প্রবাসী

ঐক্যবদ্ধ প্রবাসীরাই পরিবর্তনের শক্তি: আলী আশরাফ

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৯, ২০২৬
ওমানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠন গ্রেটার ঢাকা উইং বাংলাদেশ সোশ্যাল ক্লাবের নতুন কার্যকরী কমিটি ঘোষণা। ছবি : সংগৃহীত
ওমানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠন গ্রেটার ঢাকা উইং বাংলাদেশ সোশ্যাল ক্লাবের নতুন কার্যকরী কমিটি ঘোষণা। ছবি : সংগৃহীত

ওমানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠন গ্রেটার ঢাকা উইং বাংলাদেশ সোশ্যাল ক্লাবের নতুন কার্যকরী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার মনির হোসাইন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার আলী আশরাফ।

 

কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে ইঞ্জিনিয়ার আরিফ আরমানকে মনোনীত করা হয়েছে। এ ছাড়া সহসভাপতি পদে ড. মির্জা ফয়সাল সাম্স, জাকির হোসেন ও ইঞ্জিনিয়ার আলমগীর হোসেন দায়িত্ব পেয়েছেন। সহসাধারণ সম্পাদক হয়েছেন জাহেদ ইদ্রিস এবং সহসাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আলীম।

 

নবগঠিত কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে জহিরুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক হিসেবে ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান এবং ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে আবু বকর নাজিম দায়িত্ব পালন করবেন।

 

নেতারা জানান, প্রবাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা এবং প্রবাসীদের কল্যাণে কাজ করাই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য। সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারা।

 

নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আলী আশরাফ বলেন, প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিরা আমাদের দেশের এক একটি প্রতিনিধিত্বকারী শক্তি। আমরা যদি নিজেদের মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করতে পারি, তাহলে শুধু ব্যক্তিগত নয়,সমষ্টিগতভাবেও বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। এই কমিটির মূল লক্ষ্য হবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে একত্রিত করা, যেখানে সবাই নিজেদের সমস্যার কথা বলতে পারবে এবং সমাধানের পথ খুঁজে পাবে।

 

তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের কল্যাণ, তাদের অধিকার রক্ষা, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ধরে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরার জন্য আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করব। পাশাপাশি, ওমানের মূলধারার সমাজে বাংলাদেশিদের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে আমরা কাজ করব, যাতে আমাদের দেশের সম্মান আরও বৃদ্ধি পায়।

 

ইঞ্জিনিয়ার আলী আশরাফ জানান, সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজন, মানবিক সহায়তা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে সংগঠনকে আরও গতিশীল করা হবে।

 

তিনি বলেন, আমরা চাই এই সংগঠনটি শুধু একটি নামেই সীমাবদ্ধ না থেকে প্রবাসীদের আস্থা ও নির্ভরতার জায়গা হয়ে উঠুক। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ, সচেতন ও মানবিক প্রবাসী সমাজ গড়ে তুলতে সক্ষম হব বলে আমি আশাবাদী।

 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

প্রবাসী

আরও দেখুন
আত্রাইয়ে একই মাঠে ৭ প্রবাসীর জানাজা সম্পন্ন

সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে পুড়ে নিহত নওগাঁর ৭ জনের মরদেহ দেশে আসার পর জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।   শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০ টা ১৫ মিনিটে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে এক সঙ্গে ৭ জনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।   এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকাল ৪টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের অগ্নিকাণ্ডে পরিচয় সনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ দেশে আসে। এদের মধ্যে ৭ জনের বাড়িই নওগাঁর আত্রাই উপজেলাতে। মরদেহগুলো বিমানবন্দর থেকে প্রশাসনের সহায়তায় রাত দেড়টার দিকে আত্রাই উপজেলাতে আসে।   জানাজায় নওগাঁ-৬ (আত্রাই -রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.মনিরুজ্জামান, আত্রাই থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং স্থানীয়রা অংশগ্রহণ করেন৷   জানাজা শেষে মরদেহগুলো নিহতদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে স্বজনরা মরদেহগুলো নিয়ে নিজ নিজ গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা করেন।   নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন, নিহতদের পরিবারগুলোকে ওয়েজ অর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। তাদেরকে ভবিষ্যতেও সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। বাকি মরদেহগুলো দেশে আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।   প্রসঙ্গত, সৌদি দূতাবাস থেকে পাঠানো তালিকায় সনাক্ত হওয়া নওগাঁর সাতজন হলেন- আত্রাই উপজেলার উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো. ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামানিক, একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং উপজেলার পারকাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২৮, ২০২৬

সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জনের মরদেহ দেশে ফিরেছে

শ্রমিক ভিসায় রাশিয়া গিয়ে যুদ্ধের ময়দানে, ক্ষত নিয়ে দেশে ফিরলেন রাজন

ছবি: সংগৃহীত

অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা ঠেকাতে দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
প্রবাসীদের ঐক্যের বার্তা নিয়ে ফ্রাঙ্কফুর্টে ফেনী অ্যাসোসিয়েশনের যাত্রা

প্রবাসী বাংলাদেশিদের পারস্পরিক সহযোগিতা, সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করা এবং দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা ও প্রসারের লক্ষ্য নিয়ে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘ফেনী অ্যাসোসিয়েশন জার্মানি’।   গত শনিবার (২২ আগস্ট) ফ্রাঙ্কফুর্টের একটি স্থানীয় মিলনায়তনে অভিষেক ও প্রীতি সম্মেলনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন। আয়োজক সংগঠনটি ফেনী জেলার হলেও অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলার প্রবাসীরা উপস্থিত ছিলেন।   পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে নবগঠিত কমিটির সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।   অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খাবারের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘদিন পর এমন মিলনমেলায় একত্রিত হতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন উপস্থিত প্রবাসীরা। তাদের মতে, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সামাজিক বন্ধন আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   সংগঠনের নেতারা জানান, ফেনী অ্যাসোসিয়েশন জার্মানি কেবল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা সামাজিক মিলনমেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রয়োজনে সহযোগিতা, সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন সংকটে সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।   তারা আরও জানান, জার্মানিতে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি শিশু-কিশোরদের মধ্যে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াও সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে সব জেলার প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ঐক্যবদ্ধ কমিউনিটি গড়ে তুলতে সংগঠনটি কাজ করবে।   সংগঠনের সভাপতি আনিসুর রেজা সিজারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আলম রানার পরিচালনায় অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। আয়োজনে সহসভাপতি বেলাল হোসেন ভূঁইয়া, মোস্তাফিজুর রহমান ফারুক ও জালাল আহমেদসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা দায়িত্ব পালন করেন।   অনুষ্ঠানে ফেনী অ্যাসোসিয়েশন জার্মানির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে আনিসুর রেজা সিজার এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জামশেদ আলম রানার নাম ঘোষণা করা হয়।   কমিটির সহসভাপতিরা হলেন বেলাল হোসেন ভূঁইয়া, মোস্তাফিজুর রহমান ফারুক, জালাল আহমেদ, আবদুল মান্নান, কুতুব উল্লাহ, শহিদ উল্লাহ ও শহিদ উদ্দিন। সহসাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মাদ আলমগীর, দপ্তর সম্পাদক আহমেদ শাকিল, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ মামুন এবং প্রচার সম্পাদক কাজী মিজানুর রহমান।   এ ছাড়া ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে আশরাফুর রহমান সবুজ, সহক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আহসান মনছুর সাগর, আপ্যায়ন সম্পাদক ফারুক সোহাগ, সহ-আপ্যায়ন সম্পাদক সোহাগ মিয়া, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাস্টার শাহজাহান, সমাজসেবা সম্পাদক রেজাউল করিম আরমান এবং সহসমাজসেবা সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সোহেল দায়িত্ব পেয়েছেন।   নির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন ফারজানা রেজা কনা, খালেদা আলম রুমা, বকুল রহমান, ইয়াসমিন আহমেদ মিতা ও তাসলিমা নাসরিন রুমকি।   সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, আহমেদ আলাউদ্দিন, শেখ শাহজাদা, কামাল লুক্স ও আবুল কালাম।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৬, ২০২৬

সৌদিতে অগ্নিকাণ্ড: ৯ জনের মরদেহ আসবে বৃহস্পতিবার

ছবি: সংগৃহীত

ইউএস আর্মিতে যোগ দিলেন চাঁদপুরের তরুণ জুম্মান

ছবি: সংগৃহীত

বিদেশি কর্মী নিয়োগে মালয়েশিয়ায় নতুন অনলাইন ব্যবস্থা

মালয়েশিয়ায় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে আটকরা। ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় অবৈধ কার্যক্রমের অভিযোগে বাংলাদেশিসহ ৫৭ আটক

মালয়েশিয়ার নেগেরি সেম্বিলানের সেরেমবান এলাকায় বাজেট হোটেল ও হোস্টেলকে ঘিরে বিদেশি নারীদের দিয়ে পরিচালিত কথিত যৌন ব্যবসার সন্ধান পেয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম)। এ ঘটনায় স্থানীয় ও বিদেশি নাগরিকসহ মোট ৫৭ জনকে আটক করা হয়েছে।     রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর ২টায় সেরেমবানের তিনটি স্থানে অভিযান চালায় জেআইএমের পুত্রাজায়া সদর দপ্তরের গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান বিভাগের কর্মকর্তারা। অভিযানে কুয়ালালামপুরে ইন্দোনেশিয়ার দূতাবাসের (কেবিআরআই) কর্মকর্তারাও সহযোগিতা করেন।   অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ৭ জন স্থানীয় নাগরিক, ৩ জন ইন্দোনেশিয়ার, ১২ জন বাংলাদেশি এবং ৩ জন মিয়ানমারের নাগরিকসহ মোট ৫৭ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বয়স ১৯ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে।     তদন্তে জানা গেছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দৈনিক ও সাপ্তাহিক ভিত্তিতে হোস্টেল ও বাজেট হোটেলে বিদেশি নারীদের অবস্থানের ব্যবস্থা করতো। স্থানীয় ও বিদেশি নাগরিকদের মধ্য থেকে কয়েকজন ‘ক্যাপ্টেন’ বা ম্যানেজার হিসেবে এসব কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।     অভিবাসন বিভাগ জানায়, বিদেশি নারীরা গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতি সেবার জন্য প্রায় ৫০ রিঙ্গিত করে নিতেন। গ্রাহকদের মধ্যে স্থানীয় ও বিদেশি নাগরিক উভয়েই ছিলেন। প্রায় এক বছর ধরে এই কার্যক্রম চলছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে ওঠে এসেছে।   চক্রটির কার্যক্রম ছিল সুসংগঠিত এবং নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালিত হতো। এই অবৈধ ব্যবসা থেকে বছরে আনুমানিক ৫ লাখ ৪০ হাজার রিঙ্গিত লাভ হতো বলে ধারণা করছে অভিবাসন বিভাগ।     অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইনের বিভিন্ন ধারায় তদন্ত করা হচ্ছে। স্থানীয় সাতজনকে কথিত অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগে তদন্ত করা হচ্ছে। অন্য বিদেশিদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।     আটক সবাইকে পরবর্তী তদন্তের জন্য অভিবাসন বিভাগের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।   অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, দেশের আইন লঙ্ঘন করে পরিচালিত যেকোনো কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে। মালয়েশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা বজায় রাখতে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি-আমিরাতসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশে মঙ্গলবার ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

ছবি: সংগৃহীত

হাইকমিশনের উদ্যোগে মালয়েশিয়ায় বকেয়া বেতনের প্রথম কিস্তি পেলেন ১২৬ বাংলাদেশি

ছবি: সংগৃহীত

কুয়ালালামপুর না গিয়েই সেবা, মালয়েশিয়ায় ৬ শতাধিক প্রবাসীর পাশে দূতাবাস

0 Comments