বিশ্বকাপ ফাইনালকে ঘিরে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামালের বহু পুরোনো একটি ছবি। ২০০৭ সালে বার্সেলোনা ও ইউনিসেফের একটি চ্যারিটি ফটোশুটে শিশু ইয়ামালকে কোলে নিয়ে গোসল করানোর সেই ছবির প্রসঙ্গ এবার নিজেই তুললেন মেসি।
শুক্রবার নিউইয়র্কে ফিফার এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ছবিটি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মেসি বলেন, “সত্যি বলতে ছবিটা খুবই অদ্ভুত অনুভূতি তৈরি করে। তখন আমি অনেক ছোট ছিলাম, আর আজ বিশ্বকাপের ফাইনালে তার বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি। এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য।”
মেসি আরও বলেন, ইয়ামাল বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। স্পেনের হয়ে ইউরো জয়ের পর সে ধারাবাহিকভাবে দুর্দান্ত পারফর্ম করছে এবং সামনে তার আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। তবে ফাইনালে আর্জেন্টিনা নিজেদের সেরাটা খেলতে চায়, যাতে ইয়ামাল নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে না পারেন।
বার্সেলোনায় দীর্ঘ সময় কাটানোর কারণে ইয়ামালের সঙ্গে নিজের এক ধরনের আবেগের সম্পর্কও রয়েছে বলে জানান মেসি। তার ভাষায়, “বার্সেলোনায় অনেক সময় কাটিয়েছি। সেখান থেকেই ওর সঙ্গে পরিচয়।”
২০০৭ সালের সেই ছবি প্রথম আলোচনায় আসে ২০২৪ সালে। প্রায় দুই দশক পর সেই ছবির দুই চরিত্র এখন ফুটবল বিশ্বের দুই প্রজন্মের প্রতীক—একজন কিংবদন্তি, অন্যজন ভবিষ্যতের তারকা। রবিবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন।
বড় ম্যাচের চাপ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মেসি বলেন, “আমরা স্বাভাবিকভাবেই খেলতে চাই। ফুটবলে জয়-পরাজয় থাকবেই।”
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসি ২০২৮ সালের কোপা আমেরিকায় খেলবেন কিনা সেই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি তার নিজের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। এ বিষয়ে মেসির ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হবে না বলে জানিয়েছেন এএফএর সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাপিয়া বলেন, ২০২৮ সালের কোপা আমেরিকায় খেলা বা না খেলার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ মেসির ব্যক্তিগত বিষয়। তিনি যদি খেলতে চান সেটিই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। পুরো আসরে আটটি গোল করার পাশাপাশি চারটি গোলে সহায়তা করেন তিনি। তবে বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি আর্জেন্টাইন মহাতারকা। তাপিয়া বলেন, ২০২২ বিশ্বকাপের পরও আমরা জানতাম না মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলবেন কি না। তখন তিনি বলেছিলেন, এক ম্যাচ করে এগোবেন। শেষ পর্যন্ত আমরা তার সেরা পারফরম্যান্সগুলোর একটি দেখেছি। আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির অর্জন অনন্য। ২০২১ ও ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়ের পাশাপাশি ২০২২ বিশ্বকাপে দলকে চ্যাম্পিয়ন করেন এবং টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। জাতীয় দলের জার্সিতে রেকর্ড ২০৭ ম্যাচ খেলে ১২৫ গোল করে তিনি আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ইন্টার মায়ামির অধিনায়ককে প্রশংসায় ভাসিয়ে তাপিয়া বলেন, মেসিকে নিয়ে আমাদের গর্ব করা উচিত। তিনি যেন ফুটবল খেলা উপভোগ করেন, আমরা যেন তাকে উপভোগ করতে পারি এবং তিনি নিজের জন্য যেটি সঠিক মনে করেন, সেই সিদ্ধান্তই নেন। এদিকে, আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী তাপিয়া। চলতি বছরের শেষেই স্কালোনির চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হারের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। তাপিয়া বলেন, আমার পরিকল্পনা এ, বি ও সি সবই স্কালোনি। আমি চাই তিনি দায়িত্বে থাকুন, সবাই সেটিই চায়। তবে সিদ্ধান্ত তার। যদি তিনি মনে করেন নতুন করে সফল হওয়ার প্রেরণা বা পথ নেই। তাহলে তাকে জোর করে আটকে রাখা সম্ভব নয়। ২০১৮ সালে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া স্কালোনি আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সবচেয়ে সফল কোচ। তার অধীনেই টানা তিনটি বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতেছে আর্জেন্টিনা (২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা)। জাতীয় দলকে সর্বকালের সেরা আখ্যা দিয়ে তাপিয়া বলেন, এই দল পুরো আর্জেন্টিনাকে আনন্দ দিয়েছে। তারা এমন একটি দল গড়েছে, যার সঙ্গে দেশের মানুষ নিজেদের সম্পৃক্ত মনে করে।
দাপুটে এক জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। শুক্রবার দক্ষিণ আফ্রিকার ইরেনে কাউন্ট্রি ক্লাব মাঠে ইউনিভার্সিটি স্পোর্টস সাউথ আফ্রিকা (ইউএসএসএ) দলকে ৭ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা লড়াইয়ে জায়গা করে নিয়েছে টাইগাররা। এই জয়ে চার ম্যাচে দুই জয় থেকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দল। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করেছিল ইউএসএসএ। ডেভিড টীগারের ৫৭ বলে ৭২ এবং লুডউইচ স্কুল্ডের ৫৭ বলে ৫১ রানের ইনিংসে একসময় দলটির সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ১২৬ রান। তবে এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন বাংলাদেশের বোলাররা। শেষ ৯ উইকেট মাত্র ৪০ রানের মধ্যে হারিয়ে ১৬৬ রানে অলআউট হয় ইউএসএসএ। বাংলাদেশের হয়ে চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ৪টি উইকেট নেন। আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ও রহনতদৌলা বর্ষণ দুটি করে এবং ইকবাল হোসেন ইমন ও সামিউন বশির রাতুল একটি করে উইকেট শিকার করেন। ১৬৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুই ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম রবিন (৮) ও হাবিবুর রহমান সোহান (০) দ্রুত ফিরলেও এরপর ইনিংস সামাল দেন শাহাদাত হোসেন দিপু ও ইফতিখার হোসেন ইফতি। ইফতি ১৭ রান করে বিদায় নেওয়ার পর ইরফান শুক্কুরকে নিয়ে দুর্দান্ত জুটি গড়েন দিপু। শুক্কুর ৩৯ বলে অপরাজিত ৫৮ এবং দিপু ৫৬ বলে অপরাজিত ৭৩ রানের ইনিংস খেললে ৭ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। অন্যদিকে, টুর্নামেন্টে চারটি ম্যাচের সবকটিতে হেরে কোনো পয়েন্ট ছাড়াই বিদায় নিয়েছে ইউএসএসএ। দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দল ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হিসেবে এবং বাংলাদেশ ৪ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে উঠেছে।
ইংল্যান্ড ছেড়ে জন্মভূমি স্পেনে ফেরার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রদ্রি হার্নান্দেস। স্পেনের এই বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়কের জন্য নিজেদের দরজা খোলা রেখেছিল স্প্যানিশ ফুটবলের দুই পরাশক্তি রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। দুই ক্লাবের সঙ্গেই আলোচনায় বসেছিলেন এই তারকা মিডফিল্ডার। তবে শেষ পর্যন্ত রিয়ালের মোটা অঙ্কের প্রস্তাব ফিরিয়ে কাতালান ক্লাব বার্সেলোনাকেই বেছে নিয়েছেন তিনি। বার্সায় যোগ দেওয়ার বিষয়টি ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করেছেন রদ্রি। পাশাপাশি নিজের সিদ্ধান্তের কথা রিয়াল মাদ্রিদের শীর্ষ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েও দিয়েছেন।রিয়ালের পরিচালকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ক্লাবটির প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন তিনি। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে শুরু থেকেই তার মধ্যে কিছুটা দ্বিধা কাজ করছিল, যা অনুধাবন করতে পেরেছিল রিয়াল কর্তৃপক্ষও। ফলে রদ্রির সিদ্ধান্তকে বেশ সাদরেই গ্রহণ ও সম্মান জানিয়েছে লস ব্লাঙ্কোরা। সম্প্রতি শেষ বৈঠকেও বার্সেলোনা বেছে নেওয়ার কারণ রিয়ালকে স্পষ্ট করেন রদ্রি। স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের মতে, বার্সার খেলার ধরন, পেপ গার্দিওলার রেখে যাওয়া ফুটবলের প্রভাব এবং জাতীয় দলের সতীর্থদের সঙ্গে কাতালান ড্রেসিংরুমের চমৎকার রসায়ন সবকিছু মিলিয়েই তার এই সিদ্ধান্ত। ভালদেবেবাসে রদ্রির এই যুক্তি বেশ পেশাদারিত্বের সঙ্গেই গ্রহণ করেছে রিয়াল মাদ্রিদ এবং তার নতুন যাত্রার জন্য শুভকামনা জানিয়েছে। এমনকি চুক্তি নিয়ে জল্পনা-কল্পনার মধ্যে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে আলোচনা হলেও ট্রান্সফার ফি বা দেনদরবার নিয়ে কোনো বিতর্ক সৃষ্টি করেনি রিয়াল। পর্তুগিজ মাস্টারমাইন্ড হোসে মরিনহোর হাতে বিষয়টি জানানো হলে তিনি জানান, এই পজিশনের জন্য স্কোয়াডের ভেতরেই সমাধান রয়েছে। স্প্যানিশ গণমাধ্যমের খবর, চার বছরের এই চুক্তির জন্য বার্সেলোনার খরচ হবে সর্বোচ্চ ৬ কোটি ইউরো।চুক্তি অনুযায়ী রদ্রির পেছনে ক্লাবটিকে প্রতি মৌসুমে ব্যয় করতে হবে প্রায় ৩ কোটি ইউরো।