খেলাধুলা

আর্জেন্টিনাকে হারালে ধরে নেব বিশ্বকাপ জিতে গেছি: কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট

মারিয়া রহমান জুলাই ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে নেমে যেন রূপকথার গল্প লিখেছে কেপ ভার্দে। সাবেক দুই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও উরুগুয়ের গ্রুপে পড়েও সব চ্যালেঞ্জ উতরে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপ রাষ্ট্রটি।


বিশ্বের সবচেয়ে কম জনসংখ্যার (৫ লাখ ৩০ হাজার) দেশ হিসেবে গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়েছে তারা।


এবার কেপ ভার্দের সামনে আরো বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী ৪ জুলাই মায়ামিতে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে দলটি। ম্যাচটি ঘিরে বেশ রোমাঞ্চিত কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট জোসে মারিয়া নেভেস।


তার বিশ্বাস, কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারবে এবং তা হবে বিশ্বকাপ জয়ের মতো। 


ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জোসে মারিয়া নেভেস বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারাতে পারে। আমরা জেতার জন্যই মাঠে নামব। যখন কোনো দলের ওপর প্রত্যাশা কম থাকে; কিন্তু জয়ের ক্ষুধা থাকে প্রবল, তখন অনেক কিছুই সম্ভব।’


২০২১ সাল থেকে কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করে চলা নেভেস আরো বলেছেন, ‘নিজেদের ওপর ১০০% বিশ্বকাপ ও ১০০% আশা আছে। আমরা আমাদের জার্সির মর্যাদা রাখতে মাঠে শেষ পর্যন্ত লড়াই করব। কেপ ভার্দে যদি আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারে, তাহলে ধরে নেব আমরা বিশ্বকাপ জিতে গেছি। কেপ ভার্দের জন্য এটি হবে এক ঐতিহাসিক ও অবিশ্বাস্য অর্জন।’


এদিকে, ঘানার আলোচিত জাদুকর নানা কওয়াকু বোনসামও ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে দেবে কেপ ভার্দে।


প্রেসিডেন্টের বিশ্বাস ও জাদুকরের ভবিষ্যদ্বাণীকে ভুল প্রমাণ করে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিতে পারে কি না, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা। 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ব্যালন ডি’অর। ছবি: সংগৃহীত
ফিগোর বর্ষসেরার তালিকায় রদ্রি শীর্ষে, ছিটকে গেলেন মেসি-ইয়ামাল

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছেন লিওনেল মেসি ও লামিন ইয়ামাল। আর্জেন্টাইন মহাতারকা মেসি তো অনেকটা একাই তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের টেনেছেন। অন্যদিকে গোল-অ্যাসিস্ট খুব একটা বেশি না পেলেও আক্রমণভাগে ছাপ রেখেছেন বার্সেলোনার নম্বর ১০ ইয়ামাল। তাতে ফুটবলারদের জন্য সবচেয়ে মর্যাদার পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে দুই প্রজন্মের তারকাকে রাখাই যায়।     কিন্তু এবারের ব্যালন ডি’অর জেতার দৌড়ে মেসি-ইয়ামাল কাউকেই দেখছেন না লুইস ফিগো। পর্তুগিজ ফুটবল কিংবদন্তির মতে, দুই জনের একজনও যোগ্য দাবিদার নয়। বরং বছরজুড়ে অসাধারণ পারফর্ম করে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার জেতার দৌড়ে সবার চেয়ে তিনি এগিয়ে আছেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রিকে।      সম্প্রতি স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করার পাশাপাশি নিজ পছন্দের ব্যালন ডি’অরের ৪ দাবিদারের নাম প্রকাশ করেছেন ২০০০ সালের বর্ষসেরা ফুটবলার ফিগো। বিশ্বমঞ্চে দুর্দান্ত পারফর্ম করলেও মেসি কিংবা ইয়ামালের হাতে এবারের ব্যালন ডি’অর দেখছেন না পর্তুগিজ কিংবদন্তি। ফিগোর মতে, সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে তালিকার এক নম্বরে রয়েছেন রদ্রি। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডারের ধারাবাহিক ও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ব্যালন ডি’অরের রেসে তাঁকে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছে বলে মনে করেন সাবেক এই উইঙ্গার।     মার্কা’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিগো বলেন, ‘বিশ্বকাপে রদ্রি অসাধারণ খেলেছে। ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে এটাই হয়তো ওর পাল্লা ভারী করে দেবে।’     রদ্রিকে দলে ভেড়াতে রিয়াল মাদ্রিদের আগ্রহে অবাক হননি ফিগো। বিষয়টি নিয়ে সাবেক এই পর্তুগিজ তারকা বলেন, ‘আমার মনে হয় চুক্তিটি সম্পন্ন করা বেশ কঠিন হবে। কারণ, ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে তাঁর চুক্তি রয়েছে। তবে সবাই জানে যে, রিয়াল মাদ্রিদ সব সময় বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দেরই নিজেদের দলে নিতে চায়।’     পরিসংখ্যানের বিচারে গোল বা অ্যাসিস্ট কম থাকলেও বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করায় ব্যালন ডি’অরের প্রথম সারির দাবিদারদের তালিকায় ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপেকেও রাখছেন ফিগো, ‘গোল কিংবা অ্যাসিস্টের দিক থেকে রদ্রি হয়তো খুব বেশি আলো ছড়াতে পারেনি, কিন্তু টুর্নামেন্টজুড়ে সে ছিল অসাধারণ। অন্যদিকে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে এমবাপেও এই পুরস্কারের লড়াইয়ে থাকার পুরো যোগ্যতা আছে।     ফিগোর সম্ভাব্য সেরা চারের তালিকায় স্থান পেয়েছেন পিএসজির দুই তারকা—পর্তুগালের ভিতিনিয়া এবং ফ্রান্সের দেসিরে দুয়ে। ফিগো আরও যোগ করেন, ‘আমার মনে হয় ভিতিনিয়া ও দুয়ে চমৎকার একটি মৌসুম কাটিয়েছে। যদিও বিশ্বকাপটি তাদের জন্য (বিশেষ করে পর্তুগালের হয়ে ভিতিনিয়ার) খুব একটা ভালো যায়নি, তবুও সারা বছরের পারফরম্যান্স বিচারে তারা ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকার দাবি রাখে।’

মারিয়া রহমান জুলাই ২৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ইংলিশ ক্লাব ছাড়লেন বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের সমপর্যায়ে রাখছে দক্ষিণ আফ্রিকা

ছবি: সংগৃহীত

স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের নেপথ্যে কি কুকুরেয়ার বিশেষ কুসংস্কার?

ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে চোটের দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশ দল

অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রস্তুতি শুরুর আগে বাংলাদেশ দল ম্যানেজমেন্টের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে চার ক্রিকেটারের চোট। লিটন দাস চোটে ভুগছেন প্রায় এক মাস ধরে। মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা চোটে পড়েছেন সবশেষ জিম্বাবুয়ে সফরে।   তাদের চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই টেস্টের জন্য দল ঘোষণা করতে পারছে না বিসিবি। কারণ, চার ক্রিকেটারের মধ্যে লিটন, শরিফুল ও নাহিদ আছেন টেস্ট সিরিজের বিবেচনায়। তাদের চোটের সবশেষ অবস্থা জেনে দল ঘোষণা করবে বিসিবি।   আগামী ১ ও ৩ অগাস্ট দুই দফায় অস্ট্রেলিয়ায় যাবে বাংলাদেশ দল।   ঘরের মাঠে সবশেষ অস্ট্রেলিয়া সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে চোটে পড়েন লিটন। মাংসপেশির চোটে পড়া এই ক্রিকেটার পুনর্বাসন শেষে জিম্বাবুয়ে যান। তবে ব্যথা না কমায় ও ফিটনেস সন্তোষজনক না থাকায় সিরিজ না খেলে দেশে ফেরেন। নাহিদ রানা ভুগছেন সাইড স্ট্রেইনে, শরিফুলের সমস্যা হ্যামস্ট্রিংয়ে, মুস্তাফিজ পড়েছেন হাঁটুর চোটে।   তাদের চোটের কারণে বছরজুড়ে খেলায় ব্যস্ত থাকা ক্রিকেটারদের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন ও বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশিস চৌধুরি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কাছে দাবি করেন, ক্রিকেটারদের ওয়ার্কলোড ঠিকঠাকভাবেই দেখা হচ্ছে।   প্রধান নির্বাচক বলেন, “ওয়ার্কলোড আমরা খুব ভালো ম্যানেজ করি। ওয়ার্কলোডের কারণে জিম্বাবুয়েতে নাহিদ, তাসকিন ও শরিফুলকে টেস্ট ম্যাচে খেলানো হয়নি। চোট আসলে যতই ম্যানেজ করেন না কেন, এটা হবেই। এটা খেলারই অংশ। যতটুকু সম্ভব কমানোর চেষ্টা করতে হবে, কিন্তু খেলতে গেলে ব্যথা লাগবেই।   ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট ঠিক থাকার পরও কন্ডিশনের কারণে জিম্বাবুয়েতে তিন ক্রিকেটার চোটে পড়তে পারেন বলে মনে করেন তারা। তবে এটাই একমাত্র কারণ নয় বলেও স্পষ্ট করেছেন   দেবাশিস বলেন, একটা চোটের অনেক কারণ থাকতে পারে। ওখানে (জিম্বাবুয়ে) ঠান্ডা অনেক, এটা একটা কারণ হতে পারে। ঘাসের কন্ডিশন হতে পারে। যারা দলের সঙ্গে আছেন, তারা ভালো বলতে পারবে।   চোটে থাকা চার ক্রিকেটারের চোটের কী অবস্থা, জানার চেষ্টা করেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কম।   লিটন দাস সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে লিটন দাসের চোট নিয়ে। প্রথমে জানা গিয়েছিল, ৮-১০ দিনের মধ্যে তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনও সুস্থ নন। তার চোটের সবশেষ অবস্থা নিয়েও আছে ধোঁয়াশা।   তার অবশেষ অবস্থা জানিয়ে দেবাশিস চৌধুরি বলেন, লিটনের আজকে (বুধবার) স্ক্যান করানো হচ্ছে। স্ক্যানটা হলেই আমরা বলতে পারব।   প্রধান নির্বাচক বলেন, চোটে থাকা এই কিপার-ব্যাটসম্যানকে মেডিকেল বিভাগ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই জিম্বাবুয়ে পাঠানো হয়েছিল।   “এখানকার (বাংলাদেশ) স্ক্যানগুলোতে কিছু ধরা পড়েনি। জিম্বাবুয়ে যাওয়ার আগে স্ক্যান করা হয়েছিল, সেখানে একদম ঠিক ছিল। কিন্তু, তার ব্যথাটা আবার ফিরে আসছে। পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সিঙ্গাপুর গেছে। আজ বা কাল (বুধবার) তার স্ক্যান হবে।   স্ক্যান রিপোর্ট সঠিক আসার কারণেই তাকে (জিম্বাবুয়ে) পাঠানো হয়েছিল।   মুস্তাফিজুর রহমান জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে হাঁটুর চোটে পড়েন এই বাঁহাতি পেসার। পরে পুরো সিরিজ থেকেই ছিটকে যান। দেশে ফিরে বিশ্রামের পর সুস্থ হতে রিহ্যাব শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে রিহ্যাব করতে থাকা এই পেসার চলতি মাসের শেষদিকে দিবেন ফিটনেস পরীক্ষা। সেখানে সন্তোষজনক ফলাফল করতে পারলে ইংল্যান্ডের ফ্রাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে দা হান্ড্রেডে খেলতে যাবেন।   অস্ট্রেলিয়া সফরে সীমিত ওভারের কোনো ম্যাচ না থাকায় তার চোট নিয়ে খুব একটা চিন্তা করছেন না প্রধান নির্বাচক।   মুস্তাফিজ তো অস্ট্রেলিয়া সিরিজে নেই, ও শুধু ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে। আমরা এখন অস্ট্রেলিয়া সফরে বেশি মনোযোগ দিচ্ছি।   চোট কাটিয়ে তাকে দা হান্ড্রেডে পাঠানোর ব্যাপার পুরোটাই মেডিকেল বিভাগের উপর ছেড়ে দিয়েছেন নির্বাচকের দায়িত্বে থাকা সাবেক অধিনায়ক।   দা হান্ড্রেডে তার যাওয়া না যাওয়ার বিষয়টি মেডিকেল বিভাগ দেখবে।   শরিফুল ইসলাম হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে সফরের মাঝপথে ফেরত আসেন এই বাঁহাতি পেসার। এক সপ্তাহ বিশ্রামের পর মঙ্গলবার থেকে শুরু করেছেন পুনর্বাসন। আপাতত তাকে নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নয় নির্বাচক প্যানেল ও চিকিৎসকরা।   নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠবেন এমন আশায় আছেন নির্বাচক প্যানেলের প্রধান।   এখন পর্যন্ত যতটুকু রিপোর্ট পেয়েছি, শরিফুল ভালো আছে। আমাদের ফিজিও কাল (বুধবার) আসবে, তখন আরও বিস্তারিত জানা যাবে। তবে এখন পর্যন্ত সে ভালো আছে এবং রিহ্যাব শুরু করেছে। কোনো সমস্যা না থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে।   নাহিদ রানা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে চোটে পড়েন এই পেসার। তবে এখনও স্ক্যান না করানোয় তার চোট নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানতে পারেনি বিসিবির চিকিৎসকরা। বুধবার ঢাকায় তার স্ক্যান করানো হবে।   এরপরেই জানা তার সবশেষ অবস্থা। তবে নাহিদ রানার এই চোটে খুব বেশি চিন্তিত নন নির্বাচক।   জিম্বাবুয়েতে ঠান্ডা অনেক ছিল। তাই গরম কন্ডিশন থেকে ঠান্ডা কন্ডিশনে গেলে ক্র্যাম্পিং একটু বেশি হয়। নাহিদ রানার ক্ষেত্রেও হয়তো এমন কিছু হয়েছে।   ও যেভাবে বোলিং করে, তাতে চোট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সব পেস বোলারদেরই চোটের ইতিহাস থাকে।   জিম্বাবুয়ে সফরে ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট করে তবেই খেলানো তাকে খেলানো হয়েছে এই সফরের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে। ওয়ার্কলোডের কারণে ওয়ানডে সিরিজে খেলেছেন দুই ওয়ানডে।   আমরা চেষ্টা করি ওয়ার্কলোড ম্যানেজ করতে, খেলোয়াড়দের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলাতে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২২, ২০২৬
লিওনেল স্কালোনি। ছবি: সংগৃহীত

আর্জেন্টিনার পরবর্তী কোচের দৌড়ে এগিয়ে যে ৪ জন

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ সিরিজে শক্তিশালী দল ঘোষণা অস্ট্রেলিয়ার

ছবি: সংগৃহীত

মেসি কি আবারও ব্যালন ডি’অর জিততে পারবেন? মুখ খুলল ফ্রান্স ফুটবল

ছবি : সংগৃহীত
কষ্টটা সীমাহীন, এই ক্ষত সারতে সময় লাগবে : মেসি

টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেছে ফাইনালের মঞ্চে। এই কষ্ট ভুলতে অনেক সময় লাগবে বলে মনে করেন লিওনেল মেসি। তবে ভালো দিকগুলোও মনে রাখতে চান আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।   নিউ জার্সিতে রোববারের ফাইনালে খুবই বিবর্ণ পারফরম্যান্সে স্পেনের বিপক্ষে ১-০ গোলে হারে ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।   ম্যাচের পর, গ্যালারির সামনে গিয়ে মেসির কান্নার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। সোমবার ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ফাইনালে হারের হতাশা প্রকাশের পাশাপাশি বিশ্বকাপে দলের পুরো যাত্রা তুলে ধরেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা।   কষ্টটা সীমাহীন এবং এই ক্ষত সারতে সময় লাগবে। কিন্তু আমি সব ভালো দিকগুলোও মনে ধারণ করতে চাই... যে ম্যাচগুলোতে আমরা নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছি, যা আমাদের স্মৃতিতে চিরকাল রয়ে যাবে; পুরো দেশের সমর্থন, যা এই দলের কাজ ও প্রচেষ্টার সঙ্গে মিলে আমাদেরকে আরও একবার বিশ্বের সেরাদের কাতারে নিয়ে এসেছে।   আমরা যা করেছি, তার মর্ম পুরোপুরি উপলব্ধি করা এই মুহূর্তে কঠিন। এই দল টানা দুটি বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছেছে।   সমর্থন ও বার্তার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান রেকর্ড আটবারের ব্যালন দ’র জয়ী।   শুভেচ্ছা জানানোয় ও বার্তা পাঠানোর জন্য আমার হৃদয়ের গভীর থেকে আপনাদের অনেক ধন্যবাদ। আবারও আমরা একটি দেশ হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হতে এবং একসঙ্গে থাকতে পেরেছি, আর্জেন্টাইন হওয়ার সীমাহীন গর্ব ভাগ করে নিয়েছি।   নতুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের অভিনন্দন জানাতেও ভোলেননি বিশ্বকাপে অনেক রেকর্ড-কীর্তির জন্ম দেওয়া মেসি।   শিরোপা জয়ের জন্য স্পেনকেও অভিনন্দন জানাতে চাই আমি।   এবারের বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আট গোল ও চারটি অ্যাসিস্ট করেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। বর্তমানে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১টি গোল তার। এছাড়া একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে দুইবার বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলারের পুরস্কার গোল্ডেন বলও জিতেছেন তিনি, ২০১৪ ও ২০২২ আসরে।   মেসির নেতৃত্বে ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জেতার পাশাপাশি ২০২১ ও ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকা এবং একটি ফিনালিস্সিমা ট্রফিও জয় করে আর্জেন্টিনা। এছাড়া গত চারটি বিশ্বকাপের মধ্যে তিনবারই ফাইনালে খেলল দলটি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২১, ২০২৬
বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি হাতে মাদ্রিদের বারাজাস এয়ারপোর্টে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে দেশে ফিরল স্পেন, মাদ্রিদে লাখো মানুষের ঢল

র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষ দশে ব্রাজিল, জার্মানি ও পর্তুগাল নেই। ছবি: সংগৃহীত

ফিফার সেরা ৪৮: র‌্যাংকিংয়ে ব্রাজিল, জার্মানি, পর্তুগালের অবস্থান যেখানে

মেসির সঙ্গে ‘প্রতারণা’ করেছে আর্জেন্টিনা

0 Comments