আন্তর্জাতিক

বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ‘টালবাহানা করা’ দেশগুলোকে ট্রাম্পের হুমকি

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা বৈশ্বিক শুল্ক স্থগিত করার পর, দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ‘টালবাহানা করা’ দেশগুলোর ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

গত বছর ট্রাম্প আরোপিত বেশিরভাগ শুল্ক বাতিলের সিদ্ধান্ত আসার পর শুল্ক ও বাণিজ্য চুক্তিগুলোর কী হবে—বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তা মূল্যায়ন করছে; এর পরই এই সতর্কবার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

 

সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, তারা গ্রীষ্মে সম্পাদিত একটি চুক্তির অনুমোদন স্থগিত করবে। আর চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য পূর্বনির্ধারিত আলোচনা স্থগিত করার কথা জানিয়েছে ভারত।

 

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে, এই রায় ব্যবহার করে গত বছরের বাণিজ্য প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার বিষয়ে দেশগুলোকে সতর্ক করেছেন ট্রাম্প।

 

‘যে কোনো দেশ, যারা সুপ্রিম কোর্টের হাস্যকর সিদ্ধান্ত সামনে এনে ‘খেলতে’ চায়, বিশেষ করে যারা বছরের পর বছর ধরে এমনকি দশক ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ছিঁড়ে খেয়েছে’, তাদের ওপর আরও বেশি শুল্ক আরোপ করা হবে, যা সম্প্রতি রাজি হওয়া শুল্কের চেয়েও খারাপ। ক্রেতা সাবধান’, ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন তিনি।

 

গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অধীনে ট্রাম্প ঘোষিত বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করে। তখন থেকেই এরকম বিশৃঙ্খলার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল।

 

আদালত বলেন, ওই আইন প্রেসিডেন্টকে এ ধরনের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এ শুল্ক মূলত আমদানি পণ্যের ওপর আরোপিত একটি কর, যা দেশে পণ্য আনা ব্যবসায়ীদের পরিশোধ করতে হয়।

 

আদালতের এমন সিদ্ধান্তের পর, ভিন্ন একটি আইনের অধীনে বিশ্বব্যাপী নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করে প্রতিক্রিয়া জানান ট্রাম্প। পরে তা দ্রুতই ১৫ শতাংশে উন্নীত করেন তিনি। এই ব্যবস্থা, আজ মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

 

তবে ট্রাম্পের প্রাথমিক শুল্ক আরোপের পর যেসব বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, সেগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে অনেক দেশ এখনও অনিশ্চয়তায় রয়েছে।

 

সে সময় অনেক দেশ বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি বা আমেরিকান প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা সহজ করাসহ অন্যান্য ছাড়ের বিনিময়ে তাদের পণ্যের ওপর শুল্ক কমাতে চেয়েছিল।

 

সোমবার যুক্তরাজ্য জানায়, তাদের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তি বহাল থাকবে কি না—এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হচ্ছে। আগের চুক্তিতে শুল্ক হার ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা গত শনিবার ট্রাম্প ঘোষিত ১৫ শতাংশ শুল্কের চেয়ে কম।

 

যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্য সচিব পিটার কাইল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ঘোষণায় যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা আমি স্বীকার করি।

 

তিনি বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় যুক্তরাজ্য ‘সব ধরনের বিকল্প’ বিবেচনায় রাখছে।

 

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির চেয়ারম্যান বার্নড ল্যাঞ্জ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে জুলাইয়ে অনুমোদিত চুক্তির বিষয়ে স্পষ্টতা না পাওয়া পর্যন্ত কমিটি তাদের অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত রেখেছে।

 

তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন আগের চেয়েও বেশি অনিশ্চিত।

 

যদিও এই রায়ের ফলে বাণিজ্যের প্রতি নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গির কোনো পরিবর্তন হবে না বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। জোর দিয়ে বলা হয়েছে, শুল্ক আরোপের জন্য এখন অন্যান্য আইনের দিকে ঝুঁকছে তারা।

 

শুক্রবার ১২২ ধারা প্রয়োগ করেছেন ট্রাম্প, যা আগে কখনো ব্যবহার করা হয়নি। এ আইনের আওতায় কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ১৫০ দিনের জন্য শুল্ক আরোপ করতে পারেন প্রেসিডেন্ট।

 

এছাড়া তিনি ৩০১ ধারার আওতায় তদন্ত শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। এটি একটি পৃথক বাণিজ্য আইন, যার মাধ্যমে কোনো দেশের ‘অন্যায্য’ বাণিজ্য চর্চার প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট পাল্টা শুল্ক আরোপ করতে পারেন।

 

ট্রাম্পের আরোপিত নতুন এই শুল্ক ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম এবং গাড়ির মতো নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর, পূর্ব ঘোষিত শুল্কের পাশাপাশি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে—যা আদালতের রায়ে প্রভাবিত হয়নি।

 

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার রোববার এবিসি নিউজকে বলেন, ‘আমরা আমাদের পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের নতুন উপায় খুঁজে পেয়েছি।

 

তিনি আরও বলেন, ‘এটি বাস্তবায়নের আইনি পদ্ধতি পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

 

রোববার সিবিএস নিউজের সাথে একটি পৃথক সাক্ষাৎকারে গ্রিয়ার বলেন, হোয়াইট হাউস তাদের করা বাণিজ্য চুক্তিগুলো ‘বহাল’ রাখবে।  ‘আমরা আশা করি আমাদের অংশীদাররাও পাশে থাকবে,’ বলেন তিনি।

 

সোমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শেয়ারের দাম প্রায় এক শতাংশ কমেছে, যা বাণিজ্য অনিশ্চয়তার কারণে কিছুটা চাপের মধ্যে রয়েছে। এটি অব্যাহত থাকবে বলেই মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

 

নতুন ১৫ শতাংশ শুল্ক ১৫০ দিন পরে শেষ হওয়ার কথা, যদি না কংগ্রেস তাদের মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে ভোট দেয়।

 

এদিকে, সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার সোমবার সতর্ক করে বলেছেন, ডেমোক্র্যাটরা শুল্ক বাড়ানোর যেকোনো প্রচেষ্টায় বাধা দেবে। এছাড়া ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক কিছু রিপাবলিকানের কাছেও অপ্রিয়।

 

শুমার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের অর্থনৈতিক ধ্বংসযজ্ঞকে আরও এগিয়ে নিতে রাজি হবেন না।

 

অন্যদিকে, সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, শুল্কের জন্য তার কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
মানিকগঞ্জের হাসিবুরের রোবট বানিয়ে বিশ্ব জয়

ছোটবেলা থেকেই ছোট-বড় যন্ত্রপাতি নিয়ে নাড়াচাড়া করার নেশা। ভাঙা যন্ত্র খুলে দেখা, নতুন কিছু তৈরির চেষ্টা আর প্রযুক্তির প্রতি অদম্য কৌতূহল- এসবই যেন ধীরে ধীরে গড়ে দিয়েছে এক উদ্ভাবকের ভিত। সেই কৌতূহলকে শক্তিতে পরিণত করে এবার বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন মানিকগঞ্জের তরুণ উদ্ভাবক হাসিবুর রহমান খান। কৃষকদের সহায়তায় তৈরি করেছেন বিশেষ ধরনের একটি কৃষি রোবট। আর সেই উদ্ভাবন নিয়েই মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে অর্জন করেছেন একাধিক পুরস্কার। তিনি খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার দিঘী ইউনিয়নের রৌহাদহ গ্রামের সন্তান হাসিবুরের এই সাফল্যে গর্বিত তার পরিবার, স্বজন ও গ্রামবাসী। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পুরস্কার জয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না তিনি। তার স্বপ্ন, নিজের উদ্ভাবিত রোবট দেশের কৃষকের কাজে লাগবে। জমির মাটির অবস্থা বুঝে প্রয়োজনীয় সার ও পানি ব্যবহারের পরামর্শ দেবে, ফসলের রোগ ও ক্ষতিকর আগাছা শনাক্ত করবে এবং কৃষিকাজে সময় ও খরচ কমাতে সহায়তা করবে। আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে এবার সরকারের সহযোগিতা ও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এই তরুণ উদ্ভাবক। মাটির প্রকৃত অবস্থা না জেনে সার প্রয়োগ, সেচের পানির অপচয়, ফসলের রোগ শনাক্তে দেরি এবং আগাছা নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ব্যয়—এসব সমস্যা মোকাবিলা করতে হয় আমাদের দেশের কৃষকদের। এসব সমস্যা সমাধানের চিন্তা থেকেই হাসিবুর তৈরি করেছেন প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি রোবট। সরকারিসেবা   হাসিবুরের উদ্ভাবিত রোবটটি জমিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলাচল করে মাটির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও আর্দ্রতা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে মাটিতে কোনো উপাদানের ঘাটতি রয়েছে, সে সম্পর্কে কৃষককে ধারণা দেয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সার ব্যবহারের পরামর্শ ও সেই সার জমিতে প্রয়োগও করতে পারে এই রোবট। রোবটটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো- এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার। এতে যুক্ত ক্যামেরা ফসলের পাতা ও উদ্ভিদের ছবি বিশ্লেষণ করে রোগাক্রান্ত অংশ এবং ক্ষতিকর আগাছা শনাক্ত করতে পারে। কৃষিবিদদের মতে, ফসলের রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। একইভাবে ক্ষতিকর আগাছা শনাক্ত করতে পারলে আগাছা নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। এতে ফসলের ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় শ্রম ও ব্যয় কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারিআদেশ দেখুন   দেখা যায়, রোবটটি মুঠোফোনের সঙ্গে ওয়াই-ফাই কিংবা ব্লুটুথের মাধ্যমে সংযুক্ত করা যায়। ফলে কৃষক মুঠোফোনে রোবটের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য পর্যবেক্ষণ করতে পারেন এবং এর চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। তবে, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্যের পর হাসিবুরের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ উদ্ভাবনটিকে বাস্তব কৃষিক্ষেত্রে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো। শুধু পুরস্কার অর্জন নয়, তার তৈরি প্রযুক্তি যেন দেশের সাধারণ কৃষকের উপকারে আসে, সেটিই এখন তার মূল লক্ষ্য। নিজের উদ্ভাবন দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করেন হাসিবুর রহমান খান বলেন, ১ মাস সময় ব্যয় করে এই রোবট তৈরিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আমি সেই রোবট নিয়ে মালয়েশিয়ার সাইবারজায়ায় মাল্টিমিডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড সাসটেইনেবল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট গোলস ২০২৬’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেই। সেখানে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের উদ্ভাবকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় এই প্রতিযোগিতা। আমি সেখানে ‘এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি’ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হই এবং অর্জন করি প্লাটিনাম উইনার বা চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড। এ ছাড়া সব বিভাগ মিলিয়ে সামগ্রিকভাবে দ্বিতীয় স্থান অর্জনের পাশাপাশি পরিবেশবিষয়ক বিশেষ সম্মাননা ও স্বর্ণপদকও দেওয়া হয় আমাকে। হাসিবুরের বাবা আব্দুল ওয়াহাব খান বলেন, `মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ছেলে প্রথম স্থান অধিকার করায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। আমি মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার সহযোগিতায় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সরকার যেন পাশে থাকে আমার ছেলের। সরকারের সহযোগিতা পেলে কৃষি রোবটটির আরও উন্নয়ন, পরীক্ষামূলক প্রয়োগ এবং পরবর্তী সময়ে কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পথ তৈরি হতে পারে।’ মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজ বলেন, ‘হাসিবুরের এই উদ্ভাবন দেশের কৃষকদের জন্য উপযোগী করে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে খুব ভালো হবে। কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। মাটির গুণাগুণ নির্ণয়, ফসলের রোগ শনাক্ত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সার ও পানি ব্যবহারে এ ধরনের উদ্ভাবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং কৃষকদের ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিক রাখতে পারে।’ সরকারিসেবা   এমএইচ

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সে স্কুল আন্দোলন থেকে রাজনৈতিক সংকট: কীভাবে বদলে গেল পরিস্থিতি

ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্ত

ছবি: সংগৃহীত

হুতিদের ঠেকাতে ইয়েমেন যুদ্ধে ফিরছে আমিরাত, সৌদির সঙ্গে সমঝোতা

ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে ফের সংঘর্ষ, গোলাবর্ষণে উত্তেজনা

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের আপার কুররাম ও ঘোজগাড়হি এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় গোলাগুলি ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।   পাকিস্তানের সরকারি গণমাধ্যম ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রোববার (১৮ অক্টোবর) সীমান্ত এলাকায় আফগান তালেবান সদস্যদের গোলাবর্ষণের পর পাল্টা জবাব দেয় পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। এ সময় ভারী কামান ব্যবহার করে হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছে পাকিস্তানি সূত্র।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের পাল্টা গোলাবর্ষণে আপার কুররামের টপসার সীমান্ত পোস্ট ও শিপোলা নামের একটি ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ঘোজগাড়হি এলাকায় তালেবান সদস্যরা একটি চৌকি ছেড়ে সরে গেছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   সংঘর্ষের পর সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি অব্যাহত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীন সূত্রের নিশ্চিত তথ্য প্রয়োজন।   দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার দেশটিতে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় ও সহায়তা দিচ্ছে। পাকিস্তানের দাবি, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন গোষ্ঠী পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তবে কাবুলের অবস্থান এবং এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য ছাড়া কোনো পক্ষের বক্তব্যকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না।   প্রতিবেদনে পাকিস্তানি সরকারি হিসাবের বরাতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে আফগানিস্তান থেকে পরিচালিত বলে দাবি করা সশস্ত্র হামলায় পাকিস্তানে ১ হাজার ৩২৭ জন নিহত এবং প্রায় আড়াই হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। এই পরিসংখ্যানের উৎস ও হিসাবের পদ্ধতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।   পাকিস্তান জানিয়েছে, সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে আফগান কর্তৃপক্ষের কাছে সীমান্তপারের সশস্ত্র হামলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছে ইসলামাবাদ।   সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সে বিক্ষোভ ঘিরে অস্থিরতা অব্যাহত, প্যারিসে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

ছোট ছোট মাছ ধরার নৌকা ও উদ্ধারকারী নৌযান নিয়ে সাগরে নেমেছেন শত শত জেলে। ছবি: সংগৃহীত

আইফোনের লোভে হরমুজ প্রণালিতে জেলেদের ভিড়

ছবি: সংগৃহীত

আজই সৌরভ-আশুতোষকে মুক্তি না দিলে আদালতে যাব: ককরোচ পার্টি

দুর্ঘটনার প্রতীকী ছবি
খেলার মাঠে পিকআপের ধাক্কা, শিশুসহ নিহত ২

যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের উইচিটা শহরে যুব ফুটবল খেলার মাঠে পিকআপ ঢুকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় এক শিশুসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।   শনিবার (১৭ অক্টোবর) স্ট্রাইকার স্পোর্টস কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে উইচিটা পুলিশ।   এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু।   পুলিশ জানায়, কালো রঙের শেভ্রোলেট সিলভেরাডো পিকআপ চালিয়ে মাঠে ঢুকে পড়েন এক চালক। ঘটনার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।   উইচিটা পুলিশের ক্যাপ্টেন অ্যারন মোজেস বলেন, ‘ঘটনাস্থলে দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ছাড়া আরও কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।’   তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়িটি ঘটনাস্থলেই ছিল। চালকও পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। ওই চালকের কাছ থেকে জনসাধারণের জন্য নতুন করে কোনো ঝুঁকি নেই।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৮, ২০২৬
ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর একটি দল। ছবি: সংগৃহীত

হুথিদের সঙ্গে সংঘর্ষে ইয়েমেনের ৮ সেনা নিহত

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকা। ছবি: সংগৃহীত

অভিজিৎ মুক্ত, জামিনের অপেক্ষায় সিজেপির দুই নেতা

হতাহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে মন্দিরে যাওয়ার পথে ট্রাকের চাপায় নিহত ১২ পুণ্যার্থী

0 Comments