বিশ্বের নানা স্থানে প্রতিদিনই ঘটে ইতিহাসে স্থান পাওয়া নানা ঘটনা। ৪ ডিসেম্বরও তেমনই বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার স্মৃতি বহন করে। এই দিনে ১১৫৪ সালে চতুর্থ অড্রিয়ান পোপ নির্বাচিত হন, যিনি ইতিহাসে একমাত্র ইংরেজ পোপ হিসেবে পরিচিত। ১৫৩৪ সালে তুরস্কের সুলতান সুলেমান বাগদাদ দখল করেন। ১৬৪৪ সালে অনুষ্ঠিত হয় শান্তি সম্মেলন। ১৭৯১ সালে প্রকাশিত হয় বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন সান্ধ্যপত্র দি অবজার্ভার, আর ১৭৯৮ সালে ইংল্যান্ডে চালু হয় আয়কর।
১৮২১ সালে ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও তারাচরণ দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক সম্বাদ কৌমুদী। ১৮২৯ সালে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক আইনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করেন সতীদাহ প্রথা। ১৮৩৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে ওঠে দাসপ্রথাবিরোধী সংগঠন। ১৮৯৯ সালে প্রথমবার টাইফয়েড প্রতিরোধে মানবদেহে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়। ১৯২৪ সালে উদ্বোধন করা হয় মুম্বাইয়ের গেটওয়ে অব ইন্ডিয়া।
১৯৫৩ সালে শেরে বাংলা, মওলানা ভাসানী ও সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে গঠিত হয় যুক্তফ্রন্ট। ১৯৫৯ সালে সেচ ও বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে ভারত ও নেপালের মধ্যে হয় আন্তর্জাতিক চুক্তি। ১৯৬৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় ‘জেমিনি ৭’ নভোযান। ১৯৭০ সালে পল্টনের জনসভায় মওলানা ভাসানী ঘোষণা দেন স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তানের দাবি। ১৯৭১ সালে ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধে ভারতীয় নৌবাহিনী পাকিস্তানের চারটি জাহাজ ধ্বংস করে।
১৯৭৪ সালে শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন ১৯১ জন। ১৯৭৫ সালে সুরিনাম জাতিসংঘে সদস্যপদ লাভ করে। ১৯৮০ সালে জন বনহ্যামের মৃত্যুর পর লেড জেপলিন ব্যান্ডের আনুষ্ঠানিক ভাঙন ঘটে। ১৯৮১ সালে দিল্লির কুতুবমিনার এলাকায় পদদলিত হয়ে প্রাণ হারান ৪৫ জন। ১৯৯০ সালে গণআন্দোলনের মুখে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এরশাদ পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
১৯৯১ সালে বিলুপ্ত হয় সোভিয়েত ইউনিয়ন। একই দিনে বৈরুত থেকে সাত বছর পর মুক্তি পান সাংবাদিক টেরি এ. অ্যান্ডারসন। ১৯৯৩ সালে সংঘর্ষের পর রাশিয়ার পার্লামেন্ট ভবন দখল করে ইয়েলৎসিনপন্থী বাহিনী। ১৯৯৫ সালে যাত্রা শুরু করে প্রোগ্রামিং ভাষা জাভাস্ক্রিপ্ট। ১৯৯৬ সালে মঙ্গলগ্রহের উদ্দেশে মহাকাশে পাড়ি জমায় পাথফাইন্ডার। ১৯৯৯ সালে ফ্রান্সের একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রথম নারী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মিশেল।
এই দিনে জন্মেছিলেন জার্মান কবি রাইনার মারিয়া রিলকে, ইতিহাসবিদ রমেশচন্দ্র মজুমদার, অভিনেতা দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, ভারতের অষ্টম রাষ্ট্রপতি আর. ভেঙ্কটরমন, বাংলাদেশি চিত্রশিল্পী কাজী আবদুল বাসেত, অভিনেতা কাজী মারুফ এবং অস্ট্রেলিয়ান হুইলচেয়ার বাস্কেটবল খেলোয়াড় সারাহ ভিঞ্চি।
এ দিনেই বিদায় নিয়েছিলেন ফারসি কবি ওমর খৈয়াম। আরও প্রয়াত হয়েছেন সৈয়দ মুহাম্মদ আহসান, ইংরেজ ক্রিকেট তারকা কলিন কাউড্রে, রবীন্দ্র–বিশেষজ্ঞ অরুণকুমার বসু, প্রথিতযশা রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী পূরবী মুখোপাধ্যায়, অভিনেতা শশী কাপুর, ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক বব উইলিস এবং বিখ্যাত টেনিস কোচ নিক বলেতিয়েরি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মামুনুর রশীদ বিক্ষোভের মুখে নিজ কার্যালয় ত্যাগ করেছেন। বুধবার (৩ জুন) হাসপাতাল প্রাঙ্গণে চিকিৎসক, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, নার্স এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের প্রতিবাদের পর তিনি কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিক্ষোভকারীরা ডা. মামুনুর রশীদের নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তোলেন এবং তার পদত্যাগ দাবি করেন। তারা অভিযোগ করেন, অতীতে তিনি আওয়ামী লীগপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সেই তথ্য গোপন করে বর্তমান পদে নিয়োগ পেয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা আরও জানান, তার নেতৃত্বে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা দায়িত্ব পালন করতে আগ্রহী নন। পাশাপাশি তারা বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নজরে আনারও দাবি জানান। এ সময় ডা. মামুনুর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত কিছু অভিযোগ আংশিক সত্য। তিনি দাবি করেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় বিভিন্ন পরিস্থিতিতে একটি নির্দিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি নিজেকে বিএনপিপন্থি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরবর্তীতে ডা. মামুনুর রশীদ কার্যালয় ত্যাগ করলে বিক্ষোভকারীরা পরিচালকের কক্ষের সামনের নামফলক অপসারণ করেন এবং স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কার্যালয় বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন। বর্তমানে কক্ষটি তালাবদ্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ ও আনসার সদস্যদের নিরাপত্তায় পরিচালক হাসপাতাল ত্যাগ করেন। উল্লেখ্য, গত ২০ মে পরিচালক হিসেবে যোগদান করতে এসে তিনি প্রথম দফায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন। পরদিন ২১ মে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই আবারও প্রতিবাদের মুখে তাকে কার্যালয় ছাড়তে হলো।
মানবজাতির ইতিহাসে কোরবানির দুটি ঘটনা বিশেষভাবে স্মরণীয়। একটি হাবিল ও কাবিলের কোরবানি, অন্যটি নবী ইব্রাহিম ও তাঁর পুত্র নবী ইসমাইল (আ.)-এর আত্মত্যাগের ঘটনা। এই দুই ইতিহাসের মধ্যে নিহিত রয়েছে ইমান, আন্তরিকতা ও আত্মোৎসর্গের গভীর শিক্ষা। পৃথিবীতে প্রথম কোরবানি কোরবানির প্রথম ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল হজরত আদম (আ.)-এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিলকে কেন্দ্র করে। তারা উভয়েই আল্লাহর জন্য কোরবানি পেশ করেছিলেন। হাবিল তাঁর উৎকৃষ্ট পশু কোরবানি করেন, আর কাবিল উৎসর্গ করেন নিম্নমানের শস্য। আল্লাহ–তাআলা হাবিলের কোরবানি কবুল করেন, কিন্তু কাবিলের কোরবানি প্রত্যাখ্যান করেন। এতে কাবিল ঈর্ষান্বিত হয়ে নিজ ভাই হাবিলকে হত্যা করে বসে। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যখন তারা উভয়েই একটি করে কোরবানি পেশ করেছিল, তাদের একজনের কোরবানি কবুল করা হলো আর অন্যজনেরটি কবুল করা হলো না। তখন সে বলল, ‘আমি অবশ্যই তোমাকে হত্যা করব।’ জবাবে অপরজন বলল, ‘আল্লাহ তো শুধু পরহেজগারদের (কোরবানিই) কবুল করেন।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত: ২৭) নিয়তের বিশুদ্ধতাই গ্রহণযোগ্য এই ঘটনার মাধ্যমে কোরআন আমাদের একটি মৌলিক সত্য শিক্ষা দেয়, তা হলো— আল্লাহর কাছে বাহ্যিক আড়ম্বর নয়, অন্তরের তাকওয়া ও নিষ্ঠাই গ্রহণযোগ্য। হাবিলের কোরবানি কবুল হয়েছিল তাঁর আন্তরিকতার কারণে। পক্ষান্তরে কাবিলের কোরবানি প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল তার অন্তরের অসততা ও কৃপণতার জন্য। কোরবানির এই শিক্ষা এখনও সমানভাবে প্রযোজ্য। পশুর আকার বা মূল্য নয়, নিয়তের বিশুদ্ধতাই আল্লাহর কাছে মুখ্য। নবী ইব্রাহিমের কোরবানি হজরত ইব্রাহিম (আ.) ছিলেন আল্লাহর খলিল বা অন্তরঙ্গ বন্ধু। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রাপ্ত প্রিয় পুত্র ইসমাইলকে আল্লাহর আদেশে কোরবানি করার নির্দেশ পেয়ে তিনি বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি। পুত্রকে নিজের স্বপ্নের কথা জানালে ইসমাইল (আ.) অবিচল আনুগত্যের পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে তা-ই করুন, ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন।’ (সুরা সাফ্ফাত, আয়াত: ১০২) কোরবানির ইতিহাস আমাদের শেখায় যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সবচেয়ে প্রিয় জিনিসও ত্যাগ করতে প্রস্তুত থাকতে হবে। প্রকৃত মুমিন সেই ব্যক্তি, যিনি নিজের প্রবৃত্তি, স্বার্থ, লোভ ও পার্থিব আসক্তিকে আল্লাহর নির্দেশের সামনে উৎসর্গ করতে পারেন। কোরবানির মূল চেতনা এখানেই নিহিত। কোরবানির শিক্ষা যেভাবে ধরে রাখব কোরবানি বছরের একটি নির্দিষ্ট দিনের ইবাদত হলেও এর শিক্ষা সারাজীবনের জন্য। কোরবানির প্রকৃত চেতনা তখনই বাস্তবায়িত হবে, যখন আমরা ঈদের পরও আল্লাহর আনুগত্য, তাকওয়া ও আত্মত্যাগের এই আদর্শকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ করব। নিজের ইচ্ছা ও প্রবৃত্তির ওপর আল্লাহর বিধানকে প্রাধান্য দেওয়া, হারাম ও অন্যায় থেকে দূরে থাকা, মানুষের হক আদায় করা এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকা কোরবানির শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন। একই সঙ্গে আমাদের হৃদয় থেকে অহংকার, হিংসা, লোভ ও স্বার্থপরতা দূর করার চেষ্টা করতে হবে। হাবিলের মতো আন্তরিকতা এবং ইব্রাহিম (আ.)-এর মতো নিঃশর্ত আনুগত্যকে জীবনের আদর্শে পরিণত করতে পারলেই কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা অর্জিত হবে। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে ত্যাগের মানসিকতা গড়ে তোলা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েও কোরবানির চেতনা জীবন্ত রাখা সম্ভব।
মানবজীবনে চোখ আল্লাহ-তাআলার এক মহান নিয়ামত। এই চোখ দিয়েই মানুষ পৃথিবীর সৌন্দর্য দেখে, জ্ঞান অর্জন করে এবং সত্য-মিথ্যা উপলব্ধি করে। তবে চোখ যদি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে, তবে তা বহু পাপের পথ খুলে দিতে পারে। তাই ইসলাম দৃষ্টির হেফাজতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। বর্তমান যুগে মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নানা ধরনের অনিয়ন্ত্রিত কনটেন্টের কারণে চোখের পাপ থেকে বাঁচা আরও কঠিন হয়ে গেছে। তাই একজন মুমিনের জন্য দৃষ্টি ও অন্তর সংযত রাখা অত্যন্ত জরুরি। ১. দৃষ্টি নত রাখা চোখের পাপ থেকে বাঁচার প্রথম ও প্রধান উপায় হলো দৃষ্টি নত রাখা। এটি নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য। আল্লাহ-তাআলা বলেন, (হে নবী,) আপনি মুমিন পুরুষদের বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে।…এবং আর মুমিন নারীদেরও বলে দিন, তারা যেন নিজেদের দৃষ্টি সংযত রাখে।” (সুরা নুর, আয়াত: ৩০-৩১) তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে হারাম কোনো কিছুর দিকে দৃষ্টি পড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সেই দৃষ্টি যদি বারবার ফিরে যায় কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘায়িত হয়, তখন তা পাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মহানবী (সা.) বলেছেন, “প্রথম দৃষ্টির পর দ্বিতীয়বার আর তাকাবে না। কারণ প্রথমটি তোমার জন্য ক্ষমাযোগ্য, কিন্তু দ্বিতীয়টি নয়।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২১৪৯) ২. নির্জনে আল্লাহর ভয় মানুষের প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ পায় নির্জনে। যখন কেউ একা থাকে, মোবাইল ব্যবহার করে কিংবা গোপনে কোনো হারাম কাজের সুযোগ পায়, তখনই তার ইমান ও তাকওয়ার বাস্তব পরীক্ষা হয়। যে ব্যক্তি এই মুহূর্তে নিজেকে সংযত রাখতে পারে, সেই-ই প্রকৃত মুত্তাকি। সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২১৪৯ আল্লাহ-তাআলা বলেন, “নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে বেশি সম্মানিত, যে সবচেয়ে বেশি খোদাভীরু।” (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ১৩) ৩. পাপের পরিবেশ এড়িয়ে চলা যে পরিবেশে অশালীনতা ও লজ্জাহীনতা বেশি, সেখানে চোখকে সংযত রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ইসলাম তাই শুধু গুনাহ নয়; পাপের পরিবেশ থেকেও দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। বলা হয়েছে, “তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না।”(সুরা ইসরা, আয়াত: ৩২) বর্তমানে অনেক পাপের সূচনা হয় স্ক্রিনের মাধ্যমে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক হওয়া অত্যন্ত জরুরি। যেসব পেজ, ভিডিও বা অ্যাকাউন্ট অন্তরকে পাপের দিকে টানে, সেগুলো থেকে দূরে থাকাই নিরাপদ। ৪. কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক কোরআন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এক মহিমান্বিত গ্রন্থ, যা মানবজাতিকে পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা প্রদান করে। তাই শুধু কোরআন পাঠ নয়; বরং এর অর্থ বোঝা, অন্তরে ধারণ করা এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ-তাআলা বলেন, “নিশ্চয়ই এই কোরআন সেই পথ দেখায়, যা সবচেয়ে সরল ও সঠিক।” (সুরা ইসরা, আয়াত: ৯) যখন একজন মানুষ কোরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলে, তখন তার অন্তর পরিশুদ্ধ হতে শুরু করে। ফলে তার চিন্তা, দৃষ্টি ও চরিত্র ধীরে ধীরে সুন্দর, সংযত ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং সে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে দ্রুত অগ্রসর হয়। ৫. রোজার রাখা প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে চোখের নিয়ন্ত্রণও কঠিন হয়ে যায়। এ কারণে ইসলাম রোজা ও নফল ইবাদতের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, “যার বিয়ের সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা রাখে কারণ রোজা প্রবৃত্তিকে দমন করে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৬৬) রোজা মানুষের ভেতরে আত্মনিয়ন্ত্রণ সৃষ্টি করে এবং গুনাহের প্রবণতা কমায়। পাশাপাশি তাহাজ্জুদ, জিকির, দোয়া ও নফল নামাজ অন্তরকে প্রশান্ত করে এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করে।