দীর্ঘদিন ধরে উচ্চমূল্যে বিক্রির পর দেশে বিমান পরিচালনায় ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের দাম লিটারে প্রায় ২২ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা, আমদানি ব্যয় এবং এভিয়েশন খাতের চাপ বিবেচনায় এনে নতুন এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
এর আগে কয়েক দফায় জেট ফুয়েলের দাম বাড়িয়ে মোট ১৩২ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এতে দেশের বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রী ভাড়ার ওপরও এর প্রভাব পড়ে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক মূল্যহ্রাসে বিমান সংস্থাগুলো কিছুটা স্বস্তি পেলেও আগের বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির তুলনায় এটি খুব বেশি নয়। ফলে এভিয়েশন খাতের সার্বিক ব্যয়চাপ পুরোপুরি কমবে না।
বিমান খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, জেট ফুয়েল কোনো এয়ারলাইন্সের মোট পরিচালন ব্যয়ের অন্যতম বড় অংশ। জ্বালানির দাম বাড়লে সরাসরি টিকিট মূল্য, কার্গো পরিবহন ব্যয় এবং ফ্লাইট পরিচালনার খরচ বেড়ে যায়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক রুটে পরিচালিত ফ্লাইটগুলোর ক্ষেত্রে এই ব্যয়ের প্রভাব আরও বেশি পড়ে।
খাতসংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, জ্বালানির দাম কমানোর এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে যাত্রীসেবায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে বিমান ভাড়া কমানোর বিষয়ে কোনো ঘোষণা আসেনি।
এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন মূল্যহার কার্যকরের বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী মূল্য সমন্বয় করা হতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ওষুধ খাতের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ঔষধ শিল্প সমিতির নেতারা। বৈঠক শেষে আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সমিতির সভাপতি আবদুল মুক্তাদির (মাঝে)। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন (বাঁ থেকে) ইউনিমেড ইউনিহেলথ ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান এম মোসাদ্দেক হোসেন, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের এমডি তপন চৌধুরী, এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসের এমডি সিমিন রহমান ও হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সিইও মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান ওষুধ খাতের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ঔষধ শিল্প সমিতির নেতারা। বৈঠক শেষে আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সমিতির সভাপতি আবদুল মুক্তাদির (মাঝে)। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন (বাঁ থেকে) ইউনিমেড ইউনিহেলথ ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান এম মোসাদ্দেক হোসেন, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের এমডি তপন চৌধুরী, এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসের এমডি সিমিন রহমান ও হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সিইও মুহাম্মদ হালিমুজ্জামানছবি: প্রথম আলো দেশের ওষুধশিল্পের বিকাশ, রপ্তানি বৃদ্ধি, মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদন ও সুলভ মূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা দেবে সরকার। এ খাতের সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির নেতারা এ কথা জানান। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সমিতির সভাপতি ও ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবদুল মুক্তাদির। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওষুধশিল্পের মালিকদের বৈঠকে আরও উপস্থিত স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর প্রমুখ। আর শিল্পমালিকদের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের এমডি তপন চৌধুরী, সমিতির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ইউনিমেড ইউনিহেলথ ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান এম মোসাদ্দেক হোসেন, সমিতির মহাসচিব ও হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান এবং এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসের এমডি ও ট্রান্সকম গ্রুপের গ্রুপ সিইও সিমিন রহমান। বৈঠক শেষে আবদুল মুক্তাদির সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওষুধ খাত নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। এ খাত অনেক সম্ভাবনাময় এবং খাতটির জন্য সরকার নীতিসহায়তা দেবে এবং যা যা করার দরকার, সবই করবে। বিশ্বের প্রায় ১৪০টি দেশে বাংলাদেশি ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রপ্তানির পরিমাণ কম হলেও ভবিষ্যতে তা বাড়বে। ওষুধের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে ভ্যাকসিন, অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস (এপিআই) ইত্যাদি রপ্তানি। অচিরেই বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানির ক্ষেত্রে এবং বাংলাদেশের উচ্চমানের ওষুধ যেন মানুষ পেতে পারে, সেই বিষয়ে একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ আমরা আশা করছি।’ ওষুধ খাতের জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, অনেক ওষুধশিল্প প্রতিষ্ঠান রুগ্ণ হয়ে গেছে। এগুলোকে কীভাবে ভালো অবস্থানে ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টাও ওষুধ রপ্তানিতে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সরকারের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। আবদুল মুক্তাদির সাংবাদিকদের আরও বলেন, ‘যেসব সমস্যার কথা আমরা তুলে ধরেছি, অধিকাংশ বিষয়েই সরকার অবগত। বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তা দেবে সরকার।’ কী ধরনের নীতিসহায়তা সরকার দিতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুল মুক্তাদির বলেন, এগুলোর বেশির ভাগই কারিগরি ও প্রযুক্তি সহায়তাবিষয়ক। যেমন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ম্যাচিউরিটি লেভেল-৩ (এমএল-৩) অর্জন, বায়োলজিকস খাতের সর্বশেষ নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওষুধ খাতকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। সরকার ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর বৈশ্বিক বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিগুলো আমলে নিয়ে সে অনুযায়ী দেশের ওষুধশিল্পকে নির্দেশনা দেবে। প্রধানমন্ত্রী কী বলেছেন—জানতে চাইলে আবদুল মুক্তাদির বলেন, তিনি সবকিছু মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। কী পরিমাণ ওষুধ কারখানা বন্ধ রয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে সমিতির সভাপতি বলেন, ‘এগুলো একটা বিশদ জিনিস। এখন কথা বলতে চাই না। তবে যেসব কারখানা খারাপ অবস্থায় আছে, তারা যাতে ভালো অবস্থায় আসতে পারে, এ বিষয়ে সরকার ব্যবস্থা নেবে।’ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর ট্রিপস-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না—জানতে চাইলে আবদুল মুক্তাদির বলেন, ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর আমরা কীভাবে মোকাবিলা করব, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলাপ হয়েছে।’ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আওতায় মেধাস্বত্ব বা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী ন্যূনতম মানদণ্ড নির্ধারণকারী চুক্তি হচ্ছে ট্রিপস। ওষুধের নিবন্ধন এত দিন বন্ধ ছিল জানিয়ে আবদুল মুক্তাদির বলেন, ‘তাড়াতাড়ি ওষুধের নিবন্ধন দিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। যাতে অতি উচ্চ মূল্যে মানুষকে আর ওষুধ না কিনতে হয়। ওষুধগুলো দেশেই যাতে তৈরি হয় এবং মানুষ সুলভ মূল্যে তা কিনতে পারেন। আমাদের যত সমস্যা, সবকিছু প্রধানমন্ত্রী শুনেছেন এবং দ্রুত সমাধানের নির্দেশনা দিয়েছেন। এতে আমরা খুবই খুশি।’
রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে প্রসব পরবর্তী ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দায়ী প্রমাণিত হলে যাতে আইনের ফাঁকফোকরে দায় এড়াতে না পারে, সে জন্য সরাসরি অ্যাটর্নি জেনারেলের পরামর্শ নিচ্ছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চলমান তদন্তের পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। দুই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা কী কী করছি, কীভাবে করছি, তা অ্যাটর্নি জেনারেলকে জানিয়েছি। তিনি আমাদের আইনি পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন আরও নির্ভুল ও বাস্তবভিত্তিক করতে ভুক্তভোগী সব মায়ের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন। ঈদের ছুটির কারণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি গঠনে কিছুটা দেরি হলেও আজই তা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। বৈঠক শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, কারও দায় রয়েছে কি না, তা নিরূপণ করা এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দোষী প্রমাণিত হলে, সে যেন আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে পার পেয়ে যেতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। তদন্ত কার্যক্রমে আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আল ফয়সাল সিদ্দিকীকে তদন্ত কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগামীকাল বুধবারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলাকালে হাসপাতালটির আরও কিছু অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আদ-দ্বীন হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি বেকারি পরিচালনার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স নেওয়ার বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে। হাসপাতালের ভেতরে কীভাবে এবং কোন বিবেচনায় এ ধরনের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১০ নির্দেশনায় এবারের ঈদ ব্যবস্থাপনায় ‘দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন’ এসেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। আজ সোমবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। মাহদী আমিন বলেন, ‘এবারের ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সরকারের কার্যক্রমে ১০টি গণমুখী বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্বিঘ্নে ঈদযাত্রা নিশ্চিতকরণ, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ, দেশীয় পশুর বাজার সুরক্ষা, দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট দমন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, চামড়া খাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা ছিল প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম নির্দেশনা।’ তিনি বলেন, ‘এসব উদ্যোগের সমন্বিত বাস্তবায়ন ঈদ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দিয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় সেবাকে আরো জনসম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। এই কর্মযজ্ঞকে পাথেয় করে গণমানুষের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনের সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা, আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা এবং সুশাসনের এই ধারাকে টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই হবে বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। জনকল্যাণের সেই আন্তরিক অগ্রযাত্রায় গণতান্ত্রিক সরকারের সাফল্য অনিবার্য, ইনশাআল্লাহ।’ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসনামলের ১৬ বছরের প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় ও ধ্বংসস্তূপ মাত্র তিন মাসে সম্পূর্ণরূপে দূর করা সম্ভব নয়—এই কঠিন বাস্তবতা দেশবাসী অনুধাবন করে। তবু দীর্ঘদিনের দুঃশাসনে ক্লান্ত জনগণ এবার ঈদে উপলব্ধি করেছে যে রাষ্ট্র তাদের প্রতি সংবেদনশীল এবং প্রশাসন কেবল ক্ষমতার কেন্দ্র নয়, বরং জনসেবার কার্যকর ও দায়িত্বশীল মাধ্যম।’ তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অনুষ্ঠিত প্রথম এই ঈদুল আজহা উদযাপনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকারের সকল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা, সংসদ সদস্যসহ সর্বমহলে আন্তরিকতা ও দায়বদ্ধতা ছিল সর্বোচ্চ, যা নিকট রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অভূতপূর্ব ঘটনা। তবু কোথাও কোনো প্রশাসনিক ঘাটতি বা সমন্বয়হীনতা পরিলক্ষিত হলে, তা চিহ্নিত করে দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিরসনে সরকার সর্বদা সচেষ্ট ও আন্তরিক।’ ঈদুল আজহায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত ও গণমুখী উদ্যোগের বিষয়াবলি জানাতে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অবিরামভাবে কাজ করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে তার অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের উন্নয়নের পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং ভালো কাজগুলো করার জন্য সব সময় সচেষ্ট রয়েছেন। আপনারা হয়তো দেখেছেন, সরকারি ছুটির দিনগুলোতে আমরা সবাই কম-বেশি ছুটি কাটিয়েছি, কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী একটি মুহূর্তও ঘরে বসে থাকেননি। তিনি প্রতিটি মুহূর্তই কাজ করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যারা তার খুব কাছে আছি এবং তার সঙ্গে কাজ করছি, তারা প্রতিনিয়তই দেখছি কখন কোথায় কী কী করতে হবে, সেটা তিনি সব সময় চিন্তা করছেন এবং তার প্রতিফলন ঘটাচ্ছেন। ঈদের পরের দিন বর্জ্য অপসারণ হলো কি না, তা দেখতে প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালামকে নিয়ে নিজে গাড়ি চালিয়ে ঢাকার রাজপথের অলিগলিতে ঘুরে দেখেছেন। কোথায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়নি, কোথায় কার গাফিলতি ছিল—এসব বিষয়ে তিনি নিজে গাড়িতে বসে ফোন করেছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘কোরবানির বর্জ্য অপসারণ হয়েছে কি না, প্রধানমন্ত্রী তা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদারকি করেছেন। বাসায় বসেও তিনি ক্ষান্ত হননি। সেখান থেকে সংশ্লিষ্টদের ফোন করে বুঝিয়েছেন যে দেশটি সবার, নগরী পরিষ্কার রাখতে হবে।’ আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘ডিজিটাল মিডিয়া ও ফেসবুকে ফটোকার্ড অথবা ছোট ভিডিও ক্লিপ নিমিষেই ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে। আমরা যারা বড় বড় গণমাধ্যমে আছি, তারা না বুঝে, না শুনে অনেক সময় সেগুলো কপি করে ভাইরাল করে দিচ্ছি। এতে একজন মানুষের কতখানি ক্ষতি হবে, কিংবা একটি দল বা একটি দেশের কী ক্ষতি হবে’ সেগুলো আমরা চিন্তা করি না।’ তিনি বলেন, ‘আমার অনুরোধ থাকবে’ এ ধরনের কিছু প্রচার করার আগে অবশ্যই যার বিরুদ্ধে হোক, যাকে কেন্দ্র করে হোক, তার সঙ্গে কথা বলে সময় নিয়ে বিবেচনা করে সেগুলো প্রচার করা দরকার। না হলে অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’ প্রধানমন্ত্রীর ১০ নির্দেশনা- ১. দীর্ঘ ছুটি ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা : পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে সরকারি ছুটি এক সপ্তাহ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। ফলে সরকারি উদ্যোগেই পরিবার-পরিজনের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়। ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘœ করতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ফলে ঈদের আগের দিনগুলোতে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমে আসে। তবে সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নতি এবং অতীতের তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনা কম হলেও কয়েকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটে। টাঙ্গাইলে সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনা এবং ট্রেনের ধাক্কায় মা-মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। ২. পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ : তৈরি পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদের ঈদের আগে বকেয়া বেতন ও বোনাস নিশ্চিত করতে সরকার, ব্যাংক, মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা হয়। অধিকাংশ কারখানায় সময়মতো বেতন-ভাতা পরিশোধ সম্ভব হয় এবং শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে। ৩. দেশীয় পশুর বাজার ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ : স্থানীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সীমান্ত দিয়ে অবৈধ গবাদিপশু প্রবেশ ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দেশজুড়ে কোরবানিযোগ্য পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ ছিল। প্রায় ১ কোটি ১ লাখ পশুর চাহিদার বিপরীতে ১ কোটি ২৩ লাখ পশু প্রস্তুত ছিল। ফলে কোরবানিতে পশুতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা নিশ্চিত হয়। তবে বাজারে চাহিদার তুলনায় পশুর সরবরাহ বেশি থাকায় কিছু প্রান্তিক খামারি প্রত্যাশিত মূল্য পাননি বলে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। ৪. দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও নাগরিক সেবা : ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনসহ দেশের বড় বড় পৌরসভায় বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। কোরবানির পর ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকার অধিকাংশ এলাকার বর্জ্য অপসারণ সম্ভব হয়, যা অতীতে কয়েক দিন সময় নিত। ঈদের পরদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তদারকি করেন। অবহেলার দায়ে তাঁর নির্দেশে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের একাধিক আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ৫. গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ও বিশেষ সুবিধা : ঈদে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কাউন্টারগুলোতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ছিল। পাশাপাশি, প্রথমবারের মত রেলে এবং মেট্রোরেলে নারীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আলাদা সংরক্ষিত কোচ বা বগি চালু এবং প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্ধারিত ভাড়ার ওপর বিশেষ ছাড় প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এবারের ঈদ যাত্রায় কোনো ধরনের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ঘটনা ঘটেনি, বরং লঞ্চে সরকার নির্ধারিত ভাড়া রুট ভেদে ৫-৮% ডিসকাউন্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাস, লঞ্চসহ সকল যানহবনে ডিজিটাল বোর্ড, স্টিকারের মাধ্যমে ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান রাখা হয়েছে। লঞ্চে হুইলচেয়ার ও ট্রলির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, লঞ্চঘাট রাখা হয়েছে সম্পূর্ণ কুলি ও হকারমুক্ত, মালামাল বহনের জন্য কোনো যাত্রীকে টাকা খরচ করতে হয়নি। বছিলা ও কাঞ্চন ব্রিজ এলাকায় নতুন লঞ্চঘাট স্থাপন করে সেখান থেকে নিয়মিত লঞ্চ ছাড়া হয়েছে, যার ফলে এলাকাভিত্তিকভাবে মানুষ এসব জায়গা থেকে যাত্রা করতে পেরেছে, সবাইকে সদরঘাটে যেতে হয়নি, এ ঘটনা সরকারের একটি অবিস্মরণীয় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ন্যায্য ভাড়া ও হয়রানিমুক্ত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের অভূতপূর্ব ভূমিকা জোরালো ও সাহসী ছিল বলে উল্লেখ করেন মাহদী আমিন। ৬. চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটবিরোধী অভিযান : পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ভূমিকা পালন করে। পশুর হাটে অবৈধ চাঁদা আদায়ও নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। এর ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়নি এবং সাধারণ ক্রেতারা তুলনামূলক স্থিতিশীল দামে পশু কিনতে পেরেছেন বলে জানানো হয়। ৭. লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ : ঈদের ছুটিতে শিল্পকারখানা বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের অধিকাংশ এলাকায় লোডশেডিং সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পেশাদারিত্বের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দুর্নীতির অভয়ারণ্য বিদ্যুৎখাতে গ্রাহক পর্যায়ে চাহিদা ও সরবরাহের সমন্বয়ের মাধ্যমে মৌসুমি দুর্যোগের ফলে যে বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়েছিল, তা দূর করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব প্রদর্শন করেছে। ৮. সামাজিক সংবেদনশীলতা ও জননিরাপত্তা : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কোরবানিসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা হয়। ঈদুল আজহার দিন কিংবা ঈদকে কেন্দ্র করে উল্লেখযোগ্য কোনো সামাজিক সংঘাত বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেনি বলে দাবি করা হয়। ৯. চামড়ার মূল্য নির্ধারণ ও তদারকি : লবণের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ট্যানারি মালিকদের সিন্ডিকেট ভাঙতে কাঁচা চামড়ার ন্যূনতম মূল্য আগেভাগেই নির্ধারণ করা হয়। মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করায় চামড়া নষ্ট হওয়া বা অবিক্রিত থাকার হার আগের বছরের তুলনায় কমেছে বলে জানানো হয়। ১০. নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা : ঈদের আগে চাল, ডাল, মসলা, তেল, চিনিসহ কোরবানিসংক্রান্ত নিত্যপণ্যের বাজারে বিশেষ নজরদারি চালানো হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ থাকা সত্ত্বেও খুচরা বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মাহফুজুর রহমান, উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা, সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক খান ও আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার।