জাতীয়

অবৈধ বসতিতে উৎপাদিত ইসরাইলি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার পথে আয়ারল্যান্ড

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের ইসরাইলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করতে একটি বিল অনুমোদন করেছে আয়ারল্যান্ডের পার্লামেন্ট। বিলটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য দেশটির উচ্চকক্ষে পাঠানো হবে।

 

আয়ারল্যান্ডের গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদসূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত আইনে ইসরাইলের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্তের বাইরে অবস্থিত আবাসিক, কৃষি ও বাণিজ্যিক বসতিতে উৎপাদিত কোনো পণ্য দেশটিতে আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে না। এ পদক্ষেপকে ইউরোপে ইসরাইল-নিয়ন্ত্রিত বসতিগুলোর বিরুদ্ধে নেওয়া অন্যতম কঠোর বাণিজ্যিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এ নিষেধাজ্ঞার সরাসরি অর্থনৈতিক প্রভাব সীমিত হতে পারে। কারণ, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলো থেকে আয়ারল্যান্ডে আমদানিকৃত পণ্যের মোট মূল্য ছিল এক মিলিয়ন ইউরোরও কম। তবুও এই উদ্যোগের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে।

 

বিরোধী দলের কিছু নেতা বিলটির সমালোচনা করে বলেছেন, এতে সেবাখাতের লেনদেন অন্তর্ভুক্ত না থাকায় এর কার্যকারিতা সীমিত থাকবে। তবে সরকার বলছে, সেবাখাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে আরও জটিল হওয়ায় আপাতত পণ্যের বাণিজ্য নিয়েই আইনটি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

 

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আয়ারল্যান্ড ইসরাইলের সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচনা করে আসছে। ২০২৪ সালে দেশটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। এর পর আয়ারল্যান্ডের অবস্থানের প্রতিবাদ জানিয়ে ডাবলিনে নিজেদের দূতাবাস বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় ইসরাইল।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
সাত মাসে দুই হাজারের বেশি খুন, দেশজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ

সারাদেশে গত জুলাই মাসে খুনের মামলা হয়েছে ২৯৮টি। জুনে এ সংখ্যা ছিল ৩২৬; মে মাসে ৩১০। এ হিসাব অনুযায়ী, গেল তিন মাসে খুনের নথিভুক্ত মামলা ৯৩৪টি। গড়ে প্রতি মাসে খুনের মামলার সংখ্যা ৩১১। পুলিশ সদরদপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে ২ হাজার ৭৬টি। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ২৮৭, ফেব্রুয়ারি ২৫০, মার্চে ৩১৭ ও এপ্রিলে ২৮৮টি।  গতকাল রোববার বাগেরহাট, ফরিদপুর, পাবনার ঈশ্বরদী, জামালপুর ও ঝিনাইদহে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আগের দিন শনিবার রাতে রংপুর নগরের কামালকাছনা এলাকার মাছুয়াপাড়ায় একটি বাড়ির দ্বিতীয়তলা থেকে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় স্বজনরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।  বিশ্লেষকরা বলছেন, টার্গেট কিলিং, সংঘবদ্ধ অপরাধী গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক কোন্দল, এলাকাভিত্তিক চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের তৎপরতা, মাদক-অপরাধকেন্দ্রিক লড়াই, কিশোর গ্যাং, গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব, জমির বিবাদ, নারী-শিশু নিপীড়নের পর হত্যা এবং পারিবারিক-সামাজিক কলহে একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খুনের পেছনে একক কোনো কারণকে দায়ী করা যাচ্ছে না। কিছু এলাকায় খুনের ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে। এতে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তারের বিষয়টি সামনে আসছে।জাতীয় এক দৈনিক পত্রিকার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাত মাসে সারাদেশে ১২৩টি গুলির ঘটনা ঘটেছে। নিহত হয়েছেন ৫৯ জন। এখন পর্যন্ত পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার হয়নি এক হাজার ৩১১টি। এর মধ্যে চায়নিজ রাইফেল ১০৯টি ও ৩০টি এসএমজি রয়েছে। গুলি উদ্ধার হয়নি দুই লাখ ৫৭ হাজার ১২৫টি। এ ছাড়া অনেক অপরাধী চক্রের হাতে আছে অবৈধ আধুনিক অস্ত্র। সমাজে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন, খুনের মামলার পরিসংখ্যান দেখে সাধারণত তার একটি চিত্র পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত উন্নতি এখনও দেখা যাচ্ছে না। সাত মাসে গড়ে ২৯৬টি খুনের মামলা নথিভুক্ত হয়। এ সময় দুই হাজারের বেশি মামলা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য সতর্কসংকেত বলছেন অনেকে। পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, খুনের পরিসংখ্যান মাসে প্রায় ৩০০। অনেক সময় চাইলে খুন ঠেকানো কঠিন। কারণ, এটা আনপ্রেডিক্টেবল। ব্যক্তিগত শত্রুতা ও ক্রোধ থেকেও হত্যার ঘটনা ঘটছে। আবার খুন কখনও বাড়ে, কখনও কমে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এখনও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রত্যাশামতো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। সংযুক্তি, বদলি, চাকরি হারানো, মামলায় আসামি, সামাজিক মাধ্যমে ট্যাগিং করার মতো আতঙ্ক তাদের মধ্যে রয়েছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে মাঠের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর। খুনোখুনির পেছনের আরেকটি কারণ রাজনৈতিক কোন্দল। অনেক এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে খুনের ঘটনা ঘটে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, রাজনৈতিক বিরোধে জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ছোট-বড় সংঘাতের ঘটনা ৪০০টি। এতে প্রাণ গেছে ৭৭ জনের। তাদের মধ্যে দুর্বৃত্তদের হামলা ও গুলিতে নিহত হয়েছেন ৪০ জন।  ১৭ আগস্ট সচিবালয়ে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিগত ছয় মাস বা ১৮০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্টির বিষয়টি দেশের জনগণই মূল্যায়ন করবে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিস্থিতি আরও সুসংহত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সব মহানগর এলাকার মধ্যে জুলাই মাসে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি ৩১টি খুনের মামলা হয়েছে। জুন মাসে ঢাকায় খুনের ঘটনা ২৩টি, মে মাসে ছিল ১৬টি। তিন মাসে ঢাকায় খুনের ঘটনা ৭০টি। তিন মাসের হিসাবে ঢাকায় খুনের পরিসংখ্যান ঊর্ধ্বমুখী। এ ছাড়া জুলাই মাসে চট্টগ্রাম মহানগরে খুনের মামলা ৪টি, খুলনায় ৩, রাজশাহীতে ১, সিলেটে ৫ ও গাজীপুরে ৭টি। জুলাই মাসে বরিশাল ও রংপুর মহানগরে খুনের ঘটনা ঘটেনি। এ ছাড়া জুলাই মাসে ঢাকা রেঞ্জে সবচেয়ে বেশি ৬৬টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চট্টগ্রাম রেঞ্জে ৫৪টি, খুলনায় ২৯, ময়মনসিংহে ২৭, রাজশাহীতে ২৪, রংপুরে ১৮, সিলেটে ১৫ ও বরিশাল রেঞ্জে ১৪টি। জুন মাসে ঢাকা রেঞ্জে খুন ৭৪, চট্টগ্রামে ৬৭, রাজশাহীতে ৩১, খুলনায় ২৮, ময়মনসিংহ ও সিলেটে ২২টি করে, বরিশাল ১৫ ও রেলওয়ে রেঞ্জে ২টি। মে মাসে ঢাকা রেঞ্জে খুন ৭২, চট্টগ্রামে ৭১, খুলনা ও রাজশাহীতে ২৯টি, রংপুরে ২১, বরিশালে ২০, সিলেটে ১৪ ও রেলওয়ে রেঞ্জে ১টি। গত তিন মাসে শুধু খুলনা রেঞ্জে মোট খুন ৮৫টি। এ ছাড়া খুলনা মহানগরে তিন মাসে খুনের ঘটনা ৯টি। এ ছাড়া চট্টগ্রাম রেঞ্জে তিন মাসে খুনের মামলা ১৯২টি। চট্টগ্রাম মহানগরে তিন মাসে খুনের মামলা ১৪টি। ঢাকা রেঞ্জে তিন মাসে খুনের মামলা ২১২টি। পুলিশ সদরদপ্তরের পরিসংখান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে খুনের ঘটনায় মামলা ছিল ৩৬২টি। এর মধ্যে আগের খুনের ঘটনায় ৯০টি মামলা রয়েছে। এ হিসাবে জুলাই মাসে প্রকৃত খুনের ঘটনা ২৭২টি। জুন মাসে খুনের মোট মামলা ৩৪৪টি। আগের অপরাধের মামলা ৯৫টি। ওই মাসে খুনের ঘটনার প্রকৃত মামলা ২৪৯টি। মে মাসে খুনের মোট মামলা ৩৪১টি। আগের মামলা ৮০টি। এ হিসাব অনুযায়ী, সেই মাসে প্রকৃত খুনের মামলা ২৬১টি। আগের বছরের মে থেকে জুন পর্যন্ত প্রকৃত খুনের মামলা ৭৮২টি। গড়ে সেই তিন মাসে খুনের ঘটনা ২৬০টি। এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই মাসে খুনের মামলা ৩৩৪, জুনে ২৬৮ ও মে মাসে ২৫৯। তিন মাসে মোট খুনের ঘটনা ৮৬১টি। এ হিসাবে ওই তিন মাসে গড়ে খুনের ঘটনা ২৮৭টি। এ ছাড়া ওই বছরের জানুয়ারিতে খুনের মামলা ২৩১, ফেব্রুয়ারি ২৪০, মার্চে ২৩৯, এপ্রিল ২৯৬, মে মামে ২৫৯, জুনে ২৬৮, জুলাই ৩৩৪, আগস্ট ৬২৬, সেপ্টেম্বর ২৮৩, অক্টোবর ২৪৯, নভেম্বর ২১১ ও ডিসেম্বরে ২০৪টি। ওই বছরের আগস্ট মাসের ৬২৬টি মামলার মধ্যে ১৫৮টি আগের অপরাধের (২০০৯-২০২৪ সাল)। পুলিশ সদরদপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৩ সালে জানুয়ারিতে খুনের ঘটনা ২১৪টি, ফেব্রুয়ারি ২২২, মার্চে ২৬৮, এপ্রিলে ২৯৬, মে মাসে ২৪৬, জুনে ২৭২, জুলাইয়ে ২৯৬, আগস্টে ২৫৩, সেপ্টেম্বরে ২৩৮, অক্টোবরে ২৫৮, নভেম্বরে ২২৭ ও ডিসেম্বরে ২২৩টি। ওই বছর মোট খুনের মামলা তিন হাজার ২৩টি। গড়ে প্রতি মাসে খুনের মামলা ২৫১টি। ২০২৩ সালের মে থেকে জুলাই পর্যন্ত তিন মাসে ৮১৪টি। গড়ে সেই তিন মাসে খুন ২৭১টি। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ে সদরদপ্তরে একাধিক বৈঠক হয়েছে। সেখানে বৈঠকে খুন, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত ৬ আগস্ট রাজধানীর সবুজবাগ থানাধীন বাগানবাড়ী কালভার্ট এলাকার একটি গরুর খামার-সংলগ্ন সেতুর নিচে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর খণ্ডিত মাথা ও পলিথিনে মোড়ানো দুই হাত পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেগুলো উদ্ধার করে। তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তাঁর নাম ছুরাইয়া আক্তার ওরফে ফালানী (১৯)। পরে তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে খণ্ডিত মাথার ছবি ও দুই হাতে থাকা ট্যাটু দেখে তারা মরদেহটি শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বেশ কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চিহ্নিত অপরাধী কারাগার থেকে জামিনে বের হয়েছেন। কয়েকজন বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন। তাদের কেউ দেশে অবস্থান করছেন, আবার কেউ বিদেশে চলে গেছেন। এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে কেউ কেউ তৎপর। অনেকে আবার পুরোনো শত্রুদের ‘শায়েস্তা করার মিশন’ নিয়েছেন। গত ২৮ এপ্রিল নিউমার্কেট এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের ভগ্নিপতি খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তাঁর স্বজনরা এ হত্যার জন্য আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী হেলালকে দায়ী করেন। তবে হেলাল পাল্টা অভিযোগ করেন, এর পেছনে ইমনের সহযোগীরাই জড়িত। গত ১০ নভেম্বর ঢাকার আদালতপাড়ার কাছে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ২০ আগস্ট খুলনার বটিয়াঘাটায় নদী থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই দিন রাতে দিঘলিয়া উপজেলায় বিদ্যালয় ছুটির প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর স্কুলের বাথরুম থেকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় এক ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। ১৯ আগস্ট শহরের লবণচরায় জোড়া খুন হয়েছে। আশিবিঘা এলাকায় মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে গুলিতে দুই তরুণ নিহত হন। ১৮ আগস্ট রায়েরমহল এলাকায় শিশু অপহরণ চেষ্টার অভিযোগে গণপিটুনিতে রাজু (২৬) নামে এক যুবক নিহত হন। ১৫ আগস্ট জয় ঢালী (২৭) নামে এক যুবককে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ১১ আগস্ট ফখরুল শেখ (৩২) নামে এক যুবককে ইটভাটায় গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। অতিরিক্ত আইজিপি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, খুলনা, চট্টগ্রামসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে খুনের ঘটনা বেশি ঘটছে। সেখানে ভাড়াটে খুনি, চরমপন্থি ও সুন্দরবনকেন্দ্রিক জলদস্যুরা অনেক ক্ষেত্রে এসবের সঙ্গে জড়িত। আগে তাদের মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ভয় ছিল। এলাকায় আসত না। এখন অপরাধীদের প্রচলিত আইনে বিচারের মুখোমুখি করায় বিশ্বাসী পুলিশ। আবার কিছু জায়গায় রাজনৈতিক আধিপত্য নিয়ে খুনের ঘটনা ঘটছে। তবে যেসব ঘটনা ঘটছে তার অধিকাংশের রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খোন্দকার রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, অপরাধ পর্যালোচনা সভায় খুনের মতো অপরাধ কীভাবে কমিয়ে আনা যায়– এ ব্যাপারে সব সময় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পর্যটনে যুক্ত করতে একক নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া সভা-সমাবেশের অধিকার সবার: আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

২১ দিনে শেয়ারদর বেড়েছে ৮২%, ডিএসইকে ব্যাখ্যা দেয়নি তুং হাই নিটিং

ছবি: সংগৃহীত
হালাল পণ্যের মান ও সনদে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নতুন আইনি ক্ষমতা

‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’ সংশোধনের মাধ্যমে হালাল পণ্যের মান নির্ধারণ ও সনদ প্রদানের বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছে।   সম্প্রতি এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সংবিধানের ৫৫(৬) অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর সংশ্লিষ্ট অংশ সংশোধন করেছেন।   সংশোধিত বিধিমালায় সিডিউল-১-এ ‘মিনিস্ট্রি অব রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্স’ শিরোনামের অধীনে নতুন একটি দায়িত্ব যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে ‘Matters Relating to Halal Standard and Certification’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   এর ফলে হালাল পণ্যের মান নির্ধারণ এবং হালাল সনদ প্রদানের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের আওতায় এসেছে।   ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন ইসলামিক ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের হালাল মান যাচাই এবং সনদ প্রদানের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তবে এতদিন এ কার্যক্রমের আইনগত ভিত্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ছিল।   ‘রুলস অব বিজনেস’ সংশোধনের ফলে এখন হালাল মান ও সনদসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি স্পষ্ট প্রশাসনিক ও আইনগত ভিত্তি তৈরি হলো।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

১৯ বছর পর ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল কার্যকর, পুরনো মামলার নিষ্পত্তির পথ খুলল

ছবি: সংগৃহীত

৯ বছরেও অনিশ্চিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, নিজ দেশে ফিরতে চান আশ্রিতরা

ছবি: সংগৃহীত

এনএসআইয়ের পরিচালক হলেন পুলিশের ২ ডিআইজি

ছবি: সংগৃহীত
বাংলা এডিশনের নিবন্ধন পুনর্বহাল, আবারও সংবাদ কার্যক্রমের সুযোগ

সাময়িকভাবে বাতিল হওয়া অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা এডিশনের নিবন্ধন পুনর্বহাল করেছে সরকার। এর ফলে ইলিয়াস হোসাইনের মালিকানাধীন/সম্পৃক্ত এই সংবাদমাধ্যমটি আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পেল।   রোববার (২৩ আগস্ট) তথ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলা এডিশনের নিবন্ধন বাতিলের আগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়।   এর আগে ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলা এডিশনের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছিল। পরে নিবন্ধন পুনর্বহালের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে সংবাদমাধ্যমটির কর্তৃপক্ষ। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই নিবন্ধন পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে বাংলা এডিশন। ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সরকারি কর্মকর্তা, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।   যাত্রা শুরুর কয়েক মাসের মধ্যেই তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে পোর্টালটির নিবন্ধন বাতিল করা হয়। এর পর থেকেই নিবন্ধন ফিরে পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছিল বাংলা এডিশন।   বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্তে নিবন্ধন পুনর্বহালের পর সংবাদমাধ্যমটি পুনরায় আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পেল। নিবন্ধন ফিরে পাওয়ার পরও সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান রেখে সংবাদ প্রকাশের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কথা জানিয়েছে বাংলা এডিশন কর্তৃপক্ষ।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অ্যাডমিরাল পদে পদোন্নতি পেলেন নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ ঘোষণা

ধর্ষণ মামলার রায় শুনে আদালতে জ্ঞান হারালেন আ.লীগ নেতা

0 Comments