আন্তর্জাতিক

অবৈধ ইসরায়েলি বসতির পণ্যে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্য এবং কিছু সেবার বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেবেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। 

 

মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে মিলিব্যান্ড দেশটির ইসরায়েল নীতিতে একটি ব্যাপক পুনর্বিন্যাসের কথা তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের অধিকার, আন্তর্জাতিক আইন এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি যুক্তরাজ্যের সমর্থন আরও সক্রিয়ভাবে তুলে ধরার কথা রয়েছে।

 

গাজায় ফিলিস্তিনিদের মানবিক পরিস্থিতি নিয়েও আগের ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের তুলনায় কঠোর ভাষায় কথা বলতে পারেন মিলিব্যান্ড। তার ঘোষিত পদক্ষেপগুলো ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠনগুলোর সব দাবি পূরণ না করলেও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির সম্প্রসারণ ঠেকাতে যুক্তরাজ্যের সক্রিয় অবস্থানের ইঙ্গিত দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

ব্রিটিশ সরকার পশ্চিম তীরের ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর ইসরায়েলি দখলকৃত ভূখণ্ডে গড়ে ওঠা সব ইসরায়েলি বেসামরিক বসতিকেই আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ বলে মনে করে।

 

নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় শুধু বসতিতে উৎপাদিত পণ্য নয়, অর্থায়ন ও বিজ্ঞাপনের মতো কিছু সেবাও আসতে পারে। এর ফলে এসব বসতিতে বিনিয়োগ ও সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কার্যক্রমও বেআইনি হয়ে যাবে।

 

মিলিব্যান্ডের পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবেও তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) দেওয়া পরামর্শমূলক মতামতে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্বে সহায়তা না করার বিষয়ে রাষ্ট্রগুলোর প্রতি যে অবস্থান নেওয়া হয়েছিল, তার সঙ্গে নতুন নীতির সামঞ্জস্য রয়েছে বলে ব্রিটিশ সূত্রগুলো জানিয়েছে।

 

এর আগে যুক্তরাজ্য বলেছিল, ইসরায়েল থেকে আসা পণ্য ও অবৈধ বসতি থেকে আসা পণ্যের মধ্যে কার্যকরভাবে পার্থক্য করা কঠিন। তবে এবার বসতি-উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য নিষিদ্ধ করতে আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

 

২০০৫ সাল থেকেই ইসরায়েলি দখলকৃত ভূখণ্ডে অবস্থিত বসতিতে উৎপাদিত পণ্য যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা পায় না। নতুন পদক্ষেপের ফলে নিষেধাজ্ঞা আরও বিস্তৃত হবে।

 

২০২৫ সালে যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মধ্যে পণ্য ও সেবার মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬০০ কোটি পাউন্ড। নিষেধাজ্ঞার ফলে বাণিজ্যে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা ইসরায়েলের সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপের ওপরও নির্ভর করবে।

 

গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে ইসরায়েলি বাহিনী অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ করছে; মিলিব্যান্ড তার এ অভিযোগও পুনর্ব্যক্ত করতে পারেন। ইসরায়েল অবশ্য এ অভিযোগ জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

 

তবে গাজায় ত্রাণ আটকে দেওয়ার অভিযোগে তাৎক্ষণিক কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা সেখানে সংঘটিত ঘটনাকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করার পরিকল্পনা নেই বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলায় দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যুক্তরাজ্য যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়নি।

 

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বাড়ার মধ্যেই যুক্তরাজ্য এ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। পূর্ব জেরুজালেমের কাছে ই১ নামে পরিচিত বসতি প্রকল্প নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীর কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইসরায়েলি বসতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছে। কিছু অবৈধভাবে নির্মিত বসতি প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া গড়ে উঠেছে উল্লেখ করে সেগুলো ভেঙে ফেলার কথাও বলেছেন নেতানিয়াহু।

 

তবে যুক্তরাজ্যের নতুন অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমালোচনার মুখে পড়তে পারে। ইসরায়েল এর আগে মিলিব্যান্ডের গাজায় ত্রাণ আটকে দেওয়ার অভিযোগের জবাবে পাল্টা পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছিল।

 

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের ভেতরেও ফিলিস্তিন ইস্যুতে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির ৪৬ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে, যেখানে মাত্র ১৮ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছে।

 

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
স্পেনে আবাসন সংকটের প্রতিবাদে রাজপথে জনস্রোত

স্পেনে তীব্র আবাসন সংকট এবং সাশ্রয়ী মূল্যে বাসস্থান পাওয়ার দাবিতে দেশটির বিভিন্ন শহরে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করেছেন হাজার হাজার মানুষ।    শুক্রবার (২ অক্টোবর) দেশটির পার্লামেন্টে জরুরি আবাসন সংক্রান্ত আইন পাস করতে সরকার ব্যর্থ হওয়ার পরই মূলত এই জনরোষের বিস্ফোরণ ঘটে।    এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার মাদ্রিদ, ভ্যালেন্সিয়া এবং বার্সেলোনার মতো প্রধান শহরগুলোতে প্রায় ৫০টি বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি পালিত হয়।   ভ্যালেন্সিয়া টেন্যান্টস ইউনিয়নের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন যে বর্তমানে রাজপথে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিক্ষোভ চলাকালে ভ্যালেন্সিয়া শহরে কিছু বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।    মূলত গত মাসে ৮৭ বছর বয়সি এক প্রবীণ নারী অতিরিক্ত ভাড়া পরিশোধ করতে না পারায় তার বাসা থেকে উচ্ছেদ হওয়ার ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র জনরোষ তৈরি হয়। সেই ঘটনার পরই পেদ্রো সানচেজের বামপন্থী জোট সরকার কিছু নতুন জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব করেছিল।   ওই উচ্ছেদের ঘটনাই স্পেনের মূল ভূখণ্ডে ব্যাপক বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটায়। বিক্ষোভকারীরা কম ভাড়ার দাবি জানানোর পাশাপাশি উচ্ছেদ প্রক্রিয়া বন্ধ করা এবং বিনিয়োগ তহবিল বা সরকারের ভাষায় ‘ভালচার ফান্ড’ বা চিল-শিকারি তহবিলের মাধ্যমে সম্পত্তি কেনাবেচার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়ে আসছেন।   এদিকে শুক্রবার কংগ্রেসে আইন পাস করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সরকারের পতন ঘটতে পারে কিংবা আগামী গ্রীষ্মের নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি আগাম সাধারণ নির্বাচন ঘোষণা করতে পারেন এমন জল্পনা-কল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।    উল্লেখ্য, পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সোশ্যালিস্ট পার্টি এবং তাদের জুনিয়র অংশীদার সুমার জোটের সমন্বয়ে গঠিত বর্তমান সরকারের পার্লামেন্টে কোনো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই।   সূত্র: বিবিসি।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বৈধ ভিসা থাকলেও ভারতে প্রবেশে বাধা

ছবি: সংগৃহীত

স্বর্ণের দামে এবার কী হতে পারে, মিলছে যে পূর্বাভাস

ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধে চীনের নীরব ভূমিকা, পাল্টে যাচ্ছে যুদ্ধের হিসাব

ছবি: সংগৃহীত
সাড়ে ৩ লাখ ডলারে আর্জেন্টিনার নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ

বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন নাগরিকত্ব প্রকল্প ঘোষণা করেছে আর্জেন্টিনা। এখন থেকে অন্তত তিন লাখ ৫০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করলেই যে কেউ দেশটির নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট অর্জন করতে পারবেন।    দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম এই অর্থনীতিতে বিগত বছরগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ আশানুরূপ না হওয়ায় মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   নতুন এই ‘সিটিজেনশিপ বাই ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম’-এর আওতায় নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য দুটি নির্দিষ্ট পথ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো জাতীয় কোষাগারে সরাসরি তিন লাখ ৫০ হাজার ডলারের অ-ফেরতযোগ্য অনুদান প্রদান করা। অন্য বিকল্প হিসেবে আবেদনকারীরা এই উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে তৈরি আট লাখ ডলারের একটি সরকারি বন্ডেও বিনিয়োগ করতে পারবেন। এছাড়া মূল বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট আর্থিক অবদানের মাধ্যমে তার স্ত্রী ও সন্তানেরাও সহজেই আর্জেন্টিনার নাগরিকত্ব লাভ করতে পারবেন।   আর্জেন্টিনার অর্থনীতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ দেশের রাজস্ব ও আর্থিক অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করতে ব্যবহার করা হবে। তবে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা ও অর্থ পাচার রোধ করতে প্রতিটি বিনিয়োগ অত্যন্ত কঠোর ও স্বচ্ছ মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচাই করা হবে।    এর আগে গত সপ্তাহে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বিদেশিদের গ্রামীণ জমি কেনার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, যার ঠিক পরেই এই বিনিয়োগভিত্তিক নাগরিকত্ব কর্মসূচির ঘোষণা এল। তবে জমি কেনার নিয়ম শিথিল করার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশটির ভেতরে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে এবং বিরোধী দলগুলো এর প্রতিবাদে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।   সূত্র: গালফ নিউজ 

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

১৭০ যাত্রী নিয়ে প্লেনটি ইসরায়েলে বিধ্বস্ত করতে চেয়েছিলেন ওমানি পাইলট

ছবি: সংগৃহীত

হুথিদের ঠেকাতে ইয়েমেনে ১ লাখ সেনা পাঠাচ্ছে সৌদি আরব

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় সৌদি জোটের ৯৪ হামলা, দাবি হুতিদের

সংগৃহীত ছবি
যুদ্ধ-সংঘাতে ইয়েমেনে খাবারের সংকটে ৭৪ শতাংশ পরিবার

ইয়েমেনে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ আকার নিচ্ছে খাদ্যসংকট। দেশটির সরকার-নিয়ন্ত্রিত যেসব এলাকায় জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) কাজ করতে পারছে, সেখানে ৭৪ শতাংশ পরিবার এখন তাদের ন্যূনতম খাদ্যচাহিদা পূরণ করতে পারছে না। চলতি বছরে এ হার সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।   ডব্লিউএফপির তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহের লড়াইয়ে ১ লাখ ৪৯ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তাদের অনেকেই এর আগেও সংঘাতের কারণে ঘরবাড়ি হারিয়েছিলেন। বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর অনেকে আদেন ও তাইজের আশপাশে পানি ও খাবার ছাড়াই পৌঁছাচ্ছে।   ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে সংঘাত সাম্প্রতিক সময়ে বড় আকারে বেড়েছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সীমান্তপারের হামলা অনেকটা বন্ধ হওয়ার পর এটিই সবচেয়ে গুরুতর সংঘাত বৃদ্ধি বলে উল্লেখ করেছে রয়টার্স। এই লড়াই দেশটির নিয়ন্ত্রণের ভারসাম্য বদলে দেওয়ার পাশাপাশি লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেও প্রভাব ফেলতে পারে।   সংঘাতের কারণে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইয়েমেন তার প্রয়োজনীয় খাদ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি করে। ফলে বন্দর, সড়ক ও বাণিজ্যপথে সামান্য বিঘ্নও খাদ্যের দাম ও সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলছে। তাইজের কিছু এলাকায় মাত্র দুই সপ্তাহে গমের আটার দাম ১০ শতাংশ বেড়েছে।   ডব্লিউএফপির সহকারী নির্বাহী পরিচালক ম্যাথিউ হলিংওয়ার্থ বলেছেন, সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ইয়েমেনের খাদ্যনিরাপত্তার ওপর “ভয়াবহ” প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর মতে, সংঘাত যত দীর্ঘ হবে, ক্ষুধার সংকটও তত বাড়বে।   ইয়েমেনে এরই মধ্যে ১ কোটি ৮৩ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে রয়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ২২ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে, যার মধ্যে প্রায় ৫ লাখ শিশু গুরুতর অপুষ্টির শিকার।   সংঘাত থেকে পালিয়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের চাপও দ্রুত বাড়ছে। ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষের প্রায় ৭০ শতাংশ নারী ও শিশু। সংস্থাটি তাইজ ও লাহজের বড় দুটি বাস্তুচ্যুতি এলাকায় ইতোমধ্যে ৭০ হাজারের বেশি মানুষকে গরম খাবার ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা দিয়েছে। আরও ১৫ লাখ মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।   তবে অর্থ ও খাদ্য মজুতের সংকটও বড় হয়ে উঠছে। জরুরি সহায়তা চালিয়ে যেতে ডব্লিউএফপির আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ১০ কোটি ৯ লাখ ডলার প্রয়োজন। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, নতুন অর্থ না এলে বাস্তুচ্যুত ১ লাখ ৫২ হাজার মানুষ এবং ইতোমধ্যে সহায়তা পাওয়া ১৪ লাখ মানুষের জন্য খাদ্য ও অর্থের মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে।   সংঘাতের প্রভাব ইয়েমেনের সীমানার বাইরেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাব আল-মান্দাব প্রণালি- যা লোহিত সাগরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ- এবং হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে অস্থিরতা তৈরি হলে খাদ্য ও জ্বালানির বৈশ্বিক দাম আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে খাদ্য আমদানিনির্ভর দরিদ্র দেশগুলোর ওপর।   ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, সংঘাতের কারণে ইয়েমেনের তাইজ ও হোদেইদার কিছু এলাকায় তাদের প্রবেশাধিকারও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। একই সময়ে সংস্থাটি ভবিষ্যতের জন্য রাখা খাদ্য মজুতও এখন জরুরি সহায়তায় ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে।   তথ্য সূত্র- রয়টার্স।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৩, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

সাত শতাধিক আটকের পরও থামেনি বিক্ষোভ, ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়াচ্ছে আন্দোলন

সংগৃহীত ছবি

ট্রাম্পের হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যে আরও রণতরি ও ১০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

মদিনায় মসজিদে নববীর বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা

0 Comments