পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক খাতে নজিরবিহীন লুটপাটের ক্ষত এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। অনিয়ম, দুর্নীতি ও অদক্ষ ব্যবস্থাপনার ফলে ব্যাংক খাতে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। অধিকাংশ ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় খেলাপি ঋণ দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে প্রভিশন ও মূলধন ঘাটতি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আয়যোগ্য সম্পদের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। সার্বিকভাবে ব্যাংকগুলোর আয়ও নিম্নমুখী। বিশেষ করে খেলাপি ঋণের লাগামহীন বৃদ্ধি ব্যাংকিং খাতের সব সূচকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যার কারণে খাতটি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে ব্যাংক খাতে সংঘটিত অনিয়ম ও লুটপাটের প্রভাব এখন স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতির দায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে বহন করতে হচ্ছে। তাদের মতে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর নতুন সরকারকে আরও কঠিন সংকট মোকাবিলা করতে হবে। বর্তমান বাস্তবতা ভবিষ্যৎ সরকারের জন্যও অশনিসংকেত। এমন পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে। এসব খাতে অগ্রগতি না হলে সামগ্রিক অর্থনীতি লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হতে পারে। ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট দেখা দিলে ঋণ বিতরণ ক্ষমতা কমে গিয়ে আরও গভীর সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন, কর্মসংস্থান বাড়ানো আগামী সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। কারণ বিনিয়োগ বাড়াতে না পারলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব নয়। তিনি জানান, বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন এখন ব্যাংকগুলোতে নেই পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার হওয়ায় ব্যাংক খাত নাজুক অবস্থায় পড়েছে।
বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম মনে করেন, দেশে প্রকৃত খেলাপি ঋণ ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। কারণ অবলোপিত ঋণ, নবায়নকৃত ঋণ ও আদালতে আটকে থাকা ঋণ হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিটি ব্যাংকের শীর্ষ ১০ খেলাপির বিরুদ্ধে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিচার করা ছাড়া এ সংকট থেকে উত্তরণের উপায় নেই।
সূত্র মতে, দেশের অর্ধেক ব্যাংক এখন খেলাপি ঋণের চাপে পঙ্গু হয়ে পড়েছে। এই ব্যাংকগুলোর বড় দুটি সমস্যা হলো আমানতকারীদের টাকাই ফেরত দেওয়া যাচ্ছে না এবং আস্থাহীনতার কারণে নতুন আমানতও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে এ ব্যাংকগুলো দেশের অর্থনীতি বা বিনিয়োগ কার্যক্রমে কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না।
অন্যদিকে কয়েকটি ব্যাংক এখনো তুলনামূলক ভালো অবস্থায় থাকলেও বাকিগুলো মধ্যম মানে অবস্থান করছে। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যে বিনিয়োগের চাপ তৈরি হবে, তার তুলনায় ব্যাংকগুলোতে পর্যাপ্ত পুঁজি নেই। এছাড়া উচ্চ সুদের হারও বিনিয়োগের পথে বড় বাধা। বর্তমানে ঋণের সুদের হার ১৪ থেকে ১৮ শতাংশ হওয়ায় অধিকাংশ উদ্যোক্তা এত উচ্চ সুদে ঋণ নিতে সাহস পাচ্ছে না।
দুর্বল ব্যাংকগুলোর আমানত সংগ্রহেও এখন হাহাকার অবস্থা দেখা দিয়েছে। অনেক ব্যাংক সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও ১৩–১৪ শতাংশ সুদে আমানত সংগ্রহ করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয় তৈরি হবে। উচ্চ সুদে নেওয়া ঋণও পরিশোধ করতে না পেরে নতুন করে খেলাপিতে পরিণত হবে।
খেলাপি ঋণে রেকর্ড বৃদ্ধি
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যমতে, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৩৫.৭৭ শতাংশ। পূর্ববর্তী সরকার পতনের পর গত এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৪ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা। শুধু চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসেই তা বেড়েছে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা। এপ্রিল–জুন প্রান্তিকে এই বৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি ছিল। অবলোপিত ও নবায়নকৃত ঋণসহ বিবেচনায় নিলে খেলাপি ঋণের প্রকৃত অঙ্ক আরও বড় যা ইতিহাসে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।
২০০৯ সালে পূর্ববর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার আগে দেশে খেলাপি ঋণ ছিল মাত্র ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। অথচ বর্তমানে তা সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছেছে।
খেলাপি ঋণের লাগামহীন বিস্তার
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সরকার পতনের আগের জুন পর্যন্ত খেলাপি ঋণ ছিল ২ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ১২.৫৬ শতাংশ। সরকার পতনের পর বাস্তব পরিস্থিতি প্রকাশ পেতে শুরু করলে সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয় ২ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা (১৬.৯৩ শতাংশ)। একই বছরের ডিসেম্বরে তা দাঁড়ায় ৩ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকা (২০.২০ শতাংশ)।
২০২৫ সালের শুরুকে কেন্দ্র করে খেলাপি ঋণের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়। মার্চে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা (২৪.১৩ শতাংশ)। জুনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথ্য প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকে, কারণ এই তথ্য প্রকাশ করলে ব্যাংক খাতের বাস্তব সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠত।
প্রভিশন ও মূলধন ঘাটতির ভয়াবহতা
খেলাপি ঋণের চাপ বাড়ায় প্রভিশন ঘাটতিও অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারের শেষ দিকে প্রভিশন ঘাটতি ছিল ২৫ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের ডিসেম্বরে তা লাখ কোটি টাকার বেশি হয়ে যায়। চলতি বছরের জুনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা, যদিও সেপ্টেম্বরে কিছুটা কমে ৩ লাখ ২০ হাজার কোটি হয়েছে। পাশাপাশি মূলধন ঘাটতি, সম্পদের মানহানি এবং ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণও বাড়ছে। এতে ব্যাংকগুলোর আয় কমে গিয়ে অন্তত ৫০–৬০ শতাংশ ব্যাংক গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দুই হাজার ১৫৬ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ৪৫ হাজার ৮৮১ টাকা। বুধবার (২০ মে) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে। আজ সকালে বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পাকা স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় নতুন করে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দুই লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম এক লাখ ৯৩ হাজার ৯৭৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির দাম এক লাখ ৫৭ হাজার ১৭৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে, গত ১৬ মে দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। ওই সময়ও দাম কমিয়েছিল সংগঠনটি। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৬৬ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ দফা দাম বাড়ানো হলেও ৩১ দফা কমানো হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়। সে বছর ৬৪ বার দাম বাড়ে এবং ২৯ বার কমে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভিসি পরিবর্তনই গাত্রদাহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ছাত্রশিবিরের জন্য এমন মন্তব্য করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাসির। রোববার (১৭ মে) তার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকের এক পোস্টে এ কথা বলেন। ফেসবুক পোস্টে নাছির আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুণগত মানোন্নয়ন, একাডেমিক পরিবেশ পুনর্গঠন এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বর্তমান নির্বাচিত সরকার দেশের ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পদে পরিবর্তন এনেছে। কিন্তু এই ইতিবাচক পরিবর্তনই গাত্রদাহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ছাত্রশিবিরের জন্য। কারণ, যেসব উপাচার্যকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাদের অধিকাংশই ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত এবং প্রকাশ্যে কিংবা নেপথ্যে জামায়াতপন্থী মতাদর্শের ধারক। এই জামায়াতপন্থী প্রশাসনকে ব্যবহার করেই ছাত্রশিবির দীর্ঘদিন দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গুপ্ত রাজনীতি , মব সন্ত্রাস, ভয়ভীতি, নিয়োগ বাণিজ্য, সিন্ডিকেট ও নিজেদের গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়নের রাজত্ব কায়েম করেছিল। এখন সেই নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয়ে তারা আবারও শুরু করেছে পুরোনো মুনাফেকি ও প্রতারণার রাজনীতি। নবনিযুক্ত উপাচার্যদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে শিবির তাদের পরিচালিত ফেইক পেজ ও গোপন প্রোপাগান্ডা সেল ব্যবহার করছে। কোথাও মিথ্যাচার, কোথাও বিভ্রান্তি, কোথাও আবার সরাসরি যোগদানে বাধা—এটাই তাদের চেনা চরিত্র। মুখে তারা ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার’ এর কথা বলে, কিন্তু বাস্তবে তারা চায় ক্যাম্পাসে আবারও গুপ্ত রাজনীতি , ভয়, সহিংসতা ও গোপন নিয়ন্ত্রণের রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে ‘যোগ্যতা নেই’ বলে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, সেটি শুধু হাস্যকরই নয়, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একজন ব্যক্তি যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইএসডব্লিউআর থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম, সুইডেনের University of Gothenburg থেকে আন্তর্জাতিক মাস্টার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন—তাঁকে অযোগ্য বলার দুঃসাহস কেবল মিথ্যাচারনির্ভর রাজনীতির পক্ষেই সম্ভব। একইভাবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিরুদ্ধেও ছাত্রশিবির অপতৎপরতা চালাচ্ছে। অথচ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া বহু বছরের স্বাভাবিক ও স্বীকৃত প্রক্রিয়া। কিন্তু শিবিরের সমস্যা নিয়মে নয়—সমস্যা হলো, তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে কেউ প্রশাসনে আসুক, সেটা তারা মানতে পারে না। আজ ডুয়েটে নবনিযুক্ত উপাচার্যের যোগদান ঠেকাতে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা যে সহিংস হামলা চালিয়েছে, তা আবারও প্রমাণ করেছে—তারা আদর্শের রাজনীতি নয়, সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। এরা প্রকাশ্যে নৈতিকতার কথা বলে, আর আড়ালে ক্যাম্পাসে মব তৈরি করে, গুজব ছড়ায়, হামলা চালায়—এটাই তাদের মুনাফেকি রাজনীতির আসল চেহারা। শিক্ষাঙ্গনকে আর কোনো গোপন এজেন্ডাধারী অপশক্তির হাতে জিম্মি হতে দেওয়া হবে না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস, মিথ্যাচার ও শিবিরের প্রতারণামূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে অতীতের মতো আজও রাজপথে সোচ্চার থাকবে।
বাংলাদেশের ৫টি নির্দিষ্ট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, এসি টেকনিশিয়ান ও ওয়েল্ডিং সেক্টরে কর্মী নিতে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে কাতার। আজ (সোমবার) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স কক্ষে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলী বিন সাঈদ বিন সামিখ আল মাররি এ আগ্রহ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ-কাতার যৌথ কমিটির বৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশ সফরে আসায় ড. আলীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান আরিফুল হক। মন্ত্রী বলেন, গত কয়েক দশকে দু’দেশের মধ্যকার ভ্রাতৃপ্রতীম সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশি কর্মীদের সমস্যা সমাধান ও কল্যাণ নিশ্চিতে কাতার সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে গভীর কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। বিশেষ করে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জরুরি চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে কাতারের আমির যে মানবতার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন, সেজন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা জানান প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী। আরিফুল হক চৌধুরী কাতারকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় শ্রমবাজার হিসেবেও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বর্তমানে ৪ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী কাতারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অবদান রাখছেন। ২০২৩ সালে ১ লাখ ৭ হাজার ৫৯৮ জন বাংলাদেশি কর্মী কাতারে গেছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, চলতি বছর দোহা কর্তৃপক্ষ এই সংখ্যার দ্বিগুণ কর্মী নেবে। কাতারগামী কর্মীদের জন্য ঢাকায় বর্তমানে মাত্র একটি ভিসা ও মেডিকেল সেন্টার রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। স্বল্প সময়ে ভিসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করতে দেশের ৮টি বিভাগীয় শহরে কাতারের ভিসা সেন্টার ও মেডিকেল সেন্টার স্থাপনের জন্য দেশটির শ্রমমন্ত্রীকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানান মন্ত্রী। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মন্ত্রণালয়ের অধীন ১১০টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে বৈদেশিক কর্মসংস্থান সংশ্লিষ্ট ৫৫টি ট্রেডে মানসম্মত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক কাতারের চলমান উন্নয়নযজ্ঞে অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, নার্স, কেয়ারগিভার, ইমাম, মোয়াজ্জিন, খতিব ও ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের জন্য সফররত শ্রমমন্ত্রীকে আহ্বান জানান। এসময় ড. আলী বিন সামিখ আল মাররি বাংলাদেশের কর্মীদের কর্মদক্ষতার প্রশংসা করে জানান, বর্তমানে কাতারে প্রায় ৪ লাখ ৭৩ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত আছেন। তাদের মধ্যে ৩০ শতাংশ উন্নয়ন খাতে এবং বাকিরা অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত। তিনি বাংলাদেশের ৫টি নির্দিষ্ট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, এসি টেকনিশিয়ান ও ওয়েল্ডিং সেক্টরে কর্মী নেওয়ার বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, কাতারে অদক্ষ কর্মীদের দক্ষ করে তুলতে ইতোমধ্যে ২টি বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। এছাড়াও বিভাগীয় শহরে ভিসা সেন্টারের সংখ্যা বৃদ্ধির অনুরোধের প্রেক্ষিতে কাতারের শ্রমমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে তার দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন। যৌথ কমিটির এই বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত কাতারের রাষ্ট্রদূত সেয়ারা আলী মাহদি সাঈদ আল কাহতানি; প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ; প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান এবং দু’দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।