ইতালির রোমে স্থানীয় নাগরিক ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্মানে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার (১৪ মার্চ) ২৫ রমজান ডমুস রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশ ইমিগ্র্যান্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিমাস) এ আয়োজন করে। এতে ইতালির মূলধারার রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা এবং বাংলাদেশি রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা অংশ নেন। প্রথমবারের মতো ধর্মীয় কোনো অনুষ্ঠানে ইতালীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের অংশগ্রহণ প্রবাসী কমিউনিটিতে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। অনুষ্ঠানে সকল ধর্মাবলম্বীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিমাসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. মুক্তার হোসেন মার্কের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এ টি এম রকিবুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ও ডেমোক্রেটিক দলের সাবেক সচিব নিকোলা জিঙ্গারেত্তি, সিনেটর সিসিলিয়া ডি এলিয়া, রোম-১ আসনের সংসদ সদস্য পাওলো সিয়ানি, লাজিও ডেমোক্রেটিক পার্টির আঞ্চলিক কাউন্সিলর মারিও সারলা এবং রোম মিউনিসিপ্যাল-৫-এর সভাপতি মুরো কালিসতে।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মিউনিসিপ্যাল-১৫-এর প্রেসিডেন্ট দানিয়েলে তরকুয়াতি, ডেমোক্রেটিক দলের রোম শাখার মহাসচিব এনঝো ফস্কি, রোম সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর এরিকা বাত্তালিয়া, বিশেষ দূত এমিলিয়ানো মন্তেভেরদে এবং আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য সংস্থার (FAO) সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার নাফিস আহমেদ খান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা রোজার তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, সিয়াম সাধনার এই মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির সেতুবন্ধন তৈরির মাস এবং ইতালীয়দের কাছে ইসলামের শান্তির বার্তা তুলে ধরার একটি অনন্য সুযোগ।
রাষ্ট্রদূত এ টি এম রকিবুল হক তার বক্তব্যে বলেন, ইতালিতে বর্তমানে আড়াই লাখের বেশি বাংলাদেশি বসবাস করছেন, যা দুই দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি বিমাসের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, সংগঠনটি অভিবাসীদের নানা সমস্যা সমাধান ও ইতালীয় ভাষা শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি আরও জানান, ইতালির মোট অভিবাসীদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ মুসলিম, যার মধ্যে বাংলাদেশিদের অবস্থান তৃতীয়।
ইফতার মাহফিলে ড. মুক্তার হোসেন ইতালীয় রাজনৈতিক নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্পনসর (ফ্লস্সি) ভিসায় ইতালিতে আসা অনেক বাংলাদেশি এখনো বৈধ স্টে-পারমিট (প্যামেসো ডি সোজুর্নো) পাননি। নুলা সস্তা ও ভিসা সঠিক থাকা সত্ত্বেও এই দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে তিনি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রমজানের পর এ বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশাপাশি পাকিস্তান, চীনসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক এবং স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।
এদিকে আগামী ২২ ও ২৩ মার্চ ইতালিতে সংবিধান সংস্কার নিয়ে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় উপস্থিত ইতালীয় রাজনৈতিক নেতারা প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই সংস্কারের বিপক্ষে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইতালির রোমে স্থানীয় নাগরিক ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্মানে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার (১৪ মার্চ) ২৫ রমজান ডমুস রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশ ইমিগ্র্যান্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিমাস) এ আয়োজন করে। এতে ইতালির মূলধারার রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা এবং বাংলাদেশি রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা অংশ নেন। প্রথমবারের মতো ধর্মীয় কোনো অনুষ্ঠানে ইতালীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের অংশগ্রহণ প্রবাসী কমিউনিটিতে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। অনুষ্ঠানে সকল ধর্মাবলম্বীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিমাসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. মুক্তার হোসেন মার্কের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এ টি এম রকিবুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ও ডেমোক্রেটিক দলের সাবেক সচিব নিকোলা জিঙ্গারেত্তি, সিনেটর সিসিলিয়া ডি এলিয়া, রোম-১ আসনের সংসদ সদস্য পাওলো সিয়ানি, লাজিও ডেমোক্রেটিক পার্টির আঞ্চলিক কাউন্সিলর মারিও সারলা এবং রোম মিউনিসিপ্যাল-৫-এর সভাপতি মুরো কালিসতে। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মিউনিসিপ্যাল-১৫-এর প্রেসিডেন্ট দানিয়েলে তরকুয়াতি, ডেমোক্রেটিক দলের রোম শাখার মহাসচিব এনঝো ফস্কি, রোম সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর এরিকা বাত্তালিয়া, বিশেষ দূত এমিলিয়ানো মন্তেভেরদে এবং আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য সংস্থার (FAO) সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার নাফিস আহমেদ খান। অনুষ্ঠানে বক্তারা রোজার তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, সিয়াম সাধনার এই মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির সেতুবন্ধন তৈরির মাস এবং ইতালীয়দের কাছে ইসলামের শান্তির বার্তা তুলে ধরার একটি অনন্য সুযোগ। রাষ্ট্রদূত এ টি এম রকিবুল হক তার বক্তব্যে বলেন, ইতালিতে বর্তমানে আড়াই লাখের বেশি বাংলাদেশি বসবাস করছেন, যা দুই দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি বিমাসের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, সংগঠনটি অভিবাসীদের নানা সমস্যা সমাধান ও ইতালীয় ভাষা শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি আরও জানান, ইতালির মোট অভিবাসীদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ মুসলিম, যার মধ্যে বাংলাদেশিদের অবস্থান তৃতীয়। ইফতার মাহফিলে ড. মুক্তার হোসেন ইতালীয় রাজনৈতিক নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্পনসর (ফ্লস্সি) ভিসায় ইতালিতে আসা অনেক বাংলাদেশি এখনো বৈধ স্টে-পারমিট (প্যামেসো ডি সোজুর্নো) পাননি। নুলা সস্তা ও ভিসা সঠিক থাকা সত্ত্বেও এই দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে তিনি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রমজানের পর এ বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান হবে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশাপাশি পাকিস্তান, চীনসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক এবং স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন। এদিকে আগামী ২২ ও ২৩ মার্চ ইতালিতে সংবিধান সংস্কার নিয়ে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় উপস্থিত ইতালীয় রাজনৈতিক নেতারা প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই সংস্কারের বিপক্ষে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
পর্তুগালে প্রবাসী সাংবাদিকদের পেশাগত মান বৃদ্ধি এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য নতুন কমিটি গঠনের অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। পর্তুগাল বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিল সদস্য লায়লা মুনতাজেরিন দিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মন্তব্য করেন, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা জাতির দুর্দশা কাটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। রোববার (১৫ মার্চ) লিসবনের নবাব জি রেস্টুরেন্টে সাবেক সভাপতি রনি মোহাম্মদ ফুল নবগঠিত কমিটির সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শহীদ আহমদ এবং সভাপতিত্ব করেন নবনিযুক্ত সভাপতি রাসেল আহমেদ। নবনিযুক্ত সভাপতি রাসেল আহমেদ বলেন, “পর্তুগালে বাংলা প্রেসক্লাবের কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করা হবে। প্রবাসে গণমাধ্যমের ভূমিকা জোরদার এবং সাংবাদিকদের পেশাগত মানন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে।” বিশেষ অতিথি ছিলেন কাজা দো বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা রানা তাসলিম উদ্দিন, সিআরপিসিটির সাবেক সভাপতি আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, পর্তুগাল বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান জামান, এবং অন্যান্য প্রবাসী সাংবাদিক ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ। ইফতার পূর্বে দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা কায়েস আহমদ আব্দুল্লাহ। অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রবাসে সাংবাদিকদের নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। পাশাপাশি প্রবাসী কমিউনিটির বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা এবং দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারে সাংবাদিকদের ভূমিকার তাৎপর্যও উল্লেখ করেন। গত ২১ ফেব্রুয়ারি দুই বছরের মেয়াদের জন্য কমিটি গঠন করা হয়। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন নোটিসিয়াস বাংলার সম্পাদক রাসেল আহমেদ, সহসভাপতি আমিরুল ইসলাম নয়ন এবং সাধারণ সম্পাদক শহীদ আহমদ (প্রিন্স)। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলো আবুল হোসেন আসাদ, হাফিজ আল আসাদ, মোহাম্মদ শাহজাহান আহমদ, আর এ ইহসান, আমেনা বেগম অর্পিতা অশ্রু ও আরও অনেকে।
ফ্রান্সের ২০২৬ সালের পৌর নির্বাচনের প্রথম দফাতেই উত্তর প্যারিসের উপশহর সাঁ-দনি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ নাহিদুল মোহাম্মদ। অতি বামপন্থি রাজনৈতিক দল লা ফ্রঁস আঁসুমিজ (এলএফআই)-এর প্যানেল থেকে প্রার্থী হয়ে তিনি বিজয়ী হন। তাদের প্যানেল ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পাওয়ায় দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রয়োজন পড়েনি। রবিবার (১৫ মার্চ) অনুষ্ঠিত ফ্রান্সের পৌর নির্বাচনের প্রথম দফার ফলাফলে দেশটির স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের আভাস মিলেছে। বিভিন্ন শহরে অতি বামপন্থি এলএফআই এবং কট্টর ডানপন্থি ন্যাশনাল র্যালি (আরএন) উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে। প্যারিসের সর্বন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নাহিদুল মোহাম্মদের পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলায়। নির্বাচনে জয়ের পর তিনি বলেন, ফ্রান্সের স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের অভিবাসী বংশোদ্ভূত নাগরিকদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। এই বিজয় স্থানীয় সমাজে বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতিকে আরও দৃশ্যমান করবে। দেশজুড়ে মোট ৩৪ হাজার ৮৭৫টি কমিউন বা শহরে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৫৬ শতাংশ। এটি ২০২০ সালের মহামারিকালীন নির্বাচনের তুলনায় বেশি হলেও ২০১৪ সালের তুলনায় কিছুটা কম। দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২২ মার্চ। রাজধানী প্যারিসে ফরাসি সোশ্যালিস্ট পার্টি ও বামপন্থি জোটের প্রার্থী এমানুয়েল গ্রেগোয়া প্রায় ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। ডানপন্থি লে রিপাবলিকান সমর্থিত প্রার্থী রাশিদা দাতি পেয়েছেন প্রায় ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট। এলএফআই-এর প্রার্থী সোফিয়া শিকিরু প্রায় ১২ শতাংশ ভোট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন এবং দ্বিতীয় দফায় বামপন্থি ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। ফলে প্যারিসে চার প্রার্থীর লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লিয়োঁতেও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে। সেখানে পরিবেশবাদী দলের বর্তমান মেয়র গ্রেগরি দুশে এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী জ্যঁ-মিশেল আউলাস উভয়েই প্রায় ৩৬ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে সমানে সমানে রয়েছেন। দক্ষিণের বড় শহর মার্সেইয়ে বর্তমান মেয়র বেনোয়া পায়াঁ সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন কট্টর ডানপন্থি প্রার্থী ফ্রঁ আলিসিওর বিরুদ্ধে। তাদের ভোটের হার যথাক্রমে প্রায় ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ৩৫ দশমিক ১ শতাংশ। উত্তরের শহর লিলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হয়েছে। সেখানে সোশ্যালিস্ট পার্টির প্রার্থী সামান্য এগিয়ে থাকলেও এলএফআই-এর প্রার্থী খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছেন এবং পরিবেশবাদী দল তৃতীয় স্থানে রয়েছে। প্রথম দফার নির্বাচনে অতি বামপন্থি দল লা ফ্রঁস আঁসুমিজ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে। দলটির নেতা জঁ-লুক মেলনশোঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই রাজনৈতিক শক্তি কয়েকটি শহরে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। উত্তর ফ্রান্সের রুবে শহরে এলএফআই-এর প্রার্থী দাভিদ গিরো প্রায় ৪৬ শতাংশ ভোট পেয়ে স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছেন এবং দ্বিতীয় দফায় জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছেন। ২০১৯-২০২০ সময়ে ফ্রান্সে শক্তিশালী “সবুজ ঢেউ” তৈরি করেছিল পরিবেশবাদী দল ইউরোপ ইকোলজি–লে ভের। তবে এবারের নির্বাচনে বেশ কয়েকটি শহরে তারা চাপে পড়েছে। জার্মান সীমান্তবর্তী স্ত্রাসবুর শহরে পরিবেশবাদী মেয়র পিছিয়ে পড়েছেন। বোর্দো শহরে ব্যবধান খুবই কম এবং লিল শহরে তারা তৃতীয় স্থানে রয়েছে।