অন্যান্য

বিএনপি ও জামায়াত জোটের মধ্যেই নির্ধারিত হচ্ছে মূল লড়াই

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে ‘নির্বাচনী জোট গঠন’ নিয়ে আলোচনা, জল্পনা-কল্পনা ও হিসাব-নিকাশ চলছিল, অবশেষে তার ইতি ঘটেছে। মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময়ের আগেই স্পষ্ট হয়ে গেছে—কোন দল কোন জোটে যাচ্ছে। এর ফলে দেশের রাজনীতি এখন কার্যত দুটি বড় জোটে বিভক্ত। একটি হলো বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট, অন্যটি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট। আসন্ন নির্বাচন মূলত এই দুই জোটের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে—এ নিয়ে আর কোনো সন্দেহ নেই। তবে ক্ষমতায় যাওয়ার এই প্রতিযোগিতার পথে জোট ও দলে ভাঙা-গড়ার রাজনীতিও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়েছে।

 

বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে মূলত ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোই রয়েছে। যদিও নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে তাদের কেউ কেউ বিএনপিতে যোগ দিয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এই জোটে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো নিবন্ধিত ইসলামী দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা, যার আওতায় বিএনপি চারটি আসন ছেড়ে দিয়েছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামী এবার বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে নেমেছে। জামায়াত একাধিক ইসলামী দল ছাড়াও গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং শেষ মুহূর্তে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের এলডিপিকেও নিজেদের জোটে যুক্ত করেছে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আসন্ন নির্বাচনে মূল লড়াই তাই বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই জোটের মধ্যে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল। দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার অভিজ্ঞতা, দীর্ঘদিনের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সুসংগঠিত জোট কাঠামো বিএনপিকে এগিয়ে রেখেছে। বিপরীতে জামায়াতের নেতৃত্বে গঠিত জোটটি নতুন হওয়ায় এর টেকসই ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে আসন সমঝোতা, পারস্পরিক বিশ্বাস ও নির্বাচনী সমন্বয়ের ওপর। তবে সংসদ সদস্য হওয়ার লক্ষ্যেই যেভাবে দলে দলে ভাঙাগড়া হচ্ছে, তা রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ইতিবাচক নয়—এমন মতও রয়েছে।

বিএনপির নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে যারা সক্রিয়ভাবে রাজপথে ছিল, তারাই মূলত এবার দলটির নির্বাচনী শরিক। ইতোমধ্যে এসব দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে। যেসব শরিক দলের জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি ও জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, তাদের পছন্দ অনুযায়ী আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। ফলে বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, ঢাকা-১২ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এবং পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর নিজ নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করবেন। এসব আসনে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেবে না।

এ ছাড়া জোটের ঐক্য ও কৌশলের স্বার্থে কিছু অনিবন্ধিত দলের নেতাকে বিএনপিতে যোগদান করিয়ে ধানের শীষ প্রতীক দেওয়া হয়েছে। যদিও এসব দলের সাংগঠনিক ভিত্তি তুলনামূলকভাবে দুর্বল। এমনকি দুটি শরিক দল নিজেদের দল বিলুপ্তও করেছে। এই প্রক্রিয়ায় নিবন্ধিত তিনটি দলের তিনজন শীর্ষ নেতাও বিএনপিতে যোগ দিয়ে বিএনপির প্রতীকে নির্বাচন করছেন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত জোটটি শুরুতে গণভোট ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনমূলক জোট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও পরে তা পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনী জোটে রূপ নেয়। সর্বশেষ এনসিপি ও এলডিপি যুক্ত হওয়ায় এই জোটের শরিক দলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দশে। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, আলোচনার মাধ্যমে তারা দেশের ৩০০ আসনের সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত করেছেন এবং এটি একটি শক্ত ও আস্থাশীল নির্বাচনী জোট।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও স্পষ্ট করে বলেছেন, এটি আদর্শিক নয় বরং পুরোপুরি নির্বাচনী সমঝোতা। জোটের বাইরে আলাদা কোনো প্রার্থী থাকবে না এবং সবাই মিলেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে কাজ করবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মনে করেন, বর্তমান বাস্তবতায় রাজনীতিতে একধরনের মেরূকরণ স্বাভাবিক। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রতিযোগিতা এখন এই দুটি জোটের মধ্যেই কেন্দ্রীভূত হয়েছে। বিএনপির জোট পুরোনো ও পরীক্ষিত হওয়ায় এটি তুলনামূলকভাবে বেশি স্থিতিশীল। অপরদিকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট নতুন হওয়ায় এর ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে নির্বাচনী সময়ের সমন্বয় ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ওপর।

 

তিনি আরও বলেন, সংসদীয় ব্যবস্থায় দ্বিদলীয় বা দ্বিজোটীয় প্রবণতা একটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক বাস্তবতা। বাংলাদেশেও অতীতে যেমন দ্বিজোটীয় রাজনীতি দেখা গেছে, ২০২৬ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবারও সেই প্রবণতা ফিরে এসেছে। তবে কেবল সংসদ সদস্য হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় দল ও প্রতীক বদলে হঠাৎ নতুন জোটে যোগ দেওয়া রাজনীতির সুস্থ সংস্কৃতির জন্য ভালো নয়। এতে আদর্শের চেয়ে ব্যক্তিগত লাভের প্রবণতাই বেশি প্রতিফলিত হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
শাহবাগ নিয়ে স্পিকারের মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানালেন হাসনাত আবদুল্লাহ

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে উদ্দেশ করে ‘দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার’ মন্তব্য করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।   স্পিকারের এমন মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে ফেসবুক পেজে লাইভে এসে প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের যথেষ্ট সময় দেওয়া হয় না।   হাসনাত বলেন, সালাহউদ্দিন সাহেব ৪৫ মিনিট কথা বলেন, আর আমাকে দেওয়া হয় দুই মিনিট। একই বিষয়ে আমি যখন কথা বলতে চাই, তখন আমাকে সীমিত সময় দেওয়া হয়। মানবাধিকার কমিশন নিয়ে আমাকে মাত্র দুই মিনিট সময় দেওয়া হয়েছে, অথচ এই বিষয়ে সালাহউদ্দিন সাহেব ৪০ মিনিট কথা বলেছেন। সুপ্রিম কোর্টের সচিবালয় নিয়েও একইভাবে তাদেরকে দীর্ঘ সময় দেওয়া হয়েছে।   তিনি বলেন, একটা টপিকে একজন ৪০-৪৫ মিনিট কথা বলবেন, আর আমি কথা বলব দুই মিনিট এটা অযৌক্তিক। এই দুই মিনিটের মধ্যে যদি তারা কোনো ভুল বা অযৌক্তিক কথা বলেন, সেটার জবাব দেওয়ার সুযোগও আমাদের দেওয়া হয় না। সময় চাইলে আবার বলা হয়, ‘দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার, ইটস পার্লামেন্ট’। এটা খুবই অন্যায্য। আমরা এই বৈষম্যের বিরোধিতা করেছিলাম বলেই আজ এসব কথা বলা হচ্ছে।   এর আগে গত শুক্রবার ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর বিল’ নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের তর্ক-বিতর্কের সময় নিজের আসন থেকে হাসনাত আবদুল্লাহ দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে স্পিকার ওই মন্তব্য করেন।

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

কারাগার থেকেই নির্বাচনে লড়তে চান ব্যারিস্টার সুমন

ছবি : সংগৃহীত

গুলিস্তানে ১১৭ চোরাই মোবাইলসহ একজন গ্রেপ্তার

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনে সোলার সিস্টেম।

জাতীয় গ্রিডে ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে যবিপ্রবি

ফাইল ছবি
ফ্যাসিবাদ ঠেকানোর অধ্যাদেশ ফেলে দিয়েছে বিএনপি: বিরোধীদলীয় নেতা

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, দুদকসহ যেসব অধ্যাদেশ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত, ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে প্রয়োজন- সেগুলো বিএনপি সবকিছু গায়ের জোরে ফেলে দিয়েছে। এর মাধ্যমে বিএনপি আবার ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়। সেটি হতে দেওয়া হবে না। বুধবার দুপুরে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত এ সভায় তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ করে বিএনপি নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহার নিজেরাই লঙ্ঘন করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে শুরু করে ক্রিকেট বোর্ড, জেলা পরিষদ, বিশ্ববিদ্যালয় সব জায়গায় ক্যু শুরু করেছে। সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ করে গত শুক্রবার সংসদ থেকে ওয়াক আউট করে জামায়াত-এনসিপি জোট। এ বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, সংসদের ভেতরে যতদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে পারব, ততদিন সংসদে থাকব। আগামীতেও চূড়ান্তভাবে পরাজয় হবে ফ্যাসিবাদের, বিজয় হবে জনগণের।   শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি গর্ব করে বলে ১৯৭১, ১৯৯০, ২০২৪- সবকিছু তাদের। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের জন্মই হয়নি। ১৯৭১ সালে জিয়াউর রহমান প্রথমবার নিজের পক্ষ থেকে, পরেরবার আরেকজনের পক্ষ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ফ্যাসিবাদী আমলে মুক্তিযুদ্ধকে কুক্ষিগত করার চেষ্টায় জিয়াউর রহমানকে পাকিস্তানের চর, দালাল বলা হয়েছিল। জামায়াত ওই রাজনীতি আর চায় না। বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, বিএনপি তাদের ৩১ দফা সংস্কারে বাস্তবায়ন করবে বলেছিল। এর প্রথম দফাই ছিল সংবিধান সংস্কার কমিশন। এখন তারা এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা শুধু জাতির সঙ্গে নয়, দলীয় সংস্কারের ৩১ দফার সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বশেষ বয়সসীমা নিয়ে সংসদে আলোচনার দিন সেখানে মব সৃষ্টির অভিযোগ করে শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি সরকার কিছু লোককে জুলাই যোদ্ধা পরিচয়ে দর্শক গ্যালারিতে বসিয়েছিল। আলোচনার এজেন্ডা যখন আসল, তখন সরকারি দল থেকে তাদের ইশারা দেওয়া হলো। বোঝা গেল, এটা পাতানো।   মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। জামায়াত ও ১১ দলের নেতরা বক্তৃতা করেন সভায়। জুলাই শহীদদের পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধারা সংস্কারের পক্ষে কথা বলেন। 

মারিয়া রহমান এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ট্রাইব্যুনাল অবমাননার অভিযোগে যুবলীগ নেতাকে ২ মাসের জেল

ছবি : সংগৃহীত

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরাই হবেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি—প্রস্তাব সরকারের

ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের জাল নোট চক্র ভেঙে দিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আটক ৩

ছবি : সংগৃহীত
সারাদেশে স্কুলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বাড়াতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়োগের নির্দেশ

সারাদেশে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বাড়াতে  অবসরপ্রাপ্ত  ও শারীরিকভাবে সক্ষম শিক্ষকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই তালিকাভুক্ত শিক্ষকদের মধ্য থেকে  প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং  কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব শিরীন আক্তার স্বাক্ষরিত  এক পত্রের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। দেশের সকল জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছাড়াও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দেওয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পুল গঠন সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়েছে, উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক স্বল্পতা এবং এনটিআরসিএ কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগে বিলম্ব হওয়ার কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং গুণগত ও মানসম্পন্ন শিক্ষা দানের উদ্দেশ্যে অভিজ্ঞ এবং শারীরিকভাবে সক্ষম অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সমন্বয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শ মোতাবেক সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি/এডহক কমিটির অনুমোদনক্রমে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পুল গঠনের বিষয়ে নির্দেশক্রমে নিম্নরূপ নির্দেশনা প্রদান করা হলো। উপজেলাভিত্তিক উপজেলার অবসরপ্রাপ্ত ও শারীরিকভাবে সক্ষম শিক্ষকদের দিয়ে একটি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পুল গঠন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক (সকল)-কে অনুরোধ করা হলো। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউএনও’র পরামর্শক্রমে সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি/এডহক কমিটি’র অনুমোদনক্রমে প্রয়োজনের নিরীখে সাময়িকভাবে উক্ত পুল হতে শিক্ষক নিয়োগ করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিলের অত্যাবশ্যকীয় খাত থেকে এ সংক্রান্ত সম্মানী ব্যয় নির্বাহ করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকাকে অনুরোধ করা হলো।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘মব কালচার’ শেষ করার ঘোষণা দিলেও থামাতে ব্যর্থ সরকার

ছবি : সংগৃহীত

প্রকাশনা শিল্প রক্ষায় বুদ্ধিবৃত্তিক চুরি বন্ধের আহ্বান বাপুসের

ছবি : সংগৃহীত

বিড়াল প্রেমীদের নিয়ে বাকৃবিতে প্রথম বারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ‘ক্যাট শো’

0 Comments