আগামী মাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়ার নারী ক্রিকেট দল। তবে সিরিজ শুরুর আগেই অস্ট্রেলিয়া শিবিরে দেখা দিয়েছে দুশ্চিন্তা। হিপের চোটের কারণে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে অধিনায়ক সোফি মলিনোর খেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাওয়া নারী ক্রিকেট ন্যাশনাল লিগের (ডব্লিউএনসিএল) ভিক্টোরিয়া দলের স্কোয়াডেও জায়গা হয়নি মলিনোর। বুধবার বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের জন্য অস্ট্রেলিয়ার দল ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার তিনটি ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৯, ১১ ও ১৪ অক্টোবর।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, মলিনোর হিপের সংযোগস্থলে চোট রয়েছে। বাংলাদেশ সিরিজে তার অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ইনজুরি মলিনোর ক্যারিয়ারে নতুন কোনো বিষয় নয়। এর আগে সাম্প্রতিক সময়ে পিঠের সমস্যায় ভুগেছেন এই অলরাউন্ডার। চলতি বছরের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময়ও ওই চোট তার কার্যক্রমে প্রভাব ফেলেছিল।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে মলিনো কেবল ব্যাটার হিসেবে দলের সঙ্গে ছিলেন। পরে সুস্থ হয়ে পূর্ণাঙ্গ অলরাউন্ডার হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেন এবং অস্ট্রেলিয়াকে শিরোপা জেতাতে নেতৃত্ব দেন।
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। মলিনো বাংলাদেশ সিরিজে খেলতে না পারলে সহঅধিনায়ক তাহলিয়া ম্যাকগ্রা অথবা অ্যাশলে গার্ডনারের একজন দলের নেতৃত্ব দিতে পারেন।
এর আগে মলিনোর অনুপস্থিতিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে অস্ট্রেলিয়াকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ম্যাকগ্রা। তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পুরো আসরে একাদশে নিয়মিত জায়গা পাননি তিনি।
অন্যদিকে অ্যাশলে গার্ডনারও নেতৃত্বের দৌড়ে রয়েছেন। আগস্টে জর্জিয়া ভোলের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিবাহবিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে গেলেও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার বোর্ড গার্ডনারকে সহঅধিনায়ক হিসেবে সমর্থন দিয়েছে। ফলে মলিনো খেলতে না পারলে গার্ডনারের নেতৃত্বে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
জমি দখল বা চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে নয়, রাজধানীর গেণ্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রমে অংশ নিতে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন সদ্য সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার সময় তিনি এ দাবি করেন। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক একটি অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নেওয়ার ঘটনা নিয়েও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। ইশরাক হোসেন বলেন, রাজধানীর গেণ্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন ঘুণ্টিঘর এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক একাধিক বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। ওই এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েও সফল হতে পারেননি বলে জানান সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুরোধে শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম শুরু করেন। এসব কার্যক্রমের বিষয়ে পরবর্তী সময়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থলে এসে সহযোগিতা করে। গেণ্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর এলাকায় সংঘটিত একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ইশরাক বলেন, গত আগস্টে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হন। ওই এলাকায় নিয়মিত অপরাধ সংঘটিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার দিন সেখানে আগে থেকেই একটি মাদকবিরোধী অভিযানের পরিকল্পনা ছিল। তিনি দাবি করেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন সন্দেহভাজন মাদক কারবারি ছোটাছুটি শুরু করেন। তাঁদের কয়েকজন তাঁর গাড়ির দিকে এগিয়ে এলে নিরাপত্তার আশঙ্কায় লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নেন তিনি। ইশরাকের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তিদের কাছে কোনো অস্ত্র নেই বলে নিশ্চিত হওয়ার পর নিজের আগ্নেয়াস্ত্রটি আবার পকেটে রেখে দেন। অভিযানের বিষয়ে তিনি আরও জানান, প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চলা কার্যক্রমে কয়েকটি কক্ষে তল্লাশি চালানো হয়। তাঁর দাবি, পুলিশের সহযোগিতায় সেখান থেকে দেশীয় অস্ত্র, হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। এ সময় পুলিশ ছয়জনকে আটক করে। এদিকে অভিযানের একটি ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয় বলে জানান বিএনপির এই নেতা। তাঁর অভিযোগ, ভিডিওটি ভিন্ন ভিন্ন শিরোনামে প্রচার করে তাঁকে এবং তাঁর রাজনৈতিক দলকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁকে ঘিরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ইশরাক হোসেন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আলোচনা করেছেন। ঘটনাটি ঘিরে তাঁর দল বিব্রত হওয়ায় তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। অভিযানের সময় নিজের ভূমিকার পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সেদিন তিনি কোনো ভুল করেননি। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রয়োজনেই অল্প সময়ের জন্য লাইসেন্স করা অস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন। তবে অভিযানের ঘটনা, অস্ত্র প্রদর্শনের পরিস্থিতি এবং উদ্ধার ও আটকের বিষয়ে তাঁর দেওয়া বক্তব্যের স্বাধীন সত্যতা এই প্রতিবেদনে যাচাই করা হয়নি।
ডাকাতি, খুন, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ দেশের প্রধান সাতটি অপরাধের ক্যাটাগরিতে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে মামলার সংখ্যা অনেক কমেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তুলনামূলক পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা যায়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাসের তুলনায় ২০২৬ সালের একই সময়ে ডাকাতি, দস্যুতা, খুন, দাঙ্গা, নারী ও শিশু নির্যাতন ও অপহরণের ঘটনা কমেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাতটি ক্যাটাগরিতে সম্মিলিত মামলার সংখ্যা ২০২৫ সালের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বরে ১৮ হাজার ৬৬১টি থেকে কমে এ বছরের একই সময়ে ১৭ হাজার ৩৩৫টিতে নেমে এসেছে। অর্থাৎ ১ হাজার ৩২৬টি মামলা বা প্রায় ৭.১ শতাংশ কমেছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর মেয়াদের আলাদা একটি তুলনামূলক তথ্যে দেখা যায়, তালিকাভুক্ত সাতটি অপরাধ ক্যাটাগরিতে রেকর্ড করা ঘটনার সংখ্যা ২০২৫ সালের ৬ হাজার ৯১টি থেকে কমে ২০২৬ সালে ৫ হাজার ৫৩২টিতে নেমে এসেছে, যা ৫৫৯টি মামলা বা ৯.২ শতাংশ কমেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কয়েকটি প্রধান অপরাধ কমেছে। এর ফলে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিগত সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে উন্নতি হয়েছে। এই তথ্যের বিশ্লেষণ দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির চিত্র তুলে ধরে। দেশে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, পুলিশের সংকলিত তথ্য অনুযায়ী খুন, অপহরণ ও নারী নির্যাতনসহ অন্যান্য অপরাধ গত বছরের তুলনায় অনেক কমেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ধারাবাহিক প্রচেষ্টাকে এই উন্নতির কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২৫ সালের নয় মাসে ৬২টি দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে, সেখানে ২০২৬ সালে এই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৭টিতে। ৪৫টি মামলা কমে যাওয়ার এই ঘটনাটি জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর মেয়াদের জন্য তালিকাভুক্ত সাতটি ক্যাটাগরির মধ্যে সবচেয়ে বড় আনুপাতিক পতন, যা প্রায় ৭২.৬ শতাংশ কমেছে। ত্রৈমাসিক তথ্য অনুযায়ীও দাঙ্গার ঘটনা কমেছে, যেখানে মামলার সংখ্যা ২০২৫ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বরে ৯টি থেকে কমে চলতি বছরের একই সময়ে ৫টিতে এসেছে, যা ৪৪.৪ শতাংশ কমেছে। নয় মাসের তুলনামূলক চিত্রে ডাকাতির সংখ্যাও অনেক কমেছে। এই ক্যাটাগরিতে মামলা ৫৩৮টি থেকে কমে ৩৮৭টিতে দাঁড়িয়েছে, যা ১৫১টি মামলা বা ২৮.১ শতাংশ। একই ক্যাটাগরিতে তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেখা গেছে, যা ১৭১টি ডাকাতির মামলা থেকে কমে ১২৩টিতে নেমে এসেছে—এটিও প্রায় ২৮.১ শতাংশ কমেছে । পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে খুনের মামলা ৮.৭ শতাংশ কমেছে। মামলার সংখ্যা ২০২৫ সালের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বরের ২ হাজার ৯১৩টি থেকে কমে চলতি বছরের একই সময়ে ২ হাজার ৬৫৯টিতে নেমে এসেছে, অর্থাৎ ২৫৪টি মামলা কমেছে। ত্রৈমাসিক তুলনামূলক চিত্রেও হ্রাস দেখা গেছে, যেখানে খুনের মামলা ২০২৫ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বরের ৯৮০টি থেকে কমে ২০২৬ সালের একই সময়ে ৮৮১টিতে পৌঁছেছে। ৯৯টি মামলা কমেছে যা প্রায় ১০.১ শতাংশ। উভয় সময়েই অপহরণের ঘটনা কমেছে। নয় মাসের মোট সংখ্যা ৮১২টি থেকে কমে ৭৬৯টিতে নেমে এসেছে, যা ৪৩টি মামলা বা ৫.৩ শতাংশ কমেছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে অপহরণের ঘটনা ২৯৫টি থেকে কমে ২৪২টিতে দাঁড়িয়েছে, যা ৫৩টি মামলা বা ১৮ শতাংশ। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বরে শিশু নির্যাতনের মামলা ১২.৩ শতাংশ কমেছে। মামলার সংখ্যা ৩,৫৯১টি থেকে কমে ৩,১৫১টিতে নেমে এসেছে, যা ৪৪০টি মামলা কমেছে। ত্রৈমাসিক চিত্রেও একই ধারা দেখা গেছে, যেখানে মামলা ২০২৫ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বরে ১ হাজার ৪৩২টি থেকে কমে ২০২৬ সালের একই সময়ে ১ হাজার ২৩৮টিতে নেমেছে, যা ১৯৪টি মামলা বা ১৩.৫ শতাংশ কমেছে। নারী নির্যাতনের মামলার সংখ্যা ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে ৯ হাজার ২৬২টি থেকে কমে চলতি বছরের একই সময়ে ৮ হাজার ১৭৮টিতে পৌঁছেছে। এতে ১ হাজার ৮৪টি মামলা কমেছে। জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর মেয়াদে ২০২৫ সালে দস্যুতা ১ হাজার ৪৮৩টি থেকে কমে ২০২৬ সালে ১ হাজার ৩৭৪টিতে দাঁড়িয়েছে। ত্রৈমাসিক পরিসংখ্যানে এটি ৫১১টি থেকে কমে ৪৬৭টিতে নেমে এসেছে, যা ৪৪টি মামলা বা প্রায় ৮.৬ শতাংশ কমেছে। তৃতীয় প্রান্তিকে চুরির ঘটনাতেও রেকর্ডসংখ্যক কমেছে। রেকর্ডকৃত ঘটনা ২০২৫ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বরের ২ হাজার ৬৯৩টি থেকে কমে ২০২৬ সালের একই সময়ে ২ হাজার ৫৭৬টিতে নেমে এসেছে। ১১৭টি মামলা কমার এই হার প্রায় ৪.৩ শতাংশ। হ্রাস পাওয়ার পরও, সরবরাহকৃত ত্রৈমাসিক তুলনামূলক তথ্যে মামলার সংখ্যার দিক থেকে চুরিই ছিল সর্ববৃহৎ ক্যাটাগরি। ত্রৈমাসিক তথ্যে অন্তর্ভুক্ত সাতটি ক্যাটাগরি জুড়ে রেকর্ড করা ঘটনা ৯.২ শতাংশ কমেছে, যেখানে নয় মাসের তুলনামূলক চিত্রে হ্রাস ছিল ৭.১ শতাংশ।
সরকার গঠনের মাত্র আট মাসে বিএনপি সরকারের তিনজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে একজন সংসদ সদস্যও পদত্যাগ করেছেন। এসব পদত্যাগের কোনোটিই তাদের নিজেদের ইচ্ছায় হয়নি, বরং সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনায় তারা পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। সবশেষ আজ পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। গত শনিবার, রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন ইশরাক। অভিযানে তার নিজের হাতে এবং সঙ্গে থাকা সহযোগীদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযান পরিচালনার সেই ঘটনার ভিডিও নিজের ফেসবুক পেইজে প্রচার করেন ইশরাক হোসেন। মুহূর্তেই সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। কেবল সাধারণ মানুষের মাঝেই নয়, বরং বিএনপি এবং সরকারের উচ্চপর্যায়েও তীব্র অস্বস্তি ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয় এই ঘটনায়। সমালোচনার মুখে রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। নির্দেশনার পর আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক। প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা, কেউ যদি মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করেন, সেটা তার যত কাছের মানুষই হোন না কেন, সে বিষয়ে তিনি যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার, সেটাই নেবেন। তিনি ইতোমধ্যে সেটা প্রমাণ করেছেন। আমরা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নই। সুতরাং এটা আমাদের সবার মাথায় রাখতে হবে। এর আগে ২ মন্ত্রীর পদত্যাগ এদিকে, ইশরাক হোসেনের আগে ৮ মাস বয়সী বিএনপি সরকারের আরও দুই মন্ত্রী পদত্যাগ করেন। তারা হলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান ও তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। দায়িত্ব নেওয়ার সাড়ে তিন মাসের মাথায় গত ১ জুন পদত্যাগ করেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। এদিন সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। পরে তা গৃহীত হয়। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও পার্বত্য অঞ্চলে নানা আলোচনা চলে। পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছি। আমার শারীরিক অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কাজের দায়িত্ব পালনে নানাবিধ সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বাড়াতে আমার বর্তমান পদ (মন্ত্রী) থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করা আবশ্যক বলে মনে করছি।’ তবে দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পেছনে শুধু শারীরিক অসুস্থতাই নয়, অন্য নানা কারণ নিয়েও চলে আলোচনা। বিশেষ করে পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন, চেয়ারম্যান পদে সুপারিশকে ঘিরে মতপার্থক্য এবং রাঙামাটি বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয়গুলো সামনে আসে। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা ও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়েও আলোচনা ছিল। তার আকস্মিক পদত্যাগে বিস্মিত হয়েছিলেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তখন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেছিলেন, ঘটনাটি কীভাবে ঘটল তা আমরা নিজেরাও জানি না। পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে আমরা অবাক হয়েছি। দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার ও তাকে পুনর্বহালের দাবিতে রাঙামাটি শহরে বিক্ষোভ করেন তার অনুসারী-সমর্থকরা। তাদের দাবি, মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। এদিকে, গত ২২ আগস্ট তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন জহির উদ্দিন স্বপন। যদিও তাকে ওইদিনই মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগের দিন তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান আন্দালিভ রহমান পার্থ। জহির উদ্দিন স্বপনের মন্ত্রিত্বও একরকম কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে আলোচনা আছে। সংসদ সদস্য মিষ্টির পদত্যাগ রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকেও পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। গত ১ অক্টোবর তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপর জাতীয় সংসদ সচিবালয় তার আসন শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।