বিপুল সম্পদ, জমি ও মাসিক মোটা অঙ্কের ভাতার বিনিময়ে তৃতীয় স্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলেন মালয়েশিয়ান অভিনেত্রী ও সাবেক বিউটি কুইন অ্যামি নূর তিনি—এমন বিস্ফোরক দাবি করেছেন তিনি নিজেই।
সম্প্রতি মালয়েশিয়ান কনটেন্ট ক্রিয়েটর সাফওয়ান নাজরির একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে ২৯ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী জানান, প্রস্তাবটি এসেছিল একজন প্রভাবশালী ভিভিআইপির কাছ থেকে, যিনি মালয়েশিয়ায় সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদার অধিকারী।
অ্যামির ভাষ্য অনুযায়ী, তৃতীয় স্ত্রী হওয়ার বিনিময়ে তাকে একটি বিলাসবহুল বাংলো, একটি গাড়ি এবং প্রায় ১০ একর (৪০ হাজার বর্গমিটার) জমি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি হাতখরচ হিসেবে প্রতি মাসে ৫০ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১১ লাখ টাকা, ভাতা দেওয়ার কথাও বলা হয়।
তিনি জানান, কর্পোরেট ইভেন্ট উপস্থাপনার কাজে নিয়মিতই তাকে প্রভাবশালী ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের মুখোমুখি হতে হয়। ২০১৯ সালে, যখন তার বয়স ছিল মাত্র ২৩ বছর এবং তিনি একটি আন্তর্জাতিক সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে স্পনসর খুঁজছিলেন, তখনই এই প্রস্তাবটি পান।
প্রস্তাবদাতা ব্যক্তি ছিলেন একজন ‘দাতুক’—মালয়েশিয়ার একটি সম্মানসূচক উপাধিধারী ব্যক্তি, যার বয়স ছিল অ্যামির বাবার কাছাকাছি।
অ্যামি জানান, তিনি ও তার মা দুজনেই এই প্রস্তাব তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন,
“আমার মা খুব দৃঢ়ভাবে এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। তিনি আমাকে কখনোই ‘বিক্রি’ করতে রাজি ছিলেন না।”
পডকাস্টে নিজের ভবিষ্যৎ জীবনসঙ্গী সম্পর্কেও খোলামেলা কথা বলেন অভিনেত্রী। তিনি জানান, দায়িত্বশীল ও আর্থিকভাবে স্থিতিশীল একজন সঙ্গী চান তিনি, তবে অতিরিক্ত ধনী হওয়া তার কাছে কোনো শর্ত নয়।
রসিকতার সুরে অ্যামি বলেন,
দেখতে যদি আয়রন ম্যানের মতো হয়, সমস্যা নেই। কিন্তু কোনো দাদুর মতো যেন না হয়।
অ্যামি নূর তিনির ভাষ্য, তিনি কারও ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজের পরিশ্রমে, হালাল পথে উপার্জন করতে চান এবং বাবা-মায়ের সেবায় জীবন কাটাতে আগ্রহী। সম্মান বিসর্জন দিয়ে ধনী হওয়ার কোনো ইচ্ছা তার নেই বলেও স্পষ্ট করে জানান এই অভিনেত্রী।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর পড়াশোনা, নতুন বন্ধু, সামাজিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন সংগঠনের কার্যক্রমে অনেকে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে রাত জাগার অভ্যাস তৈরি হয়। তবে এই সময়ে ঘুমকে অবহেলা করলে পড়াশোনা, স্মৃতিশক্তি এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। নতুন কিছু শেখা এবং তা মনে রাখার ক্ষেত্রে ঘুম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিকে হোস্টেলের নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে প্রায় কয়েক সপ্তাহ লেগে যায়। স্বাভাবিকভাবেই এতে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে কিছুক্ষণ রোদের আলোতে থাকা, বিছানার চাদর পরিষ্কার রাখা এবং ঘুমানোর আগে স্ক্রিন টাইম কমানো রাতে ঘুমের মান উন্নত করে। সকালে রোদে থাকুন যুক্তরাজ্যের অধিবাসী, মনোবিজ্ঞানী ও শিক্ষার্থীদের ঘুম, মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ জো বেকার বলেন, সকালে প্রাকৃতিক আলো শরীরে অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা বডি ক্লক নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তিনি শিক্ষার্থীদের বেলা ১১টার আগেই কিছু সময় বাইরে থাকার পরামর্শ দেন। সকালের আলো মস্তিষ্ককে গুরুত্বপূর্ণ সংকেত দেয় এবং ঘুম ও জেগে থাকার স্বাভাবিক চক্র নিয়ন্ত্রণ করে। বেকারের মতে, রাতে ভালো ঘুম নির্ভর করে সকালে কখন ঘুম থেকে উঠছেন তার ওপর। তাই প্রতিদিন একই সময় ঘুমাতে যাওয়ার এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন। এতে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় থাকে। জোর করে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর চেষ্টা করবেন না ঘুমের সমস্যা হলে অনেক শিক্ষার্থী হারানো ঘুম পুষিয়ে নিতে স্বাভাবিক সময়ের অনেক আগে বিছানায় যাওয়ার চেষ্টা করেন। এত সমস্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করেন বেকার। তার মতে, ঘুম না এলেও দীর্ঘ সময় বিছানায় পড়ে থাকলে মস্তিষ্ক বিছানাকে ঘুমের বদলে হতাশা ও জেগে থাকার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলতে পারে। ক্যাফেইন গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে অনেক শিক্ষার্থী দিনের বিভিন্ন সময়ে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পান করেন। কিন্তু ক্যাফেইন শরীরে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে পারে। ফলে স্বাভবিক ঘুম আসার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। অ্যালকোহল গ্রহণের ক্ষেত্রেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। অ্যালকোহল পানের পর ঘুম ঘুম ভাব হতে পারে। কিন্তু বেকারের মতে, অতিরিক্ত অ্যালকোহল স্বাভাবিক ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ঘুমানোর আগে মনকে শান্ত হওয়ার সময় দিন ঘুমানোর আগে স্বস্তিদায়ক রুটিন তৈরি করলে ঘুমের জন্য শরীর ও মন প্রস্তুত হতে শুরু করে। সালফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ বছর বয়সি নৃত্য বিভাগের শিক্ষার্থী আনা মে ডিক্সন বলেন, ঘুমানোর আগে গরম পানিতে গোসল করলে তিনি আরাম অনুভব করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমানোর আগে গরম পানি দিয়ে গোসল করার কারণে শরীরের তাপমাত্রা কমে আসে, যা মস্তিষ্ককে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করে। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা ঘুমানোর আগে বই পড়া, শান্ত গান শোনা ও পডকাস্ট শোনার পরামর্শ দেন। সূত্র: সামা টিভি
সম্পদের হিসাবে বড় ধাক্কা, কমল হাজার হাজার কোটি তবু শাহরুখ খানের রাজত্বে পড়েনি ভাটা। কারণ সুখবর হলো, সম্পদের অঙ্ক কমলেও ভারতের সবচেয়ে ধনী অভিনেতার জায়গাটি ঠিকই ধরে রেখেছেন বলিউড বাদশাহ। ২০২৬ সালের হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্টে অভিনেতাদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন শাহরুখ খান। এবারের তালিকায় তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ধরা হয়েছে ১০ হাজার কোটি রুপি। ২০২৫ সালের তালিকায় শাহরুখের সম্পদের পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ৪৯০ কোটি রুপি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এবারের হিসাবে তার সম্পদ কম দেখানো হয়েছে ২ হাজার ৪৯০ কোটি রুপি। তবে এর অর্থ এই নয় যে শাহরুখ বাস্তবে এক বছরে এত অর্থ হারিয়েছেন। হুরুনের এই হিসাব মূলত বিভিন্ন ব্যাবসা, বিনিয়োগ ও সম্পদের আনুমানিক মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করে। বিশেষ করে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন পরিবর্তিত হলে মোট সম্পদের হিসাবেও বড় পার্থক্য দেখা দিতে পারে। শাহরুখের সম্পদের মধ্যে রয়েছে রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট এবং কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে যুক্ত ব্যাবসায়িক স্বার্থ। জমি-বাড়ি, বিনিয়োগ ও অন্যান্য সম্পদের মূল্যও এই হিসাবের অংশ। এর আগে প্রকাশিত হুরুন গ্লোবাল রিচ লিস্টে শাহরুখের সম্পদের পরিমাণ ১০ হাজার ৮০০ কোটি রুপি ধরা হয়েছিল। অর্থাৎ বিভিন্ন তালিকায় তার সম্পদের হিসাবেও কিছুটা পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। অন্য অভিনেতাদের অবস্থানও এবার বেশ আলোচনায়। তালিকায়— আমিতাভ বাচ্চান: আনুমানিক সম্পদ ৪ হাজার কোটি রুপি। ২০২৫ সালে তার সম্পদের হিসাব ছিল ১ হাজার ৬৩০ কোটি রুপি। সালমান খান : আনুমানিক সম্পদ ৩ হাজার কোটি রুপি। হৃতিক রোশান : আনুমানিক সম্পদ ২ হাজার ৫০০ কোটি রুপি। ২০২৫ সালে তার সম্পদের হিসাব ছিল ২ হাজার ১৬০ কোটি রুপি। তার ফিটনেস ও জীবনধারাভিত্তিক ব্র্যান্ড এইচআরএক্সও তার ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে তালিকায় এবার নেই জুহি চাওলা ও কারাণ জোহর। ২০২৫ সালের তালিকায় জুহি চাওলার সম্পদের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৭৯০ কোটি রুপি এবং কারাণ জোহরের ১ হাজার ৮৮০ কোটি রুপি। শুধু অভিনেতারাই নন, চলচ্চিত্র ব্যাবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও এবারের তালিকায় জায়গা পেয়েছেন। ‘রামায়ণ’ সিনেমার প্রযোজক নমিত মালহোত্রার বাবা নরেশ মালহোত্রার আনুমানিক সম্পদ ১৬ হাজার কোটি রুপি। এছাড়া প্রযোজক ভূষণ কুমার, রনি স্ক্রুওয়ালা ও কালানিথি মারানের নামও রয়েছে তালিকায়। এদিকে সম্পদের হিসাবের এই চমকের পর শাহরুখের ভক্তদের নজর এখন তার নতুন সিনেমা ‘কিং’-এর দিকে। সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত সিনেমাটিতে শাহরুখের সঙ্গে অভিনয় করেছেন দীপিকা পাড়ুকোন, রানি মুখার্জি, অাভিষেক বাচ্চান ও সুহানা খান। রাঘব জুয়াল, জয়দীপ আহলাওয়াত, আরশাদ ওয়ারসি ও জ্যাকি শ্রফকেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে। আগামী ২৪ ডিসেম্বর সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা রয়েছে। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভারতের ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জমকালো আয়োজন বসেছে গুজরাটের কেভাদিয়ায়। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্ট্যাচু অব ইউনিটির কাছে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙে এবার রাজধানী দিল্লির বাইরে অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মূল আয়োজন। গত ১৮ জুলাই ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। এবার বলিউডের পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমা ও বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষার চলচ্চিত্রেও মিলেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। এবার যৌথভাবে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন কার্তিক আরিয়ান ও মামুট্টি। ‘চন্দু চ্যাম্পিয়ন’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য কার্তিক আরিয়ান এবং ‘ব্রহ্মযুগম’-এর জন্য মামুট্টি এই সম্মান অর্জন করেছেন। অন্যদিকে ‘আর্টিকেল ৩৭০’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন ইয়ামি গৌতম। একই সিনেমা জিতে নিয়েছে সেরা ফিচার চলচ্চিত্রের পুরস্কারও। আঞ্চলিক ভাষার চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যেও এবারের পুরস্কারে রয়েছে বৈচিত্র্য। সেরা বাংলা চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে ‘চালচিত্র এখন’। সেরা হিন্দি চলচ্চিত্র হয়েছে ‘শ্রীকান্ত’। এ ছাড়া সেরা তামিল চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে ‘রায়ান’, সেরা অসমিয়া চলচ্চিত্র ‘জুইফুল’, সেরা তেলুগু চলচ্চিত্র ‘কমেটি কুর্রোল্লু’, সেরা মালয়ালম চলচ্চিত্র ‘ফেমিনিচি ফাতিমা’ এবং সেরা কন্নড় চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে ‘মিথিয়া’। এবারের আয়োজনে একাধিক পুরস্কার পেয়েছে বেশ কয়েকটি সিনেমা। ‘আর্টিকেল ৩৭০’ ও ‘অমরন’ জিতেছে তিনটি করে পুরস্কার। অন্যদিকে ‘পুষ্পা ২’, ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’, ‘মহারাজা’, ‘ক্যাপ্টেন মিলার’, ‘ব্রহ্মযুগম’, ‘মিথিয়া’ ও ‘কমেটি কুর্রোল্লু’ পেয়েছে দুটি করে পুরস্কার। ‘অমরন’ সিনেমার জন্য সেরা পরিচালক হয়েছেন রাজকুমার পেরিয়াসামি। ‘পুষ্পা ২’-এর জন্য সেরা চিত্রনাট্যকারের পুরস্কার পেয়েছেন সুকুমার। ‘ব্রহ্মযুগম’-এর জন্য সেরা চিত্রগ্রহণের পুরস্কার পেয়েছেন শাহনাদ জালাল। অন্যদিকে ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’ পেয়েছে সেরা শিল্প নির্দেশনার সম্মান।