অন্যান্য

ভারতীয় নম্বর থেকে হত্যার হুমকি, জিডি করলেন ডাকসু নেতা মুসাদ্দিক আলী

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ অজ্ঞাতনামা ভারতীয় নম্বর থেকে হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

 

১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে, আনুমানিক ১টা ৩৮ মিনিটে 'ডাকসু' কার্যালয়ে অবস্থানকালে মুসাদ্দিকের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে ভারতীয় একটি অজ্ঞাতনামা নম্বর থেকে কল আসে। কলদাতা নিজের পরিচয় না দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং তাকে যেকোনো সময় হত্যা করে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেয়। প্রায় দুই মিনিট ধরে ওই ব্যক্তি অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করলেও কোনো নির্দিষ্ট দাবি বা কারণ উল্লেখ করেনি।

 

মুসাদ্দিক অভিযোগ করেছেন, এই ঘটনায় তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন। তিনি জানান, আমি ভারতীয় অজ্ঞাত নাম্বার থেকে ফোন পেয়ে হত্যার হুমকি পাচ্ছি। তাই শাহবাগ থানায় জিডি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

 

তিনি আরও বলেন, প্রাণনাশের শঙ্কায় তিনি আইনগত সহায়তা নিয়েছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে শরীফ ওসমান হাদি হত্যার আগে তিনিও শাহবাগ থানায় মৃত্যুর হুমকির বিষয়ে জিডি করেছিলেন, কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

 

মুসাদ্দিক বলেন, শরীফ ওসমান হাদির বিচারের দৃষ্টান্তমূলক কোনো পদক্ষেপ আমরা দেখিনি। আমরা আশা রাখি, যদি আমরা শহীদ হয়ে যাই, যারা আমাদের খুন করবে তাদের বিচার যেন হয়।

 

হুমকির বিষয়টি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে পারেন, তবে তা শান্তিপূর্ণভাবে হওয়া উচিত। তিনি বলেন, আপনারা নির্বাচিত রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বাস করেন, কোনো সমস্যা নেই, তবে সেটি শান্তিপূর্ণভাবে। শান্তিপূর্ণভাবে কটূক্তি করলেও আমরা সেটি মেনে নেব। কারণ আপনাদের জনগণ নির্বাচিত করেছে। কিন্তু হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ—দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এসব কাজ দয়া করে বন্ধ করুন।

 

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জোবায়ের নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক একটি নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক দল জয়ী হওয়ার পর যেসব সাধারণ ভোটার ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট দেননি, তাদের বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন স্থান থেকে অভিযোগ ও প্রমাণ পাওয়া গেছে।

 

জোবায়ের মিডিয়ার মাধ্যমে বিএনপির হাইকমান্ডের উদ্দেশে খোলা চিঠি দিয়ে বলেন, জনগণ আপনাদের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে, দেশ দখলের জন্য নয়। ঢাকায় বসে শান্তির বাণী দিলেই হবে না—প্রত্যন্ত অঞ্চলে নেতাকর্মীদের হামলা-ভাঙচুর, বাড়িঘর দখল ও অগ্নিসংযোগ বন্ধ করতে হবে।

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন আসনে সাধারণ ভোটাররা বিভিন্ন প্রতীকে ভোট দেওয়ায় তাদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও নোয়াখালী জেলায় এ ধরনের ঘটনা তুলনামূলক বেশি ঘটেছে।

 

জোবায়ের বলেন, মিডিয়ার মাধ্যমে খোঁজখবর নিলে আরও অনেক ঘটনা জানা যাবে। আমরাও বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি।

 

ডাকসু নেতারা হুমকির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, সংশ্লিষ্ট নম্বর শনাক্তকরণ এবং নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান দাবি করেছেন। শাহবাগ থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরি অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচ দিনব্যাপী (১ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ সেপ্টেম্বর) বর্ণাঢ্য কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুর ১২টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক যৌথসভা শেষে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এসব কর্মসূচির কথা জানান। এর আগে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবরা, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি, আহ্বায়ক, সাধারণ সম্পাদক ও সদস্য সচিবরা অংশ নেন। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী: ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টায় বিএনপির নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন; সকাল ৯টায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতা এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা ও সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর (শনিবার) দুপুর ৩টায় কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন-বাংলাদেশ মিলনায়তনে বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতে দলের সিনিয়র নেতাসহ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীরা অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পোস্টার প্রকাশ; যৌথসভায় বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচিও গৃহীত হয়েছে। অনুরূপভাবে সারাদেশে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং এর ইউনিটগুলো পহেলা সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সুবিধাজনক সময়ে আলোচনা সভা এবং অন্যান্য কর্মসূচি পালন করবে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের নতুন নাম দিলেন সোহেল তাজ

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। ফাইল ছবি

নভেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে চায় ইসি

ছবি: সংগৃহীত

লংমার্চে ভোগান্তির আশঙ্কা, আগেই ক্ষমা চাইল জামায়াত

ছবি: সংগৃহীত
‘যুক্তরাজ্যের নাগরিক কি না, হ্যাঁ অথবা না বলুন’—হুমায়ুন কবিরকে হাসনাত

নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ছেড়েছেন কি না, তা স্পষ্ট করে জানাতে বলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, নাগরিকত্ব ছেড়ে থাকলে এর প্রমাণও প্রকাশ করা উচিত।   সোমবার (২৫ আগস্ট) নিজের ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ এসব কথা বলেন।   হুমায়ুন কবিরের নাগরিকত্ব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তার দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, প্রশ্নটির উত্তর ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সরাসরি জবাব না দিয়ে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে তাচ্ছিল্য ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন।   হাসনাতের ভাষ্য, ‘কোন পত্রিকা ঠিক? কে এত চিন্তিত যে আমাকে কাজ করতে দেবে না, হ্যাঁ? তাহলে তারা এত চিন্তিত কেন? তারা কি আবার ২০০৮ নিয়ে উত্তেজিত হয়ে পড়েছে? আবার কি মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীন আমলের সেই চুলকানি শুরু হয়েছে? নাকি কী?’   এ ধরনের আচরণ একজন প্রতিমন্ত্রীর কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয় উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, কূটনীতিকেরা সাধারণত বিনয় ও ভদ্রতার সঙ্গে প্রশ্ন সামাল দেন। কোনো প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়াতে হলেও কূটনৈতিক কৌশলে তা করা হয়। কিন্তু হুমায়ুন কবির তার নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্নের জবাব না দিয়ে প্রশ্ন তোলা গণমাধ্যমকেই আক্রমণ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।   হাসনাত বলেন, সংবিধান, আইন ও বিধিবিধান সবার জন্য সমান। বিদেশি নাগরিকত্ব থাকা অবস্থায় কেউ সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হতে পারেন না। এনসিপির একজন নেতা বিদেশি নাগরিকত্বের কারণে নির্বাচন করতে পারেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে ক্ষেত্রে তারা আইনি বিধান মেনে নিয়েছেন।   বিএনপির কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচনের সময় বিদেশি নাগরিকত্বের তথ্য গোপন করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন হাসনাত। তিনি বলেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) তিনজনের কথা বলেছে, তবে তার ধারণা সংখ্যাটি আরও বেশি।   হুমায়ুন কবিরের প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, তিনি তার ‘শত্রু নন’। বহু বছর যুক্তরাজ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহযোগী হিসেবে ছিলেন। তাই প্রধানমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্বের বিষয়টি জেনে-বুঝেই তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।   গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার জবাবদিহি থাকা বাধ্যতামূলক উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, তারা হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে শাস্তি দাবি করছেন না। শুধু জানতে চাইছেন, তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ছেড়েছেন কি না এবং ছেড়ে থাকলে তার প্রমাণ কী।   তিনি বলেন, হুমায়ুন কবির যদি এ বিষয়ে উত্তর না দেন, তাহলে তার যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের সঙ্গে তার আচরণকে ক্ষমতার দম্ভ হিসেবেও উল্লেখ করেন হাসনাত।   সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও আবদুল মোমেনের প্রসঙ্গ টেনে হাসনাত অভিযোগ করেন, তারা যথাক্রমে বেলজিয়াম ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের তথ্য গোপন করে মন্ত্রী হয়েছিলেন। ৫ আগস্টের পর তারা নিজ নিজ দেশে চলে গেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   হাসনাত বলেন, আগের সরকারের মতো তথ্য গোপন ও অসততার ঘটনা আর দেখতে চান না। বিএনপির সরকারও যেন আওয়ামী লীগ সরকারের মতো না হয়ে ওঠে, সেটি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।   হুমায়ুন কবিরের মন্তব্যকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্যও উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন হাসনাত। তার মতে, প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সাংবাদিকদের ব্যঙ্গ করা, তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে রাজনৈতিক ইঙ্গিত দেওয়া এবং ২০০৮ ও মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীন সরকারের প্রসঙ্গ টেনে আনা একজন মন্ত্রীর পেশাদার আচরণ হতে পারে না।   তিনি আরও বলেন, এ ধরনের আচরণ শুধু একজন সাংবাদিককে নিরুৎসাহিত করে না, এর প্রভাব পুরো সংবাদমাধ্যমের ওপর পড়ে। একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করতে ভয় পেলে পরবর্তী সময়ে অন্য সাংবাদিকেরাও প্রশ্ন করার আগে দ্বিধায় পড়তে পারেন, যা শেষ পর্যন্ত স্ব-নিয়ন্ত্রণ বা ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’-এর পরিবেশ তৈরি করতে পারে।   অতীতে ক্ষমতাসীনদের প্রশ্ন করা সাংবাদিকদের রাজনৈতিক তকমা দেওয়া এবং ভয় ও চাপের পরিবেশ তৈরির ঘটনা দেখা গেছে উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, নতুন সরকারের ক্ষেত্রে সেই সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি তারা চান না।   শেষে হুমায়ুন কবিরকে মন্তব্যের জন্য শুধু দুঃখপ্রকাশ না করে তার নাগরিকত্বের বিষয়ে স্পষ্ট জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান হাসনাত। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ অথবা না—বলুন।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ার পর প্রথমবার নয়াপল্টনে রিজভী

ছবি: সংগৃহীত

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ছিল ‘ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সাল’: জামায়াত আমির

ছবি: সংগৃহীত

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলার চার্জ গঠন শুনানি পেছাল

ছবি: সংগৃহীত
বিভাগ চালানোর যোগ্যতা নেই, হয়ে গেছেন উপাচার্য’: শিবির সভাপতি

বিভাগের দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা না থাকা ব্যক্তিদের দলীয় পরিচয়ে সরাসরি উপাচার্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন।   শনিবার দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।   এসব নিয়োগকে ‘মেধার অবমূল্যায়ন’ মন্তব্য করে সাদ্দাম হোসেন বলেন, “১৮টা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি আমরা খুঁজে পেলাম, যাদের একটা ডিপার্টমেন্টের দায়িত্ব পালন করার যোগ্যতাও হয়নি, অথবা ডিপার্টমেন্টে দায়িত্ব পালন করেনি, ডাইরেক্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি হয়েছেন। শুধু দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও দলের সঙ্গে থাকার কারণে তারা এসব পদ পেয়েছেন। এগুলো মেধার চূড়ান্ত অবমূল্যায়ন।”   তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম সংস্কার ও গণভোটের যে আশা নিয়ে আন্দোলন করেছে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না হলে সাধারণ মানুষ ও ছাত্রসমাজ আবারও রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলবে।   শিবির সভাপতি বলেন, ক্যাম্পাসে র‍্যাগিং, সিট দখল ও ভর্তি বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়কে আদর্শ ও নৈতিকতা চর্চার জায়গা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।   অনুষ্ঠানে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আতিয়ার রহমান বলেন, “রাজনীতি এখন অনেকের কাছে ‘ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস’ বা এক ধরনের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে এ ধরনের চেতনা আর চলবে না। এখন ছাত্রদের কাছে আদর্শ, নতুন চিন্তা ও নতুনত্ব নিয়ে যেতে হবে।”   বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও শিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ আরিফুর রহমান সৈকতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য ও নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকার এবং ছাত্রশিবিরের ক্রীড়া সম্পাদক মুশফিকুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আবদুর রহমান।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে ‘নতুন সিন্ডিকেট’ চায় না এনসিপি

ছবি: সংগৃহীত

সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দিতে হবে: জামায়াত আমির

শরীরের কোন সংকেত মশাকে কাছে টানে

0 Comments