জাতীয়

ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেবে বাংলাদেশ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ভারত সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি আরও জানিয়েছে, মিয়ানমার সীমান্তে হত্যা, অনুপ্রবেশ, মাদক, অস্ত্র ও গোলাবারুদ চোরাচালানসহ বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে ইতোমধ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

 

বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিক এবং পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

 

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইন করা ২ হাজার ৩৬৯ জনের মধ্যে ১১ জনকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৮৩ জনকে পুশব্যাক করা হয়েছে এবং বাকিদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর বিএসএফের ৩৬টি পুশইন প্রচেষ্টা বিজিবি সফলভাবে প্রতিরোধ করেছে।

 

 

মন্ত্রী আরও জানান, মিয়ানমার সীমান্তে হত্যা, অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানসহ বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভারত সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতেও এমন ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

 

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সীমান্তে বিএসএফের হাতে নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকগুলোতে বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, সীমান্তে নিহতদের পরিবারকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা সমঝোতা হয়নি। তবে বাংলাদেশ সবসময়ই আত্মরক্ষার অজুহাতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছে এবং ক্ষতিপূরণ ও জবাবদিহিতার বিষয়টি বিভিন্ন বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

শপথ নিচ্ছেন সারোয়ার আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম-২ আসনের এমপি হিসেবে শপথ নিলেন সারোয়ার আলমগীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর। তাকে শপথ পড়ান জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে শপথ নেন তিনি। এর আগে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৭৯ চট্টগ্রাম-২ আসনে জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের নাম-ঠিকানা সংবলিত প্রজ্ঞাপন ৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিলের ইসির সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ রায় দেন। একইসঙ্গে আদালত জানিয়েছেন, সংসদ সদস্য হিসেবে তার শপথগ্রহণে আর কোনো আইনগত বাধা নেই।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৯, ২০২৬

মেট্রোরেলের চার স্টেশনে উচ্ছেদ অভিযান

জুলাই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা দিতে প্রস্তুত সরকার: আইনমন্ত্রী

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে মৃত্যু: ইউএনএইচসিআর’র শোক

যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে নেদারল্যান্ডসের সহায়তা নিয়ে আলোচনা

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।   বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।   সাক্ষাৎকালে তারা পারস্পরিক কুশলাদি বিনিময় করেন এবং বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সার্বিক উন্নয়নে নেদারল্যান্ডসের সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে মতবিনিময় হয়।   বৈঠকে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক সরঞ্জামের ব্যবহার এবং কারিগরি প্রশিক্ষণে নেদারল্যান্ডস কীভাবে সহায়তা করতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োগে নেদারল্যান্ডসের সম্ভাব্য সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।   জাহাজ নির্মাণ শিল্পে নেদারল্যান্ডসের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও বিশ্বমানের কারিগরি উৎকর্ষতাকে কাজে লাগানোর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য দেশীয় শিপইয়ার্ডে আধুনিক যুদ্ধজাহাজ ও নৌযান নির্মাণে যৌথ সহযোগিতা, কারিগরি সহায়তা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের সম্ভাবনা নিয়ে উভয় পক্ষ ফলপ্রসূ মতবিনিময় করেন।   প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে নেদারল্যান্ডসের আন্তরিক আগ্রহের প্রশংসা করেন। ভবিষ্যতে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে প্রশিক্ষণ, সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ০৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

সংসদে উত্থাপনের পরই প্রত্যাহার ‘মদ ও জুয়া নিষিদ্ধকরণ’ বিল

গঙ্গাচুক্তি নবায়নের বিষয়ে ভারতের উদ্দেশে যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর চেষ্টায় কূটনৈতিক ঘাটতি নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

যানজট নিরসন: রাজধানীতে বসছে আরও ২০০ এআই ক্যামেরা

  রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক করতে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তির ক্যামেরার ব্যবহার দ্রুত বাড়াচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।    আগামী কয়েক মাসে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আরও ২০০টি এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটির ট্রাফিক বিভাগ।    বর্তমানে শহরটির সড়কের ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ৩৭টি এআই ক্যামেরা এবং বিভিন্ন স্থানে ৮০টি পিটিজেড (প্যান-টিল্ট-জুম) ক্যামেরা দিয়ে নজরদারি চলছে।   ডিএমপি সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে মতিঝিল, উত্তরা, শাহবাগ-আবদুল্লাহপুর ভিআইপি সড়ক, পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে (৩০০ ফুট) এবং মিরপুর এলাকায় নতুন পর্যায়ের এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।    জানা যায়, আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে এসব এলাকা এআই ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।    গত মঙ্গলবারই ৩০০ ফুট এলাকায় কাজ শুরু হয়েছে। আগামী চার মাসে ৬০টি এবং তারপরের চার মাসে আরও ৬০টি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। বাকি ৮০টি পর্যায়ক্রমে বসানো হবে।   এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের ২০০টি এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।    ইতোমধ্যে পূর্বাচলের ৩০০ ফুট এলাকায় কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো ঢাকা শহরকে এআই প্রযুক্তির ক্যামেরার আওতায় আনা হবে।’   চালকদের ট্রাফিক আইন মানা নিশ্চিত করার মাধ্যমে রাজধানীর সড়কের পরিস্থিতির উন্নতি করাই এআই ক্যামেরা স্থাপনের উদ্দেশ্য।    ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, এআই সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করে। এরপর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সার্ভারে থাকা সংশ্লিষ্ট যানের তথ্য ডিএমপির সার্ভারে আসে। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য ঘটনা যাচাই করে ডাকযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মামলার নোটিশ পাঠান। পাশাপাশি সরকারি দুটি নম্বর থেকে এসএমএসের মাধ্যমেও মামলার তথ্য জানানো হয়।   ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরতে সক্ষম এআই ক্যামেরা চলমান যানবাহনের গতিবিধি অনুসরণ করতে পারে। এটি অপটিক্যাল জুম প্রযুক্তির মাধ্যমে দূর থেকেও স্পষ্টভাবে নম্বরপ্লেট শনাক্ত করে।   ডিএমপি সূত্র আরও বলেছে, ‘স্মার্ট পুলিশিং’ চালু প্রকল্পের আওতায় পুরো রাজধানীতে এআই ক্যামেরা, ফেস রিকগনিশন (চেহারা চেনা) সিসিটিভি, ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।    রাজধানীর ট্রাফিক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মোট ১২ হাজার ক্যামেরার প্রয়োজন রয়েছে। এগুলোর মধ্যে প্রায় দেড় হাজার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য এবং বাকিগুলো অপরাধ তদন্তে ব্যবহৃত হবে।   মৎস্য ভবন, সুগন্ধা, পুলিশ ভবন, শাহবাগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, বাংলামোটর, সোনারগাঁও ক্রসিং, বিজয় সরণি, সায়েন্স ল্যাব, ফার্মগেটসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এখন ৩৭টি এআই ক্যামেরা রয়েছে। আর সব মিলিয়ে ডিএমপির অধীনে ১১৭টি ক্যামেরা কাজ করছে।    রাজধানীর ১০ শতাংশের কিছু বেশি এলাকায় এ প্রযুক্তি চালু হয়েছে। আর গত ৭ মে এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত এসব ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় দেড় হাজারের বেশি মামলা হয়েছে। মামলার ভয়ে রাজধানীর এসব মোড়ে ইতোমধ্যে যানবাহনের চালকেরা খুবই সতর্ক থাকছেন।   জানা গেছে, এখন পর্যন্ত এআই প্রযুক্তির ক্যামেরার মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে বাসের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে বাসের লেন ছেড়ে অন্য লেনে যাওয়া এবং সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কারণে এসব মামলা করা হয়েছে। সিগন্যালে থামার জায়গায় ঠিকমতো না থামার মামলায়ও এগিয়ে বাস। তারপর রয়েছে ব্যক্তিগত গাড়ি।   তবে সব ক্ষেত্রে এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা দিয়ে মামলা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।    ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ বলেছে, যেসব এলাকায় সিগন্যাল ব্যবস্থাই অকার্যকর, সেখানে সিগন্যাল অমান্যের ঘটনায় মামলা দেওয়ার অবকাশ নেই।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ০৯, ২০২৬

আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে: আইনমন্ত্রী

বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ১১ মৃত্যু, উদযাপন নিয়ন্ত্রনে রিট

আমি প্রধানমন্ত্রীর বন্ধু নই, বিএনপির সাধারণ কর্মী: শাহে আলম

0 Comments