আন্তর্জাতিক

আকাশসীমা বন্ধ করল ইরান

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১৫, ২০২৬

ইরান আন্তর্জাতিক সিভিল ফ্লাইট ছাড়া সব ধরনের উড্ডয়নের জন্য আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে। সরকারিভাবে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) প্রকাশিত এভিয়েশন নোটিশে বলা হয়েছে, অনুমোদিত আন্তর্জাতিক বেসামরিক ফ্লাইটগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।


নোটিশ অনুযায়ী, তেহরানের আকাশসীমা ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে এবং শুধুমাত্র সিভিল এভিয়েশন অথরিটির অনুমতি নিয়ে নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল করতে পারবে। অন্যান্য সব ধরনের বিমান চলাচল স্থগিত থাকবে।

এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো এমন সময়, যখন দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা স্থগিত রাখা হচ্ছে বলে তাকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং প্রয়োজনে ‘খুব কঠোর ব্যবস্থা’ নিতে পারে।

এদিকে, জি-৭ সদস্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে ইরানকে সংযম ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইরানি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মদদ থাকার অভিযোগ করেছেন, যা পশ্চিমা দেশগুলো অস্বীকার করেছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, ডিসেম্বরের শেষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন, যদিও ইরান সরকার এ পর্যন্ত কোনো সরকারি হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও আরও আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফাইল ছবি
হার্ভার্ডসহ ৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের তদন্ত

মাইক্রোসফটসহ আট প্রযুক্তি কোম্পানির গ্রিন কার্ড সুবিধা স্থগিতের পর এবার এক্সচেঞ্জ ভিসার অপব্যবহার ঠেকাতে হার্ভার্ডসহ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।   স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। খবর রয়টার্সের।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, হার্ভার্ড, ইয়েল ও স্ট্যানফোর্ডসহ ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হবে। প্রশাসনের অভিযোগ, আমেরিকানদের মজুরি কমিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এক্সচেঞ্জ-ভিজিটর ভিসার অপব্যবহার করেছে।   তদন্তের আওতাভুক্ত অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রাউন ও ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)।    মার্কিন শ্রম বিভাগের মহাপরিদর্শক অ্যান্থনি ডি’এসপোসিতো জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছে ইতোমধ্যে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।   ডি’এসপোসিতো বলেন, ফেডারেল অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণার ক্ষেত্রে কোনো বিদেশি প্রভাব, অনৈতিক আর্থিক সম্পর্ক বা ভিসার অপব্যবহারের কারণে কোনো ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না, তদন্তকারীরা তা খতিয়ে দেখবেন।   ‘আমেরিকান কাউন্সিল অন এডুকেশনের’ ভাইস প্রেসিডেন্ট সারাহ স্প্রিটজার বলেন, ‘এর ফলে পুরো মার্কিন অর্থনীতির ওপর বিশাল প্রভাব পড়তে পারে।’ উল্লেখ্য, সংস্থাটি বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধানদের প্রতিনিধিত্ব করে।    তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা ঐতিহাসিকভাবে বছরে ৪০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে থাকে।   এই তদন্তের ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে হার্ভার্ডের সঙ্গে প্রশাসনের দীর্ঘ দিনের বিরোধ আরও ঘনীভূত হলো। গত বছর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কথিত অসদাচরণ এবং অভিবাসন আইন মেনে চলার বিষয়টি নিয়ে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি হার্ভার্ডের কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিল। হার্ভার্ড সেই নোটিশকে ‘ভিত্তিহীন প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করলেও জানিয়েছিল, আইন অনুযায়ী তারা এর জবাব দেবে।   রয়টার্সের গত সপ্তাহের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্রুত পরিবর্তনশীল ভিসা নীতির কারণে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদনের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টি তাদের সাংবাদিকতা বিষয়ক একটি প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী ভর্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৯, ২০২৬
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ছবি: সংগৃহীত

সৌদি বিমানবন্দরে হামলার নিন্দা জানালেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি

মাইক্রোসফটসহ ৮ প্রতিষ্ঠানে বিদেশি কর্মী নিয়োগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, তেলের দাম ৪% বৃদ্ধি—বিশ্ব শেয়ারবাজারে পতন

ছবি: সংগৃহীত
জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেটের কার্যক্রম বন্ধ করল ইসরায়েল

পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেটের কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল। তবে ইসরাইলের  এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, ‘ইউকে মিশন, জেরুজালেম’ নামে কূটনৈতিক মিশনটির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’ এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক বিরোধ দেখা দিয়েছে।   ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সা’আর জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) থেকে ব্রিটিশ কনসাল জেনারেলসহ প্রায় ২০ জন কূটনীতিকের দায়িত্ব শেষ হবে এবং তারা ইসরাইল ছাড়বেন।   তবে ব্রিটিশ কূটনৈতিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ না করে সীমিত পরিসরে চালানোর জন্য ভবনটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। এ ক্ষেত্রে সেখানে কর্মরত জনবলের সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে।   অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড জানিয়েছেন, কনস্যুলেট ভবনটি বন্ধ করা হবে না। লন্ডনের অবস্থান অনুযায়ী, নতুন নামে মিশনটি স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখবে। পাশাপাশি, প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সেবাও অব্যাহত থাকবে।   পূর্ব জেরুজালেমের ওপর ইসরাইলের সার্বভৌমত্বের দাবি স্বীকার করে না যুক্তরাজ্য। অঞ্চলটিকে ইসরাইলের  অধিকৃত ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে দেশটি। এ কারণে পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করার অধিকার ইসরাইলের রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তও মেনে নিতে নারাজ লন্ডন।   সম্প্রতি পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতিগুলোর ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা আরোপকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে এ বিরোধের সূত্রপাত। এসব বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপও নিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। ইসরাইলএই পদক্ষেপকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে উত্তেজনা বৃদ্ধির ঘটনা হিসেবে দেখছে।   ১৮৩৯ সালে প্রতিষ্ঠিত পূর্ব জেরুজালেমের এই ব্রিটিশ কূটনৈতিক মিশন ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক রক্ষা এবং জেরুজালেম, পশ্চিম তীর ও গাজায় ফিলিস্তিনি জনগণের বিষয়ে কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে আসছে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে মিশনটির কার্যক্রম ও দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে কী প্রভাব পড়ে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।   তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা, বেলজিয়ামে আটক শতাধিক

ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতির বছরেও গাজায় দেড় ঘণ্টায় একজন ফিলিস্তিনি হতাহত

ছবি: সংগৃহীত

অ্যাসাইলাম ইস্যুতে উত্তপ্ত দক্ষিণ আফ্রিকা, ২৪ গাড়িতে আগুন

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে বিকট বিস্ফোরণ

হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তেলবাহী ট্যাংকার সামুদ্রিক মাইনে আঘাত করার কারণে এসব বিস্ফোরণ ঘটেতে পারে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি।   বৃহস্পতিবার সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে আইআরআইবি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর আনাদোলুর।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশে কয়েক মিনিট আগে বিস্ফোরণগুলো ঘটে।   সূত্রগুলো বলেছে, ইরানের অনুমোদনহীন পথে চলাচল করতে গিয়ে তেলবাহী ট্যাংকারগুলো ওই এলাকায় পেতে রাখা মাইনে আঘাত করে থাকতে পারে।   তবে কতটি ট্যাংকার এই ঘটনায় জড়িত, সেগুলোর পরিচয় কী, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিনা কিংবা কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে—এসব বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।   হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই এ বিস্ফোরণের খবর সামনে এল। ইরান এরই মধ্যে তেহরানের অনুমোদন ছাড়া নির্ধারিত নয়—এমন নৌপথ ব্যবহার না করতে জাহাজগুলোকে সতর্ক করেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার হাইব্রিড তৎপরতায় ইইউর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বৃদ্ধি

সংগৃহীত ছবি

সংঘাতের উত্তাপে রিয়াদ, বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক

সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় ফের বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম

0 Comments