জাতীয়

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে অর্থ উপদেষ্টার সতর্ক বার্তা

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১৬, ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন খুবই ক্রিটিক্যাল। দেশে আগেও নির্বাচন হয়েছে, তবে এই নির্বাচনের স্বচ্ছতা যেমন দেশের মানুষ চায়, তেমনি আন্তর্জাতিক মহলও তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি গণভোট ও সংস্কারের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গণভোটের পক্ষে প্রচারণার অংশ হিসেবে ‘ভোটের গাড়ি’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, গণভোট বিষয়ে গ্রামের সাধারণ মানুষ অজ্ঞাত নন। সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ নিজেরাও ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে মত প্রকাশ করছেন।

তিনি বলেন, দেশে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দল ক্ষমতায় এসে নিজেদের মতো করে সংস্কার করেছে। গণভোটের ইতিবাচক দিক হলো, এখানে জনগণের সরাসরি মতামত প্রতিফলিত হয়। আগে রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় গিয়ে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিত। এখন যেই ক্ষমতায় আসুক, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। এ কারণেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। শুধু দেশের মানুষ নয়, বিদেশের সবাইও তাকিয়ে আছে এই নির্বাচন ও সংস্কার প্রক্রিয়ার দিকে। জুলাই বিপ্লব দেশের অগ্রগতির পথ তৈরির জন্য হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়তে আসন্ন নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া প্রয়োজন।

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

 

এ সময় সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতুসহ জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
সরকারি হচ্ছে আরও ৬ কলেজ, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ

দেশের আরও ছয়টি বেসরকারি কলেজ জাতীয়করণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য নির্ধারিত ছকে পাঠাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।   সম্প্রতি মাউশি থেকে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক পরিচালকদের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী কলেজগুলোর জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত পাঠাতে বলা হয়েছে।   জাতীয়করণের প্রস্তাবিত ছয় কলেজের মধ্যে রাজশাহী বিভাগের চারটি, ঢাকা বিভাগের একটি এবং ময়মনসিংহ বিভাগের একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।   কলেজগুলো হলো— পাবনার বেড়া উপজেলার কাশিনাথপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার ঈশ্বরদী মহিলা কলেজ পাবনার সুজানগর উপজেলার সেলিম রেজা হাবিব ডিগ্রি/অনার্স কলেজ পাবনার সুজানগর উপজেলার সুজানগর নিজাম উদ্দিন আসগর আলী ডিগ্রি কলেজ গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কালিয়াকৈর কলেজ ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার আব্দুর রহমান ডিগ্রি কলেজ   মাউশির চিঠিতে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এসব প্রতিষ্ঠানের জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে নির্ধারিত ছক অনুযায়ী অঞ্চলভিত্তিক প্রয়োজনীয় তথ্য জরুরি ভিত্তিতে পাঠাতে হবে।   সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের তথ্য পর্যালোচনার পর পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কলেজগুলোর জাতীয়করণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির অপেক্ষায় ৬১৫ আবেদন, বাতিলের সুপারিশ ৬ হাজার ৪৬৫

ছবি: সংগৃহীত

তারেক রহমানের ভারত সফরে সম্মানজনক অভ্যর্থনার আশ্বাস মোদির: দীনেশ ত্রিবেদী

ছবি: সংগৃহীত

চতুর্থবার মেটলাইফের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর মুশফিকুর রহিম

ছবি: সংগৃহীত
এসএসসি ফল পুনর্নিরীক্ষণে প্রায় ১৩ লাখ আবেদন, এবার খাতা মূল্যায়নও হবে

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ৪ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী প্রায় ১৩ লাখ আবেদন করেছেন। বিপুলসংখ্যক আবেদনের পর এবার শুধু নম্বরের যোগ-বিয়োগের ভুল নয়, উত্তরপত্রের মূল্যায়নও পুনরায় যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।   শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন। এসব আবেদনের সংখ্যা ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্রের জন্য আবেদন হয়েছে ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি। ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য আবেদন জমা পড়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি।   আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, এবার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। এজন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক পরীক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডসহ ১১টি বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজারের বেশি।   ফল প্রকাশের পর ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন নেওয়া হয়। পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমে যাওয়ায় এবার ফল নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ ও উদ্বেগও তুলনামূলক বেশি ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।   ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এ বোর্ডের ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষার জন্য ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য ৫৮ হাজার ১২টি আবেদন করেছেন।   অন্য বোর্ডগুলোর মধ্যেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। কুমিল্লা বোর্ডে ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহীতে ৩৯ হাজারের বেশি, যশোরে ২৮ হাজারের বেশি, চট্টগ্রামে ৩৯ হাজারের বেশি, বরিশালে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেটে ২০ হাজারের বেশি, দিনাজপুরে ৩৭ হাজারের বেশি এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।   এ ছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছেন।   এবার বদলাচ্ছে পুনর্নিরীক্ষণের পদ্ধতি: এত দিন পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে উত্তরপত্রে নম্বর দেওয়ার পর যোগ-বিয়োগে কোনো ভুল হয়েছে কি না, মূলত সেটিই যাচাই করা হতো। উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় কোনো প্রশ্নের উত্তর যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে কি না, তা নতুন করে দেখার সুযোগ ছিল না।   এবার সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আবেদন করা উত্তরপত্রগুলো পুনর্মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে। ফলে মূল্যায়নে কোনো ভুল থাকলে সেটিও শনাক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।   শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করতে অতিরিক্ত পরীক্ষক প্রয়োজন হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করাও বড় চ্যালেঞ্জ।   এর আগে বিভিন্ন বছর পুনর্নিরীক্ষণের পর অনেক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। কেউ নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন, আবার কেউ ফেল থেকে পাস করেছেন। গত বছরের এসএসসি পরীক্ষায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পুনর্নিরীক্ষণের পর ২৮৬ জন শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ পান এবং ২৯৩ জন ফেল থেকে পাস করেন।   সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্র অল্প সময়ের মধ্যে মূল্যায়ন করতে গিয়ে পরীক্ষকদের ওপর চাপ তৈরি হয়। পরীক্ষকের ঘাটতি ও সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে মূল্যায়নে ভুলের সম্ভাবনাও থেকে যায়। তাই উত্তরপত্র মূল্যায়নে দক্ষ পরীক্ষক নির্বাচন, যথাযথ তদারকি এবং কার্যকর পুনর্মূল্যায়ন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দুদকের নতুন কমিশনার সাজ্জাদ, ট্যাক্স ক্যাডার থেকে প্রথম

ছবি: সংগৃহীত

ঢাবির হলে বিতর্কিত বক্তার অনুষ্ঠান, আয়োজন ঘিরে প্রশ্ন

ছবি: সংগৃহীত

তরুণের টাকা নেওয়ার অভিযোগ, হরিরামপুরের এএসআই প্রত্যাহার

ছবি: সংগৃহীত
সিঙ্গাপুরের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের সুযোগ বাড়াতে আলোচনা

সিঙ্গাপুরের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।   বুধবার (১৯ আগস্ট) সিঙ্গাপুর হাইকমিশনে দেশটির চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিশেল লি’র সঙ্গে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদুল হকের বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।   বৈঠকে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই পক্ষ। এর মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পায় বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুরে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মী পাঠানো এবং দেশটির শ্রমবাজারে বাংলাদেশের জনশক্তির সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টি।   এ ছাড়া কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এবং দুই দেশের মধ্যে শ্রমবাজারকেন্দ্রিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়।   আলোচনায় সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি এবং দক্ষ জনশক্তির অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল শ্রম অভিবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।   সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের আলোচনা দুই দেশের শ্রমবাজার সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

যশোরের ৬৫০ কৃষক পেলেন বিনামূল্যে পেঁয়াজের বীজ ও সার

সংসদে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার বিষয়ক সংসদীয় ককাস প্রতিষ্ঠায় ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের অঙ্গীকার

ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসকদের ওপর হামলা প্রতিরোধে বিশেষ আইনের সুনির্দিষ্ট দাবি ড্যাবের

0 Comments