সর্বশেষ

আপনভাইয়ের হাতেই সর্বনাশ; ‎ধর্ষক না হয়েও জেল খাটলেন ইমাম

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

‎ফরেনসিক পরীক্ষায় পরশুরামের বক্সমাহমুদে ধর্ষণের শিকার সেই কিশোরীর ভূমিষ্ট সন্তানের সঙ্গে তার আপন বড় ভাইয়ের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে। আর এই অপরাধের দায় থেকে ভাইকে বাঁচাতে ফাঁসানো হয়েছিল স্থানীয় এক মসজিদের ইমামকে। এক মাস দুই দিন কারাভোগের পর ধৰ্ষণ মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি।

‎সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে মক্তবের পাঠ শেষ করে পরশুরামের বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের রুবি আক্তার (১৪)। মক্তবে যাওয়া বন্ধ করার পাঁচ বছর পর অন্তঃসত্তা হয়ে পড়ে ওই ছাত্রী। পরে সন্তানও প্রসব করে। আর এ ঘটনার দায় চাপানো হয় মক্তবের শিক্ষক মোজাফফর আহমদের (২৫) উপর। দায়ের করা হয় তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা। সেই মামলায় এক মাস জেল খাটার পর ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় ওই কিশোরীর গর্ভজাত সন্তানের বাবা মোজাফফর আহমদ নন। ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণ মেলে, তার গর্ভজাত সন্তানের বাবা আপন বড় ভাই মোরশেদ।

‎চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর টেটেশ্বর গ্রামে। এ ঘটনার পর মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারান তিনি। মামলার খরচ যোগাতে বিক্রি করেছেন ৫ শতক জায়গা। প্রতিনিয়ত সামাজিকভাবে ট্রলের শিকার হচ্ছেন।

এসব কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন মোজাফফর আহমদ। তিনি উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের আবুল বশরের ছেলে।

‎সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও মক্তবের শিক্ষক ছিলেন মোজাফফর আহমেদ। ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর ওই গ্রামের চান মিয়ার স্ত্রী হনুফা খাতুন তার কিশোরী কন্যা রুবি আক্তারকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে মোজাফফরের বিরুদ্ধে পরশুরাম মডেল থানায় মামলা করেন। তখন ইমাম মোজাফফর এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন দাবি করে কাকুতিমিনতি করলেও কারো মন গলেনি।

মিথ্যা অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর ফেনীর আদালতে মামলা করতে যান মোজাফফর।

এ সময় আদালত প্রাঙ্গণ থেকে গ্রামের মাতব্বর ও হনুফা খাতুন ইমাম মোজাফফরকে জোরপূর্বক পুলিশের হাতে তুলে দেন। এরপর এক মাস দুই দিন কারাভোগ করেন মোজাফফর। ‎

‎এদিকে একই বছরের ২২ ডিসেম্বর অভিযুক্ত মোজাফফরকে ঢাকার মালিবাগে পুলিশের সিআইডি বিভাগের ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য  স্ব-শরীরে ও রুবি আক্তারের সংরক্ষিত ভ্যাজাইনাল সোয়াব পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।‎

‎ঢাকার মালিবাগের ফরেনসিক ল্যাবরেটরি থেকে থেকে ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি পরশুরাম মডেল থানার উপপুলিশ পরিদর্শক জাহিদুল ইসলামের কাছে পাঠানো ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে বলা হয়, পরীক্ষায় ভ্যাজাইনাল সোয়াব এ পুরুষের বীর্যের উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি। ভ্যাজাইনাল সোয়াবে বীর্যের উপস্থিতি শনাক্ত না হওয়ায় মোজাফফরের ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে তুলনা করে মতামত প্রদান করা সম্ভব নয়। মামলার ভিকটিম ও তার সদ্য ভূমিষ্ট হওয়া শিশু কন্যাসন্তানের জৈবিক পিতা নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষার নিমিত্তে ভিকটিম ও তার সন্তানকে পরীক্ষাগারে উপস্থিত হয়ে ডিএনএর নমুনা প্রদানের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়।

‎এর মধ্যে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে বিস্ময়কর তথ্য। ডিএনএ রিপোর্টে কিশোরীর সঙ্গে মোজাফফরের মিল না পাওয়ার প্রতিবেদন ফেনীতে আসলে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে তদন্ত শুরু করে। কিশোরী রুবি আক্তারকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে কিশোরী তাকে তার সহোদর ভাই ব্যাপক হারে ধর্ষণ করেছে বলে জানায়।

প্ৰকৃত ঘটনা আড়াল করে আপন বড় ভাই মোরশেদকে ধর্ষণের দায় থেকে বাঁচাতে ভিকটিম রুবি আক্তার শিক্ষক মোজাফফর়কে ফাঁসানো হয়। ২০২৫ সালের ১৯ মে রুবি আক্তারকে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বড় ভাই মোরশেদকে (২২) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে, মোরশেদ পরিবারের অগোচরে আপন বোন রুবি আক্তারকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে ২০ মে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে। ভিকটিম রুবি আক্তার ও তার ভাই মোরশেদ ওই গ্রামের চান মিয়ার ছেলেমেয়ে।

‎আদালতে আবেদনের প্রেক্ষিতে রুবি আক্তার আর ভূমিষ্ঠ সন্তান জান্নাতুল ফেরদাউস ও অভিযুক্ত বড় ভাই মোরশেদকে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য একই বছরের ৪ আগস্ট ঢাকায় পুলিশের ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। ৯ আগস্ট ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ভিকটিমের সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়ার শিশুকন্যা জান্নাতুল ফেরদাউসের সঙ্গে মোরশেদের ডিএনএ নমুনা মিলে যাওয়ায় তিনি তার জৈবিক পিতা। ডিএনএ পরীক্ষক জাহিদুল ইসলাম ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ডিএনএ পরীক্ষায় মোরশেদের সঙ্গে জান্নাতুল ফেরদৌসের পিতা হিসেবে ৯৯.৯৯ শতাংশ মিল রয়েছে। মোজাফফর আহমেদ রুবি আক্তারের গর্ভজাত সন্তানের জৈবিক পিতা নন।

‎মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপুলিশ পরিদর্শক শরীফ হোসেন অভিযোগপত্রে- মোজাফফর আহমেদের বিরুদ্ধে আনিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০০) এর ৯(১) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার দায় হতে অব্যাহতি প্রদান ও গ্রেপ্তারকৃত আসামি মোরশেদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমনের একই ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গ্রেপ্তারের পর থেকে মোরশেদ ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছেন

‎এদিকে আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট উপস্থাপনের পর এক মাস দুই দিন কারাভোগ করে জামিনে মুক্তি পান মোজাফফর। ‎

‎মোজাফফর আহমদ বলেন, অবশেষে সত্যের জয় হয়েছে। এ ঘটনায় আমি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছি। মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারিয়েছি। মামলার খরচ চালাতে বাড়ির পাশে মূল্যবান জায়গা বিক্রি করে দিয়েছি, অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। কারাভোগ, সামাজিক মর্যাদাহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তিনি। ‎

‎তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় প্রায় মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে ফাঁসানো হয়। প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হলে এভাবে আমার মতো অনেক নিরপরাধ মানুষ বেঁচে যাবে। ইমামের সামাজিক মর্যাদাহানি ও এক মাস কারাদণ্ডের ক্ষতিপূরণের দাবি করেছেন।‎

মোজাফফর আহমেদের আইনজীবী আবদুল আলিম মাকসুদ বলেন, এ ধরনের ঘটনা বিরল। তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ডিএনএ পরীক্ষায় সত্য উদঘাটন হয়েছে।‎

‎জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের পরশুরাম উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মুফতি আমিনুল ইসলাম জানান, সুন্নী, কওমী বা সরকারি বুঝি না, সে একজন মজলুম ইমাম ও তালেবে ইলম।

‎ক্ষতিগ্রস্ত ইমামের ক্ষতিপূরণ কে দেবে? তাকে মানসিকভাবে সাহস দেওয়ার পাশাপাশি, আর্থিক ও আইনিভাবে সহযোগিতা করা উচিত।

‎পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত করে। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর চার্জশিট থেকে তার নাম প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার আপন বড় ভাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, নিরপরাধ একজনকে ফাঁসানোর জন্য চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
কঠিন কাজের আগে মস্তিষ্ককে প্রস্তুত করবেন যেভাবে

স্কটল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব এডিনবরার ইনস্টিটিউট ফর নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড কার্ডিওভাস্কুলার রিসার্চের ক্লিনিক্যাল পিএইচডি ফেলো ও স্নায়ুবিজ্ঞানী ড. ডমিনিক এনজি।   তাঁর এক নিবন্ধে ব্যাখ্যা করেছেন কঠিন কাজ শুরু করতে না পারা সাধারণত অলসতা বা ইচ্ছাশক্তির অভাবের কারণে নয়। মানুষের মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তি এড়াতে, শক্তি সঞ্চয় করতে চায়। তাই কোনো কঠিন, বড় বা অনিশ্চিত কাজের মুখোমুখি হলে মস্তিষ্ক প্রতিরোধ তৈরি করে।   ড. ডমিনিকের মতে, এই প্রতিরোধ মূলত দুই ধরনের।   ১. আবেগগত প্রতিরোধ (ইমোশনাল রেজিস্ট্যান্স) কাজটা বাস্তবে কতটা কঠিন, সেই হিসেবে নয়; বরং কাজটিকে কত বড় বা ভীতিকর মনে হচ্ছে, তার ভিত্তিতে মস্তিষ্ক প্রতিক্রিয়া দেয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ‘আমাকে পুরো বাড়ি পরিষ্কার করতে হবে’—এটা শুনলে চাপ লাগে। অন্যদিকে ‘আমি শুধু একটি প্লেট মাজব’—এটা শুনলে কাজটা সহজ মনে হয়। অর্থাৎ কাজ যত বড় মনে হয়, মস্তিষ্ক তত বেশি নেতিবাচক আবেগ তৈরি করে।   ২. আত্মপরিচয় রক্ষার প্রতিরোধ (ইগো প্রটেকশন) অনেক সময় কাজটি কঠিন বলে নয়, বরং ব্যর্থতার আশঙ্কা আমাদের পরিচয়বোধকে হুমকির মুখে ফেলে। যেমন ‘আমি গণিতে ভালো নই’, ‘আমি খেলাধুলার মানুষ নই’ বা ‘আমি পারফেকশনিস্ট’—নিজেকে নিয়ে এই ধারণা বা বিশ্বাসগুলো মস্তিষ্ককে কাজ শুরু করার আগেই পিছিয়ে যেতে বাধ্য করে।   কাজ শুরু করার ৬টি কৌশল নতুন কোনো অভ্যাস গড়ে তোলা, পরীক্ষার পড়া শুরু করা, ব্যায়াম করা কিংবা বহুদিনের ফেলে রাখা কোনো কাজ শেষ করা, অথবা করব করব বলেও করা হচ্ছে না, এমন কোনো কাজ—সবকিছুর ক্ষেত্রেই সবচেয়ে কঠিন ধাপটি হলো শুরু করা।   ১. দুই মিনিটের নিয়ম পুরো কাজের প্রতিশ্রুতি দেবেন না। মাত্র দুই মিনিট করার প্রতিশ্রুতি দিন। শুধু এক পৃষ্ঠা পড়ুন। শুধু একটা বাক্য বা প্রথম বাক্যটা লিখুন। পাঁচটি পুশ-আপ দিন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শুরু করাই সবচেয়ে কঠিন অংশ। একবার শুরু করলে কাজ চালিয়ে যাওয়া সহজ হয়ে যায়।   ২. কাজ নয়, প্রস্তুতি শুরু করুন যদি কাজ শুরু করাও কঠিন মনে হয়, তাহলে শুধু প্রস্তুতি নিন। জিমের পোশাক পরুন। বই টেবিলে রাখুন। ল্যাপটপ খুলুন। এতে মস্তিষ্কের প্রতিরোধ কমে যায় এবং গতি তৈরি হয়।   ৩. নিজেকে পুরস্কার দিন মস্তিষ্ক পুরস্কার পছন্দ করে। নিজেকে বলুন, আপনি এই কাজটা শেষ করলে নিজেকে কফি খাওয়াবেন বা নেটফ্লিক্সের সিরিজটা দেখবেন। কঠিন কাজের সঙ্গে আনন্দদায়ক কিছুর সংযোগ তৈরি করুন।   ৪. কাজটিকে মজাদার বানান ব্যায়ামের সময় প্রিয় পডকাস্ট শুনুন। লেখার সময় প্রিয় চা বা কফি খান। ঘর গোছানোর সময় গান শুনুন। এভাবেও কঠিন কাজের সঙ্গে আনন্দদায়ক সংযোগ তৈরি করা যায়।   ৫. নিখুঁত হওয়ার প্রয়োজন নেই ‘আমাকে নিখুঁত হতে হবে’—এমন চিন্তার বদলে ভাবুন, ‘আমি একটা পরীক্ষা চালাচ্ছি বা চেষ্টা করে দেখছি’; তাহলে ব্যর্থতার ভয় কমে যায় এবং কৌতূহল বাড়ে।   ৬. আগে পরিচয় বদলান ‘আমাকে ফিট হতে হবে’—বলার বদলে ভাবুন ‘আমি ব্যায়াম করতে পছন্দ করি। ব্যায়ামকে আমি জীবনযাপনের অংশ বানাতে চাই।’ মস্তিষ্ক নিজের পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ করতে বেশি আগ্রহী হয়।   সূত্র: ব্রেইন হেলথ ডিকোডেড

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২২, ২০২৬

মঙ্গলগ্রহের উল্কাপিণ্ডে চমক, মিলল বিরল খনিজের সন্ধান

ছবি: সংগৃহীত

সংসদে এমপিদের বেফাঁস মন্তব্যের প্রতিযোগিতা

শেয়ারবাজারের বিশেষ ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক সাব্বির ফয়েজ

পুকুরে অজু করার সময় বজ্রাঘাত, ৬ জনের মৃত্যু

  সাভার ও নরসিংদীতে বজ্রাঘাতে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সাভারে কৃষিজমিতে কাজ করতে গিয়ে তিন জন এবং নরসিংদীতে মাদ্রাসার পুকুরে অজু করার সময় তিন জনের মৃত্যু হয়।   খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাভারে জমিতে কৃষিকাজ করতে গিয়ে বজ্রাঘাতে তিন জন নিহত হয়েছেন। রবিবার (২১ জুন) বিকালে উপজেলার বনগাঁও ইউনিয়নের কোন্ডা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।   নিহতরা হলেন- সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের বলিয়ারপুর এলাকার মৃত বুদ্দু মিয়ার ছেলে দ্বীন ইসলাম (৪৬), রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার গিরাই এলাকার মৃত আব্বাস আলীর ছেলে দুলাল (৬০), তিনি সাভারের হেমায়েতপুর বড় মসজিদ উত্তরপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং রাজবাড়ির পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এলাকার মৃত আদু প্রামাণিকের ছেলে হক আলী প্রামাণিক (৬২), তিনি সাভারের হেমায়েতপুরের জয়নাবাড়ি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।     পুলিশ জানায়, বিকালের দিকে বৃষ্টির সময় কৃষিজমিতে কাজ করছিলেন তারা। এ সময় বজ্রাঘাত হলে ঘটনাস্থলেই দুই জনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া ক্ষেতের পাশে অবস্থান করা অপরজনও আহত হলে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার সময় তারও মৃত্যু হয়।   সাভার মডেল থানার ভবানীপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) ইমরান হোসেন বলেন, বিকালে কোন্ডা এলাকায় কৃষিকাজ করার সময়ে বজ্রাঘাতে তিন জন কৃষকের মৃত্যু হয়।   এদিকে, নরসিংদীর মনোহরদীতে বজ্রপাতে তিন মাদ্রাসাশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলার গোতাশিয়া ইউনিয়নের পাচকান্দী দক্ষিণপাড়া মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও এক ছাত্র।   নিহতরা হলেন, জহিরুল হক (১৫), আবু রায়হান (১৪) ও আবু জাফর (১৫)। তাদের বাড়ি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে।   মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা ও শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোসতানশির বিল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   ওসি জানান, মাদ্রাসার পুকুরে অজু করার সময় চার ছাত্র আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তিন জনকে মৃত ঘোষণা করেন। একজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২২, ২০২৬

জাইমা রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে ‘আপত্তিকর পোস্ট’, থানায় অভিযোগ দায়ের

ছবি: সংগৃহীত

আজ বছরের দীর্ঘতম দিন আর সবচেয়ে ছোট রাত, কিন্তু কেন

ঋণ নির্ভরতা কমিয়ে অর্থের বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত
২০ বছর পর চুরি যাওয়া দুর্লভ ডাইনোসরের জীবাশ্ম ফিরে পেল মঙ্গোলিয়া

মঙ্গোলিয়ায় বিশ্বের অন্যতম সুন্দর ও সুসংরক্ষিত ডাইনোসরের জীবাশ্ম রয়েছে। তবে এই অমূল্য প্রাগৈতিহাসিক সম্পদগুলো শুধু বিজ্ঞানীদেরই আকর্ষণ করে এমন নয়, বরং এর ওপর দীর্ঘকাল ধরে নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক কালোবাজারি চোরাকারবারিদের।   এই চোরাকারবারিরা নিয়মিত মঙ্গোলিয়ার প্রাচীন ঐতিহ্য চুরি করে আসছিল। ফলে সরকার ও বিজ্ঞানীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন। অবশেষে এক আন্তর্জাতিক উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে চুরি হওয়া সম্পদের কিছু অংশ প্রায় ২০ বছর পর মঙ্গোলিয়ায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।   মঙ্গোলিয়ার নতুন জাতীয় প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের কর্মকর্তারা জানান, ডাইনোসরের ২৯টি জীবাশ্মের ১টি বড় সেট এখন রাজধানী উলানবাটরে পৌঁছেছে। উদ্ধার হওয়া এই সংগ্রহে বিখ্যাত টাইরানোসরাস রেক্সের অত্যন্ত বিরল এক আত্মীয় ডাইনোসরের অর্ধেক অক্ষত একটি জীবাশ্ম রয়েছে।   সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে উলানবাটর পুলিশের মুখপাত্র ডি মুনখখুইয়াগ জানান, চোরাকারবারিরা ২০০৬ সালে কেবল বেশি মুনাফা লাভের আশায় এই জীবাশ্মগুলো দেশ থেকে পাচার করেছিল। এরপর ২০১৩ সালে ফ্রান্সের শুল্ক কর্মকর্তারা প্রথম এই চুরির কয়েকটি নমুনা ধরতে পারেন। পরবর্তী দুই বছর ধরে ফ্রান্স ও মঙ্গোলিয়া সরকার আন্তর্জাতিক অবৈধ সম্পদ পাচার আইনের অধীন এই জীবাশ্মগুলো উদ্ধার ও ফেরত আনার জন্য যৌথভাবে কাজ করেছে।   ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ফ্রান্সের প্যারিসে একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই জীবাশ্মগুলো মঙ্গোলিয়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেখানে দুই দেশের প্রতিনিধিরা এই বিভিন্ন ডাইনোসরের গুরুত্ব তুলে ধরেন।   বিজ্ঞানীরা জানান, এই সংগ্রহে থেরোপড, অর্নিথোমিমোসর ও হ্যাড্রোসর প্রজাতির ডাইনোসরের জীবাশ্মের বিভিন্ন অংশ রয়েছে। আজ থেকে প্রায় সাড়ে ছয় থেকে সাত কোটি বছর আগে, অর্থাৎ ‘লেট ক্রিটেশিয়াস’ যুগে এই ডাইনোসরগুলো বর্তমান মঙ্গোলিয়ার বিখ্যাত গোবি মরুভূমি অঞ্চলে ঘুরে বেড়াত।   উদ্ধার হওয়া এই জীবাশ্মগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো টারবোসরাস বাটার (T. bataar) প্রজাতির একটি ডাইনোসরের জীবাশ্ম। যার অর্ধেকের বেশি অংশ সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে। ডাইনোসরের অন্যান্য অনেক প্রজাতির মতো এই টি. বাটারের জীবাশ্মও কেবল মঙ্গোলিয়া ও মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল খুঁড়ে পাওয়া গেছে।   বর্তমানে মঙ্গোলিয়ার গোবি মরুভূমি অঞ্চলটি প্রচণ্ড শুষ্ক ও ঠান্ডা হলেও আজ থেকে কোটি কোটি বছর আগে পরিস্থিতি এমন ছিল না। প্রাচীনকালে এটি ছিল একটি আর্দ্র ও সবুজ প্লাবনভূমি, যা ঘন বনজঙ্গল ও অসংখ্য নদীনালা দিয়ে ঘেরা ছিল। আর সেই আমলের এই অঞ্চলের অবিসংবাদিত শীর্ষ শিকারি বা রাজা ছিল এই টি. বাটার। এরা সাধারণত অ্যাঙ্কাইলোসরিডের মতো বিশাল আকৃতির ডাইনোসরদের শিকার করে বেঁচে থাকত। একটি পূর্ণবয়স্ক টি. বাটার সহজেই ৩৩ ফুটের বেশি লম্বা, প্রায় ১০ ফুট উঁচু ও ৫ টনের বেশি ওজনের হতে পারত।   বিজ্ঞানীদের কাছে এটি এখনো একটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র বা আলাদা প্রজাতি হিসেবেই পরিচিত, তবে কিছু জীবাশ্মবিদ দাবি করেন, এই টি. বাটার দেখতে টি. রেক্সের এতটাই কাছাকাছি যে এটিকে উত্তর আমেরিকার টাইরানোসরাস ডাইনোসরদেরই একটি এশীয় রূপ বলা যেতে পারে।   চুরি যাওয়া অমূল্য এই সম্পদগুলো অবশেষে নিজ দেশে ফিরে এসেছে। এখন মঙ্গোলিয়ার জাদুঘরের জীবাশ্মবিদেরা জনসাধারণের প্রদর্শনের জন্য এগুলো উন্মোচন করবেন। তবে এর আগে জীবাশ্মগুলোর একটি সঠিক তালিকা তৈরি করা হবে ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে সেগুলোকে নিখুঁতভাবে পরিষ্কার করা হবে।   সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে জাদুঘরের পরিচালক মানচুক নুরামখান তাঁর আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই ডাইনোসরের জীবাশ্মগুলো আমাদের দেশের অমূল্য সম্পদ ও ইতিহাসের এক অনন্য নিদর্শন। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত এখন থেকে আমাদের শিশু ও তরুণ প্রজন্ম মঙ্গোলিয়ার ডাইনোসর যুগের এই প্রাচীন ঐতিহ্য সরাসরি দেখার এবং তা থেকে অনেক নতুন কিছু শেখার সুযোগ পাবে।’   সূত্র: পপুলার সায়েন্স

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২১, ২০২৬

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী জার্মানি

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত

সমুদ্রের গভীরে মিলল রহস্যময় প্রবালের খোঁজ

0 Comments