জাতীয়

আয়কর রসিদেই জানানো হবে করের টাকা কোথায় ব্যয় হচ্ছে : তিতুমীর

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, নাগরিক তখনই কর দিতে আগ্রহী হবে, যখন সে বুঝতে পারবে করের বিনিময়ে রাষ্ট্র তাকে সেবা দিচ্ছে। রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে সামাজিক আস্থার সম্পর্ক তৈরি না হলে কর ফাঁকি ও কর জালিয়াতি কমবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে করদাতাকে এমন রসিদ দেওয়া হবে, যেখানে উল্লেখ থাকবে, তার দেওয়া করের কত অংশ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় হয়েছে। আগামী বাজেট থেকেই এ ধরনের ব্যবস্থা চালুর আশা করছে সরকার।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সিএ ভবনে আয়োজিত এক প্রাক-বাজেট গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ড. তিতুমীর। ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিবি) ও দ্য ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেস যৌথভাবে এ আলোচনার আয়োজন করে।

ড. তিতুমীর বলেন, দেশে কর ফাঁকি ও কর জালিয়াতি বাড়ার পেছনে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতি বড় কারণ। তার ভাষায়, ‘গোষ্ঠীতান্ত্রিক শক্তি ক্ষমতায় রাখবে, আর বিনিময়ে কর খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে। কর ফাঁকি ও জালিয়াতির মূল শেকড় এখানেই।’

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ, যা বিশ্বের অন্যতম নিম্ন হার। ‘উন্নয়নের বড় বড় বুলি আওড়ানো হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে করব্যবস্থার ভিত্তি দুর্বলই থেকে গেছে’-বলেন তিনি।

কর ব্যবস্থায় ‘সংযুক্তি’ ও ‘বিযুক্তি’ দুই ধরনের সংস্কারের কথাও তুলে ধরেন উপদেষ্টা। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘বিযুক্তি’ মানে করদাতা ও কর্মকর্তার ব্যক্তিগত যোগাযোগ কমিয়ে আনা, আর ‘সংযুক্তি’ মানে নাগরিককে জানানো-তার করের অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার করের হার বাড়াতে চায় না; বরং অর্থনীতির আকার বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়াতে চায়। প্রত্যক্ষ কর বাড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি।

ড. তিতুমীর জানান, সরকার ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্য তিনটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে। একই সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক খাতকে মূল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা, বন্ধ শিল্পকারখানা চালু, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে প্রণোদনা এবং এসএমই নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ উদ্যোগের মাধ্যমে সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সৃজনশীল অর্থনীতি বা অরেঞ্জ ইকোনমিকে গুরুত্ব দিয়ে শিল্পী, ডিজাইনার, গেম নির্মাতা ও ফ্যাশন উদ্যোক্তাদেরও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতির মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জরুরি। বন্ধ শিল্পকারখানা চালু করতে বাংলাদেশ ব্যাংক রিফাইন্যান্সিং স্কিম ও বিশেষ ঋণ কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান টি রহমান, অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ, আইসিএবি সভাপতি এন কে এ মবিন এবং দ্য ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ বক্তব্য দেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ সম্ভব, কিন্তু প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে নয়

স্বামী-স্ত্রীর ডিভোর্স হতে পারে কিন্তু প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ডিভোর্স হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বগুড়া-৫ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) সিরাজ।   সোমবার (২২ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১২তম দিনে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।   ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরে জিএম সিরাজ বলেন, আমাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কও ক্ষণস্থায়ী হতে পারে, স্বামী-স্ত্রীর ডিভোর্স হতে পারে। কিন্তু ভারত-বাংলাদেশের যে আমরা প্রতিবেশী, এই প্রতিবেশীর কিন্তু সম্পর্কের ডিভোর্স হতে পারে না। প্রতিবেশীকে আমরা কখনোই অস্বীকার করতে পারি না, না ভারত পারবে, না বাংলাদেশ পারবে।    দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্বের ওপর জোর দিয়ে বিএনপির এই এমপি বলেন, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে আমি একটু সময় নেবো। সেটা হলো যে আমরা সবাই চাই ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সম্মানজনকভাবে আমাদের বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখি। কারণ আমি বিশ্বাস করি যে ভারত আমাদের প্রতিবেশী। আমরাও দুই বন্ধুতে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ক্ষণস্থায়ী যেন না হয়।   বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং এর প্রেক্ষিতে জনমানসের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা দেখলাম যে দেশে ভারতের নতুন হাই কমিশনার আসলেন। তিনি এসে বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্ব নিয়ে তিনি কাব্যিক ভাষায় কথা বলেছেন। ত্রিবেদী বললেন, আমরা একই আকাশ, একই বাতাসের নিচে আছি। আমাদের বন্ধুত্ব প্রয়োজন। কিন্তু আমরা কি দেখলাম? আমরা দেখলাম বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়াতে বিতর্কের ঝড়। ভারত-বিরোধী বিভিন্নভাবে আমরা সোশ্যাল মিডিয়াতে বা ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে দেখলাম। কিন্তু কেন? এই কেন প্রশ্নটা জানতে হবে।   সীমান্ত সংকট ও মাদক চোরাচালান বন্ধে ভারতের বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জিএম সিরাজ বলেন, আমরা জানতে চাই যে, আজকে পুশ-ইন ভারতের ভাষায় পুশব্যাক হচ্ছে। এটা বন্ধ হতে হবে। আমরা বলতে চাই আসুন, মানুষের হৃদয় জয় করুন। মানুষের হৃদয়ের সঙ্গে ভারতের, ভারতবাসী এবং বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে হৃদয়ের সঙ্গে হৃদয়ের সম্পর্ক স্থাপন করি। আমরা চাই ভারত-বিরোধিতা অথবা বাংলাদেশ-বিরোধিতা এগুলো না হোক। আমরা কি চাই? আমরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান করতে চাই। সেই ক্ষেত্রে আমার সবিনয় অনুরোধ ভারতের বর্তমান সরকারের প্রতি যে, আপনারা দয়া করে পুশ-ইন বন্ধ করুন। পুশ-ইন বন্ধ করুন। একই সঙ্গে পুশ-ইনের চাইতেও আরেকটি বড় মারাত্মক ব্যাধি আমাদের— মাদকে আমাদের ছেয়ে ফেলেছে। এই সর্বগ্রাসী মাদক আমাদের যুবক সম্প্রদায়, ছাত্র সম্প্রদায়, সমস্ত শ্রেণীকে নষ্ট করে ফেলছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সেশনজট রোধে কঠোর অবস্থান শিক্ষামন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

২২ জন বিচারককে বদলি

ছবি: সংগৃহীত
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ।   সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে তাঁর অফিসকক্ষে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।   সাক্ষাতে পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মার নেতৃত্বে আট সদস্যের এক প্রতিনিধিদল অংশ নেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন।   সাক্ষাৎকালে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং অর্পিত সম্পত্তি আইনসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সর্বজনীন অধিকারে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে কক্সবাজারের রামু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের যেসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের হার সবচেয়ে কম। দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।   সাক্ষাৎকালে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার লক্ষ্যে একজন ‘ফোকাল পয়েন্ট’ কর্মকর্তা নির্ধারণের দাবি জানান। মন্ত্রী অত্যন্ত সহানুভূতির সাথে দাবিটি বিবেচনার এবং তা দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস প্রদান করেন।   আলোচনাকালে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে হরিদাস চন্দ্র কর্তৃক রামমন্দির নির্মাণ এবং অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তী কর্তৃক দেশের সার্বভৌমত্ববিরোধী বক্তব্য প্রদানের বিষয়টি উত্থাপিত হয়।    এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও স্বার্থ সুরক্ষাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে সকল সম্প্রদায়েরই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা আবশ্যক।’    তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে-এমন যেকোনো বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড থেকে সকলকে বিরত থাকতে হবে। দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে তিনি সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ–মালয়েশিয়ার মধ্যে এক সমঝোতা, দুই দলিল বিনিময়

ছবি: সংগৃহীত

২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্তবাণিজ্য চুক্তি

ছবি: সংগৃহীত

সংসদে স্বাধীনতাবিরোধী রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি বিএনপি এমপি - রফিকুলের

ছবি: সংগৃহীত
‘মবক্রেসি’ শব্দ ঘিরে সংসদে তর্ক-বিতর্ক, এক্সপাঞ্জের দাবি নাকচ স্পিকারের

জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বাজেট-পরবর্তী মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ‘মবক্রেসি’ হিসেবে উল্লেখ করাকে কেন্দ্র করে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ শব্দটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি তুললেও তা নাকচ করেছেন স্পিকার।   সোমবার (২২ জুন) বাজেট অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জামায়াতের সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, বাজেট প্রতিক্রিয়া নিয়ে দলের কর্মসূচিকে এক সদস্য ‘মবক্রেসি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন, যা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া উচিত।   জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মবক্রেসি’ কোনো অশ্লীল বা অসংসদীয় শব্দ নয়। তাই এটি কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি সংশ্লিষ্ট সদস্যকে পরামর্শ দেন, বাজেটের ওপর বক্তব্য দেওয়ার সময় এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরতে।   পরে বিরোধীদলীয় নেতা এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে বলেন, শব্দটি ইতিবাচক অর্থ বহন করে না এবং এটি সংসদে ব্যবহার অনুচিত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অতীতে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় আন্দোলন বা কর্মসূচি পালন করেছে। তাহলে সেসব কর্মসূচিকেও কি ‘মবক্রেসি’ বলা হবে?   তবে স্পিকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থেকে বলেন, ‘মবক্রেসি’ বর্তমানে রাজনৈতিক আলোচনায় বহুল ব্যবহৃত একটি পরিভাষা। এটি অশ্লীল বা অসংসদীয় নয় এবং কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার মতো কোনো কারণও নেই।   তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে নিন্দনীয় গণতান্ত্রিক চর্চার সমালোচনায় শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ফলে সংসদে এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আক্তারুজ্জামান জুন ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কাপ্তাই হ্রদে পানি কমে রাঙামাটির ৪ উপজেলায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ

ছবি : সংগৃহীত

অপতৎপরতার আশঙ্কায় কয়েক জেলায় সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

২০৩০ সালের মধ্যে ৭ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি অর্জন সম্ভব: বিইআরসি

0 Comments