ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা অগ্রগতি না হওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রমেই হতাশ হয়ে উঠছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ ঘোষণা করার আগে ইরানের বিরুদ্ধে আরেকটি বড় সামরিক হামলার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছেন।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেছেন, বিভিন্ন দেশের মধ্যস্থতার চেষ্টা চললেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা এখনো কোনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
এ সময় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরানে পৌঁছেছেন বলেও জানানো হয়েছে। পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মালয়েশিয়ার উপকূলবর্তী সমুদ্রাঞ্চলকে কেন্দ্র করে ইরানের অপরিশোধিত তেল বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে ইরানের তেল গোপনে চীনে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় আউটার পোর্ট লিমিটস (ইওপিএল) দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। গত শনিবার ‘হিউম্যানিটি’ নামের একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার মালাক্কা ও সিঙ্গাপুর প্রণালী অতিক্রম করে মালয়েশিয়ার উপকূলের দিকে অগ্রসর হয়। পরে এটি দক্ষিণ চীন সাগরে মালয়েশিয়ার উপকূল থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইস্টার্ন আউটার পোর্ট লিমিটস এলাকায় পৌঁছে হঠাৎ স্বয়ংক্রিয় পরিচিতি ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়। স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, জাহাজটি তখন আরেকটি অপেক্ষমাণ জাহাজে তেল স্থানান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এরপর সেই তেল একাধিক মধ্যবর্তী জাহাজের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত চীনে পৌঁছানোর কথা। যুক্তরাষ্ট্র-চীন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা পর্যালোচনা কমিশনের তথ্যানুযায়ী, ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশই চীন কিনে থাকে। বহু বছরের গোপন তেল বাণিজ্যের কেন্দ্র বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক দশক ধরে মালয়েশিয়ার ইওপিএল এলাকা ইরান, রাশিয়া ও ভেনেজুয়েলার নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেল কেনাবেচার একটি অনানুষ্ঠানিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরানের বিরুদ্ধে পাঁচ মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় এবং ১৩ এপ্রিল থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ চলাকালেও এ এলাকায় তেল স্থানান্তর বন্ধ হয়নি। এমনকি ১৪ জুলাই অবরোধ পুনরায় শুরু হওয়ার পরও একই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ প্রকল্প সিলাইটের পরিচালক রে পাওয়েল বলেন, চলতি বছরের শুরু থেকে উপসাগরীয় অঞ্চল, মালয়েশিয়ার ইওপিএল, হংকং এবং উত্তর চীনের মধ্যে চলাচলকারী অন্তত ৬২টি জাহাজ ভুয়া অথবা বাতিল করা পরিচয় ব্যবহার করে অবস্থান গোপন করেছে। কীভাবে গোপন করা হয় তেলের উৎস কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির জ্যেষ্ঠ গবেষক এরিকা ডাউনস বলেন, চীনের উদ্দেশে ইরানের তেল পাঠানোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক জলসীমায় একাধিকবার জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তর করা হয়, যাতে তেলের প্রকৃত উৎস গোপন রাখা যায়। তার ভাষ্য, চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি যেমন সিএনপিসি, সিনোপেক কিংবা সিএনওওসি যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত হওয়ায় তারা ঝুঁকি নেয় না। কিন্তু চীনের ছোট স্বাধীন ‘টিপট’ রিফাইনারিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থার ওপর তুলনামূলকভাবে কম নির্ভরশীল হওয়ায় তারা ছাড়মূল্যে নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন ইরানি তেল কিনতে আগ্রহী। যুদ্ধের মধ্যেও ছিল ব্যস্ত নোঙর এলাকা এশিয়া-প্যাসিফিক স্টাডিজবিষয়ক ইয়োকোসুকা কাউন্সিলের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কর্মসূচির পরিচালক চার্লি ব্রাউন বলেন, মালয়েশিয়ার ইওপিএল এলাকা যুদ্ধের আগে যেমন ব্যস্ত ছিল, যুদ্ধ চলাকালেও ঠিক তেমনই ছিল। তার ভাষায়, “সংঘাতের প্রতিটি পর্যায়ে সেখানে জাহাজ নোঙর করেছে এবং জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে গেছে।” হংকংয়ের প্রায় সমান আয়তনের এই নোঙর এলাকা তুলনামূলক শান্ত সমুদ্র হওয়ায় বড় ট্যাংকারগুলোর জন্য এটি আদর্শ স্থান। একই সঙ্গে এটি সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার সরবরাহ ব্যবস্থার কাছাকাছি হলেও মালয়েশিয়ার আঞ্চলিক জলসীমার বাইরে হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এখানকার আইনি অবস্থান কিছুটা ধূসর ছিল। আইন কঠোর করেছে মালয়েশিয়া ইওপিএল মালয়েশিয়ার একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে থাকলেও এটি দেশটির আঞ্চলিক জলসীমার বাইরে। ফলে সেখানে মৎস্য আহরণ ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার বিধান থাকলেও নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের বিষয়টি তুলনামূলক জটিল। মালয়েশিয়ার মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি অতীতে জানিয়েছিল, দূরবর্তী অবস্থান এবং এখতিয়ারগত সীমাবদ্ধতার কারণে এলাকাটি কার্যকরভাবে নজরদারি করা কঠিন। তবে জুন মাসে দেশটি তাদের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন সংশোধন করে সরকারি অনুমতি ছাড়া নোঙর করা, জ্বালানি সরবরাহ (বাংকারিং) এবং জাহাজ থেকে জাহাজে পণ্য স্থানান্তরের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান যুক্ত করেছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। শত শত জাহাজের ভিড় চার্লি ব্রাউনের তথ্যানুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০টি জাহাজ ওই এলাকায় নোঙর করে থাকে, যার প্রায় অর্ধেকেরই ইরানের সঙ্গে কোনও না কোনও সম্পর্ক রয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার পর্যালোচনা করা সর্বশেষ স্যাটেলাইট তথ্যানুযায়ী, গত এক মাসে হিউম্যানিটিসহ অন্তত ১৮টি ইরানি পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ ইওপিএলে পৌঁছে পরে তাদের এআইএস সংকেত বন্ধ করে দেয়। এছাড়া ডোরে নামের আরেকটি ইরানি ট্যাংকারকে সম্প্রতি মালাক্কা প্রণালী দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে ফিরে যেতে দেখা গেছে। এছাড়া বৃহস্পতিবার ওই এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা অন্তত ৫০টি জাহাজ এআইএস চালু রেখেই অবস্থান করছিল। এর মধ্যে তিনটি ইরানি পণ্যবাহী ও কনটেইনার জাহাজও ছিল। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এ ছাড়া আরও অনেক ‘ডার্ক শিপ’ সেখানে অবস্থান করছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর অর্থনৈতিক কৌশল বিশ্লেষকদের মতে, এসব তেল বিক্রির অর্থ পরিশোধে চীনের ক্রস-বর্ডার ইন্টারব্যাংক পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে মার্কিন নিয়ন্ত্রিত সুইফট নেটওয়ার্কের বাইরে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে লেনদেন সম্ভব হয়। চীন আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানি তেল আমদানির কথা স্বীকার করে না। ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের একজন মুখপাত্রও আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ার ইওপিএল হয়ে ইরানি তেল পরিবহনের বিষয়ে তাদের কাছে কোনও তথ্য নেই। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বারবার বলেছে, আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিহীন যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞা এবং তথাকথিত ‘লং-আর্ম জুরিসডিকশন’-এর তারা বিরোধিতা করে। এরিকা ডাউনসের মতে, গত বছর ইরান দৈনিক প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল তেল চীনে রফতানি করলেও চীনের শুল্ক তথ্যানুযায়ী ইরান থেকে কোনও তেল আমদানির রেকর্ড নেই। একই সময়ে মালয়েশিয়া থেকে চীনের তেল আমদানির পরিমাণ দেশটির প্রকৃত উৎপাদনের চেয়ে অনেক বেশি ছিল, যা ইঙ্গিত করে যে ওই তেলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অন্য কোনো দেশ- বিশেষ করে ইরান-থেকে এসেছে। চীনের অবস্থান গত এপ্রিলের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ইরানি তেল কেনার অভিযোগে চীনের পাঁচটি স্বাধীন রিফাইনারির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। কিন্তু চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করে জানায়, এটি আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতির পরিপন্থী এবং জাতিসংঘের কোনও অনুমোদনও এর পেছনে নেই। এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র আরও ছয়টি তেলবাহী ট্যাংকার এবং চীন ও হংকংভিত্তিক পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, যাদের ইরানের তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি বেইজিং। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের তথ্যানুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর চীনের রিফাইনারিগুলোর ইরানি তেল কেনা প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মালয়েশিয়ার ইওপিএলের মতো নেটওয়ার্কগুলো এখনও ইরানের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল চীনে পৌঁছে দিতে সক্ষম হচ্ছে। চার্লি ব্রাউনের ভাষায়, “নিষেধাজ্ঞা কখনওই এই বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ করতে পারেনি। নিষেধাজ্ঞার কারণে বাজার ও অর্থপ্রদানের পদ্ধতি বদলেছে, কিন্তু তেল প্রবাহ থামেনি। বাস্তবে ইরান থেকে চীনে তেল যাওয়া বন্ধ করেছিল শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ।” সূত্র: আল-জাজিরা
মিশরের ভূমধ্যসাগরীয় দামিয়েত্তা বন্দরে পৃথক ড্রোন হামলায় দুটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) জাহাজে আগুন লেগেছে। বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে সামুদ্রিক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান অ্যামব্রে। খবর শাফাক নিউজ এজেন্সির। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বারমুডার পতাকাবাহী একটি গ্রিক এলএনজি ট্যাংকার বন্দরে নোঙর করা অবস্থায় অন্তত একটি ড্রোনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই বন্দরে নোঙর করা মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী আরেকটি এলএনজি সংরক্ষণ জাহাজেও অন্তত একটি ড্রোন আঘাত হানে। জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এনারগোস ইনফ্রাস্ট্রাকচার পরিচালনা করে। এর আগে মিশরের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, বন্দরে থাকা দুটি এলএনজি সংরক্ষণ জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তবে কোন কোন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা উল্লেখ করা হয়নি। হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং কারা এর জন্য দায়ী, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানা যায়নি।
মুসলিম বিশ্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের মাস রমজান ও আনন্দ উৎসব ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে প্রাক্কলন প্রকাশ করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। হিজরি ১৪৪৮ সনের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জর্ডান নিউজ। জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক হিসাব ও সৌদি আরবের হিজরি ক্যালেন্ডার সংক্রান্ত ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) মধ্যপ্রাচ্যে পবিত্র রমজানের প্রথম রোজা হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাক্কলন অনুযায়ী, ১৪৪৮ হিজরি সনের শাবান মাসের ২৯ তারিখ অর্থাৎ ৬ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) সন্ধ্যায় রমজানের চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। ফলে শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হতে পারে এবং সেই হিসেবে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সিয়াম সাধনা শুরু হবে। একই প্রতিবেদনে ২০২৭ সালের পবিত্র ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখও উল্লেখ করা হয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গণনা বলছে, ১৪৪৮ হিজরির রমজান মাস এবার ২৯ দিনের হতে পারে। সেই গাণিতিক হিসেবে ৮ মার্চ (সোমবার) রমজান মাস শেষ হবে এবং ৯ মার্চ (মঙ্গলবার) মধ্যপ্রাচ্যে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, হিজরি ১৪৪৮ সনের শুরু নিয়ে বিভিন্ন মুসলিম দেশের মধ্যে একদিনের পার্থক্য দেখা গিয়েছিল। কিছু দেশে ১৬ জুন ২০২৬ তারিখে নতুন বছর শুরু হলেও অন্য দেশগুলোতে ১৭ জুন থেকে মহরম মাস গণনা শুরু হয়। সময়ের এই পার্থক্যের কারণে চাঁদ দেখার ক্ষেত্রেও স্থানীয়ভাবে ভিন্নতা আসতে পারে। তবে ইসলামি শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী, রমজান শুরু ও ঈদুল ফিতরের চূড়ান্ত তারিখ প্রতি বছরের মতো স্থানীয় চাঁদ দেখা কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের এই হিসাব মূলত সাধারণ প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য তারিখ জানার লক্ষ্যে করা হয়ে থাকে।