মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ। বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং বিশ্বখ্যাত শিল্পীদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হলেও স্টেডিয়ামের বাইরে ছিল ভিন্ন চিত্র। বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনরত বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় উদ্বোধনী ম্যাচের আগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আলো, সংগীত ও মেক্সিকান সংস্কৃতির নানা উপস্থাপনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীদের পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে প্রায় ৮২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়াম।
তবে ম্যাচ শুরুর আগে স্টেডিয়ামের আশপাশে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে একদল মুখোশধারী বিক্ষোভকারীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মেক্সিকো সিটির নাগরিক নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, প্রায় ২০০ জন বিক্ষোভকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
এ ঘটনায় এক নারীকে আটক করা হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে রাজধানীর কয়েকটি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং কিছু এলাকায় চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শহরের একটি ফ্যান জোনেও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, তবে দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবুও অধিকাংশ দর্শক বড় ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে সক্ষম হন।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই দেশটিতে শিক্ষক সংগঠন ও সরকারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। পেনশন ব্যবস্থা সংস্কার, বেতন বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সামাজিক দাবিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আন্দোলন ও ধর্মঘট চলছে। আন্দোলনের প্রভাবে বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে এবং লাখো শিক্ষার্থী পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এ ছাড়া মাদক সহিংসতা ও জননিরাপত্তা ইস্যুতেও সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিক্ষোভকারীরা। সম্প্রতি বিশ্বকাপ আয়োজনের বিরোধিতা করে আজতেকা স্টেডিয়ামের আশপাশে বিক্ষোভও অনুষ্ঠিত হয়।
সবকিছু ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে মাঠের উৎসবের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার বিষয়টিও বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বের প্রথম ম্যাচে পোর্তোর মাঠে ২–০ গোলের জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। মঙ্গলবার রাতে এস্তাদিও দো দ্রাগাওয়ে অনুষ্ঠিত ম্যাচে সিটির দুই গোলই করেছেন আর্লিং হাল্যান্ড। প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পায়নি সিটি। পোর্তোর গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা একাধিকবার দুর্দান্ত সেভ করে স্বাগতিকদের ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। ফলে বিরতিতে ০–০ সমতায় ছিল দুই দল। বিরতির পর অবশ্য আর অপেক্ষা করতে হয়নি সিটিকে। ৪৭ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের ক্রস থেকে হেডে বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন হাল্যান্ড। এরপর নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে রায়ান আইত-নুরির বাড়ানো বল থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন নরওয়েজিয়ান এই স্ট্রাইকার। শেষ পর্যন্ত ২–০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ম্যানচেস্টার সিটি। নতুন কোচ এনজো মারেসকার অধীনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটিই সিটির প্রথম জয়।
আজ শুরু হচ্ছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ২০২৬-২৭ মৌসুম। নতুন মৌসুমে ম্যাচ পরিচালনায় বেশ কিছু নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। সময়ক্ষেপণ কমানো থেকে শুরু করে খেলোয়াড় বদলি, চিকিৎসা, থ্রো-ইন, গোল কিক ও ভিএআর ব্যবহারে আনা হয়েছে পরিবর্তন। এর বেশ কয়েকটি নিয়ম বিশ্বকাপ ও ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে এরই মধ্যে কার্যকর হয়েছে। বদলিতে সময়ক্ষেপণ কমাতে কড়াকড়ি: বদলি হওয়ার সময় মাঠ ছাড়ার জন্য খেলোয়াড় সর্বোচ্চ ১০ সেকেন্ড সময় পাবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাঠ না ছাড়লে নতুন খেলোয়াড়কে সঙ্গে সঙ্গে মাঠে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না। খেলা পুনরায় শুরুর পর অন্তত এক মিনিট এবং পরবর্তী বিরতি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে তাকে। চিকিৎসার পর মাঠে ফিরতে অপেক্ষা: চিকিৎসার জন্য খেলা বন্ধ হলে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়কে খেলা পুনরায় শুরুর পর অন্তত এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকতে হবে। তবে গোলরক্ষকের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। গোলরক্ষক ও প্রতিপক্ষের আউটফিল্ড খেলোয়াড় সংঘর্ষে আহত হলে এবং সেই ঘটনায় ফাউলের জন্য প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় হলুদ বা লাল কার্ড দেখলে এ নিয়ম কার্যকর হবে না। থ্রো-ইন ও গোল কিকে ৫ সেকেন্ডের হিসাব: থ্রো-ইন কিংবা গোল কিক নিতে অযথা সময় নষ্ট করলে এবার শাস্তির মুখে পড়তে হবে। রেফারি খেলা পুনরায় শুরুর জন্য পাঁচ সেকেন্ডের কাউন্টডাউন দেবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খেলা শুরু না হলে প্রতিপক্ষকে কর্নার কিক দেওয়া হতে পারে। ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দিলে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারবে: রেফারি কোনো ঘটনায় ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দিলে ভিএআর সেই পরিচয় পুনর্বিবেচনা করতে পারবে। তবে এতে মূল ফাউলের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা যাবে না। ভিএআর-এর হস্তক্ষেপ কেবল সঠিক অপরাধীকে শনাক্ত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। ভুল দ্বিতীয় হলুদ কার্ডও পর্যালোচনার সুযোগ: কোনো খেলোয়াড়কে স্পষ্টতই ভুলভাবে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বহিষ্কার করা হলে ভিএআর সেটি পর্যালোচনা করতে পারবে। প্রয়োজন মনে করলে রেফারিকে অন-ফিল্ড রিভিউয়ের জন্য ডাকা হবে। ভুল প্রমাণিত হলে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড বাতিল করে খেলোয়াড়কে মাঠে রাখার সুযোগ থাকবে। ফ্রি-কিক বা কর্নারের আগে আক্রমণভাগের ফাউলেও ভিএআর: ফ্রি-কিক বা কর্নার থেকে বল খেলা শুরু হওয়ার আগেই আক্রমণকারী দলের কোনো খেলোয়াড় স্পষ্ট ফাউল করলে এবং সেই ঘটনার পর গোল, পেনাল্টি বা অন্য কোনো সুবিধা পাওয়া গেলে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারবে। সে ক্ষেত্রে গোল বা পেনাল্টি বাতিল হওয়ার পাশাপাশি ফ্রি-কিক কিংবা কর্নার পুনরায় নেওয়া হবে। গোল কিকের পর ইচ্ছাকৃত হ্যান্ডবলে পেনাল্টি: গোল এরিয়ার মধ্যে বল স্থির থাকা অবস্থায় কোনো খেলোয়াড় সেটিতে কিক করলেই গোল কিক সম্পন্ন হয়েছে বলে ধরা হবে। এরপর গোলরক্ষকের দলের কোনো খেলোয়াড় ডি-বক্সের ভেতরে ইচ্ছাকৃতভাবে হাতে বা বাহু দিয়ে বল স্পর্শ করলে প্রতিপক্ষকে পেনাল্টি দেওয়া হবে।
দীর্ঘ ২৩ বছর পর পাকিস্তানের মাটিতে ফিরতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় আঞ্চলিক ক্রীড়া আসর সাউথ এশিয়ান ফেডারেশন (এসএএফ) গেমস। আসন্ন ২০২৭ সালের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি জানিয়েছে ভারত। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। দক্ষিণ এশীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ভারতের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। আগামী বছরের ৪ এপ্রিল শুরু হয়ে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে ২০২৭ সালের সাফ গেমস। পাকিস্তানের তিনটি শহরে অনুষ্ঠিত হবে এবারের প্রতিযোগিতা। এতে মোট ২৮টি ইভেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাকিস্তান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (পিওএ) সাধারণ সম্পাদক খালিদ মেহমুদ জানিয়েছেন, ভারত নীতিগতভাবে সাফ গেমসে অংশ নেওয়ার সম্মতি দিয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে ভারত তাদের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের বিস্তারিত তালিকা আয়োজকদের কাছে জমা দেবে। এর আগে সর্বশেষ ২০০৪ সালে ইসলামাবাদে নবম সাফ গেমসের আয়োজন করেছিল পাকিস্তান। এরপর দীর্ঘ সময় দেশটিতে আর এই আঞ্চলিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়নি। এবারের আসর সফল ও নিরাপদভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তা ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। ভারতের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত দুই দেশের ক্রীড়া সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘ বিরতির পর পাকিস্তানে আয়োজিত সাফ গেমসে ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ প্রতিযোগিতাটিতে বাড়তি গুরুত্ব যোগ করবে।