জাতীয়

বগুড়ায় দই বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলেন ব্যবসায়ী

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ০৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বগুড়ায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ মহানগরীর সাতমাথায় শেরপুর দই ঘরে অভিযান চালিয়েছে। এ সময় সেখানে ফাঙ্গাসযুক্ত দই সংরক্ষণ করায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।  


ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান বৃহস্পতিবার বিকালে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।  


প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, একজন ভোক্তার অধিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়া মহানগরীর সাতমাথা এলাকায় ‘শেরপুর দই ঘরে’ অভিযান চালানো হয়। ভোক্তা অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের যৌথ এ  অভিযানে ওই প্রতিষ্ঠানে ফাঙ্গাসযুক্ত দই বিক্রির জন্য সংরক্ষণ করতে দেখা যায়।  


এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ সংবলিত ট্যাগ পরিবর্তনের মাধ্যমে ভোক্তা সাধারণের সঙ্গে প্রতারণা করার প্রমাণ পাওয়া যায়। এ সময় ফাঙ্গাসযুক্ত দইয়ের সরা জব্দ করে জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়। এ অপরাধের স্বীকারোক্তি দেওয়ায় শেরপুর দই ঘরকে ভোক্তা অধিকার আইনে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া সাতমাথায় অবস্থিত বিভিন্ন দইয়ের প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিকার আইন ও নিরাপদ খাদ্য আইন সম্পর্কে সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। 


অভিযানে নেতৃত্বে দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান ও নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক ফজিলাতুন্নেসা ফৌজিয়া। অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে জেলা পুলিশ। 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সংগৃহীত ছবি
‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬’ অর্জন করলেন সাংবাদিক নাঈম আবির

পর্যটন সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬’ পেয়েছেন এভিয়েশন ও পর্যটনবিষয়ক সাংবাদিক নাঈম আবির। পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ, নীতি ও উন্নয়ন নিয়ে ধারাবাহিক ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতার জন্য তাকে ‘সেরা পর্যটন সাংবাদিকতা’ ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।   বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের টেকসই উন্নয়ন, সেবার মানোন্নয়ন, উদ্ভাবন, ডিজিটাল রূপান্তর, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এবং পর্যটন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি দিতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।   শনিবার বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সন্মেলন কেন্দ্রে এক জমকালো অনুষ্ঠানে নাঈম আবিরকে এই পুরস্কার তুলে দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।    নাঈম আবির দীর্ঘদিন ধরে দেশের পর্যটন, বিমান চলাচল, হোটেল-রিসোর্ট, অভিবাসন ও ভ্রমণ খাত নিয়ে সাংবাদিকতা করে আসছেন। তার প্রতিবেদনে পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনার পাশাপাশি অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, নীতিগত জটিলতা, যাত্রী ও পর্যটকদের নানা সমস্যা এবং সংশ্লিষ্টদের মতামত উঠে এসেছে।   বর্তমানে স্টার নিউজের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত নাঈম আবির পর্যটন ও এভিয়েশন খাতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক বিষয়েও সাংবাদিকতা করছেন। একই সঙ্গে তিনি ভ্রমণবিষয়ক ডিজিটাল মিডিয়া ‘চেক ইন’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)।   পুরস্কার পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় নাঈম আবির বলেন, পর্যটন সাংবাদিকতার মতো একটি বিশেষায়িত ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। এই স্বীকৃতি ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতায় আমাকে অনুপ্রাণিত করবে।   বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে দেওয়া ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬’-এ পর্যটন শিল্পের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা ও সংগঠনকে মোট ১৩টি ক্যাটাগরিতে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পর্যটন উদ্যোক্তা, ট্যুর অপারেটর, হোটেল, বিনোদন পার্ক, তরুণ পর্যটন উদ্যোক্তা, ট্রাভেল কনটেন্ট ক্রিয়েটর, পর্যটন নারী উদ্যোক্তা, ট্যুর গাইড, মাইস উদ্যোগসহ সেরা পর্যটন সাংবাদিকতা।  

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

৭৫ মিনিটের ব্যবধানে তিন ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশের বিভিন্ন অঞ্চল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজের ছবি ‘এআই’ বলে ছড়ানোর চেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

গ্যাস সিলিন্ডারে অনিয়ম, ৩৯ প্রতিষ্ঠানকে সোয়া ৪ লাখ টাকা জরিমানা

ছবি: সংগৃহীত
আখতারুজ্জামানের রিমান্ড শুনানিতে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধার অভিযোগ

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের রিমান্ড শুনানিকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের আদালতকক্ষে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালতে এ ঘটনা ঘটে।   আখতারুজ্জামানকে আদালতে হাজির করা হবে—এ খবর পেয়ে দুপুরের আগে অর্ধশতাধিক সাংবাদিক আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। তবে আদালতের দিকে যাওয়ার সময় নিচেই দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা তাদের বাধা দেন বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা। পরে কেউ কেউ আদালতের ওপরে উঠতে পারলেও প্রবেশপথে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাদের এজলাসে ঢুকতে দেননি।   বাধার কারণ জানতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।   সাংবাদিক তসলিম হোসেন রনি জানান, আখতারুজ্জামানকে আদালতে তোলার আগেই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি এজলাসে অবস্থান করছিলেন। বেলা পৌনে ১টার দিকে আখতারুজ্জামানকে আদালতে আনার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের ডিসি মহীউদ্দিন মাহমুদ সোহেল তাকে বাইরে চলে যেতে বলেন বলে দাবি করেন তিনি।   তসলিম হোসেন রনির ভাষ্য, এর কারণ জানতে চাইলে তাকে জানানো হয়, এটি আদালতের নির্দেশ।   এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের ডিসি মহীউদ্দিন মাহমুদ সোহেলের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।   অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী সাংবাদিকদের প্রবেশে ডিসি প্রসিকিউশনের বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, শুনানির সময় আসামির বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক সবাইকে আদালতকক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।   তিনি বলেন, শুনানির সময় আখতারুজ্জামানের আচরণ এবং তার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই বিচারক এমন নির্দেশ দেন। সাংবাদিকদের আদালতে প্রবেশে ডিসি প্রসিকিউশন কোনো বাধা দেননি বলেও দাবি করেন তিনি।   এদিকে আখতারুজ্জামানের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ করেন, ডিসি প্রসিকিউশন সাংবাদিক ও আইনজীবীদের আদালত এবং আদালতের বারান্দায় প্রবেশ করতে দেননি। কোনো কিছু গোপন রাখার উদ্দেশ্যে এ ধরনের বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।   তিনি আরও বলেন, সাধারণত ছুটির দিনে মামলার শুনানি বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার দিকে হলেও এদিন দ্রুত শুনানি হয়েছে। আখতারুজ্জামান আদালতে বক্তব্য দেওয়ার সময় সাংবাদিকরা উপস্থিত থাকলে ভালো হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার একটি বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়। শনিবার বেলা পৌনে ১টার দিকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অষ্টম তলায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালতে নেওয়া হয়। তাকে ঘিরে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।   রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে যুক্তি দেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। আদালতের অনুমতি নিয়ে আখতারুজ্জামানও বক্তব্য দেন। শুনানি শেষে আদালত তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাকে আদালত থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বরিশালে সরু সড়কের পাশে মার্কেট নির্মাণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত

চুরির অভিযোগে কিশোরকে বেঁধে মারধর, ফেসবুকে ছড়াল ভিডিও

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর বাসার সৌরবিদ্যুৎ থেকে গ্রিডে ১২০০ ইউনিট

ছবি: সংগৃহীত
ঢামেকে ডেঙ্গুতে এ বছর ৪২ মৃত্যু, সেপ্টেম্বরে ভর্তি ১ হাজার ৪০৩

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চলতি বছরের ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩ হাজার ৮৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা শেষে ২ হাজার ১৮১ জন রোগী ছাড়পত্র পেয়েছেন। আর ৫৭৯ জন চিকিৎসা অসম্পূর্ণ রেখে নিজ দায়িত্বে হাসপাতাল ছেড়েছেন।   হাসপাতাল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে ঢামেকে ডেঙ্গু রোগীর চাপ তুলনামূলক কম থাকলেও জুলাই থেকে তা বাড়তে শুরু করে। সেপ্টেম্বরে এক মাসেই ১ হাজার ৪০৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন, যা এ বছরের মাসভিত্তিক সর্বোচ্চ।   অক্টোবরের প্রথম তিন দিনেও ডেঙ্গু নিয়ে ১২৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে ৬৬ জন রোগী ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং ৩১ জন নিজ দায়িত্বে হাসপাতাল ছেড়েছেন। একই সময়ে ৪০২ ও ৫০২ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন দুই ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।   ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত তিন ওয়ার্ড ঢামেকের নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য ৪০২, ৫০২ ও ৭০২ নম্বর ওয়ার্ড নির্ধারিত রয়েছে। এসব ওয়ার্ডে বর্তমানে বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের মশারি সরবরাহ করলেও অনেক রোগী ও স্বজন তা ব্যবহার করছেন না বলে জানা গেছে। এতে রোগী ও তাদের সঙ্গে থাকা স্বজনদেরও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গাজীপুর থেকে চিকিৎসা নিতে আসা ১৮ বছর বয়সী ফারহান জানান, কয়েকদিন জ্বর থাকার পর স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। প্লাটিলেট কমে যাওয়ায় তাকে ঢামেকে পাঠানো হয়। বর্তমানে কিছুটা সুস্থ বোধ করছেন। মশারি দেওয়া হলেও সেটি টানানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই বলে জানান তিনি। কামরাঙ্গীরচর থেকে আসা ডেঙ্গু আক্রান্ত আফরোজা আক্তার জানান, কয়েকদিন জ্বর থাকার পর পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হলে ঢামেকে ভর্তি হন। খাবার খেতে না পারা ও বমির সমস্যার পাশাপাশি তার প্লাটিলেট এক লাখের নিচে নেমে গিয়েছিল। বর্তমানে কিছুটা বেড়েছে। তবে হাসপাতালের ওয়াশরুম অপরিষ্কার বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মশারি ব্যবহার না করার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় গরম লাগে। মশারি টানালে বাতাস চলাচলে সমস্যা হয়। নতুন ভবনের ওয়ার্ড মাস্টার রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত ওয়ার্ডগুলোতে প্রত্যেককে মশারি দেওয়া হয়েছে। তবে অনেকেই তা ব্যবহার করছেন না। এতে রোগীদের পাশাপাশি তাদের স্বজনদেরও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   জুলাই থেকে দ্রুত বেড়েছে ভর্তি ঢামেকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীর ভর্তি তুলনামূলক কম ছিল। জানুয়ারিতে ৪৫, ফেব্রুয়ারিতে ২৬, মার্চে ৩০, এপ্রিলে ৪১, মে মাসে ৭৫ এবং জুনে ১২২ জন রোগী ভর্তি হন। জুলাইয়ে ভর্তি হন ৩৭২ জন। আগস্টে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৪৪ জনে। সেপ্টেম্বরে এক মাসে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪০৩ জন। অক্টোবরের প্রথম তিন দিনে ভর্তি হয়েছেন আরও ১২৭ জন। এ নিয়ে চলতি বছরের ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ঢামেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৫ জন।   তিন বছরে ভর্তি প্রায় ১০ হাজার ৪০০ ঢামেকের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৩ হাজার ৪০৯ জন। ২০২৫ সালে ভর্তি হন ৩ হাজার ৮৮৮ জন। আর চলতি বছরের ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ৩ হাজার ৮৫ জন। অর্থাৎ তিন বছরের মধ্যে ঢামেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি। ২০২৪ সালে আগস্ট থেকে রোগী বাড়তে শুরু করে এবং অক্টোবরে ৮৮২ জন ভর্তি হন। ২০২৫ সালে অক্টোবর ও নভেম্বরেও রোগীর চাপ বেশি ছিল। চলতি বছরে জুলাইয়ের পর থেকে আবারও হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।   চলতি বছরে সেপ্টেম্বরে মৃত্যু সর্বোচ্চ ২০২৬ সালে জানুয়ারিতে ডেঙ্গুতে দুজনের মৃত্যু হয়। ফেব্রুয়ারিতে কোনো মৃত্যু হয়নি। মার্চে দুজন, এপ্রিলে শূন্য, মে মাসে দুজন এবং জুনে একজন মারা যান। জুলাই ও আগস্টে ১০ জন করে এবং সেপ্টেম্বরে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। অক্টোবরের প্রথম তিন দিনে মারা গেছেন আরও দুজন। ফলে চলতি বছর ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ঢামেকে ডেঙ্গুতে মোট ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তুলনায় ২০২৫ সালে ঢামেকে ডেঙ্গুতে ১১৮ জন এবং ২০২৪ সালে ৯৫ জন মারা গেছেন। দুই বছরে মোট মৃত্যু ছিল ২১৩ জন।   বর্তমানে হাসপাতালে ২৯৮ ডেঙ্গু রোগী ৩ অক্টোবরের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ঢামেকে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ২৯৮ জন। তাদের মধ্যে ১৪১ জন পুরুষ, ৮৯ জন নারী এবং ৬৮ জন শিশু। ২১–৩০ বছর বয়সীদের আক্রান্তের হার বেশি চলতি বছর ঢামেকে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সীরা সবচেয়ে বেশি। এই বয়সসীমায় ভর্তি হয়েছেন ৮৬২ জন। এর পর ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী ৬২২ জন এবং ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ৫৬৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ১০ বছর পর্যন্ত ৩৭৫ জন, ৪১–৫০ বছর বয়সী ৩২৭ জন, ৫১–৬০ বছর বয়সী ২০৫ জন, ৬১–৭০ বছর বয়সী ৯৪ জন, ৭১–৮০ বছর বয়সী ২৭ জন এবং ৮০ বছরের বেশি বয়সী ৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।   চলতি বছর ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ৪২ জনের মধ্যে ৪১–৫০ বছর বয়সী ৯ জন, ২১–৩০ বছর বয়সী ৭ জন এবং ৩১–৪০ বছর বয়সী ৬ জন। এছাড়া ১০ বছর পর্যন্ত ৫ জন, ১১–২০ বছর বয়সী ৫ জন, ৫১–৬০ বছর বয়সী ৫ জন, ৬১–৭০ বছর বয়সী ৪ জন এবং ৭১–৮০ বছর বয়সী একজন মারা গেছেন। ৮০ বছরের বেশি বয়সী কোনো রোগীর মৃত্যুর তথ্য নেই। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ডেঙ্গু-সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার দায়িত্ব হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আশরাফুল আলমকে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপপরিচালক ডা. আশরাফুল আলমের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল গ্রহণ করেননি।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চার প্রতিষ্ঠানে এনবিআরের অভিযান, মদ-জাফরানসহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ

ছবি: সংগৃহীত

সোনারগাঁয়ে ছাত্রদলের কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

নির্ধারিত দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিতে দেশজুড়ে অভিযান

0 Comments