সেই ঠিকানায় হৃদয়ই প্রথম। তিনিই অনন্য। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দেশের বাইরে ট্রিপল সেঞ্চুরি নেই বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটসম্যানের।
দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় আনঅফিসিয়াল টেস্টের চতুর্থ দিনে অসাধারণ এই অর্জনে নাম লেখান হৃদয়। ৪৫০ বল খেলে পূরণ করেন ট্রিপল সেঞ্চুরি।
বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এই সংস্করণে তিনশ ছিল এতদিন স্রেফ দুজন ব্যাটসম্যানের। দুজনই করেছিলেন দেশের মাঠে।
২০০৭ সালে জাতীয় লিগে বরিশালের হয়ে ফতুল্লায় ৩১৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন রকিবুল হাসান। ২০২০ সালে মিরপুরে তাকে ছাড়িয়ে বিসিএলের ম্যাচে তামিম ইকবাল করেন অপরাজিত ৩৩৪।
দেশের বাইরে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড আগে ছিল শাহরিয়ার হোসেনের। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে করাচিতে ডিফেন্স হাউজিং অথোরিটির বিপক্ষে ২১৮ রান করেছিলেন সাবেক এই ওপেনার।
শেষ দিন চা বিরতির সময় হৃদয় অপরাজিত ৩৩৩ রানে। তামিমকে ছাড়িয়ে প্রথম শ্রেণিতে বাংলাদেশের সেরা ইনিংসটি খেলতে প্রয়োজন আর স্রেফ ২ রান।
২০৪ রান নিয়ে বুধবার দিন শুরু করেন হৃদয়। আগের দিন শেষ বলে মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন ৮৭ রানে আউট হওয়ার পর নতুন দিনে ব্যাটিংয়ে নামেন নাঈম হাসান। এই জুটি বেশিক্ষণ টেকেনি। নাঈম স্টাম্পড হন ১৬ রানে। ৪৫ ওভার বল করে প্রথম উইকেট পান প্রোটিয়া অফ স্পিনার টেপো এনটুলি।
এরপর হৃদয়কে কিছুক্ষণ দেন হাসান মুরাদ। তিনি ১১ রানে থামেন বাঁহাতি স্পিনার কাইল সিমন্ডসের বলে ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে বোল্ড হয়ে।
দলের রান তখন ৮ উইকেটে ৫১৯। সেখান থেকে হৃদয় ও রেজাউরের জুটি। নিজের আগের সেরা ২১৭ পেরিয়ে এগিয়ে যান হৃদয়।
একপ্রান্ত আগলে রাখেন রেজাউর। হৃদয়ের ব্যাটে বাড়তে থাকে রান। সিমন্ডসের বলে ব্যাটের কানায় লেগে সিঙ্গল নিয়ে ২৫০ পূর্ণ করেন তিনি ৩৮১ বলে।
জুটি যত বড় হয়েছে, ফিল্ডিং তত ছড়িয়েছে। বাউন্ডারি সুযোগ তাতে কমে এসেছে। তবে হৃদয়ের ব্যাটে রান থামেনি। লাঞ্চে যান তিনি ২৭৪ রান নিয়ে।
লাঞ্চের পরও এগিয়ে যান অনায়াসে। হৃদয় তো বটেই, রেজাউরকেও অস্বস্তিতে ফেলতে পারেনি প্রোটিয়া বোলাররা। তৃতীয় নতুন বল নেওয়ার পর অবশ্য একটু প্রাণ ফেরে তাদের বোলিংয়ে। রানের গতি কমে আসে। কিছুটা সম্ভাবনা তৈরি হয়। হৃদয় ২৯৪ রানে পরাস্ত হন অফ স্টাম্পের বাইরে ড্রাইভের চেষ্টায়। শব্দ শুনে কট বিহাইন্ডের জোরাল আবেদন করেন প্রোটিয়ারা। কিন্তু আম্পায়ার আউট দেননি। রিপ্লেতে দেখা যায়, ব্যাট লেগেছিল পিচে।
অন্য প্রান্তে রেজাউরের ব্যাটের কানায় লেগে বল পড়ে যায় স্লিপ ফিল্ডারের একটু সামনে। আরেকবার বাউন্সার সামলাতে পারেননি ঠিকঠাক, বল যায় শর্ট লেগ ফিল্ডারের কাছ দিয়ে। কিন্তু হাল না ছেড়ে টিকে যান তিনি।
হৃদয় মাইলফলকে পা রাখেন একটু পরই। ২৯৮ রান থেকে পেসার ম্যাথু বোস্টের বল মিড অনে ঠেলেই দ্রুতগতিতে দুটি রান নিয়ে পূরণ করেন তিনশ।
আগের দিন ডাবল সেঞ্চুরির উদযাপন যতটা প্রাণবন্ত ছিল, ট্রিপলের উদযাপনে ততটা প্রাণশক্তি দেখা গেল না তার। মনে হচ্ছিল, হয়তো ক্লান্তি পেয়ে বসেছে তাকে। কিন্তু এরপর দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। তিনশ ছোঁয়ার পর তার ব্যাট থেকে এলো বিশাল দুটি ছক্কা!
শেষ পর্যন্ত চা বিরতিতে যান তিনি ৪৭০ বলে ৩৩৩ রানে। ট্রিপল ছোঁয়ার পর ২০ বলে করেছেন ৩৩ রান।
দক্ষিণ আফ্রিকায় কোনো বিদেশি ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ইনিংসের আগের কীর্তি ছিল ডেনিস কম্পটনের। ১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে এমসিসির হয়ে ৩০০ করেছিলেন ইংলিশ গ্রেট।
শেষ দিন চা বিরতির সময় প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ 'এ' দলের রান ৮ উইকেটে ৬৫৮। দক্ষিণ আফ্রিকা 'এ' দলের চেয়ে এগিয়ে তারা এখন ১৪৬ রানে। ম্যাচ প্রায় শেষ হতে চললেও দুই দলের প্রথম ইনিংসই শেষ হয়নি।
রেজাউরের সঙ্গে হৃদয়ের অবিচ্ছিন্ন অষ্টম উইকেট জুটির রান ১৪১। রেজাউর অপরাজিত ১০১ বলে ৩১ রান নিয়ে।
অথচ ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে এক পর্যায়ে বাংলাদেশ 'এ' দলের রান ছিল ৪ উইকেটে ১৩৫। সেখান থেকেই অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দল। হৃদয়ের সঙ্গে বড় জুটির পথে জাকের আলি আউট হন ৯৪ রানে, সাইফ উদ্দিন ৮৭ রানে।