জাতীয়

বাংলাদেশের নির্বাচন স্বচ্ছ, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য : কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দল

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬

কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দল গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে স্বচ্ছ, অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আজ কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের চেয়ারপার্সন ও ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা অ্যাডো আকুফো-অ্যাডো বলেন, ‘নির্বাচনটি গ্রহণযোগ্য ছিল, পুরোটা সময় শান্তিপূর্ণ ছিল এবং স্বচ্ছ ছিল।’

১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন এবং ‘জুলাই সনদের’ ওপর গণভোট পর্যবেক্ষণ শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ, শৃঙ্খলাপূর্ণ এবং মূলত স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি সারা দেশে ভোটগ্রহণের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করায় বাংলাদেশের জনগণ, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (বিইসি), আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনারের আমন্ত্রণে আসতে পেরে কমনওয়েলথ সম্মানিত বোধ করছে।’ 

তিনি উল্লেখ করেন, কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি বোচওয়ে ১৩ সদস্যের পর্যবেক্ষক দলটি গঠন করেন, যেখানে রাজনীতি, আইন, গণমাধ্যম, জেন্ডার এবং নির্বাচন প্রশাসনে অভিজ্ঞ বিভিন্ন কমনওয়েলথ অঞ্চলের বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

প্রতিনিধি দলটি ভোটের আগে বাংলাদেশের আটটি বিভাগে গিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ, প্রচারণা কার্যক্রম ও ভোটের দিন প্রক্রিয়া মূল্যায়ন করে।

প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটের দিন শান্তিপূর্ণ ছিল, ভোটকেন্দ্রগুলো সময়মতো খোলা হয় এবং ভোটগ্রহণ পেশাদারিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন হয়। ভোটের উপকরণ যথাসময়ে বিতরণ করা হয় এবং কর্মকর্তারা নির্ধারিত নির্দেশনা মেনে প্রস্তুতি নেন। 
দলটির মতে, ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও তা সামগ্রিকভাবে নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় পদ্ধতিগত কোনো প্রভাব ফেলেনি।

পর্যবেক্ষকরা আরও জানান, ভোটকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় ভোটার তথ্য স্পষ্টভাবে প্রদর্শিত ছিল, নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক সারির ব্যবস্থা ছিল এবং অধিকাংশ কেন্দ্রে একাধিক লাইন ব্যবস্থাপনা ছিল। 

তারা বিভিন্ন আসনে ভোটকেন্দ্র থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় পর্যন্ত ফলাফল প্রক্রিয়া অনুসরণ করেন এবং ডাকযোগে ভোটসহ ব্যালট গণনাকে স্বচ্ছ হিসেবে অভিহিত করেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা সমন্বিত ও কার্যকর ছিল। ভোটকেন্দ্রে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা সদস্য উপস্থিত ছিলেন এবং তদারকি জোরদারে সিসিটিভি ও বডি-ওয়র্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়।

প্রবাসী ভোটার ও কারাবন্দিদের জন্য ডাকযোগে ভোটের সুযোগ সম্প্রসারণকে ‘প্রশংসনীয় উদ্যোগ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা ও জনআস্থা আরও জোরদারে অতিরিক্ত প্রচেষ্টার প্রয়োজন রয়েছে বলে দলটি মত দেয়।

অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে পর্যবেক্ষক দলটি নারী ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতিকে প্রশংসা করে এবং ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে নারীদের দৃশ্যমান অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে।

তবে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে যে, নারী প্রার্থীর হার ছিল মাত্র চার শতাংশ এবং মাত্র সাতজন নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে অনলাইন হয়রানি ও রাজনৈতিক দলের কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিষয়ও পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। 

রাজনৈতিক কার্যক্রমে তরুণদের অংশগ্রহণ ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে -উল্লেখ করা হলেও, আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে তরুণদের প্রাতিষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তি আরও বাড়ানো গেলে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ শক্তিশালী হবে বলে পর্যবেক্ষকরা মত দেন।

দলটি আরও জানায়, নির্বাচন ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও প্রবীণ ভোটারদের সহায়তা করেছেন।

‘জুলাই সনদ’ গণভোট প্রসঙ্গে কমনওয়েলথ জানায়, এটি সংস্কারের জরুরি দাবির প্রেক্ষাপটে গৃহীত উদ্যোগ হলেও, প্রক্রিয়াটির পরামর্শমূলক গভীরতা ও যোগাযোগের স্পষ্টতা নিয়ে কিছু অংশীজন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে প্রাণবন্ত ও সক্রিয় হিসেবে বর্ণনা করা হয় এবং বলা হয়, নির্বাচন সংক্রান্ত ব্যাপক সংবাদ কভারেজ জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি ও রাজনৈতিক আলোচনাকে শক্তিশালী করেছে।

দলটি নির্বাচনের পর কিছু বিচ্ছিন্ন উত্তেজনার খবর স্বীকার করে এবং সকল অংশীজনকে শান্ত থাকার ও আইনসম্মত উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানায়।

ভবিষ্যতের জন্য তারা নির্বাচন কমিশনকে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করার এবং পর্যবেক্ষক দলের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য দেশীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানায়।

এছাড়া তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়নে একটি অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া গঠনেরও আহ্বান জানানো হয়।

আকুফো-অ্যাডো বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে নিজেদের আকাঙ্ক্ষা পূরণের চেষ্টা করেছেন।’ তিনি নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ঐক্য ও উদারতার আহ্বান জানান।

কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি মহাসচিবের কাছে জমা দেওয়া হবে, যাতে বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ থাকবে। পরবর্তীতে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট জাতীয় অংশীজনদের সঙ্গে শেয়ার করা হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকিতে বেক্সিমকো ফার্মা

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে না পারায় লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের (AIM) তালিকা থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।   বর্তমানে কোম্পানিটির গ্লোবাল ডিপোজিটরি রিসিট (জিডিআর) লেনদেন সাড়ে পাঁচ মাস ধরে স্থগিত রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে কোম্পানিটি ডিলিস্টেড হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   তবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি বলেন, “বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে আমরা একটি সমাধানের চেষ্টা করছি। আশা করছি ভালো কিছু হবে।”   তিনি আরও জানান, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি এ বিষয়ে বৈঠক করেছে এবং সমস্যা সমাধানে বিএসইসিকে উদ্যোগ নিতে অনুরোধ জানিয়েছে।   কেন এই সংকট তৈরি হলো:  এআইএম রুল অনুযায়ী, কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে অর্থবছর শেষ হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হয়। কিন্তু ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ে প্রকাশ করতে না পারায় ২০২৬ সালের ২ জানুয়ারি থেকে লন্ডন বাজারে বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ার লেনদেন স্থগিত করা হয়।   কোম্পানিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিচালনা পর্ষদের সভা আয়োজন না হওয়ায় আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা সম্ভব হয়নি। এর পেছনে বোর্ড গঠন সংক্রান্ত একটি আইনি জটিলতা রয়েছে, যা বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন।   বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ:  ২০০৫ সাল থেকে লন্ডনের এআইএম বাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ার দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। আগামী ২ জুলাই ছয় মাসের স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হবে। নিয়ম অনুযায়ী, সমাধান না হলে কোম্পানিটি স্থায়ীভাবে ডিলিস্টেড হতে পারে।   তবে বিএসইসি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, আদালতের অনুমোদন নিয়ে বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আয়োজন করে দ্রুত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।   দেশের বাজারে কার্যক্রম স্বাভাবিক:  লন্ডন বাজারে লেনদেন স্থগিত থাকলেও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ার লেনদেন স্বাভাবিকভাবে চলছে।

আক্তারুজ্জামান জুন ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

খাকি প্যান্ট ও নীল-জলপাই শার্টে ফিরছে পুলিশ, নতুন প্রজ্ঞাপন জারি

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলপথে দূরত্ব কমবে প্রায় ৮০ কিলোমিটার, সময় সাশ্রয় হবে ২ ঘণ্টা

ছবি: সংগৃহীত

৬ মাসের মধ্যে চালু হবে পাঁচ বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল

ছবি: সংগৃহীত
বায়ুদূষণে শীর্ষে জাকার্তা, ঢাকার বাতাস আজ সহনীয় পর্যায়ে

বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় শনিবার (২০ জুন) শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। অন্যদিকে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা রয়েছে ১৬তম স্থানে, যেখানে বায়ুর মান ‘সহনীয়’ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।   সকাল ৮টার দিকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউ এয়ারের তথ্য অনুযায়ী, জাকার্তার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (এএকিউআই) স্কোর ছিল ১৭০, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ের মধ্যে পড়ে।   তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি, যার স্কোর ১৬১। ১৬০ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। এছাড়া ১৫৬ স্কোর নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রাজধানী কিনশাসা এবং ১১৮ স্কোর নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে চিলির রাজধানী সান্তিয়াগো।   অন্যদিকে ঢাকার বায়ুমান সূচক ছিল ৮৬, যা আইকিউ এয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী ‘মাঝারি’ বা ‘সহনীয়’ পর্যায়ে গণ্য হয়। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকলেও সংবেদনশীল ব্যক্তিদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।   আইকিউ এয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, এএকিউআই স্কোর ০ থেকে ৫০ হলে বায়ুর মান ভালো, ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা সহনীয়, ১০১ থেকে ১৫০ হলে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং ১৫১ থেকে ২০০ হলে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। এর চেয়ে বেশি স্কোর হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পায়।   বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে জনস্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

আক্তারুজ্জামান জুন ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরে এলো ৪ আধুনিক গ্যান্ট্রি ক্রেন, বাড়বে কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা

ছবি: সংগৃহীত

নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ-ইউএন উইমেন সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যাশা

ছবি: সংগৃহীত

মাদক ঠেকাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী টুকুর

ছবি: সংগৃহীত
প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধ হওয়া ফটিকছড়ির ‘সেবা ক্লিনিক’ আবার চালু, প্রশ্ন স্থানীয়দের

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি সদরে প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগ এবং লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতার কারণে একসময় সিলগালা করা ‘সেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাব ইন’ পুনরায় কার্যক্রম শুরু করেছে। শুক্রবার (১৯ জুন) আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন করা হয়।   অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ঋভুরাজ চক্রবর্তী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহম্মদ রশিদ চৌধুরী। মুখ্য আলোচক ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান স্বপন কুমার দত্ত। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব অনুষ্ঠানে অংশ নেন।   তবে পূর্বঘোষিত অতিথিদের মধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।   উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জুলাই মাসে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় ক্লিনিকটির বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা ক্লিনিকে ভাঙচুর চালায় এবং প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও লাইসেন্স না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।   স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অতীতের বিতর্ক ও অভিযোগের যথাযথ নিষ্পত্তি ছাড়া ক্লিনিকটি পুনরায় চালু হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বলছে, সব ধরনের অনিয়ম সংশোধন এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেই তারা নতুন করে কার্যক্রম শুরু করেছে।   এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল আলম জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীমও অভিযোগ পেলে তা যাচাই করে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

আক্তারুজ্জামান জুন ২০, ২০২৬

মধ্যবিত্ত ছাড়া জুলাই আরেকটা বড় আকারের ‘শাপলা’ হতো: মাহফুজ আলম

সাংবাদিক গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুঃখপ্রকাশ

ছবি : সংগৃহীত

নিজ নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণে আপত্তি জানিয়ে ডিও লেটার দেন প্রতিমন্ত্রী

0 Comments