বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনে ব্যর্থ ঢাকা ও সিলেট অঞ্চলের ৩৫৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সতর্কবার্তা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। সোমবার (১৩ এপ্রিল) অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের শারীরিক শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী গত ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ঢাকা ও সিলেট অঞ্চলের উল্লিখিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ আয়োজন করতে না পারায় তাদের প্রাথমিকভাবে সতর্ক করা হলো। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, পরবর্তীতে বার্ষিক ক্রীড়া আয়োজনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ইউনিফর্ম দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে এবং বছরে অন্তত একবার করে শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম দেওয়া হবে। সোমবার সকালে রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে BRAC-এর শিক্ষা কর্মসূচির উদ্যোগে আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কার: কৌশলগত পথনির্দেশনা’ শীর্ষক নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষায় সমতা আনতে এবং অভিভাবকদের আর্থিক চাপ কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি, বর্তমান সরকারের মেয়াদে পর্যায়ক্রমে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইউনিফর্ম বিতরণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।” তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে কিছু বিদ্যালয়ে মিডডে মিল চালু হয়েছে এবং আগামী বছরের মধ্যে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তা চালুর লক্ষ্য রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে “থ্রি সি”—কারিকুলাম, ক্লাসরুম ও কনসিসটেন্সি—এই তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান কারিকুলামে কিছু ঘাটতি রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীর জন্য পাঠ্যবইয়ের ভাষা ও বিষয়বস্তু জটিল হয়ে যাচ্ছে। তাই বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কারিকুলাম পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করা প্রয়োজন।” যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রি-প্রাইমারি ও প্রাথমিক স্তরে খেলাধুলাভিত্তিক (প্লে-বেইজড) এবং গল্পভিত্তিক (স্টোরিটেলিং) শিক্ষা চালু করা হবে। তবে তা ধাপে ধাপে—পাইলটিং, প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। সহশিক্ষা কার্যক্রমেও গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রতিটি বিদ্যালয়ে একাধিক খেলাধুলা অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি নাচ, গান ও অভিনয়ের সুযোগ তৈরিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পিটিআই থেকে ১০ মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় না। তাই প্রশিক্ষণকে আরও কার্যকর ও বাস্তবমুখী করা হবে।” সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান এবং উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দেবব্রত চক্রবর্তী। এছাড়া আসিফ সালেহ-সহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় ধাপে রাজস্ব খাতভুক্ত বিভিন্ন মেধা ও সাধারণ বৃত্তি এবং উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তথ্য এমআইএস সফটওয়্যারে এন্ট্রি ও সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। মাউশির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের সহকারী পরিচালক কামরুন নাহার স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। আদেশে বলা হয়, রাজস্ব খাতভুক্ত বিভিন্ন শ্রেণির মেধা ও সাধারণ বৃত্তি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, উপজাতীয়, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, অটিস্টিক ও পেশামূলক উপবৃত্তি এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে বৃত্তি পেয়ে সাধারণ শিক্ষায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের বৃত্তির অর্থ ইএফটি-এর মাধ্যমে সরাসরি শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। এতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এমআইএস সফটওয়্যারে নির্ভুলভাবে তথ্য এন্ট্রি করতে হবে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থীর ব্যাংক সংক্রান্ত ভুলের কারণে (যেমন: ব্যাংকের নাম, শাখা, রাউটিং নম্বর বা হিসাব নম্বর ভুল অথবা অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় থাকা) ইতিপূর্বে বৃত্তির অর্থ 'বাউন্সড' বা ফেরত গেছে, তাদের তথ্য দ্রুত সংশোধন ও নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আদেশে আরও বলা হয়, শুধু বোর্ড বৃত্তিপ্রাপ্ত যেসব শিক্ষার্থীর তথ্য আগে এন্ট্রি করা হয়নি, তাদের তথ্যও এই সময়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। প্রকাশিত গেজেটের সঙ্গে মিল রেখে সঠিক তথ্য এন্ট্রি না করলে বৃত্তির অর্থ বিতরণ সম্ভব হবে না। তথ্য এন্ট্রি বা সংশোধনের ক্ষেত্রে কোনো ভুল বা অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দায়ী থাকবেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
দেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) সুপারস্টার রিনিউয়েবল এনার্জি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তির আওতায় জাতীয় গ্রিডে ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোলার সিস্টেমের প্রায় ৮০ শতাংশ সোলার প্যানেল চালু করেছে কোম্পানিটি। জানা যায়, ২০২৩ সালের ২২ জুন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অংশ হিসেবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে যবিপ্রবি ও সুপারস্টার রিনিউয়েবল এনার্জি লিমিটেডের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। জুলাই বিপ্লবের পর এক পর্যায়ে রুফটপ সোলার সিস্টেমের কাজ থেমে গেলেও পরবর্তীতে যবিপ্রবি ও কোম্পানির তৎপরতায় পুনরায় কাজ শুরু হয়। এর ফলে গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে জাতীয় গ্রিডে স্বল্প পরিসরে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ সোলার প্যানেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। সোলার সিস্টেম থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রথমে যবিপ্রবির নিজস্ব চাহিদা পূরণ করে, পরে অবশিষ্ট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। গত ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই সোলার সিস্টেম থেকে নিজস্ব ব্যবহারের পরও ৫৬ হাজার ৯৬৫ ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে। এর ফলে যবিপ্রবির প্রায় ২৬.৬ শতাংশ অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে। এ ছাড়া প্রায় ১.৫ লাখ বর্গফুট জায়গাজুড়ে স্থাপিত রুফটপ সোলার সিস্টেম থেকে প্রতি বর্গমিটার হিসেবে ২ টাকা হারে ভাড়া পাবে যবিপ্রবি। ফলে ভাড়া বাবদও প্রতিষ্ঠানটি বছরে একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ অর্জন করছে। আরও জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ভবন চালু থাকায় যবিপ্রবির বর্তমান বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় ২ মেগাওয়াট। পুরো সোলার সিস্টেম চালু হলে জাতীয় গ্রিড থেকে ১ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমে আসবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতে ব্যয়ের প্রায় ২৬ শতাংশ সাশ্রয় সম্ভব হবে, যা বর্তমান জ্বালানি সংকটে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এ বিষয়ে যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের এই সময়ে যবিপ্রবি একটি চুক্তিবদ্ধ কোম্পানির মাধ্যমে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে, তা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ৭০–৮০ শতাংশ সোলার সিস্টেম চালু হয়েছে। আশা করছি, আগামী এক মাসের মধ্যে পুরো সিস্টেম চালু হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বাড়বে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন যদি আরও বড় হতো, তাহলে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হতো। এটি সম্পূর্ণ নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর উদ্যোগ।
সরকার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি করার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রোববার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটরিয়ামে আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে ঢাকা অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়ে একটি কমিশন গঠন করার চিন্তা রয়েছে। সেই কমিশনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচন করা হলে শিক্ষাব্যবস্থার মান আরও উন্নত হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয় এবং প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি বাতিল নিয়ে চলমান সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী বলেন, লটারি কখনোই মেধা বা অমেধা নির্ধারণ করতে পারে না। এটি ধনী-গরিব বৈষম্যও পুরোপুরি দূর করতে পারে না। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের কী শেখানো হবে সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকরা যথাযথভাবে পাঠদান না করায় অভিভাবকদের অতিরিক্ত কোচিং বা প্রাইভেট টিউটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে—এ প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। এর আগে লটারি পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, লটারি নিয়ে নানা মত থাকলেও বাস্তবে এতে স্বচ্ছতা কতটা নিশ্চিত হয়, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তার দাবি, অনেক ক্ষেত্রে তদবির ও প্রভাবের মাধ্যমে ভর্তি হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের সব এলাকায় ভালো স্কুল থাকা সত্ত্বেও কেন অভিভাবকরা সন্তানদের নিজ এলাকার স্কুলে না পাঠিয়ে অন্যত্র ভর্তি করান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার এহসানুল কবির। সভায় বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সারাদেশে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বাড়াতে অবসরপ্রাপ্ত ও শারীরিকভাবে সক্ষম শিক্ষকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই তালিকাভুক্ত শিক্ষকদের মধ্য থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব শিরীন আক্তার স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। দেশের সকল জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছাড়াও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দেওয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পুল গঠন সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়েছে, উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক স্বল্পতা এবং এনটিআরসিএ কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগে বিলম্ব হওয়ার কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং গুণগত ও মানসম্পন্ন শিক্ষা দানের উদ্দেশ্যে অভিজ্ঞ এবং শারীরিকভাবে সক্ষম অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সমন্বয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শ মোতাবেক সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি/এডহক কমিটির অনুমোদনক্রমে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পুল গঠনের বিষয়ে নির্দেশক্রমে নিম্নরূপ নির্দেশনা প্রদান করা হলো। উপজেলাভিত্তিক উপজেলার অবসরপ্রাপ্ত ও শারীরিকভাবে সক্ষম শিক্ষকদের দিয়ে একটি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পুল গঠন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক (সকল)-কে অনুরোধ করা হলো। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউএনও’র পরামর্শক্রমে সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি/এডহক কমিটি’র অনুমোদনক্রমে প্রয়োজনের নিরীখে সাময়িকভাবে উক্ত পুল হতে শিক্ষক নিয়োগ করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিলের অত্যাবশ্যকীয় খাত থেকে এ সংক্রান্ত সম্মানী ব্যয় নির্বাহ করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকাকে অনুরোধ করা হলো।
বিশ্ব পোষা প্রাণী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) বিড়াল প্রেমীদের মিলনমেলা ও বর্ণাঢ্য ‘ক্যাট শো’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলিপ্যাডে ‘পেট লাভার্স অফ বিএইউ’র উদ্যোগে এ ক্যাট শো আয়োজিত হয়। এতে ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’, প্রদর্শনী ও র্যাম্প শোতে অংশ নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ও ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিড়াল প্রেমীরা। প্রাণি অধিকার নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিড়ালের প্রতি মমত্ববোধ ছড়িয়ে দিতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা। বাকৃবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক এবং প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. আরিফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালের পরিচালক এবং সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল আলম। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল বিড়ালের র্যাম্প শো এবং ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’ প্রতিযোগিতা। এছাড়াও বিড়ালের সাধারণ রোগব্যাধি নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে সেরা বিড়ালকে ‘ক্যাট অফ দ্য শো’ ঘোষণা করা হয় এবং দর্শকদের জন্য ছিল আকর্ষণীয় র্যাফেল ড্র। শো’তে অংশগ্রহণকারী বিড়ালদের জন্য ছিল বিশেষ স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা। প্রতিটি বিড়ালের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা (হেলথ চেকআপ) এবং বিনামূল্যে র্যাবিস ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়। এছাড়াও নিবন্ধিত অংশগ্রহণকারীদের জন্য টি-শার্ট, বিড়ালের নেক বেল্ট ও স্ন্যাকসের ব্যবস্থা ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান জানান, ‘বাকৃবিতে এই প্রথম ক্যাট শো আয়োজিত হয়েছে । যেখানে সেগমেন্ট হিসেবে আছে ক্যাট র্যাম্প ওয়াক ও যেমন খুশি তেমন সাজো। আপনারা জানেন বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান একজন বিড়ালপ্রেমী মানুষ। উনি বিড়ালদের জন্য পেট ক্লিনিকের ও পেট অ্যাম্বলেন্সের ব্যবস্থা করেছেন। আমরা চাই বাকৃবি এখানে একটি রোল মডেল হিসেবে কাজ করুক। যেখানে সব পেটদের মানুষের মতো ভালোবাসবো। আমাদের পরিবারের অংশ হিসেবে চিন্তা করবো। আমরা চাই বিশ্বের প্রত্যেকটি প্রাণ ভালোবাসা ও স্নেহ পাক।’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘বাকৃবি পোষা প্রাণীর পৃষ্ঠপোষক হিসেবে যে আন্তরিকতা দেখাচ্ছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা আশা করি এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হবে। যারা বিড়ালপ্রেমী আছেন, তারা যেন প্রাণীর সঠিক যত্নে বৈজ্ঞানিক গাইডলাইন এবং পরামর্শগুলো মেনে চলেন। এতে করে পরিবারে একটি সুন্দর ও বিনোদনময় পরিবেশ বজায় থাকবে এবং মানুষের সঙ্গে প্রাণীর ভালোবাসার বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে এবং সৃজনশীল ব্যবসা ধারণা ও স্টার্টআপ বিকাশে ব্যাংকসহ বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। আজ শনিবার (১১ এপ্রিল ) দুপুরে সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউথ এন্টারপ্রেনারশিপ এন্ড স্টার্টআপস ফর স্টুডেন্ট (ইয়েস প্রোগ্রাম) কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা জরুরি। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ গ্রহণে উৎসাহিত করেন এবং বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে জ্ঞান, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা মানসিকতার বিকল্প নেই।’ তিনি আরও বলেন, উন্নত দেশগুলোর অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি হলো, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও দক্ষ মানবসম্পদ। সেই লক্ষ্যেই তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে আঞ্চলিক উন্নয়নের ‘নলেজ হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্ষুদ্র সাবমেরিন নির্মাণ ও রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি তৈরির মতো সৃজনশীল প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যা দেশের প্রযুক্তি উন্নয়নের সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করবে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়ে উল্লেখ করে বলেন, নতুন বিভাগ স্থাপন, পরিবহন সুবিধা বৃদ্ধি ও আবাসন ব্যবস্থা সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন প্রকল্প একীভূত করে প্রস্তাব আকারে উপস্থাপন করলে, সরকার তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে। শিল্প খাতে গবেষণালব্ধ জ্ঞান প্রয়োগের ওপর জোর দিয়ে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, ‘আমাদের সার, চিনি ও অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং লোকসান কমিয়ে লাভজনক করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’ এ সময় শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টির আশ্বাস দেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন— সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম, এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক খালেদ আহমদ এবং আইডিইএ প্রকল্প, আইসিটি ডিভিশনের প্রকল্প পরিচালক মুর্তুজা জুলকার নাঈন নোমান। অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং ওয়াইইএসএস প্রোগ্রামের মাধ্যমে তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, উদ্যোক্তা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম রাজু ভাস্কর্য চত্বরে অনশনরত শিক্ষার্থীদের দেখতে গিয়েছেন এবং তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিয়েছেন। আজ শুক্রবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে রাজু ভাস্কর্য চত্বরে গিয়ে তিনি অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় উপাচার্য বলেন, আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা সুস্থ থাকুক। কোনো শিক্ষার্থী যেন অসুস্থ না হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা অনশন ভেঙ্গে বাসায় ফিরে যাবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, অনশনরত শিক্ষার্থীদের বার্তা সরকারের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া হবে। জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দল আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। উপাচার্য জানান, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গতকাল বুধবার রাতেও চিকিৎসকদল প্রেরণ করা হয়েছে। এ সময় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার, প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ এবং আইবিএ’র অধ্যাপক ড. মো. মহিউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই বিপ্লব ও গণভোটের রায় রক্ষাসহ তিন দফা দাবিতে আমরণ অনশনে বসা শিক্ষার্থীদের দেখতে এসে তাদের দাবি সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার পরে ঢাবির রাজু ভাস্কর্যে অনশনরত শিক্ষার্থীদের কাছে যান তিনি। আমরণ অনশনে বসা তিন শিক্ষার্থী হলেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী মো. সাদিক মুনওয়ার মুনেম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ সেশনের সাকিবুর রহমান এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শেখ মোস্তাফিজ। অনশনের ৫৭ ঘণ্টা পর তাদের দাবি শুনতে উপস্থিত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবুল কালাম সরকার, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ এবং ব্যবসা প্রশাসন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. মহিউদ্দিন। অনশনরত শিক্ষার্থীদের দাবি সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে উপাচার্য বলেন, “এটা রাজনৈতিক ইস্যু, এ কারণে বলব যে এই ফয়সালা সংসদেই হবে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার শিক্ষার্থী অসুস্থ থাকলে বা কোনো সমস্যায় থাকলে এটা আমার দায়িত্ব আছে। সেই জায়গা থেকে তাদের সুস্থতা কামনা করার জন্য এসেছি। তাদের দেখাশোনার জন্য গতকাল ডাক্তার পাঠিয়েছি। তোমাদের এই মেসেজগুলো আমি সরকারের কাছে পৌঁছে দেব, বাকি সিদ্ধান্ত তারা নেবে। আমি আমার শিক্ষার্থীদের বাড়ি নিয়ে যেতে এসেছি। আশা করি, আমার শিক্ষার্থীরা আমার সঙ্গে সায় দিয়ে অনশন ভেঙে আমার সঙ্গে চলে যাবে।” অনশনরত শিক্ষার্থী মো. সাদিক মুনওয়ার মুনেম বলেন, “উপাচার্য সরকারি আদেশটাই ব্যক্ত করেছেন এবং তার অ্যাপ্রোচ দেখে মনে হয়েছে তিনি আমাদের মৃত্যু কামনা করতে এসেছেন। আমরা এখানে অনশনে বসেছি। আমরা অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে উপাচার্য মহোদয়কে প্রত্যাখ্যান করেছি। অনশনের শুরু থেকেই স্পষ্টভাবে জানিয়ে এসেছি, আমাদের তিন দফা দাবি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত এখান থেকে উঠছি না।” তিনি আরও বলেন, “অ্যান্ড উই হ্যাভ অলরেডি ডিসাইডেড দ্যাট আইদার উই উইল ফাইট অর উই উইল ডাই। দেয়ার উইল বি নো কম্প্রোমাইজ উইথ দিস রেফারেন্ডাম।” এদিকে তিন শিক্ষার্থীর এই অনশনে সংহতি জানিয়েছেন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও জুলাইয়ের শহিদ পরিবারের সদস্যরা।
দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান টানা তিন দিনের ছুটিতে যাচ্ছে। রোববার (১২ এপ্রিল) থেকে এ ছুটি শুরু হবে, যা চলবে আগামী মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) পর্যন্ত। এর আগে শুক্র ও শনিবার (১০-১১ এপ্রিল) সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকছে দেশের স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বাৎসরিক ছুটির তালিকা পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানা গেছে। ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ১২ এপ্রিল বৈসাবি উৎসব উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকবে। ১৩ এপ্রিল চৈত্র সংক্রান্তি এবং ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের ছুটি। বুধবার (১৫ এপ্রিল) থেকে সব প্রতিষ্ঠানে যথারীতি ক্লাস চলবে। এদিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আলাদা নোটিশ দিয়ে ছুটির ঘোষণা দিয়েছে। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এক নোটিশে জানিয়েছে, ১২ এপ্রিল বৈসাবি উৎসব, ১৩ এপ্রিল চৈত্র সংক্রান্তি এবং ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে স্কুল ও কলেজ শাখার সব শ্রেণি পাঠদান ও দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
প্রশ্নফাঁসের অপচেষ্টায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধেও নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) চট্টগ্রাম কলেজ অডিটরিয়ামে ‘এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬’ উপলক্ষে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম অঞ্চলের মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময়সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। সভায় কেন্দ্র সচিবদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষার মান উন্নয়নে বিভিন্নমুখী উদ্যোগ নিয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে খাতা দেখার মান যাচাই এবং নকল সরবরাহকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী। এর আগে শিক্ষামন্ত্রী রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এক অনুষ্ঠানে এস এস সি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য বলেন, পরক্ষার্থীদের ভয়ের কোন কারণ নেই। সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষা হবে। সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী তখন আরো বলেন, ভীতি প্রদর্শনের কোন সুযোগ নেই। সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আমি সিসিটিভির মাধ্যমে পরীক্ষা মনিটরিং করব।
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) এক শিক্ষক নেত্রীর বিরুদ্ধে পিএইচডি স্কলারশিপ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি সত্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে। অভিযোগের মুখে থাকা ব্যক্তি হলেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের (সাদা দল) সদস্য সচিব এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা খাতুন। বুধবার (৮ এপ্রিল ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ফেলোশিপ ট্রাস্ট ফাতেমা খাতুনের পিএইচডি স্কলারশিপ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষা ছুটি শেষে দেশে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করলেও তিনি তার পিএইচডি সনদপ্রাপ্তির তারিখ, ডিফেন্স সংক্রান্ত সুপারভাইজারের প্রত্যয়নপত্র এবং ফেলোশিপ ট্রাস্টের ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেননি। এ বিষয়ে তথ্য চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে একাধিকবার (২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ও ২৭ জানুয়ারি ২০২৬) লিখিতভাবে পত্র প্রদান করা হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের লক্ষ্যে ৫ সদস্যের একটি সত্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন ড. মো. কামরুজ্জামানকে এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামানকে। এছাড়া কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন ইইই বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. এ.টি.এম. সাইফুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং অর্থ ও হিসাব দপ্তরের হিসাব পরিচালক। উল্লেখ্য, তদন্ত কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে লিখিত প্রতিবেদন উপাচার্যের নিকট জমা দেওয়ার বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ তিন দফা দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশনরত শিক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। অনশনের ৫৭ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর অসুস্থ শিক্ষার্থীদের খোঁজ নিতে শুক্রবার (আজ) রাতে সেখানে ছুটে যান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত ১০টা ৪০ মিনিটে উপাচার্য রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে অনশনরত তিন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেন। তার সঙ্গে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা, প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইফুদ্দিন আহমেদসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে– জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো সংসদে বিল আকারে উত্থাপন। অনশনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উপাচার্য বলেন, “আমি এখানে তোমাদের অভিভাবক হিসেবে এসেছি, সরকারের কেউ হিসেবে নয়। তোমাদের এই মেসেজগুলো আমি সরকারের কাছে পৌঁছে দেব। তবে আমি আবারও বলছি, এটি একটি রাজনৈতিক ইস্যু এবং এর ফয়সালা সংসদে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গনে নয়। আমার শিক্ষার্থীরা অসুস্থ থাকুক, সেটা আমি চাই না। তাই আমি তাদের দেখভাল করতে এসেছি এবং গতকাল ডাক্তারও পাঠিয়েছিলাম। আমি আশা করি, আমার শিক্ষার্থীরা অনশন ভেঙে আমার সঙ্গে বাসায় ফিরে যাবে।” এ সময় অনশনকারীদের পক্ষে বক্তব্য দেন শেখ মুস্তাফিজ। তিনি বলেন, “আমি শেখ মুস্তাফিজ। ১৮ জুলাই নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকালে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলাম। আমাদের জীবনে কোনো কিছুর অভাব ছিল না, এত দীর্ঘ সময় হাসপাতালে কষ্ট করারও দরকার ছিল না। কিন্তু আমরা কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য আন্দোলনে নেমেছিলাম। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কখনো রাজনৈতিক বিষয়ে এতটা সম্পৃক্ত হয়নি। কিন্তু এবারের জুলাই অভ্যুত্থানে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩৭ জন এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১২ জন শহীদ হয়েছেন। নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিলাম।” উপাচার্যের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় অনশনকারী মো. সাদিক মুনওয়ার মুনেম বলেন, “স্যার, আমি আপনাকে বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করছি। কারণ আপনি এটাকে রাজনৈতিক ইস্যু বলছেন, কিন্তু এটি গণমানুষের দাবি। আমরা এর নিন্দা জানাচ্ছি। এটি মানবাধিকারের ইস্যু। আপনি আপনার নৈতিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আমাদের সঙ্গে বসে থাকুন এবং সরকারকে জানান, যাতে এগুলো বাস্তবায়ন করা হয়। আপনি চলে যাবেন না।” অনশনস্থল ত্যাগের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য জানান, তিনি শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙার জন্য অনুরোধ করেছেন এবং তাদের দাবিগুলো সরকারের কাছে পৌঁছে দেবেন। উপাচার্য চলে যাওয়ার পর মুনেম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা প্রায় ৫৭-৫৮ ঘণ্টা ধরে অনশন করছি। এত সময় পর উপাচার্য মহোদয় ক্যাম্পাসে এলেন। তিনি আমাদের বাবার মতো, কিন্তু এখানে এসে মাত্র দুই-তিন মিনিট অপেক্ষা করে চলে গেলেন। তার আচরণ দেখে মনে হয়েছে, তিনি আমাদের মৃত্যু কামনা করতে এসেছেন। আমাদের দাবির প্রতি তিনি ন্যূনতম শ্রদ্ধাশীল ছিলেন না; বরং বারবার এটিকে রাজনৈতিক দাবি বলে এড়িয়ে গেছেন।” প্রসঙ্গত, গত বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে ঢাবির মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য মো. সাদিক মুনওয়ার মুনেম প্রথমে অনশনে বসেন। পরে তার সঙ্গে যোগ দেন ঢাবির ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিবুর রহমান এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইকবাল হোসেন শাহীন। এদিকে মেডিকেল টিম অনশনকারীদের শারীরিক পরীক্ষা করে জানিয়েছে, তাদের বর্তমান অবস্থা আশঙ্কাজনক। অনশন অব্যাহত থাকলে তাদের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হতে পারে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা নকলমুক্ত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কেন্দ্র সচিবদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি প্রতিটি পরীক্ষা কক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আজ শুক্রবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল (জুম) সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন। সভায় শিক্ষামন্ত্রী কেন্দ্র সচিবদের উদ্দেশে বলেন, পরীক্ষাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো ধরনের অহেতুক আতঙ্ক সৃষ্টি করা যাবে না। তবে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি কক্ষে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসি ক্যামেরা) স্থাপন করতে হবে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময়ও যেন পর্যবেক্ষণ ব্যাহত না হয়; সেজন্য বিকল্প হিসেবে আইপিএস ব্যবহারের ব্যবস্থা নিতে হবে। নকল প্রতিরোধের বিষয়ে নিজের পূর্ব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ড. মিলন বলেন, ‘২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকদের সহযোগিতায় আমরা পাবলিক পরীক্ষায় নকল বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছিলাম। এবারও শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নকলমুক্ত পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’ দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষকদের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের পূর্বেও আমি নিরাপত্তা দিয়েছি; এবারও দেব। আপনারা কোনো ভয় না পেয়ে নির্ভয়ে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।’ খাতা মূল্যায়নের বিষয়ে পরীক্ষকদের সতর্ক করে মন্ত্রী বলেন, খাতায় যা লেখা থাকবে, কেবল সঠিক উত্তরের ভিত্তিতেই নম্বর দিতে হবে। কোনোভাবেই অতিরিক্ত বা কম নম্বর দেওয়া যাবে না। প্রশ্নপত্র ফাঁসকে একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে। আসন্ন পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মন্ত্রী স্থানীয় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। ভার্চুয়াল সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সকল কেন্দ্র সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ক্যাম্পাসে ‘ক্লিন ক্যাম্পাস, গ্রীন ক্যাম্পাস-২০২৬’ শীর্ষক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবরি কালচার সেন্টারের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এই কর্মসূচির আয়োজন করে ঢাবির এস্টেট অফিস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ সংসদ, বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ইকোলজিক্যাল রিসার্চ এবং গ্রিন ফিউচার ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ। আরবরি কালচার সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ, এই চেতনা থেকেই আমাদের ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক জীবনে পরিচ্ছন্নতার চর্চা করতে হবে। নিজের শরীর ও পোশাক পরিচ্ছন্ন রাখতে আমরা যতটা সচেতন, চারপাশের পরিবেশের ব্যাপারেও আমাদের ঠিক ততটাই যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন।’ উন্নত দেশগুলোর উদাহরণ টেনে তিনি আরও বলেন, সেখানে মানুষ যত্রতত্র ময়লা ফেলে না; বরং নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার জন্য অপেক্ষা করে। নিয়ম মেনে চলার এই সংস্কৃতি ও মানসিকতা আমাদের সমাজেও গড়ে তুলতে হবে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশকে রোগব্যাধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, ধুলাবালি ও দূষণের কারণে নানা শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি হয়। তাই সুস্থ জীবনের জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবেশ অপরিহার্য। ঢাবি ক্যাম্পাসের পরিবেশের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এখানে তুলনামূলক বেশি গাছপালা থাকায় বেশ স্বস্তিদায়ক একটি পরিবেশ বিরাজ করে। এই পরিবেশ রক্ষা ও এর আরও উন্নয়নে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এই কর্মসূচি কেবল এক দিনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে বছরব্যাপী চলমান রাখার আশা প্রকাশ করেন উপাচার্য। একইসঙ্গে ক্যাম্পাসে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং অস্বাস্থ্যকর আচরণ পরিহারের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। আলোচনা পর্ব শেষে উপাচার্য ও আমন্ত্রিত অতিথিরা ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন।
রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজকে একটি অভিন্ন একাডেমিক কাঠামোর আওতায় এনে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল, ২০২৬’ আজ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এই আইন প্রণয়নের মাধ্যমে রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম তদারকি করা সম্ভব হবে। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বিলটি উত্থাপন করেন এবং কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। নতুন আইনে আগে প্রস্তাবিত চারটি স্কুলে সাতটি কলেজকে ভাগ করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে বলা হয়েছে, কলেজগুলো তাদের স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রাখবে, তবে একাডেমিকভাবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধিভুক্ত থাকবে। আইনটি কার্যকর হওয়ার ফলে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা পরিচালনার জন্য একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের অপেক্ষায় ছিল। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল এবং কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা মূল ক্যাম্পাস বা অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ভর্তির সুযোগ পাবে। এ ছাড়া কলেজগুলোতে কেন্দ্রীয়ভাবে এমফিল ও পিএইচডি কার্যক্রম চালু থাকবে, পাশাপাশি শিক্ষক উন্নয়ন ও উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগও থাকবে। উল্লেখ্য, এসব কলেজ আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল এবং ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আনা হয়। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একাডেমিক হয়রানির অভিযোগ তুলে পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানায়। এই আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সেই দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হলো এবং উচ্চশিক্ষা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।
ঢাকার কেরাণীগঞ্জে মাদকসেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. রাইসুল ইসলাম ও তার পিতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত আসামি এহসানুর হক মাহিমকে (২২) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। আজ শুক্রবার তাকে ঢাকার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন। এদিন ঢাকার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহমেদ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে রিমান্ড শুনানির জন্য রোববার (১২ এপ্রিল) দিন ধার্য করেন। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. রাইসুল ইসলামের কেরাণীগঞ্জ মডেল থানাধীন কালিন্দী ইউনিয়নের মাদারীপুর সড়ক-২ এলাকার বাড়ির সামনে দীর্ঘদিন ধরে আড্ডাবাজি ও মাদক সেবন করে আসছিল অভিযুক্ত মাহিম। বিষয়টি নিয়ে নিষেধ করলে তিনি বিভিন্ন সময় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেন। বৃহস্পতিবার শিক্ষক রাইসুল ইসলামের পিতা নজরুল ইসলাম (৬৭) অভিযুক্তকে আড্ডা দিতে নিষেধ করলে মাহিম ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং একপর্যায়ে মাটিতে ফেলে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। পরে লোহার রড দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করলে তা চোখের নিচে লেগে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। এ সময় তাক চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় আজ শুক্রবার শিক্ষক রাইসুল ইসলাম বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, ছাত্র-জনতার রক্তে অর্জিত বিপ্লবের সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতারণা মেনে নেওয়া হবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিপ্লবীদের সঙ্গে প্রতারণা করলে সংশ্লিষ্টদের পতন অনিবার্য। বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে ডাকসু প্রাঙ্গণে ‘জুলাই সনদ ও সংস্কার: শহীদ পরিবারের আকাঙ্ক্ষা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ডাকসুর উদ্যোগে এই ‘সংস্কার আলাপ’ সভার আয়োজন করা হয়। ভিপি বলেন, আমরা আবারও রক্ত দিতে প্রস্তুত, কিন্তু বাংলাদেশে আর কখনোই হাসিনার তৈরি করা ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রকাঠামো ফিরে আসতে দেওয়া হবে না। গত ১৬ বছর ধরে যে নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে, তা ভেঙে জুলাই সনদ ও নতুন অধ্যাদেশগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। বক্তব্যে তিনি বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, অতীতে ৭৫ ও ৯০-এর বিপ্লবের সুফল ভোগ করলেও তারা বিপ্লবীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। বর্তমান জুলাই বিপ্লবের ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গেও একই ধরনের আচরণ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। ডাকসু ভিপি আরও বলেন, যারা বিপ্লবীদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন, এই পন্থাই ভবিষ্যতে তাদের পতনের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তিনি দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ইকোনমিকস স্টাডি সেন্টারের উদ্যোগে সপ্তম ‘বাংলাদেশ ইকোনমিকস সামিট’ শুরু হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলন শুরু হয়। সাউথ ইস্ট ব্যাংকের সহযোগিতায় আয়োজিত এ সামিটে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এর উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে ইকোনমিকস স্টাডি সেন্টার থেকে প্রকাশিত দুটি জার্নালের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সামিট আয়োজনের জন্য শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানান ঢাবি উপাচার্য। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের গবেষণা জার্নাল প্রকাশ ও একাডেমিক উপস্থাপনা অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কেবল পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের এ ধরনের গবেষণাধর্মী ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হবে। শিক্ষার্থীদের এই সৃজনশীলতা সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান উপাচার্য। তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আফনান ওসমান ও জান্নাতুল ফেরদৌসের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও মধ্যে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. তৈয়েবুর রহমান, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান, সাউথ ইস্ট ব্যাংকের সিনিয়র নির্বাহী সহ-সভাপতি আবদুস সবুর খান এবং ইকোনমিকস স্টাডি সেন্টারের সভাপতি অনির্বাণ ঘোষ। উল্লেখ্য, তিন দিনব্যাপী এই সামিটে এলডিসি উত্তরণ, শ্রম, শিক্ষা ও উদ্যোক্তা এবং জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব কর্মসংস্থান নিয়ে তিনটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সিনিয়র ফেলো, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষকসহ দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা এসব প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন।
হামের প্রকোপ ও জ্বালানি সংকটের কারণে স্কুল বন্ধের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তবে অনলাইন ক্লাসের দিকে সরকার যাচ্ছে না বলে জানান তিনি। সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর শের-ই-বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এখনই অনলাইন ক্লাসের দিকে যাচ্ছে না এবং কেবিনেটও অনলাইনে ক্লাস নিয়ে বড়ভাবে চিন্তা করছে না। তিনি বলেন, আগামী জুন-জুলাই শিক্ষা নিয়ে নতুন কিছু পদক্ষেপ আসছে। সেজন্য দেশব্যাপী জেলা-উপজেলার প্রাথমিক স্কুলগুলোও পরিদর্শন করা হবে। ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষা খাতে অতীতের যে কাজগুলো আটকে আছে, সেগুলোও কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় এবং সেগুলো যাতে কার্যকর করা যায় সে লক্ষ্যে কাজ করা হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।