আন্তর্জাতিক

আফগানিস্তানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: অন্তত ৭ নিহত, আহত ২০-এর বেশি

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২০, ২০২৬

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ভয়াবহ এক বিস্ফোরণে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২০ জনের বেশি। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।


সোমবার (১৯ জানুয়ারি) কাবুলের শার-ই-নাও এলাকায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এলাকাটি বিদেশিদের বসবাসের জন্য পরিচিত এবং কাবুলের তুলনামূলক নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।

তালেবানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল মাতিন কানি জানান, প্রাথমিকভাবে বিস্ফোরণে একাধিক হতাহতের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে, কাবুলে একটি হাসপাতাল পরিচালনাকারী ইতালীয় এনজিও সংস্থা ‘ইমার্জেন্সি’ এক বিবৃতিতে জানায়, সোমবার বিকেলে শার-ই-নাও এলাকায় হাসপাতালের কাছেই বিস্ফোরণটি ঘটে। ঘটনার পর অন্তত ২০ জন আহত ব্যক্তিকে কাবুলের ইমার্জেন্সি সার্জিক্যাল সেন্টারে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই সাতজনের মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসে তালেবান। এরপর কাবুলসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা তুলনামূলকভাবে কমলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

বিশেষ করে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন এখনো আফগানিস্তানে সক্রিয় রয়েছে এবং মাঝেমধ্যেই হামলা চালাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে দেশটিতে অন্তত দুটি আত্মঘাতী হামলার ঘটনা

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
দিল্লিতে বিক্ষোভ, ইন্টারনেট বন্ধ, আটক ৭০০-এর বেশি

ভারতের ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও গণহারে ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ হয়েছে। শুক্রবার যন্তর মন্তরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র ও অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে এবং আশপাশের এলাকায় ১২ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়।   হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যন্তর মন্তর ও এর ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখতে এয়ারটেল, রিলায়েন্স জিও ও ভোডাফোন আইডিয়ার মতো টেলিকম অপারেটরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ নিয়ে দিল্লি সরকার বা কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে কয়েকটি রাজনৈতিক দল এবং এআইএসএ, এসএফআই, এনএসইউআইসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। তাদের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানানো হচ্ছে।   পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভের জন্য কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। পিটিআইয়ের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকা থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৭০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরাও রয়েছেন।   এর আগে গত জুলাইয়েও যন্তর মন্তর ও মধ্য দিল্লির কয়েকটি এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। সে সময় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) আন্দোলনের মধ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ চলছিল। তিন মাসের ব্যবধানে একই এলাকায় ফের বিক্ষোভের মধ্যে ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হিজাব পরা বিচারককে দেখে আদালতেই ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান আসামির

ছবি: সংগৃহীত

পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে পুতিনের কঠোর হুঁশিয়ারি

ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপকে ডিজেলের মজুদ ছাড়ার চাপ যুক্তরাষ্ট্রের

ছবি: সংগৃহীত
ভারত যাকে নিহত দাবি করেছে, সেই পাকিস্তানি সেনাকে সাংবাদিকদের সামনে জীবিত হাজির

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু কাশ্মিরে পাকিস্তানের এক সাবেক সেনা ও বিদ্রোহী কমান্ডারকে হত্যার দাবি করেছে ভারতের সেনাবাহিনী। এরপর তার ছবি ও পরিচয় প্রকাশ করে খবর প্রচার করা হয় দেশটির সংবাদমাধ্যমে। তবে ভারত যাকে নিহত হিসেবে উপস্থাপন করেছে তাকে সাংবাদিকদের সামনে এনে জীবিত অবস্থায় দেখিয়েছে পাকিস্তান।   এরপর প্রশ্ন উঠেছে ভারতীয় সেনারা জম্মু কাশ্মিরে আসলে কাকে হত্যা করেছে।   গত বুধবার ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয় মুসা ওরফে আসিফ ফওজল নামে ওই বিদ্রোহী কমান্ডারকে হত্যা করা হয়েছে। যিনি জম্মু ও কাশ্মিরে গত বছর পেহেলগাম হামলায় জড়িত ছিলেন।   এ সময় তার ছবি ও পরিচয়পত্র প্রকাশ করে ভারত। দেশটি জানায়, এই বিদ্রোহী এক সময় পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর কমান্ডো ছিল।   তার ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর নজরে আসে। এরপর গতকাল বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) তাকে সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত করে পাকিস্তান।   দেশটির সেনা মুখপাত্র লেফটেনেন্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী এ সময় জানান, ভারত এ নিয়ে মিথ্যা গল্প সাজিয়েছে।   যে সেনাকে সাংবাদিকদের সামনে উপস্থিত করা হয় তার নাম মোহাম্মদ আসিফ বলে জানান লেফটেনেন্ট জেনালের আহমেদ শরীফ। তিনি বলেন, মোহাম্মদ আসিফ ২০২৩ সালেই সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়েছেন।   এ সময় তিনি হেসে হেসে আসিফকে সামনে আসতে বলতে বলেন, “ইনি হলেন সেই সুপারম্যান (হাসি)। আপনারা এ সুপারম্যানকে দেখতে পাচ্ছেন। আসিফ আপনি আপনার অর্জন নিয়ে আমাদের বলুন। আপনি কী কী করছেন।” এ সময় সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকরাও হেসে দেন।   আসিফ সাংবাদিকদের বলেন, “ভারতীয় মিডিয়ায় আমার বন্ধুরা দেখতে পায় আমাকে নাকি কাশ্মিরে বন্দুকযুদ্ধে হত্যা করা হয়েছে। এরপর বন্ধুরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। তখন আমি তাদের আশ্বস্ত করে বলি, ‘আমি বেঁচে আছি এবং সুস্থ আছি।’”   আসিফ আরও বলেছেন, “আমি ভারতীয় মিডিয়ায় দেখেছি আমার ছবি ও আমার ব্যক্তিগত মিলিটারি রেকর্ডগুলো দেখানো হচ্ছে। আমি দেখে অবাক হই যে তারা আমার জাতীয় পরিচয়পত্রও প্রদর্শন করছে। ওই সময় ভারতীয় মিডিয়াগুলো দাবি করছিল আমি কাশ্মিরে নিহত হয়েছি।”   “এ নিয়ে আমি বেশ অবাক হই। আমি বাড়িতে বসে আছি, আর তারা দাবি করছিল আমাকে কাশ্মিরে হত্যা করা হয়েছে। আল্লাহর রহমতে আমি জীবিত আছি এবং আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি।”   পাকিস্তানের সেনা মুখপাত্র বলেছেন, ভারতীয় সেনারা জম্মু কাশ্মিরে সাধারণ মুসলিমদের হত্যা করে এরপর তাদের সন্ত্রাসী হিসেবে প্রচার চালায়। কিন্তু এবার ভারত একটু বেশি দূর এগিয়ে দাবি করেছে তারা পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করেছে।   সূত্র: টিআরটি

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়া থেকে প্রত্যাবাসিতদের নিয়ে মিয়ানমারের জাহাজ নিজেদের জলসীমায়

পাকিস্তান ও সৌদি আরবের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত

মদিনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার নিন্দা জানাল পাকিস্তান

ছবি: সংগৃহীত

চ্যাটজিপিটিকে বারবার ‘স্যার’ ডেকে ভাইরাল ৭৭ বছরের ভারতীয়

ছবি: সংগৃহীত
বিমান ছিনতাই নিয়ে ইরানি সংবাদমাধ্যমের বিস্ফোরক দাবি, ‘নেতানিয়াহু-বিন জায়েদের ষড়যন্ত্র’

ইসরায়েলকে নতুন করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সুযোগ তৈরি করে দিতে এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সুবিধা নিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইসরায়েলগামী একটি বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনা পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে—এমন দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি।   প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান কথিত এই পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি।   প্রেস টিভির ভাষ্য অনুযায়ী, কথিত ঘটনাটি ছিল একটি ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অভিযান। এর মাধ্যমে ইরানের ওপর দায় চাপানো, হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার পরবর্তী বিষয়গুলো থেকে জনমতের দৃষ্টি সরানো এবং ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।   বিমান নিয়ে কী ঘটেছিল? গত বুধবার দুবাই থেকে তেলআবিবের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজ মাঝ আকাশে দ্রুত উচ্চতা হারায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকা বিমানটি মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে প্রায় ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে। পরে জানা যায়, বিমানের ক্যাপ্টেনের ওপর হামলা চালিয়ে উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন কো-পাইলট—এমন তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতির মধ্যে একজন অফ-ডিউটি পাইলট বিমানটির নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন এবং পরে সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করা হয়। ফ্লাইটটিতে মোট ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে ২৭ জন শিশু ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   নেতানিয়াহুর সফর নিয়ে প্রশ্ন প্রেস টিভির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ঘটনার মাত্র দুই দিন আগে নেতানিয়াহু সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি অত্যন্ত গোপন সফর করেছিলেন। এরপরই বিমানটির ঘটনা ঘটায় দুটি বিষয়ের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, ঘটনার পরপরই নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। নেতানিয়াহু ঘটনাটির সঙ্গে ৯/১১ হামলারও তুলনা করেন বলে প্রেস টিভি জানিয়েছে। তবে ঘটনার তাৎক্ষণিক পর্যায়ে এর পেছনে কারা জড়িত বা উদ্দেশ্য কী ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।   ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ দাবি প্রত্যাখ্যান ইসরায়েলের বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনাকে পরিকল্পিত ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অভিযান হিসেবে অভিহিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় এ ধরনের অভিযোগকে ইহুদিদের ওপর দায় চাপানোর পুরোনো প্রবণতার সঙ্গে তুলনা করেছে এবং এটিকে ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।   ফলে বিমানটির ঘটনা নিয়ে ইরানি সংবাদমাধ্যমের উত্থাপিত অভিযোগ এবং ইসরায়েলের বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে। এ বিষয়ে স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য তদন্তের ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কথিত ষড়যন্ত্রের দাবিটি নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই।   সূত্র: প্রেস টিভি

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হামলার পর মোদির সঙ্গে কথা বললেন সেই পাইলট, জানালেন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

ছবি: সংগৃহীত

হুথিদের ৪ ড্রোন ও ২ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি সৌদি জোটের

ছবি: সংগৃহীত

মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা

0 Comments