২০২৬ বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে মাঠে গড়িয়েছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসর। ফলে বদলে গেছে নকআউট পর্বে যাওয়ার সমীকরণও। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে আয়োজিত এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেয়া ৪৮ দলকে ভাগ করা হয়েছে ১২টি গ্রুপে। প্রতিটি গ্রুপে রয়েছে চারটি করে দল। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দল খেলবে তিনটি করে ম্যাচ।
নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী, প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সরাসরি জায়গা করে নেবে শেষ ৩২-এর পর্বে। কিন্তু ১২ গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় স্থান পর্যন্ত হিসাব করলে দল হয় ২৪টি। বাকি আটটি জায়গা পূরণ হবে তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্য থেকে।
১২টি গ্রুপের তৃতীয় হওয়া দলগুলোকে নিয়ে আলাদা একটি র্যাঙ্কিং তৈরি করা হবে। সেখান থেকে সেরা আটটি দল যাবে শেষ ৩২-এর পর্বে। অর্থাৎ কোনো দল গ্রুপে তৃতীয় হলেও ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে যাওয়ার সুযোগ থাকবে।
তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্যে সেরা আটটি বেছে নিতে ফিফার নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করা হবে। প্রথমে দেখা হবে গ্রুপ পর্বে অর্জিত পয়েন্ট, গোল ব্যবধান ও নিজেদের করা গোলের সংখ্যা। এরপরও যদি দুই বা একাধিক দলের হিসাব সমান থাকে, তাহলে বিবেচনায় আসবে—ফেয়ার প্লে রেকর্ড (হলুদ ও লাল কার্ডের হিসাব)
এই নিয়মের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে কোন আটটি তৃতীয় স্থানধারী দল শেষ ৩২-এ জায়গা পাবে।
২০২৬ বিশ্বকাপে মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। গ্রুপ পর্ব শেষ হবে ২৮ জুন। এরপর ২৮ জুন থেকে শুরু হবে শেষ ৩২-এর লড়াই, যা চলবে ৪ জুলাই পর্যন্ত। এরপর শেষ ১৬, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল পেরিয়ে ১৯ জুলাই নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।
আগে কি তৃতীয় হয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে উঠেছে দল?
হ্যাঁ, বিশ্বকাপে এর আগেও তৃতীয় স্থান থেকে নকআউটে যাওয়ার নিয়ম ছিল। ১৯৮৬, ১৯৯০ ও ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ২৪ দলের ফরম্যাটে সেরা তৃতীয় হওয়া ৪টি দল শেষ ষোলোতে উঠেছিল।
তবে ১৯৯৮ বিশ্বকাপ থেকে ৩২ দলের ফরম্যাট চালু হলে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দলই নকআউটে যাওয়ার নিয়ম চালু হয়। এবার ৪৮ দলের বিশ্বকাপে আবারও ফিরে এসেছে তৃতীয় স্থানধারীদের সুযোগ।
তবে ইতিহাস বলছে, গ্রুপে তৃতীয় হয়ে বিশ্বকাপ জেতার নজির নেই। সবচেয়ে কাছাকাছি গিয়েছিল আর্জেন্টিনা ও ইতালি; দুই দলই ১৯৯০ ও ১৯৯৪ বিশ্বকাপে গ্রুপে তৃতীয় হওয়ার পরও ফাইনালে উঠেছিল।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
আত্মবিশ্বাসী শুরু করেও পিছিয়ে পড়ল তুরস্ক। দ্বিতীয়ার্ধে সমতা টেনে প্রথম পয়েন্ট পাওয়ার আশা জাগাল তারা। কিন্তু পরে আরও দুটি গোল করে জয়ের আনন্দে ভাসল ইতালি। বোলোনিয়ায় সোমবার উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচে ৩-১ গোলে জিতেছে স্বাগতিকরা। জানলুকা স্কামাক্কার গোলের পর আরাল শিমশিরের নৈপুণ্যে সমতা টানে তুরস্ক। পরে রিকার্দো কালাফিওরির গোলে ইতালি আবার এগিয়ে যাওয়ার পর, জয নিশ্চিত করা গোলটি করেন পিও এস্পোজিতো। এ’ লিগের এক নম্বর গ্রুপে চার ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে ইতালি। একই সময়ে শুরু আরেক ম্যাচে বেলজিয়ামকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স। তিন জয় ও এক ড্রয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ফরাসিরা। ৬ পয়েন্ট নিয়ে তিনে বেলজিয়ানরা। এখনও কোনো পয়েন্ট না পাওয়া তুরস্কের কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার আশা শেষ হয়ে গেছে। আগের তিন ম্যাচে আটটি গোল খেয়ে কেবল একটি করতে পারা তুরস্ক এবার শুরুটা বেশ আত্মবিশ্বাসী করে। চার মিনিটের মধ্যে তিনটি সুযোগ তৈরি করে তারা, তবে জানলুইজি দোন্নারুম্মার দেয়াল ভাঙতে পারেনি। ত্রয়োদশ মিনিটে ওজান কাবাকের ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে আটকে দেন ইতালির গোলরক্ষক। ষোড়শ মিনিটে সালিহ ওজকানের শটও আটকে দেন তিনি। পরের মিনিটে নিজেদের ভুলেই বিপদে পড়তে যাচ্ছিল স্বাগতিকরা; তবে অরক্ষিত আকগুনের হেড ঠেকাতে বেগ পেতে হয়নি আগের ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে সাতটি সেভ করা দোন্নারুম্মার। ২৬তম মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগেই এগিয়ে যায় ইতালি। ডান দিক থেকে সতীর্থের ক্রসে ছয় গজ বক্সের বাইরে প্রতিপক্ষের একজনের গায়ে লেগে বল পেয়েই শট নেন জানলুকা স্কামাক্কা, ক্রসবারে লেগে জালে জড়ায় বল। জাতীয় দলের হয়ে এটা তার দ্বিতীয় গোল। প্রথমটি করেছিলেন ২০২৩ সালের অক্টোবরে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ইউরো বাছাইয়ে। দ্বিতীয়ার্ধের নবম মিনিটে সমতায় ফিরতে পারতো তুরস্ক, কিন্তু ছয় গজ বক্সের বাইরে অরক্ষিত শিমশিরের হেড রক্ষণে প্রতিহত হয়। চার মিনিট পর অন্যপাশে ইসা দুম্বিয়ার শট রুখে দেন তুর্কি গোলরক্ষক। ৬১তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় তুরস্ক। সতীর্থের ব্যাকহিল পাস গোলমুখে ফাঁকায় পেয়ে অনায়াসে জালে ঠেলে দেন শিমশির। জাতীয় দলের হয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে এবং প্রথমবার শুরুর একাদশেই খেলতে নেমে গোলের খাতা খুললেন এই উইঙ্গার। সফরকারীদের স্বস্তি অবশ্য তিন মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়নি। ডান দিকে ফ্রি কিক পেয়ে ডি-বক্সে ক্রস বাড়ান নিকোলো বারেল্লা, আর লাফিয়ে কোনাকুনি হেডে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন রিকার্দো কালাফিওরি। জাতীয় দলের জার্সিতে ১৭ ম্যাচে প্রথম গোল করলেন এই ডিফেন্ডার। ৭৮তম মিনিটে আবারও ভীতি ছড়ায় তুরস্ক। জোরাল শট নেন ওজকান, দারুণ ক্ষিপ্রতায় বল বাইরে পাঠান দোন্নারুম্মা। নির্ধারিত সময়ের তিন মিনিট বাকি থাকতে সব অনিশ্চয়তার ইতি টেনে দেন এস্পোজিতো। আলেস্সান্দ্রো রোমানোর শট প্রায় লক্ষ্যেই ছিল, তবে মাঝপথে পা বাড়িয়ে বলের দিক পাল্টে স্কোরলাইনে নাম লেখান ২১ বছর বয়সি স্ট্রাইকার। তুরস্কের বিপক্ষে আগের ম্যাচেও একটি গোল করেন তিনি। ইতালির ডাগআউটে দ্বিতীয় মেয়াদে এসে ঘরের মাঠে প্রথম জয় পেলেন রবের্তো মানচিনি।
দ্বিতীয় দিন শেষেই জয় দেখছিল খুলনা। আজ সেটাই হয়েছে। তিন দিনেই ইনিংস ব্যবধান ও ১৩৫ রানে বরিশালকে হারিয়েছে তারা। অন্যদিকে তাইবুর রহমান ও সাদিকুর রহমানের মতো সেঞ্চুরির অপেক্ষায় মাহফিজুল ইসলাম। ইনিংস ব্যবধানে বরিশালকে হারাল খুলনা তিন দিনেই ম্যাচ হারল বরিশাল। খুলনার কাছে ইনিংস ও ১৩৫ রানে হেরেছে তারা। খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে খুলনার ৪২৬ রানের বিপরীতে ৯৪ রানে অলআউট হয় বরিশাল। ফলো অন পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসে কিছুটা উন্নতি হলেও তা হার এড়াতে যথেষ্ট ছিল না। ১৯৭ রানে অলআউট হয় তারা। তাতে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৯১ রান করা হাফিজুর রহমানের ইনিংসটা বৃথা যায়। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে (৪+২) ম্যাচসেরা খুলনার পেসার সফর আলী। সেঞ্চুরি ডাকছে মাহফিজুলকে প্রথম ইনিংসের আক্ষেপ ভোলার সুযোগ পাচ্ছেন ময়মনসিংহের ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সেঞ্চুরি ডাকছে তাকে। সিলেটের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৬ রানে অপরাজিত তিনি। শেষ দিনে সেঞ্চুরির লক্ষ্যে নামবেন তিনি। এর আগে প্রথম ইনিংসে ৭০ রান করেছিলেন। প্রথম ইনিংসে ৩১১ রান করে ময়মনসিংহ। বিপরীতে সিলেট থামে ৩২৭ রানে। তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ১ উইকেটে ১৪৮ রান স্কোরকার্ডে তুলেছে ময়মনসিংহ। তাতে ১৩২ রানের লিড পেয়েছে তারা। খালিদ হাসানকে সঙ্গী করে দুর্দান্ত শুরুটা এনে দিয়েছেন মাহফিজুল। ওপেনিংয়ে ১৪৮ রানের জুটি গড়েন তারা। দিন শেষ হওয়ার ২ বল আগে ৫৭ রানে আউট হন খালিদ। মিরপুরে তাইবুরের সেঞ্চুরি মিরপুরে ঢাকার বিপক্ষে ৫৬ রানের লিড নিয়েও বিপদে রংপুর। কেননা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়েছে তারা। এর আগে ৬ উইকেটে ১২০ রান নিয়ে আজ তৃতীয় দিন শুরু করেছিল ঢাকা। দলের হয়ে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন তাইবুর রহমান ও সুমন খান। তবে সুমনের আফসোস রয়ে গেছে। ৬ রানের জন্য পাননি সেঞ্চুরি। তাইবুর অবশ্য পেয়েছেন। তাইবুরের ১০৮ রানের বিপরীতে ৯৪ রানে আউট হন সুমন। সেঞ্চুরির করার পথে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৫ হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন তাইবুর। বিপরীতে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ধ্বংসস্তূপে দাঁড়ায় রংপুর। দুই ওপেনার অনিক সরকার-মিম মোসাদ্দেকের মতো রানের খাতা খোলার আগেই ড্রেসিংরুমের পথ ধরেছেন আবদুল্লাহ আল মামুনও। সবমিলিয়ে ৬২ রানে এগিয়ে দিন শেষ করেছে তারা। এর আগে প্রথম ইনিংসে রংপুরের ৩৪০ রানের বিপরীতে ঢাকা করে ২৮৪ রান। সেঞ্চুরি পেয়েছেন সাদিকুরও মাহমুদুল হাসানের পর সেঞ্চুরি পেয়েছেন তার সতীর্থ সাদিকুর রহমানও। জোড়া সেঞ্চুরিতে চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে ৩৯৩ রান করেছে চট্টগ্রাম। অন্যদিকে রাজশাহী প্রথম ইনিংস করে ৩৬৪ রান। তৃতীয় দিন শেষ রাজশাহীর লিড দাঁড়িয়েছে ১৭। শেষ দিন ২ উইকেটে ৪৬ রান নিয়ে শুরু করবে তারা। এর আগে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৯০ রানে দিন শুরু করেছিল চট্টগ্রাম। গতকাল তিন অংকের দেখা পাওয়া মাহমুদুল ১০৫ রান আউট হন। বিপরীতে আজ সেঞ্চুরির পর ১১৫ রানে থামেন সাদিকুর।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর প্রভাব শুধু ফুটবল মাঠেই সীমাবদ্ধ নয়, বিশ্বমঞ্চে পর্তুগালের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতেও তার ভূমিকা অনন্য—এমন মন্তব্য করেছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী মানুয়েল কাস্ত্রো আলমিদা। তার মতে, রোনালদো হলেন এমন একজন ব্যক্তি, যার কারণে বিশ্বের বহু মানুষ পর্তুগালকে চেনে। এমনকি রোনালদোকে দেশের সুনাম বৃদ্ধিকারী ‘সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান’ হিসেবেও বর্ণনা করেন তিনি। জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে রোনালদোর হঠাৎ বিদায় নিয়ে যখন আলোচনার ঝড় বইছে, ঠিক তখনই এমন মন্তব্য করলেন পর্তুগিজ মন্ত্রী। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য রেসিডেন্ট’-এ প্রচারিত এক বক্তব্যে আলমিদা জানান, বিশ্বমঞ্চে পর্তুগালের ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়াতে রোনালদো এক বিশাল সম্পদ। তিনি বলেন, ‘পর্তুগালের প্রচার ও প্রসার বাড়াতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর প্রভাব অপরিসীম।’ তারকা ফুটবলারকে পর্তুগালের ‘সবচেয়ে বিখ্যাত কোনো প্রতিষ্ঠানের’ সঙ্গেও তুলনা করেন তিনি। তবে রোনালদো ও কোচ জর্জ জেসুসের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি অর্থমন্ত্রী। নিজেকে ফুটবল বিশেষজ্ঞ না দাবি করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কে ঠিক বা কে ভুল তা বিচার করার এখতিয়ার তার নেই। বরং দেশের বাইরে রোনালদোর বৈশ্বিক প্রভাবের দিকেই নজর কাস্ত্রো আলমিদার। তার মতে, এই আন্তর্জাতিক পরিচিতির কারণেই রোনালদো দেশের জন্য একটি অনন্য সম্পদে পরিণত হয়েছেন, ‘পর্তুগালের ভাবমূর্তি ও সুনাম বৃদ্ধির দৃষ্টিকোণ থেকে ক্রিস্টিয়ানোর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। পর্তুগাল যেন প্রতিনিয়ত তার এই প্রভাব থেকে সুবিধা পেতে পারে, সেটাই হবে সবচেয়ে ইতিবাচক বিষয়।’ এদিকে উয়েফা নেশনস লিগের চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচে রোববার রাতে নরওয়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে পর্তুগাল। অন্যদিকে আল-নাসর তারকা রোনালদো তার ক্লাবে যোগ দিতে ইতোমধ্যে মাদ্রিদ হয়ে রিয়াদের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।