনে করছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার আরও বাড়ানো হতে পারে। মূল্যস্ফীতির সময় সোনা নিরাপদ বিনিয়োগমাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হলেও সুদের হার বাড়লে সাধারণত ধাতুটির দাম চাপের মুখে পড়ে। কারণ, ব্যাংক আমানতের সুদ বা শেয়ারের মতো লভ্যাংশ সোনা থেকে পাওয়া যায় না। তাই এতে বিনিয়োগ করে লাভ করতে হলে এর দাম বাড়তেই হবে। আর্থিক বাজারবিষয়ক ওয়েবসাইট অপশনস্প্রেডার্স ডটকমের প্রধান অপশন বিশ্লেষক জাস্টিন কার্ডওয়েল বলেন, ‘সোনা এমন একটি সম্পদ, যেটিকে অনেকেই প্রকৃত অর্থের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বিকল্প মনে করেন। তবে এটি থেকে কোনো সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না। এর দাম বাড়লেই শুধু বিনিয়োগকারীরা লাভ করতে পারেন।’ এ কারণেই সুদের হার ও সোনা একে অপরের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী। কার্ডওয়েল বলেন, ‘সুদের হার বেশি থাকলে ও মানুষ ডলারে বেশি বিনিয়োগ করলে সোনার আকর্ষণ অনেকটাই কমে যায়।’ ইরান যুদ্ধের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে মার্কিন ডলারের ওপর। যুদ্ধ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ডলারের দিকে ঝুঁকেছেন। ফলে ডলারের মূল্য বেড়েছে। আর যেহেতু আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ডলারে নির্ধারণ করা হয়, তাই সাধারণত ডলারের দাম বাড়লে সোনার দাম কমে এবং ডলার দুর্বল হলে ধাতুটির দাম বাড়ে। নোবেল গোল্ড ইনভেস্টমেন্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কলিন প্লুম আল–জাজিরাকে বলেন, ‘ডলারের মূল্য শক্তিশালী হলে সোনার ওপর চাপ পড়ে। আবার ডলার দুর্বল হলে সোনার দাম সাধারণত বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে ডলার শক্তিশালী অবস্থানে আছে। তাই সোনার বাজার চাপের মুখে রয়েছে।’ তবে প্লুমের মতে, ডলার ও সোনা—দুটোর ভবিষ্যৎ নিয়েই এখন অনিশ্চয়তা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘চলতি বছর এবং সম্ভবত আগামী কয়েক বছরেও সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হবে, সামনে কী ঘটতে যাচ্ছে।’ কলিন প্লুম বলেন, ‘কয়েক মাস আগেও বাজারে ধারণা ছিল, সামনে সুদের হার কমানো হবে। তাই প্রায় সব ধরনের সম্পদের দামই বাড়ছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এই পরিবর্তনের প্রভাব সব ধরনের সম্পদের ওপরই পড়েছে। তবে সোনার বাজার সুদের হারের পরিবর্তনের প্রতি বিশেষভাবে সংবেদনশীল।’ ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের ওপর সুদের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। তবে ফেডের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে বাজারের প্রত্যাশা পরিমাপকারী সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য বলছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখন ৫০ শতাংশের বেশি। প্লুম বলেন, সোনার বাজার সুদের হার ও মূল্যস্ফীতির টানাপোড়েনের মাঝে পড়েছে। বর্তমানে সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কাই বাজারে বেশি প্রভাব ফেলছে। তাই ধাতুটির দাম চাপের মুখে রয়েছে। তবে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য চুক্তির খবর প্রকাশের পর সোনার দাম আগের দিনের তুলনায় সামান্য বেড়েছে। জাস্টিন কার্ডওয়েলের মতে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনার খবর সোনার জন্য ইতিবাচক। কারণ, এতে মূল্যস্ফীতি কমার আশা তৈরি হয়। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পরিবর্তন রাতারাতি ঘটবে না।
জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, অল্পতেই ধৈর্য হারালে ১৮ কোটি মানুষের দায়িত্ব কীভাবে পালন করবেন? তিনি বলেন, সরকার ৫১ শতাংশ ভোটের ভিত্তিতে ক্ষমতায় থাকার দাবি করলেও দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মতামতকে উপেক্ষা করছে। যে সরকার জনগণ মানে না, সেই সরকার জনগণের সরকার হতে পারে না। শনিবার (১৩ জুন) চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে সমাবেশ আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য। এতে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান। ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে সরাসরি ‘ভুয়া’ আখ্যা দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের এক অনুষ্ঠানে দাবি করেছেন, বিরোধী দল বাজেটে মাদক ও ধূমপানজাত পণ্যের ওপর কর বাড়ানোর প্রতিবাদে মিছিল করেছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভুয়া। বিরোধী দলের কেউ এমন কর্মসূচি পালন করেনি। প্রধানমন্ত্রী একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। তার মুখ থেকে বারবার ভুল তথ্য বের হওয়া দেশের জন্য ক্ষতিকর। যারা তাকে ভুল তথ্য দিচ্ছেন এবং দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে- এমন আশা মানুষ করেছিল। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললেই সরকার অস্বস্তিবোধ করে। দেশে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি আজ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। ভয়ভীতি, মামলা-হামলা বা কারাবাসের হুমকি দিয়ে জনগণের আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না। জামায়াত আমির সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের রায় বাস্তবায়ন না করলে অতীতের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। জেলের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। যারা দেশের জন্য ফাঁসিকেও তুচ্ছ মনে করে, তারা সব সময় প্রস্তুত। তালা যেমন পরিবর্তন হয়, চাবিও পরিবর্তন হয়, এটা মাথায় রাখতে হবে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে জনগণের জীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। সরকার বাজেটে সাধারণ মানুষের আশা- আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জনগণ চরম দুর্ভোগে রয়েছে। অথচ বাজেটে এসব সংকট মোকাবিলায় কার্যকর কোনো দিকনির্দেশনা নেই। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, যদি বাংলাদেশে স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হয়, তাহলে গোটা উপমহাদেশে মুসলিম গণজাগরণ হবে। ভারত ভেঙে খানখান হবে। জনগণের আকাক্সক্ষা ও প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়নেরও দাবি জানান। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ (বীরবিক্রম) বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি জনগণকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সামাজিক অস্থিরতা এবং জননিরাপত্তার সংকট সাধারণ মানুষের জীবনকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। সরকারকে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কার্যকর নেতৃত্ব দিতে হবে। এছাড়া তিনি আন্দরকিলা শাহী জামে মসজিদ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান। এছাড়াও সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রমুখ।
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে নিখোঁজ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সমাবেশে সংগঠনটির নেতারা গুমের অভিযোগ নিয়ে ‘প্রোপাগান্ডা’ ছড়ানোর অভিযোগও তোলেন। শনিবার (১৩ জুন) রাত ৯টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য হয়ে শাহবাগ গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘ছাত্রশিবিরের প্রতি ধিক্কার জানাচ্ছি। তারা ভুক্তভোগী নারীর নাম উল্লেখ করে প্রেস রিলিজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেছে। কথায় কথায় তারা ইসলামের কথা বলে, নারীর অধিকারের কথা বলে; কিন্তু তাদের আসল চরিত্র তাদের কর্মকাণ্ডেই প্রকাশ পেয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর আমির, নির্বাচিত এমপিবৃন্দ এবং শিবিরের বিভিন্ন স্তরের নেতারা একযোগে দেশে আবার গুমের সংস্কৃতি চালু হয়েছে বলে প্রচার চালিয়েছেন। বিগত দুই বছরে যারা মবকে উসকে দিয়েছে, নেতৃত্ব দিয়েছে এবং বিভিন্ন ক্যাম্পাসে প্রোপাগান্ডা ও মিথ্যাচার ছড়িয়েছে, তাদের প্রতি আমরা ধিক্কার জানাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘গুমের মতো রাষ্ট্রীয় অপরাধকে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে আমরা উদ্বিগ্ন। অতীতে শত শত নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছেন, অথচ তাদের প্রতি তাচ্ছিল্য প্রদর্শন করা হচ্ছে।’ ক্যাম্পাস রাজনীতি প্রসঙ্গে ছাত্রদল সভাপতি অভিযোগ করেন, ‘বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন গ্রুপ ও পেজ দখল করে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে, যা ক্যাম্পাসের সহনশীল পরিবেশ নষ্ট করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক এই রাজনীতির সুযোগ নিচ্ছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ।’ সমাবেশে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, ‘কুমিল্লায় যাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, তার নাম আমরা ছাত্রশিবিরের প্রকাশিত কোনো কমিটিতে দেখিনি। শিবির তাদের কেন্দ্রীয় কমিটিও প্রকাশ করেনি।’ তিনি দাবি করেন, ‘শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রেমের সম্পর্কের কারণে অভিযুক্তকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগের বিষয়ে তারা কোনো বিচার করেনি বলে আমরা মনে করি।’ গুমের অভিযোগ প্রসঙ্গে নাসির বলেন, ‘গুমের নাটক মঞ্চস্থ করে তারা অতীতের প্রকৃত গুমের ঘটনাগুলোকে অপমান করেছে। কোনো ঘটনা ঘটলেই জামায়াতের আমির তার ভেরিফায়েড আইডি থেকে গুমের অভিযোগ তোলেন। পাঁচ আগস্টের পর দেশে যত প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে, তার বড় অংশই জামায়াতের আমিরের মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে।’ সমাবেশে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। সমাবেশে অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, সহসভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল ও শাফি ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান ও মাসুদুর রহমান, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মাহমুদ ইসলাম কাজল, ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশচন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা। বক্তারা অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং গুম ও অন্যান্য ইস্যুতে ‘রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা’ বন্ধের আহ্বান জানান।