জাতীয়

বিআরটি প্রকল্প নিয়ে সভা করলেন প্রধানমন্ত্রী

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৪, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

রোববার (১৪ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়য়।

 

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে, সভায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের জয়দেবপুর পর্যন্ত বিস্তৃত বিআরটি প্রকল্পের অগ্রগতি, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য সুফল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

 

প্রেস উইং জানায়, সভায় বিশেষজ্ঞরা প্রকল্পটির বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত দেন। বিশেষ করে বিআরটি’র নকশা, স্টেশন ব্যবস্থাপনা, যাত্রীসেবা, পরিচালন কাঠামো এবং সামগ্রিক কার্যকারিতা নিয়ে তারা নিজেদের পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ তুলে ধরেন।

 

সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক মো. শামসুল হক, মোসলেহ উদ্দীন হাসান, মো. হাদিউজ্জামান ও রাকিব আহসান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মঈনুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
গণমাধ্যমের নীতিমালায় সম্পাদকদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

স্বাধীন গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের জন্য নীতিমালা প্রণয়নের চলমান কাজে সম্পাদকদের সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।     এছাড়া সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সরকারের গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি সরকারের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড যথাযথভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।   সোমবার (২৭ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠককালে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।     প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ তথ্য জানান।   ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও যায়যায়দিন পত্রিকার সম্পাদক শফিক রেহমান এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে আট সদস্যের প্রতিনিধিদল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।     অন্যরা হলেন, দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল, দৈনিক নয়া দিগন্ত সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম এবং মানবকণ্ঠ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম।

মারিয়া রহমান জুলাই ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পাবনায় ট্রান্সফরমার চুরি চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার চোরাই মালামাল ও সরঞ্জাম

ছবি: সংগৃহীত

সংসদের সাউন্ড সিস্টেম বদলে আধুনিক প্রযুক্তি আনার উদ্যোগ

ছবি : সংগৃহীত

২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের অভিযোগ, তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ছবি : সংগৃহীত
লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় বাতিল হওয়া রাজধানীর বড় মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স প্রায় দেড় মাস পর পুনর্বহাল করেছে সরকার। একইসঙ্গে হাসপাতালটিকে শর্তসাপেক্ষে পুনরায় কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।   সোমবার (২৭ জুলাই) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।   প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের পর কর্তৃপক্ষ আপিল করে। ওই আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটিকে গত ১৫ জুলাই তিন কর্মদিবসের মধ্যে সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্ত কমিটি পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন জমা দিলে তা সন্তোষজনক বিবেচিত হওয়ায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।   তবে, পুনরায় কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতির সঙ্গে কয়েকটি শর্ত আরোপ করা হয়েছে। শর্ত অনুযায়ী, দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২-এর বিধান যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে।  এছাড়া লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ডিউটি চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। ভবিষ্যতে লাইসেন্সের কোনো শর্ত লঙ্ঘিত হলে সরকার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর জাল, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

সিইআইজেডের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শাপলা চত্বর হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ; শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ ও বেনজীর। ছবি : সংগৃহীত

শেখ হাসিনা-আজিজ-বেনজীরসহ পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

ছবি : সংগৃহীত
পদ্মা সেতুতে ইটিসির নতুন মাইলফলক, টোল আদায় ছাড়াল ১০ কোটি টাকা

পদ্মা সেতুতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থাপনা নতুন এক সাফল্যের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। গতকাল রোববার (২৬ জুলাই) ইটিসির মাধ্যমে টোল আদায় ১০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ইটিসিতে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা এক হাজার অতিক্রম করেছে।   বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ বলছে, ক্যাশলেস ও ডিজিটাল টোল আদায় ব্যবস্থা সেতু ব্যবহারকারীদের আস্থা অর্জন করেছে এবং ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য সেতু, এক্সপ্রেসওয়ে ও টানেলেও এ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের কাজ চলছে।   সোমবার (২৭ জুলাই) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী সারা বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) এর মাধ্যমে টোল আদায় নতুন গতি পেয়েছে। ম্যানুয়াল টোল আদায় ব্যবস্থার পরিবর্তে সারা দেশে একক ও অভিন্ন পদ্ধতিতে ক্যাশলেস ও ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে নেওয়া এ উদ্যোগ এরই মধ্যে সেতু ব্যবহারকারীদের দ্রুত আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ২৬ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত ইটিসির মাধ্যমে মোট টোল আদায় হয়েছে ১০ কোটি ৮ লাখ ২৪ হাজার ৬০০ টাকা, যা ১০ কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। একই সময়ে পদ্মা সেতুতে নিয়মিত চলাচলকারী দূরপাল্লার বাস, বাণিজ্যিক ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়িসহ ইটিসিতে নিবন্ধিত মোট যানবাহনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮টি। পরিষেবাটি চালুর পর থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত মোট ৫৬ হাজার ৪০৬টি যানবাহন ক্যাশলেস পদ্ধতিতে টোল পরিশোধ করে নির্বিঘ্নে সেতু পার হয়েছে।   এই অর্জন প্রসঙ্গে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা আনয়ন এবং ইটিসির মাধ্যমে জনগণকে স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ সেবা দিতে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করছে।   তিনি বলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনা, নিবিড় তদারকি এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শের কারণে পদ্মা সেতুতে আধুনিক অটোমেটেড টোল কালেকশন ব্যবস্থা অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।   তিনি আরও বলেন, ইটিসি সিস্টেমে ১০ কোটি টাকার বেশি টোল সংগ্রহ এবং এক হাজারের বেশি যানবাহনের নিবন্ধন শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি দেশের গণপরিবহন খাতকে প্রযুক্তিবান্ধব ও ক্যাশলেস করার ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি। এ অর্জনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, কারিগরি অংশীদার, পরিবহন মালিক সমিতি এবং সেতু ব্যবহারকারীদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান তিনি।   বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সেতু ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে পদ্মা সেতুর টোল আদায় প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করা হয়েছে। বর্তমানে ‘ট্যাপ’, ‘বিকাশ’, ‘নগদ’ ও ‘উপায়’-এর মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং ট্রাস্ট ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের মোবাইল ও ডিজিটাল ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই টোল পরিশোধ করা যাচ্ছে। ফলে নগদ অর্থে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টোল দেওয়ার ভোগান্তি দূর হয়েছে।   ব্যবহারকারীরা সংশ্লিষ্ট অ্যাপের ‘ডি-টোল’ অপশনে গিয়ে ‘মোটরযান রেজিস্ট্রেশন করুন’ নির্বাচন করে গাড়ির নম্বর এবং চেসিস নম্বরের শেষ চারটি সংখ্যা দিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন। এরপর ‘ডি-টোল টপ-আপ’ সেবার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থ রিচার্জ করতে হবে। প্রথমবার মাওয়া টোল প্লাজার নিবন্ধন বুথ বা টোল বুথে গিয়ে বিআরটিএ অনুমোদিত আরএফআইডি ট্যাগ যাচাইয়ের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। একবার নিবন্ধন সম্পন্ন হলে ব্যবহারকারীরা ইটিসি লেন ব্যবহার করে নির্বিঘ্নে পদ্মা সেতু পারাপার করতে পারবেন। এ জন্য বিআরটিএ প্রদত্ত আরএফআইডি ট্যাগই যথেষ্ট, আলাদা কোনো ট্যাগের প্রয়োজন হবে না।   বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রুটের ইমাদ পরিবহন, দোলা পরিবহন, সার্বিক পরিবহন ও গোল্ডেন লাইন পরিবহনসহ অসংখ্য বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগত যানবাহনের মালিক ইতোমধ্যে ইটিসিতে নিবন্ধন করে নিয়মিত এ সুবিধা ব্যবহার করছেন।   ইটিসি লেন ব্যবহারকারী যানবাহনকে টোল প্লাজায় থামতে হয় না। প্রায় ৬০ কিলোমিটার গতিসীমার মধ্যেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল পরিশোধ করে সেতু অতিক্রম করা যায়। ফলে টোল প্লাজায় অপেক্ষার সময় প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। ঈদের মতো ব্যস্ত সময়েও যানজট কমছে, জ্বালানির অপচয় রোধ হচ্ছে এবং স্টপ-অ্যান্ড-গো কমে যাওয়ায় কার্বন নিঃসরণও হ্রাস পাচ্ছে, যা পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সহায়ক।   বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মতে, পদ্মা সেতুর ইটিসি মডেল দেশের মহাসড়ক ও সেতু ব্যবস্থাপনায় নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। ভবিষ্যতে পদ্মা সেতুর শতভাগ টোল আদায় স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার আওতায় আনার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য প্রধান সেতু, এক্সপ্রেসওয়ে ও টানেলেও ইটিসির মাধ্যমে ক্যাশলেস ব্যবস্থা চালুর কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।   এ লক্ষ্যে সব পরিবহন মালিক ও চালকদের দ্রুত নিজ নিজ যানবাহন ইটিসিতে নিবন্ধনের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে জনগণের জন্য আরও দ্রুত, নিরাপদ ও বিশ্বমানের আধুনিক সড়ক সেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৭, ২০২৬

বিএনপি কর্মীকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা, নেপথ্যে শাহাদাত বাহিনী

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২২ কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক চুরি

দলীয় প্রতীক ছাড়াই স্থানীয় নির্বাচন, প্রার্থিতায় আসতে পারে পরিবর্তন

0 Comments