জাতীয়

আরবান আইএনজিও ফোরাম বাংলাদেশের ‘৯ম আরবান ডায়ালগ ২০২৬’ অনুষ্ঠিত

আক্তারুজ্জামান জুন ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দ্রুত নগরায়ণের ফলে সৃষ্ট জলবায়ু ঝুঁকি, আবাসন সংকট ও জীবিকার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ‘জাতীয় নগর নীতি ২০২৫’, ‘স্থানিক পরিকল্পনা আইন ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (২০২৩–২০৫০)’ দ্রুত বাস্তবায়নের  দাবিতে ১৬-দফা প্রস্তাবনা গ্রহণের মধ্য দিয়ে আজ ঢাকায় সম্পন্ন হয়েছে ‘নবম আরবান ডায়ালগ ২০২৬’। 


আরবান আইএনজিও ফোরাম বাংলাদেশ আয়োজিত এই সংলাপে বক্তারা সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে নগর ব্যবস্থাপনায় নীতিমালার দ্রুত প্রয়োগ ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে শহরগুলোকে জনবান্ধব করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।


উদ্বোধনী অধিবেশনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, “বর্তমানে যদি উন্নয়ন কর্মসুচির সাথে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে সম্পৃক্ত করে আমরা কাজ না করি, তবে  দেশের সার্বিক উন্নয়ন কোনভাবেই সম্ভব নয়।

 

আমাদের প্রধানমন্ত্রী মহোদয়ের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশ্বে একটি সফল উদাহরণ হলেও দ্রুত নগরায়নের ফলে নগর দুর্যোগ প্রস্তুতি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায়  প্রায় এক লক্ষ নগর স্বেচ্ছাসেবক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, ইতোমধ্যেই প্রায় ৫০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

 

একই সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বিত প্রস্তুতি, পূর্বনির্ধারিত অ্যাসেম্বলি পয়েন্ট, উদ্ধার সরঞ্জাম এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দুর্যোগ প্রস্তুতিকে আরও টেকসই করতে শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্যোগ সচেতনতা অন্তর্ভুক্ত করা, স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পাশাপাশি,  খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ এবং জলবায়ু-সহনশীল নগর পরিকল্পনার মাধ্যমে মেগাসিটিগুলোকে আরও নিরাপদ ও অভিযোজনক্ষম করে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।”


অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ও ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ড. আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি বাংলাদেশের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের প্রেক্ষাপটে নগর সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করে বলেন, বিদ্যমান অবকাঠামোগত ঘাটতি ও ব্যাপক আর্থ-সামাজিক বৈষম্য নিরসনে সুপরিকল্পিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের দাবি। 


নগরীর স্থানীয় একটি হোটেলে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত  এ সংলাপে গৃহীত ১৬-দফা ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ভূমি মালিকানার আইনি জটিলতা নির্বিশেষে বস্তিবাসীসহ সকল নাগরিকের নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা পাওয়া মৌলিক অধিকার। পাশাপাশি শহর এলাকায় ক্রমবর্ধমান দাবদাহ মোকাবিলায় একটি ন্যাশনাল হিট অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি, কর্মজীবী মায়েদের সহায়তায় এলাকাভিত্তিক চাইল্ড-কেয়ার হাব প্রতিষ্ঠা এবং বর্জ্য ও স্যানিটেশন কর্মীদের পৌর ব্যবস্থাপনার মূল কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করে তাদের ন্যায্য মজুরি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করতে সবুজ ও নীল অবকাঠামো বা গ্রিন অ্যান্ড ব্লু ইনফ্রাস্ট্রাকচারের সমন্বিত উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দিনব্যাপী আয়োজিত এই সংলাপে তিনটি কারিগরি অধিবেশনে সাশ্রয়ী আবাসন, নগর জীবিকায়ন এবং জলবায়ু সহিষ্ণু উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সংলাপে অংশগ্রহণকারী কমিউনিটি প্রতিনিধিরা তাপপ্রবাহ, জলাবদ্ধতা এবং মৌলিক সেবার অভাবসহ তাদের দৈনন্দিন জীবনসংগ্রামের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ঘোষণাগুলো বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


পুরো আয়োজনে বিভিন্ন প্যানেল আলোচনায় নগর বিশেষজ্ঞ ড. কে এম নুরুজ্জামান, জলবায়ু গবেষক অধ্যাপক ড. নাজনীন আহমেদ, বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ড. এম এ কাশেমসহ  বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, নগর গবেষক, ও নগর কর্মীগণ অংশ নেন ।


আরবান আইএনজিও ফোরাম বাংলাদেশ মূলত ২০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার একটি সক্রিয় প্ল্যাটফর্ম, যা বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান নগরায়ণজনিত সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে। এই ফোরামটি ধারাবাহিকভাবে নগর দারিদ্র্য বিমোচন, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং টেকসই নগর ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ে কার্যকর পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কৌশলগত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাচ্ছে।


এই সংলাপে গৃহীত কৌশলগত দলিলটি ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের আইন ও কার্যক্রম প্রণয়নে কার্যকর দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।
 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
আইসিজের মামলার স্বেচ্ছা তহবিলে অবদান রাখতে ওআইসিকে বাংলাদেশের আহ্বান

ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত নৃশংসতার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার করা মামলার জন্য গঠিত স্বেচ্ছা তহবিলে অবদান রাখতে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।   বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওআইসির ২৩তম বিশেষ কাউন্সিল অব ফরেন মিনিস্টার্সের (সিএফএম) বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।   বক্তব্যে ওআইসির নবনির্বাচিত মহাসচিব ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদকে অভিনন্দন জানান হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে তার মেয়াদে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।   পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আন্তঃসরকারি সংস্থা হিসেবে ওআইসি মুসলিম উম্মাহর স্বার্থ ও কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তিনি বিদায়ী মহাসচিবের অবদানের প্রশংসা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, নতুন মহাসচিব আগের মেয়াদে অর্জিত প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রগতিকে আরও এগিয়ে নেবেন।   ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বাংলাদেশের অটুট সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি ন্যায়সঙ্গত ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের পক্ষে, যার মাধ্যমে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের আওতায় একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি ও নিরাপত্তার মধ্যে সহাবস্থান করবে।   রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি ওআইসি সদস্য দেশগুলোর প্রতি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার করা মামলার জন্য গঠিত স্বেচ্ছা তহবিলে অবদান রাখার আহ্বান জানান। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) চলমান এ মামলায় প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।   একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদারের জন্য ওআইসি সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।   এ সময় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালিলুর রহমানের নির্বাচনে সমর্থন দেওয়ায় ওআইসি সদস্য দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন হুমায়ুন কবির।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হুমায়ুন কবিরের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর ৭ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর

ছবি: সংগৃহীত

সবজির বাজারে স্বস্তি নেই, শিম ২০০ টাকা; কমেছে কাঁচা মরিচের দাম

ছবি: সংগৃহীত
কপ-৩১ সম্মেলনে যোগ দিতে নভেম্বরে তুরস্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘের বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১-এ অংশ নিতে আগামী নভেম্বরে তুরস্ক সফর করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ২৩তম ওআইসি কাউন্সিল অব ফরেন মিনিস্টার্সের বৈঠকের সাইডলাইনে তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়ার সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর তুরস্ক সফরের বিষয়টি জানান।   বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের প্রতিনিধিরা আঞ্চলিক বিভিন্ন পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। উভয় পক্ষ এসব ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে।   দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। বিদ্যমান সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কূটনৈতিক যোগাযোগসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে মত দেন উভয় পক্ষ।   বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও উচ্চতর পর্যায়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।   বৈঠকের শেষ পর্যায়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান, আসন্ন কপ-৩১ সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নভেম্বরে তুরস্ক সফর করবেন।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে কুয়েতের পাশে বাংলাদেশ, বাড়াতে চায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা

ছবি: সংগৃহীত

বাউবির এসএসসি ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬৩.৭৪ শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত

মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধসহ তিন বিল সংসদে উত্থাপন

ছবি: সংগৃহীত
ইউনিটপ্রতি ২৫ টাকা দরে চীনের বিদ্যুৎ কিনবে সরকার

ঢাকার আমিনবাজারে বর্জ্য থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রতি ইউনিট ২৫ টাকা দরে কিনবে সরকার। এ প্রকল্পের আওতায় ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।   বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।   বিদ্যুতের দাম সম্পর্কে মীর শাহে আলম বলেন, “আমরা বিদ্যুৎ তাদের কাছ থেকে ২৫ টাকা ইউনিট হিসেবে কিনব।” প্রকল্পটি ১৮ মাসের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে। সে হিসাবে ২০২৮ সালের আগস্ট বা সেপ্টেম্বর নাগাদ আমিনবাজারে বর্জ্য থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম তুলনামূলক বেশি মনে হলেও প্রকল্পটির মাধ্যমে ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যা সমাধানের সুযোগ তৈরি হবে। এ প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকারকে সরাসরি কোনো বিনিয়োগ করতে হবে না বলেও জানান তিনি।   তিনি বলেন, “ঢাকা শহরের ময়লা-আবর্জনা আমাদের জন্য বড় বোঝা। মূল্যটা হয়তো বেশি মনে হচ্ছে। কিন্তু পরিবেশের দিক বিবেচনা করলে এবং কার্বন ক্রেডিটের বিষয়টি হিসাব করলে এই খরচ অন্যভাবে সমন্বয় হয়ে আসবে।”   প্রকল্পের আওতায় বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার পাশাপাশি জৈব সার উৎপাদনেরও পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ল্যান্ডফিল ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনকে মাসিক ভাড়া দেবে। দক্ষিণ সিটিতেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ   আমিনবাজারের পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ল্যান্ডফিলে জমে থাকা বর্জ্য ব্যবহার করেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।   মীর শাহে আলম বলেন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ল্যান্ডফিলে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ বর্জ্য থেকে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।   এ প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের পাওয়ার চায়না নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকারের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চাপ কমবে, অন্যদিকে নবায়নযোগ্য ও বিকল্প জ্বালানি উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ বাড়বে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২৮, ২০২৬

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানালেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

আকাশে দেখা যাবে রক্তিম আভায় মোড়া অপূর্ব চাঁদ

ছবি: সংগৃহীত

বাজিতপুরে কৃষি কলেজ স্থাপনের দাবি জানালেন এমপি ইকবাল

0 Comments