জাতীয়

মালয়েশিয়ায় মানবপাচারে জড়িত ১৯ বাংলাদেশি আটক

আক্তারুজ্জামান ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬

মালয়েশিয়ায় বিদেশি নাগরিক পাচারের সঙ্গে জড়িত গ্যাং সোজুল নামের একটি পাচারকারী চক্রের সন্ধান পেয়েছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। এ ঘটনায় মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম) একজন স্থানীয় নাগরিক ও একজন বাংলাদেশি নারীসহ ১৯ জন বাংলাদেশিকে আটক করেছে। ঘটনাটি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

 

ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, অনুসন্ধানের ভিত্তিতে রোববার কুয়ালালামপুরের জালান কুচাই লামা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মানবপাচারে জড়িত ২০ বিদেশিকে আটক করা হয়। যারা আটক হয়েছেন তারা অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন বলে তিনি জানান।

 

19 Bangladeshis arrested in Malaysia for human trafficking

 

তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জানান, প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে। এ সময় একটি সুপারমার্কেটের পার্কিং এলাকায় পাচারকৃত অভিবাসী বহনকারী একটি ফোর-হুইল ড্রাইভ যান ও একটি স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল (এসইউভি) থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে ছয়জন বাংলাদেশি পুরুষ, একজন বাংলাদেশি নারী এবং একজন মিয়ানমারের পুরুষ নাগরিককে আটক করা হয়।

 

এরপর তাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে কুচাই লামা এলাকার একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালানো হয়। মানবপাচারকারী চক্র এই ভবনটিকে ট্রানজিট বা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতো। পরে সেখানে আরও ১২ জন বাংলাদেশি পুরুষকে আটক করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, তারা প্রতিবেশী দেশ থেকে সদ্য প্রবেশ করে দক্ষিণাঞ্চলীয় বিভিন্ন রাজ্য ও ক্লাং ভ্যালিতে পাঠানোর অপেক্ষায় ছিলো। আটকদের বয়স ১৮ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে বলে জানান ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক।

 

জানা গেছে, অভিযানকালে দুটি যানবাহন, একাধিক বাংলাদেশি পাসপোর্ট, নগদ ৮২ হাজার ১০০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত এবং ৩ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার জব্দ করা হয়। আটক ২০ জন বিদেশিকে পরবর্তী তদন্তের জন্য পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।

 

জাকারিয়া শাবান আরো জানান, মামলাটি মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানবিরোধী আইন ২০০৭ (এটিপসোম), ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩, ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩ এবং পাসপোর্ট আইন ১৯৬৬-এর আওতায় তদন্ত করা হচ্ছে।

 

এদিকে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে সক্রিয় ছিল। তারা তৃতীয় দেশের রুট ব্যবহার করে বিদেশি নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করাত এবং কেলান্তান সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ঢুকিয়ে সরাসরি ক্লাং ভ্যালিতে নিয়ে আসত। সেখান থেকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পাঠানো হতো।চক্রটি জনপ্রতি ১২ হাজার রিঙ্গিত করে আদায় করত এবং এ পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ রিঙ্গিত অবৈধ মুনাফা করেছে বলে ধারণা করছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক আরও বলেন, দেশের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত যে কোনো ব্যক্তি বা চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
দেশে পর্যাপ্ত সার মজুত, কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চলছে: কৃষিমন্ত্রী

দেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে। এরপরও একটি সংঘবদ্ধ চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।   বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে আখতার হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।   কৃষিমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক দিনে সারের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।   তিনি জানান, গত বছর একই সময়ে সরকারি গুদামগুলোতে প্রায় ১২ লাখ মেট্রিক টন সার মজুত ছিল। বর্তমানে সেই মজুত বেড়ে প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। তাই দেশে সার নেই—এমন বক্তব্য সঠিক নয়।   বরাদ্দে বড় পার্থক্য: কৃষিমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট এলাকায় গত অর্থবছরের আগস্টে সারের বরাদ্দ ছিল ১০ হাজার ৫৯০ টন। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৮৪৭ টন। বরাদ্দের পরিমাণে এত বড় পার্থক্যের কারণ এবং কোথায় কী পরিমাণ সার যাচ্ছে, সে বিষয়ে লিখিত বক্তব্যে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, সংসদে সারের সংকট নিয়ে বিভিন্ন সদস্যের আলোচনার বিষয়টি পর্যালোচনা করে বোঝা যাচ্ছে, একটি সংঘবদ্ধ দল পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে।   অনিয়মকারী ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, সার বিতরণব্যবস্থা আরও কৃষকবান্ধব করতে সরকার ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণসংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। নতুন নীতিমালায় প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় তিনজন ডিলার রাখার বিধান করা হয়েছে। বর্তমানে বিসিআইসি ও বিএডিসির দুজন মাস্টার ডিলারের মাধ্যমে সার সরবরাহের পাশাপাশি ওয়ার্ড পর্যায়েও বিভিন্ন সংখ্যক ডিলার রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি ইউনিয়নে আরও একজন মাস্টার ডিলার নিয়োগ করা হবে। মন্ত্রী জানান, অনিয়ম ও নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে—এমন ডিলারদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। নীতিমালা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধভাবে সার মজুতের ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার, জরিমানা ও অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ডিলারদের ডিলারশিপ বহাল থাকবে কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।   নজরদারিতে কমিটি ও টাস্কফোর্স: সারের সরবরাহ, উত্তোলন, গুদামজাতকরণ, বিক্রয়মূল্য, ডিলার নির্বাচন ও তাদের কার্যক্রম এবং সার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে উপজেলা ও জেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটি কাজ করছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী। মাঠপর্যায়ে কৃত্রিম সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় বিশেষ টাস্কফোর্স ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি মন্ত্রণালয়ের চার সদস্যের একটি কমিটি জেলাভিত্তিক দায়িত্ব নিয়ে সার ব্যবস্থাপনা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি জানান, উপজেলা পর্যায়ে ১০ সদস্যের, জেলা পর্যায়ে ১৩ সদস্যের এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক এবং কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব। নতুন কমিটিতে কৃষক প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী এবং একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি বা সমাজসেবীকেও রাখা হয়েছে।   নতুন ডিলার নিয়োগে আবেদনের সময় বাড়ল; নতুন নীতিমালার আওতায় প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে নতুন ডিলার নিয়োগের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। আবেদনের শেষ সময় ৩ সেপ্টেম্বর থাকলেও তা বাড়িয়ে ১০ সেপ্টেম্বর করা হয়েছে। কৃষিমন্ত্রী জানান, আবেদনগুলো উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের যাচাই শেষে কেন্দ্রে পাঠানো হবে। নীতিমালায় নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে তিনজনকে বাছাই করে পাঠানো হবে। পরে সেখান থেকে একজনকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সার উত্তোলন ও বিতরণ সঠিকভাবে হচ্ছে কি না, তা নজরদারি করার আহ্বান জানান কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ডিলারদের রসিদের মাধ্যমে সার বিক্রি করতে হয়। জনপ্রতিনিধিরা এ বিষয়ে নজর রাখলে অনিয়মকারীরা দ্রুত এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সরে যেতে বাধ্য হবে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চোরচক্রের তথ্যেই উদ্ধার ৭ ভরি ১৫ আনা স্বর্ণ, গ্রেপ্তার ব্যবসায়ী

ছবি: সংগৃহীত

ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ভিয়েতনামের উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি, ২৪ ঘণ্টায় ৫ মৃত্যু ও ১,১১০ আক্রান্ত

ছবি: সংগৃহীত
সামনে টানা ৬ দিনের সরকারি ছুটি, ছুটি পাবেন না যারা

শুরু হয়েছে সেপ্টেম্বর মাস। বছর শেষ হতে বাকি আর মাত্র চার মাস। এরই মধ্যে ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকায় সামনে থাকা ছুটিগুলোও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বছরের বাকি সময়ে সরকারি ছুটি রয়েছে মোট ছয় দিন। তবে এর মধ্যে তিনটি ছুটি পড়েছে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির দিনে। ফলে কর্মদিবসে অতিরিক্ত ছুটি হিসেবে পাওয়া যাবে মাত্র তিন দিন।   জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, এ বছর সাধারণ ছুটি ১৪ দিন এবং নির্বাহী আদেশে ছুটি ১৪ দিন নির্ধারিত ছিল। সব মিলিয়ে সরকারি ছুটি ছিল ২৮ দিন। পরবর্তী সময়ে সরকার ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পুনর্বহাল করে দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। ফলে বছরের মোট সরকারি ছুটির সংখ্যা বেড়েছে।   সেপ্টেম্বরে ছুটি, তবে শুক্রবার সেপ্টেম্বর মাসে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ৪ সেপ্টেম্বর সরকারি ছুটি থাকবে। দিনটি পড়েছে শুক্রবার। ফলে এটি সাপ্তাহিক ছুটির দিনের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় চাকরিজীবীরা এর জন্য অতিরিক্ত কোনো কর্মদিবসের ছুটি পাবেন না।   অক্টোবরে দুই দিনের ছুটি অক্টোবর মাসে দুর্গাপূজা উপলক্ষে দুটি সরকারি ছুটি রয়েছে। ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার নবমী এবং ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে ছুটি থাকবে। ফলে দুদিনই কর্মদিবসে পড়েছে এবং সরকারি চাকরিজীবীরা এ দুদিন ছুটি পাবেন।   নভেম্বরে ফিরেছে আরও এক সরকারি ছুটি বছরের বাকি ছুটির তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে ৭ নভেম্বর। সরকার ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পুনর্বহাল করে এ দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি বছরই দিনটি সরকারি ছুটি হিসেবে পালিত হবে।   তবে ২০২৬ সালে ৭ নভেম্বর পড়েছে শনিবার। তাই এ ছুটিও সাপ্তাহিক ছুটির দিনের সঙ্গে মিলে গেছে। ফলে এ দিনটির জন্য অতিরিক্ত কোনো কর্মদিবসের ছুটি পাওয়া যাবে না।   ডিসেম্বরে দুই দিনের ছুটি বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে রয়েছে দুটি সরকারি ছুটি। ১৬ ডিসেম্বর বুধবার মহান বিজয় দিবস এবং ২৫ ডিসেম্বর শুক্রবার যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন (বড়দিন) উপলক্ষে ছুটি থাকবে। তবে ২৫ ডিসেম্বর শুক্রবার হওয়ায় এ ছুটি থেকেও অতিরিক্ত কোনো কর্মদিবসের ছুটি পাওয়া যাবে না। ১৬ ডিসেম্বর পড়েছে কর্মদিবসে।   এক নজরে বছরের বাকি ছয় ছুটি সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের সামনে থাকা ছুটির দিনগুলো হলো- তারিখ বার উপলক্ষ অবস্থা ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জন্মাষ্টমী সাপ্তাহিক ছুটি ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার দুর্গাপূজা নবমী কর্মদিবস ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী কর্মদিবস ৭ নভেম্বর শনিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস সাপ্তাহিক ছুটি ১৬ ডিসেম্বর বুধবার বিজয় দিবস কর্মদিবস ২৫ ডিসেম্বর শুক্রবার বড়দিন সাপ্তাহিক ছুটি   অর্থাৎ, বছরের শেষ চার মাসে মোট ছুটি ছয় দিন হলেও কর্মদিবসে অতিরিক্ত ছুটি মিলবে মাত্র তিন দিন- ২০ ও ২১ অক্টোবর এবং ১৬ ডিসেম্বর।   কারা পাবেন না? এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘সরকারি ছুটির তালিকা’ মূলত দেশের সব সরকারি ও আধা-সরকারি অফিস এবং সংবিধিবদ্ধ, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার জন্য প্রযোজ্য। ২০২৬ সালের প্রজ্ঞাপনেই এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ছুটির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।   তাই সব বেসরকারি চাকরিজীবী স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ছয় দিনের ছুটি পাবেন; এমন নয়। বেসরকারি শিল্প-কারখানা ও প্রতিষ্ঠানের ছুটি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন, শ্রম আইন এবং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। উদাহরণ হিসেবে, ২০২৬ সালে ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিসের বন্ধ/খোলা থাকার বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল।   অর্থাৎ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সামনে থাকা ছয় দিনের ছুটি নিশ্চিত হলেও বেসরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও প্রযোজ্য বিধানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি, গাইবান্ধায় বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বরখাস্ত ও হয়রানি বন্ধে পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদের আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত

সেপ্টেম্বরে এলপিজির দাম কমল, ১২ কেজির সিলিন্ডার ১,৫৮৫ টাকা

ছবি: সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু বাড়ছেই, একদিনে শনাক্ত আরও ২২ জন

কিশোরগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২২ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১৪ জন। তবে নতুন করে ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।   বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কিশোরগঞ্জে মোট ৬৬৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৬০২ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ৬৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   হাসপাতালভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৭ জন এবং ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ১১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।   এ ছাড়া বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচজন, ভৈরবে ১০ জন, করিমগঞ্জে পাঁচজন, কুলিয়ারচরে দুজন, হোসেনপুরে একজন, পাকুন্দিয়ায় একজন, ইটনায় দুজন, মিঠামইনে দুজন এবং প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরিফুর ইসলাম বলেন, কয়েকদিন ধরে জ্বর, শরীর ব্যথা ও দুর্বলতায় ভুগছিলেন তিনি। পরে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু ধরা পড়ে এবং হাসপাতালে ভর্তি হন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মানুষের মধ্যে আরও সচেতনতা তৈরির প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি।   এক রোগীর স্বজন জহির উদ্দিন বলেন, ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। তবে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা শুরু করায় বর্তমানে রোগীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।   কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, জেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতি বর্তমানে মোটামুটি সন্তোষজনক। এখন পর্যন্ত কিশোরগঞ্জে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডেঙ্গু আক্রান্ত কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি।   তিনি জানান, ভৈরবের দুই ডেঙ্গু রোগী ঢাকায় ও ময়মনসিংহে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।   সিভিল সার্জন আরও বলেন, ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য জেলায় পর্যাপ্ত কিট মজুত রয়েছে। একই সঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনও কাজ করছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে দেড় দশকের ভুল নীতি ও বৈশ্বিক অস্থিরতা: প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সংসদে হান্নান মাসুদ: সংবাদ সরানো ও সাইবার হামলায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কি সংকুচিত হচ্ছে?

ছবি: সংগৃহীত

প্রেমিকের ব্যবসার কথা বলে ৪ লাখ টাকা যৌতুক দাবি, স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বামীর মামলা

0 Comments