শিক্ষাজীবনের দীর্ঘ পথচলার ইতি টেনে নতুন জীবনের পথে পা রাখলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির হাজারো শিক্ষার্থী। আনন্দ, আবেগ আর স্মৃতির মিশেলে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির ১৩তম সমাবর্তন। ঢাকার সাভার উপজেলার বিরুলিয়ায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের প্রতিনিধি হিসেবে সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক এসএম ফয়েজ। সমাবর্তন বক্তা ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও ব্র্যাকের চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান। সমাবর্তনে স্বাগত বক্তব্য দেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. সবুর খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এমআর কবির। অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক এসএম ফয়েজ বলেন, শিক্ষার্থীরা এমন এক বাস্তবতায় প্রবেশ করছে, যেখানে জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ একসঙ্গে ধারণ করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু ডিগ্রি নয়, বিবেকবান মানুষ হওয়াটাই শিক্ষার আসল সাফল্য। সমাবর্তন বক্তা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, দেশের উন্নয়নের এই সময়ে তরুণদের কেবল চাকরিপ্রার্থী হলে চলবে না। তিনি বলেন, মধ্য-আয়ের ফাঁদ এড়াতে হলে উদ্ভাবনী চিন্তা, জ্ঞানভিত্তিক কাজ ও নৈতিক শক্তিকে সামনে আনতে হবে। এই দায়িত্ব এখন তরুণ প্রজন্মের। ড্যাফোডিলের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. সবুর খান বলেন, আজকের সমাবর্তন শিক্ষার্থীদের জীবনে একটি দায়িত্বশীল অধ্যায়ের সূচনা। তিনি বলেন, আজ থেকে গ্র্যাজুয়েটরা আর কেবল শিক্ষার্থী নয়, তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ রূপকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এমআর কবির বলেন, ড্যাফোডিলে অর্জিত শিক্ষা ও দক্ষতা শিক্ষার্থীদের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত করেছে। সমাবর্তনের আনন্দের মাঝেই ছিল বিদায়ের আবেশ। গ্র্যাজুয়েট মিশকাতুর রহমান মুমু বলেন, এই ক্যাম্পাস, বন্ধু আর হোস্টেলের দিনগুলো খুব দ্রুত শেষ হয়ে গেল। আরও কিছুদিন থাকলে হয়তো বিদায়টা এত কঠিন লাগত না। এবারের সমাবর্তনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের মোট ৪ হাজার ২০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে পাঁচজন কৃতী শিক্ষার্থী পেয়েছেন চ্যান্সেলরস গোল্ড মেডেল, চারজন চেয়ারম্যান গোল্ড মেডেল এবং তিনজন ভাইস চ্যান্সেলরস গোল্ড মেডেল। মোট গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে ৩ হাজার ৩৯১ জন স্নাতক এবং ৬২৯ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পার্শ্ববর্তী এলাকা ইসলামনগরের একটি বাসার দ্বিতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে জাবির দুই শিক্ষার্থীসহ চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধরা হলেন—জাবির নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. সাইফুল ইসলাম রনি, আব্দুস সোবহান রায়, হাসিনুর এবং রাহাত। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জাকসুর কার্যকরী পরিষদের এক সদস্য জানান, বাড়িটিতে দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে রনি তার সঙ্গী হাসিনুরকে নিয়ে সেখানে যান। একপর্যায়ে ছোট ভাই রায়হান আগে থেকেই আশপাশে ছড়িয়ে রাখা পেট্রোলে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত চারজনই দগ্ধ হন। পরে গুরুতর আহত রনি ও হাসিনুরকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। অন্য দুইজনকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দগ্ধ শিক্ষার্থী রনির পিঠ, হাত এবং একটি চোখ মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে। এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে সরকার। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে পরীক্ষা নিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ করা হবে। এতে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপারিনটেনডেন্ট ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পদে নিয়োগ পুরোপুরি মেধাভিত্তিক ও কেন্দ্রীয় পরীক্ষার আওতায় এলো। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে এ-সংক্রান্ত পরিপত্র প্রকাশ করা হয়। পরিপত্র অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন মোট ১৩ হাজার ৫৯৯টি শূন্যপদে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের জন্য শিগগিরই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, পরীক্ষার কাঠামো ও নম্বর বণ্টন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের তিন ধাপে পরীক্ষা দিতে হবে। মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এরমধ্যে লিখিত পরীক্ষা হবে ৮০, শিক্ষাগত সনদ ১২ নম্বর ও মৌখিক পরীক্ষা হবে ৮ নম্বরে। পাস নম্বর ধরা হয়েছে ৪০। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে শূন্যপদের সর্বোচ্চ তিন গুণ প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হবেন। সব ধাপের মোট নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুযায়ী ১:১ অনুপাতে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। নির্বাচিত প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পছন্দক্রম দিতে পারবেন। প্রয়োজনে ‘Other Option’-এ সম্মতি দিয়ে পছন্দের বাইরে নিয়োগের সুযোগও রাখা হয়েছে। এনটিআরসিএ নিয়োগ সুপারিশ প্রদান করবে ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি এক মাসের মধ্যে নিয়োগপত্র দিতে বাধ্য থাকবে। তবে, ফৌজদারি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত অথবা বিভাগীয় মামলায় শাস্তিপ্রাপ্ত প্রার্থীরা এই নিয়োগে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। পরিপত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সব বিধিমালা জরুরি ভিত্তিতে সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ড, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এই পরিপত্র বাস্তবায়িত হলে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে অনিয়ম কমবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের বিজ্ঞান ইউনিটের স্নাতক (আন্ডারগ্র্যাজুয়েট) প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এ ফল প্রকাশ করা হয়। এ বছর বিজ্ঞান ইউনিটে মোট ১ হাজার ৮৯১টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেন ১ লাখ ১৪ হাজার ১১৪ জন। ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন ১ লাখ ২ হাজার ৯৩ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৭ হাজার ৬২১ শিক্ষার্থী। পাসের হার ৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ। গত ২৭ ডিসেম্বর বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। উত্তীর্ণদের মধ্যে বিজ্ঞান শাখা থেকে ৭ হাজার ২১২ জন, মানবিক শাখা থেকে ৩০০ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে ১০৯ জন রয়েছেন। এছাড়া অনিয়মের কারণে ৪ হাজার ২৭৮ পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষায় রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের নাফিম ফুয়াদ ফাতিন প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। দ্বিতীয় হয়েছেন নটর ডেম কলেজের মাহির আহমেদ এবং তৃতীয় হয়েছেন নটর ডেম কলেজের নাবিদ হাসান। ভর্তি পরীক্ষার বিস্তারিত ফলাফল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি সংক্রান্ত ওয়েবসাইট admission.eis.du.ac.bd-এ পাওয়া যাবে। এছাড়া গ্রামীণফোন, বাংলালিংক বা টেলিটক মোবাইল নম্বর থেকে DU SCI লিখে ১৬৩২১ নম্বরে পাঠিয়ে ফিরতি এসএমএসের মাধ্যমে জানা যাবে ফল। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা আগামী ২৭ জানুয়ারি বিকেল ৩টা থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিস্তারিত ফরম ও বিষয় পছন্দক্রমের ফরম পূরণ করতে পারবেন। বিভিন্ন কোটায় আবেদনকারীদের আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অফিস থেকে সংশ্লিষ্ট কোটার ফরম সংগ্রহ করে যথাযথভাবে পূরণ করে ওই সময়ের মধ্যেই জমা দিতে হবে। ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য নির্ধারিত ফি প্রদান সাপেক্ষে আগামী ২৭ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অফিসে আবেদন করা যাবে। পুনঃনিরীক্ষণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জানানো হবে।
দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোতে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এ তথ্য জানান। এর আগে রোববার (২৫ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষা অফিস ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত পণ্য বিক্রি, ব্যবহার ও প্রচার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) স্বাক্ষরিত আদেশে সরকারের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ‘যৌথ ঘোষণা’ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ আদেশে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরকে ‘তামাকমুক্ত’ ঘোষণা করে প্রয়োজনীয় সাইনেজ প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি) অনুযায়ী, তামাক শিল্পের যেকোনো ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা বা প্রচারণা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। নির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্বাস্থ্যকর খাদ্য ও উচ্চ চিনিযুক্ত পানীয়ের বিপণন সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। এর পরিবর্তে স্বাস্থ্যসম্মত বিকল্পসহ ‘হেলদি ক্যান্টিন’ স্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, ক্যান্টিন বা সরবরাহকৃত খাবারে স্বল্প লবণ, স্বল্প চিনি ও ট্রান্স-ফ্যাটমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি সভা ও অনুষ্ঠানে ক্যাটারিংয়ের ক্ষেত্রে তাজা ফল, বাদাম ও স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স পরিবেশনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার শারীরিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে খেলার মাঠ নেই, সেখানে ইনডোর কার্যক্রমের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিশুদের জন্য সাঁতার শেখানোর উদ্যোগ এবং কর্মীদের জন্য প্রতি ঘণ্টায় ডেস্কভিত্তিক স্ট্রেচিং ব্যায়াম চালুর কথাও উল্লেখ রয়েছে। নির্দেশনায় সরকারি অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও বয়স্কবান্ধব অবকাঠামো নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সিঁড়ি ও র্যাম্পসহ উপযোগী নকশা বাস্তবায়ন, লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার, সাইক্লিং এবং দীর্ঘক্ষণ বসে না থাকার মতো স্বাস্থ্যবান্ধব জীবনাচার উৎসাহিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ দেওয়া হয়েছে। মাউশি জানিয়েছে, এসব নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে গৃহীত কার্যক্রমের বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়মিতভাবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বিশেষ শিক্ষা শাখায় প্রতিবেদন আকারে পাঠাতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, এ উদ্যোগের ফলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমবে এবং একটি সুস্থ ও কর্মক্ষম জাতি গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
জবির প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে উপাচার্য-কোষাধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। ছবি : কালবেলা বিশেষ বৃত্তির দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০তম ব্যাচের (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শারমীন প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত টানা ৮ ঘণ্টা অবরুদ্ধ রয়েছেন তারা। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এদিন বিকেল ৩টার দিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন। তিনি বলেন, ২০ ব্যাচ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম একটি গৌরবান্বিত ব্যাচ। প্রথম বর্ষে পুরান ঢাকার গিঞ্জি পরিবেশে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। নীতিমালা অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রথম কিস্তিতে যুক্ত করলে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা বৃত্তি থেকে বঞ্চিত হবে। কারণ চলমান পাঁচটি ব্যাচ অনুযায়ী তারা (১৫ ব্যাচ) বৃত্তি পাবে না। কিন্তু যমুনার আন্দোলনে তাদের ভূমিকা অগ্রগণ্য ছিল। তিনি আরও বলেন, আমার একার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো কিছু হবে না। এটা ১ মিনিটে নেওয়ার মতো সিদ্ধান্তও নয়। আমরা কমিটির সবার সঙ্গে আলোচনা করে যতদ্রুত সম্ভব এটা সমাধানের চেষ্টা করব। জবির প্রশাসনিক ভবনে তালা, টানা ৮ ঘণ্টা অবরুদ্ধ উপাচার্য-কোষাধ্যক্ষ বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাবে না : আদালত এর আগে সকালে আবাসন ভাতার দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ভবনের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি কলাভবন, শহীদ সাজিদ ভবন ও বিজ্ঞান অনুষদের সামনে দিয়ে প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচি চলাকালে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন। এর মধ্যে ছিল ‘২০ ব্যাচের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত, মানি না মানব না’, ‘বৈষম্যের সিদ্ধান্ত, মানি না মানব না’, ‘১, ২, ৩, ৪ বৃত্তি মোদের অধিকার’, ‘বৃত্তি মোদের অধিকার, বৈষম্যের সাধ্য কার’, ‘বৃত্তি আমার অধিকার, না দেওয়ার সাধ্য কার?’ এবং ‘জকসু ও প্রশাসন, দুই দেহ এক মন’। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ২০ ব্যাচের একটি প্রতিনিধিদল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছে বলে জানা যায়। এ বিষয়ে ইনস্টিটিউট অব মডার্ন ল্যাংগুয়েজ বিভাগের শিক্ষার্থী রাব্বি জানান, আমাদের একটি প্রতিনিধিদল কোষাধ্যক্ষ ম্যাডামের সঙ্গে আলোচনা করছে। লিখিত ছাড়া আমরা এখান থেকে যাব না।
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইআবি) অধিভুক্ত সারাদেশের ফাজিল ও কামিল মাদরাসার শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে এক বছর মেয়াদি প্রফেশনাল বিএমএড (ব্যাচেলর অব মাদরাসা এডুকেশন) এবং এমএমএড (মাস্টার্স অব মাদরাসা এডুকেশন) কোর্স চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজ রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও পরামর্শ দফতরের পরিচালক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২০ জানুয়ারি বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শামছুল আলম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৪০তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় প্রফেসর শামছুল আলম বলেন, ‘পেশাগত উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। মাদরাসা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা, যোগ্যতা বৃদ্ধি ও শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যেই এই প্রফেশনাল কোর্স দুটি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে মাদরাসা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হবেন।’ সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম ও প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান, ট্রেজারার এ এস এম মামুনুর রহমান খলিলী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব খোদেজা খাতুন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবুল বাশার মুহাম্মদ আমীর উদ্দিন, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মিঞা মো. নুরুল হক এবং বাংলাদেশ মাদরাসা টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট-এর অধ্যক্ষ প্রফেসর মাহমুদুল হকসহ সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বর্তমানে সাতটি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে তিন বছর মেয়াদি ফাজিল (পাস কোর্স), চার বিষয়ে দুই বছর মেয়াদি কামিল (মাস্টার্স) এবং সাত বিষয়ে এক বছর মেয়াদি কামিল (মাস্টার্স) কোর্স পরিচালিত হচ্ছে। নতুন এই প্রফেশনাল কোর্স দুটি চালুর মাধ্যমে মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় বিশেষায়িত উচ্চতর প্রশিক্ষণের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
তা নিক্ষেপের ঘটনায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে দুই বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে আজীবনের জন্য তার হলের আবাসিক সুবিধাও বাতিল করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে গত ১৪ জানুয়ারি জারিকৃত এক চিঠিতে জানানো হয়, ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাসনিম আহমেদকে এ শাস্তি দেওয়া হয়েছে। রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, গতবছরের ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সভার সিদ্ধান্ত নং–০৩(ক) অনুযায়ী এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৯০তম সিন্ডিকেট সভার তারিখ থেকে পরবর্তী দুই বছর তাসনিম আহমেদ সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম, ক্লাসে উপস্থিতি ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বহিষ্কৃত থাকবেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না এই মর্মে তাকে মুচলেকা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তাসনিম আহমেদ দৈনিক কালের কণ্ঠকে বলেন, গত বছর ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য কেন্দ্রীয় ইফতারের টোকেন দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে আমাদের হলের শিক্ষার্থীরা যৌক্তিক দাবি জানিয়ে আন্দোলনে অংশ নিই। আন্দোলনের এক পর্যায়ে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে কিছু ছোড়াছুড়ি হয়। সেসময় আমি জুতা নিক্ষেপ করি, তবে তা কাউকে লক্ষ্য করে ছিল না। তিনি আরো বলেন, পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শৃঙ্খলা কমিটি গঠন করে এবং আমাকে সেখানে ডাকা হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে উপস্থিত হয়ে আমি ক্ষমা প্রার্থনাও করি। আমার উদ্দেশ্য কাউকে আঘাত করা ছিল না। তবু প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতি আমি সম্মান প্রদর্শন করছি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. মিজানুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, আমি কেবল শাস্তিসংক্রান্ত চিঠির বিষয়েই বলতে পারব। ঘটনার বিস্তারিত প্রক্টর জানাতে পারবেন, কারণ তিনি শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যসচিব ও তদন্ত কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ বিষয়ে প্রক্টর মো. মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। প্রসঙ্গত, গত বছরের ১২ মার্চ হলের ইফতারে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের টোকেন না দেওয়াকে কেন্দ্র করে হল প্রভোস্টের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ইফতার বয়কটের ডাক দিয়ে প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনে নামেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৫ সালের এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমের নবম শ্রেণি সমাপনী পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের শাস্তির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তালিকা ও শাস্তির সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। গতকাল বোর্ডের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে কারিগরি বোর্ড জানায়, ২০২৫ সালের নবম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে অসদুপায় অবলম্বন করায় মোট ২৩ জন শিক্ষার্থীকে শৃঙ্খলা কমিটির মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। বোর্ডের ‘পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা-২০১২’ এর পরিশিষ্ট-গ অনুযায়ী এসব শিক্ষার্থীর অপরাধের ধরণ বিবেচনা করে শাস্তির ধারা (যেমন: ১.২, ১.৩, ১.৪ ইত্যাদি) নির্ধারণ করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। তালিকায় অন্তর্ভুক্ত শিক্ষার্থীরা ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রের অধীনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা তাদের শাস্তির ধরণ সম্পর্কে বোর্ডের নীতিমালা অনুসরণ করে বিস্তারিত জেনে নিতে পারবেন। বহিষ্কৃত এই শিক্ষার্থীদের রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং সেশন উল্লেখ করে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা ২৮ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক আবু নুর মোহাম্মদ শামসুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এতদ্বারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫ এর লিখিত পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত প্রার্থীগণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে আগামী ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ থেকে ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত জেলা পর্যায়ে মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। যে সকল জেলায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি সে সকল জেলায় একাধিক ইন্টারভিউ বোর্ডের মাধ্যমে মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত প্রার্থীগণকে অনলাইনে আবেদনের আপলোডকৃত ছবি, আবেদনের কপি, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/পৌরসভার মেয়র/সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত নাগরিকত্ব সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, লিখিত পরীক্ষার প্রবেশপত্র, মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের কোটায় আবেদনকারী প্রার্থীর ক্ষেত্রে সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুসারে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদত্ত মুক্তিযোদ্ধার গেজেট ও মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে সম্পর্ক সনদের সত্যায়িত কপি, শারীরিক প্রতিবন্ধী (সুবর্ণ নাগরিক কার্ডধারী) ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীর ক্ষেত্রে সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদত্ত সনদ; ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সিটি কর্পোরেশন এলাকা হলে জেলা প্রশাসক কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিচিতি বিষয়ক সনদ এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ন্যূনতম ৯ম গ্রেডের গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত করে ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে স্ব স্ব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আবশ্যিকভাবে জমা দিয়ে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র সংগ্রহ করতে হবে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সকল সনদ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ফটোকপি (সত্যায়িত) জমা প্রদানের সময় উক্ত কাগজপত্রের মূলকপি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রদর্শন করতে হবে। মৌখিক পরীক্ষার সময় উপরে বর্ণিত সকল সনদ, প্রাপ্তি স্বীকারপত্র ও অন্যান্য কাগজপত্রের মূল কপি প্রার্থীকে সঙ্গে আনতে হবে। মৌখিক পরীক্ষার তারিখ ও সময় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ওয়েবসাইটে ও নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করা হবে।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে ওয়েবসাইটে এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত মেধা তালিকায় ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগসমূহ এবং নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগে মূল মেধা তালিকায় ৯ হাজার ৪৯৮ জন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অন্যান্য জেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী তালিকায় ২৮ জন এবং রাখাইন সম্প্রদায়ের ২ জন স্থান পেয়েছে। স্থাপত্য বিভাগে মূল মেধা তালিকায় ৩০৩ জন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অন্যান্য জেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী তালিকায় ১ জন স্থান পেয়েছে। মেধা তালিকায় স্থানপ্রাপ্ত সকল প্রার্থীকে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে ভর্তি সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে (যঃঃঢ়ং://ধফসরংংরড়হপঁবঃ.ধপ.নফ) গিয়ে অনলাইন চয়েস ফর্মের প্রয়োজনীয় তথ্য ও বিভাগের পছন্দক্রম প্রদান করতে হবে। ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগসমূহ এবং নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের জন্য ১১টি পছন্দসহ একটি পছন্দক্রম পূরণ করতে হবে। তবে, স্থাপত্য বিভাগের ভর্তিচ্ছুদের জন্য কোনো পছন্দক্রম পূরণের প্রয়োজন নেই। মেধা তালিকায় স্থান প্রাপ্তদের মধ্য থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগসমূহ এবং নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের মূল মেধাক্রমের প্রথম ১ হাজার ২৫০ জন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অন্যান্য জেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মেধাক্রমের প্রথম ১০ জন এবং রাখাইন সম্প্রদায়ের ১ জনকে ডাকা হয়েছে। আবার স্থাপত্য বিভাগের মূল মেধা তালিকার প্রথম ১০ জন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অন্যান্য জেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেধাক্রমের ১ জনকে ডাকা হয়েছে। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রথম পর্যায়ে ভর্তির জন্য ডাকা হয়েছে। এদিন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টার মধ্যে সশরীরে নিরীক্ষা কমিটির কাছে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা প্রদান সাপেক্ষে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য বলা হয়েছে। নিরীক্ষা কমিটি দ্বারা প্রার্থীদের সনদপত্র যাচাইয়ের পর ওই দিনই শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। পরের দিন ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় প্রাপ্ত বিভাগ দেখে ভর্তির জন্য নির্ধারিত ১৮ হাজার ৫০০ টাকা সোনালী ব্যাংক চুয়েট শাখায় বিকেল ৩টার মধ্যে জমা প্রদান করে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। তবে, কোনো প্রার্থী স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে একই দিন ভর্তির জন্য নির্ধারিত ফি কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে ব্যাংকে জমা দিতে পারবে। প্রথম পর্যায়ে ভর্তির পর ভর্তিকৃত প্রার্থীর বিভাগ ও মোট শূন্য আসন সংখ্যা এবং পরবর্তী দফায় ভর্তির জন্য নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা ১ মার্চ ভর্তির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। আসন খালি থাকা সাপেক্ষে ওরিয়েন্টেশনের দিন পর্যন্ত ভর্তি প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। ভর্তি কমিটির সভাপতি অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসাইন বলেন, ‘সব প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার রেজাল্টও দ্রুততম সময়ে দেওয়া হয়েছে।’ উল্লেখ্য, গত ১৭ জানুয়ারি চুয়েটের স্নাতক প্রথম বর্ষে (২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের ভর্তি পরীক্ষায় পুরকৌশল, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল, যন্ত্রকৌশল এবং স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদসমূহের মোট ১২টি বিভাগে সংরক্ষিত ১১টিসহ মোট ৯৩১টি আসনের বিপরীতে মোট ১২ হাজার ৯৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) পরিচালিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দুগ্ধজাত গাভির দুধের মান উন্নত করতে জীবন্ত খামির এবং তিসির (তিসির বীজ) সম্পূরক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। আজ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গবেষণাগার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত "দুগ্ধজাত গাভিতে জীবন্ত খামির এবং তিসির বীজের পরিপূরক করণের মাধ্যমে দুধ উৎপাদন এবং গুণমান বৃদ্ধি" শীর্ষক কর্মশালায় এই গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি-এর আর্থিক সহায়তায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রযুক্তি ডিসিপ্লিন এই গবেষণা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। প্রকল্পের প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. সরদার শফিকুল ইসলাম তার মূল বক্তব্য উপস্থাপনায় বলেন, বাংলাদেশের গ্রামীণ পরিবারের জন্য দুগ্ধ খামার জীবিকা নির্বাহের একটি প্রধান উৎস। তবে খামার পর্যায়ে দুধের উৎপাদন এবং গুণগত মান এখনও প্রত্যাশিত মান অর্জন করতে পারেনি, যার প্রধান কারণ অপর্যাপ্ত সুষম পুষ্টি এবং আধুনিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির অভাব। তিনি ব্যাখ্যা করেন, পুষ্টিগত জৈবপ্রযুক্তি গবাদি পশুর পুষ্টিতে নতুন সুযোগ তৈরি করেছে, যেখানে জীবন্ত খামির এবং তিসির বীজের মতো প্রাকৃতিক খাদ্য সংযোজন কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। গবেষণার ফলাফল অনুসারে, জীবন্ত খামির রুমেন গাঁজন দক্ষতা বৃদ্ধি করে, হজমশক্তি উন্নত করে এবং গরুকে খাদ্য থেকে সর্বাধিক পুষ্টি আহরণ করতে সক্ষম করে। এর ফলে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, দুধের গঠন উন্নত হয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, শরীরের অবস্থা উন্নত হয় এবং প্রজনন কর্মক্ষমতা উন্নত হয়। বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায় এমন খাদ্য উপাদান তিসির বীজ উচ্চমানের তেল, প্রোটিন, ফাইবার এবং প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ। এটি ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের একটি প্রাকৃতিক উৎস, যা দুধের পুষ্টিগুণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৬০০ গ্রাম তিসির বীজের সাথে দুগ্ধজাত গরুর খাদ্যতালিকায় পরিপূরক হিসেবে দুধের উৎপাদন গড়ে ২০ থেকে ২৫ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। খুলনা অঞ্চলে পরিচালিত একটি মাঠ পরীক্ষণে দেখা গেছে, প্রতিদিন গড়ে প্রতি গরুর দুধ উৎপাদন ৮.৫৫ কেজি থেকে বেড়ে ১০.৪৮ কেজি হয়েছে। গবেষকরা আরও উল্লেখ করেছেন, তিসির বীজে উপস্থিত আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড দুধে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি করে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, বিশেষ করে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে, মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়তা করতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। এছাড়াও সম্পূরক হিসেবে দুধের প্রোটিন, চর্বি এবং মোট কঠিন পদার্থের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, যার ফলে দুধের গুণমান এবং বাজার মূল্য উন্নত হয়। বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায় এমন খাদ্য উপাদান তিসির বীজ উচ্চমানের তেল, প্রোটিন, ফাইবার এবং প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ। এটি ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের একটি প্রাকৃতিক উৎস, যা দুধের পুষ্টিগুণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. হারুনুর রশীদ খান বলেন, গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো এর ফলাফল জনগণের কল্যাণে এবং জাতীয় উন্নয়নে অর্থবহ অবদান রাখা নিশ্চিত করা। তিনি কৃষি খাতে গবেষণা বৃদ্ধির গুরুত্বের উপর জোর দিয়ে বলেন, দুধের উৎপাদন ও গুণমান উন্নত করার জন্য আরও গবেষণার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বিশেষ অতিথি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. নুরুন্নবী জোর দিয়ে বলেন, গবেষণার ফলাফল প্রান্তিক কৃষক এবং তৃণমূল পর্যায়ের সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছাতে হবে। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন কৃষি প্রযুক্তি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলাম। গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম এবং খুলনা জেলা ভেটেরিনারি অফিসার ড. সঞ্জয় বিশ্বাস বক্তব্য রাখেন।
ঢাকার সাতটি সরকারি কলেজকে একই একাডেমিক কাঠামোর আওতায় এনে উচ্চশিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জট নিরসনের উদ্দেশে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৬’ অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। আজ বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে তাঁর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই অধ্যাদেশ অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ ‘সংযুক্ত কলেজ’ হিসেবে পরিচালিত হবে। কলেজগুলোর নিজস্ব পরিচয়, অবকাঠামো এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ওপর তাদের অধিকার অক্ষুণ্ন থাকবে। অধ্যাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আচার্য, উপাচার্য, সিনেট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলসহ পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো রাখা হয়েছে। আচার্য হিসেবে মহামান্য রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করবেন এবং সিনেট মনোনীত প্যানেল থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেবেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) শিক্ষা, পরীক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিদর্শন, মূল্যায়ন ও নির্দেশনার ক্ষমতা পাবে। কলা, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, আইন এবং চারুকলাসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের পৃথক পৃথক স্কুল থাকবে নেতৃত্ব দেবেন একজন ‘হেড অব স্কুল’। সংযুক্ত কলেজগুলোতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঠদান, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিন্ন সময়সূচি ও মূল্যায়ন কাঠামো অনুযায়ী পরিচালিত হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল এবং কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা মূল ক্যাম্পাস বা সংযুক্ত কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে। কলেজগুলোতে কেন্দ্রীয়ভাবে এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রাম পরিচালনার পাশাপাশি শিক্ষক উন্নয়ন ও উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকবে। অধ্যাদেশে আবাসিক হল সুবিধা, ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম চালুর বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাস নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা বিশেষ চাহিদার ভিত্তিতে বৈষম্য ছাড়া দেশি-বিদেশি সকল উপযুক্ত শিক্ষার্থীর ভর্তি ও ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করার বিধানও সংযোজিত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়-মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ মনে করে, এই সিদ্ধান্ত সাতটি কলেজের দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে সহায়ক হবে এবং রাজধানীতে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একটি সমন্বিত, আধুনিক ও গবেষণা-সমৃদ্ধ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করবে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী শিক্ষা, গবেষণা ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে ইউজিসি নিয়মিতভাবে তদারকি করবে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে। অধ্যাদেশ অনুমোদনের ফলে ঢাকার উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় একটি নতুন ধারা সূচিত হলো, যা ভবিষ্যতে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগের নবীন বরণ আজ বৃহস্পতিবার সিরাজুল ইসলাম লেকচার হলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে। ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আশফাক হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এতে খণ্ডকালীন অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. শহিদুল হাসান স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, ইতিহাস বিভাগ আমাদের ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। প্রায় একশ’ বছর যাবৎ এই বিভাগের অ্যালামনাইরা দেশ ও জাতির কল্যাণে কৃতিত্বের সঙ্গে ভূমিকা রেখে চলেছেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত পরিবেশ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় সৌন্দর্য। তবে সেই পরিবেশের সঠিক ব্যবহার করতে হবে। নিজ পরিবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবারেও আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে। সেক্ষেত্রে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। ড. মামুন আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। সেইসঙ্গে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধার যথাযথ সদ্ব্যবহার করতে হবে। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সহ-শিক্ষামূলক কার্যক্রমে পারদর্শী হওয়ার উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে অনার্স ও মাস্টার্সের সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জনকারী ৮জন শিক্ষার্থীকে একাডেমিক রোল অব অনার প্রদান করা হয়। একাডেমিক রোল অব অনার প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন শাজিয়া খানম আনিকা, মো. বোরহান উদ্দিন, আসিয়া হোসেন মালিহা ও মায়মুনা আক্তার এবং মনীষা রানী মহন্ত, শিউলি মোল্লা, রূপম রোদ্দুর ও মাহামুদ সিকদার। এছাড়া, খেলাধুলায় অসামান্য কৃতিত্বের জন্য ২ জনকে এ্যাথলেটিক রোল অব অনার দেয়া হয়। শিক্ষার্থীরা হলেন-মো. মারুফ হাসান ও রমা বর্মণ।
রাজধানীর নয়াপল্টনের ‘শারমিন একাডেমি’ নামের একটি স্কুলে ৩-৪ বছর বয়সী এক শিশুশিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে নেটিজেনদের মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, শিশুটিকে স্কুল ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় টানাহেঁচড়ে একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। গোলাপি শাড়ি পরা এক নারী শিক্ষক শিশুটিকে টেবিলের সামনে বসিয়ে বারবার চড় মারছেন এবং ধমক দিচ্ছেন। পরে এক পুরুষ শিক্ষক শিশুর মুখের সামনে স্ট্যাপলার দেখিয়ে তাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছেন। ফুটেজ অনুযায়ী, ঘটনাটি রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে ঘটেছে। পুলিশ জানায়, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তারা ঘটনাস্থল শনাক্ত করেছে। ইতোমধ্যে স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও কয়েকজন শিক্ষককে থানায় নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তবে তারা বারবার সময় নিচ্ছেন। পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল খান জানিয়েছেন, নির্যাতনের ঘটনায় এক জনকে শনাক্ত করা হয়েছে; তিনি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক শারমিন আক্তার। এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি।
একজন কৃষকের ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের ছেলের মধ্যে শিক্ষার সুযোগে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. সালেহ হাসান নকিব। তিনি বলেন, সবার জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ এবং একই মানের শিক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও জুলাই-২৪ পরবর্তী ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। উপাচার্য বলেন, একজন কৃষকের ছেলে হয়ে জন্ম নেওয়া যেমন কোনো লজ্জার বিষয় নয়, ঠিক তেমনি একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের ছেলে হয়ে জন্ম নেওয়াও কোনো বাড়তি গৌরবের বিষয় নয়। মানুষের প্রকৃত পরিচয় নির্ধারিত হয় তার শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে। সেমিনারে তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্যের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের সন্তান রাষ্ট্রের সব সুযোগ-সুবিধা পাবে আর একজন কৃষকের সন্তান বঞ্চিত থাকবে- এমন বৈষম্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ধরনের বৈষম্য সমাজকে পিছিয়ে দেয়। শিক্ষার বর্তমান অবস্থা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ড. সালেহ বলেন, বর্তমানে শিক্ষা একটি বড় ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। পৃথিবীর অন্যতম বড় ব্যবসাগুলোর মধ্যে শিক্ষা এখন গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। শিক্ষার উদ্দেশ্য এখন অনেকাংশে মার্কেটের জন্য দক্ষ জনশক্তি সরবরাহে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। অথচ শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো মানুষের চিন্তা করার ক্ষমতা ও সচেতনতা তৈরি করা। এই সচেতনতা তৈরি না হলে শিক্ষার প্রতি আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হয় না। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র যদি সত্যিকার অর্থে সমতাভিত্তিক সমাজ গঠন করতে চায়, তাহলে কৃষকের সন্তান ও শিক্ষকের সন্তানের মধ্যে শিক্ষার মান ও সুযোগে কোনো পার্থক্য থাকতে পারে না। সুশিক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। এ সময় সেমিনারে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর মোহা. ফরিদ উদ্দীন খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক ও রাবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন।
অবশেষে প্রকাশ করা হলো আলোচিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। এতে ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) এ ফল প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় একযোগে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ফলাফল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট (mopme.gov.bd) এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে (dpe.gov.bd) পাওয়া যাবে। গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্যপদের বিপরীতে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি। পরীক্ষার কয়েক দিন আগে থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের গুঞ্জন ছড়ায়। কেউ কেউ ফাঁস হওয়া প্রশ্ন দাবি করে সেগুলো ফেসবুকে শেয়ারও করেন। পাশাপাশি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে ওঠে ‘ডিভাইস পার্টি’। তারা পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে চুক্তি করে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে নকলের সহায়তা দেয়। এ ঘটনায় ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষা দেওয়া ২০৭ জন চাকরিপ্রার্থীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে গাইবান্ধায় ৫৩ জন, নওগাঁয় ১৮ জন, দিনাজপুরে ১৮ জন, কুড়িগ্রামে ১৬ জন ও রংপুরে দুজন রয়েছেন। প্রশ্নফাঁস ও অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগে পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনেও নামেন চাকরিপ্রার্থীদের একটি অংশ। তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বলছে, প্রশ্নফাঁসের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যারা জালিয়াতির চেষ্টা করেছে, তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ কারণে পরীক্ষা বাতিলের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
চলতি বছর (২০২৬) দেশের সরকারি আলিয়া ও বেসরকারি স্বতন্ত্র এবতেদায়ি, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসায় শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক বন্ধ বাদ দিয়ে মোট ৭০ দিন ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর (২০২৫) এই ছুটি ছিল ৫৯ দিন। সে হিসেবে এবার মাদ্রাসায় ছুটি বেড়েছে ১১ দিন। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ছুটির তালিকা প্রকাশ করে। এর আগে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ তালিকাটি অনুমোদন দেয়। তালিকা অনুযায়ী এবতেদায়ি ও দাখিল স্তরের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২৫ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত। দাখিলের নির্বাচনী পরীক্ষা হবে ১১ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত। এবতেদায়ি ও দাখিলের বার্ষিক পরীক্ষা এবং আলিমের নির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৯ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। সবচেয়ে বেশি ছুটি থাকবে রমজান, শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, জুমআতুল বিদা, লাইলাতুল কদর, ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে—মোট ৩০ দিন। এ ছুটি চলবে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছুটি ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশে মোট ১৫ দিন, যা থাকবে ২৪ মে থেকে ১১ জুন পর্যন্ত। এছাড়া প্রতিষ্ঠান প্রধানের জন্য সংরক্ষিত ছুটি থাকবে ৩ দিন। হাওর অঞ্চলে বোরো ধান কাটার কারণে মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা প্রধানরা ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি থেকে সমন্বয় করে সর্বোচ্চ ১০ দিন শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখতে পারবেন। ছুটির তালিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মকর্তার পরিদর্শন বা সংবর্ধনার কারণে ক্লাস বন্ধ করা যাবে না এবং শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করানো নিষিদ্ধ। এছাড়া জাতীয় ও ধর্মীয় দিবসগুলো যথাযথভাবে পালনের জন্য আলোচনা ও অনুষ্ঠানের আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর ২ হাজার ৯৩৪ টি আসনের বিপরীতে ১ লাখ ৭ হাজার ৭১২ জন আবেদন করে। পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩ হাজার ৬১১ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৭ হাজার ৫৫৩ জন। মানবিক শাখার ৪ হাজার ১০৯ জন, বিজ্ঞান শাখার ২ হাজার ৯৮১ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ৪৬৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এছাড়া মোট পাঁচজনের পরীক্ষা বাতিল হয়েছে। এ বছর পাশের হার ৭.২৯ শতাংশ। গত ১৩ ডিসেম্বর এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ভর্তি পরীক্ষায় মানবিক শাখা থেকে মো. শাহরিয়ার শিমুল, বিজ্ঞান শাখা থেকে রিফাত আল রাফি এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে মো. আবির আহমেদ রোহান প্রথম স্থান অধিকার করেছে। পরীক্ষার বিস্তারিত ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে জানা যাবে। এছাড়া, গ্রামীণফোন, বাংলালিংক অথবা টেলিটক মোবাইল নম্বর থেকে ডিউ এএলএস <রোল> টাইপ করে ১৬৩২১ নম্বরে সেন্ড করে ফিরতি এসএমএস এ ফলাফল জানা যাবে। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা আগামী ২৭ জানুয়ারি বিকাল ৩টা থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৩টা পর্যন্ত বিস্তারিত ফরম ও বিষয়ের পছন্দক্রম ফরম পূরণ করতে পারবে। বিভিন্ন কোটায় আবেদনকারীদের আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কোটার ফরম সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অফিস থেকে সংগ্রহ ও যথাযথভাবে পূরণ করে উক্ত সময়ের মধ্যে ডিন অফিসে জমা দিতে হবে। ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য ফি প্রদান সাপেক্ষে ২১ থেকে ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অফিসে আবেদন করা যাবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের ৩৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ ও ৩২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার আনোয়ারুল আজিম চৌধুরী লেকচার গ্যালারিতে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. শাকিলা নার্গিস খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. এনামুল হক বিশেষ অতিথি এবং প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. ইশতিয়াক মাহমুদ সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। সহকারী অধ্যাপক ড. সামিনা মমতাজ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী অংকিতা সাহা এবং ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আরাফাত ইসলাম। শিক্ষা ও গবেষণায় অসামান্য অবদানের জন্য বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক ড. মো. আনিছুর রহমান খানকে অনুষ্ঠানে সম্মাননা প্রদান করা হয়। প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ নবীন শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, কঠোর প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা দেশ সেরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। সেইসঙ্গে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। যেকোন সমস্যায় পড়লে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা নিজের অধিকার অর্জনের যেমন চেষ্টা করবে, তেমন অন্যের অধিকার সংরক্ষণের ব্যাপারেও সচেষ্ট থাকবে। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমে পারদর্শী হওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
চার সপ্তাহের জন্য সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর জের ধরে উত্তাল হয়ে উঠেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে শাকসু নির্বাচন স্থগিত চেয়ে স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থীর করা একটি রিটের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন হাইকোর্টে। এর প্রতিবাদে প্রশাসনিক ভবন-১ এ তালা ঝুলিয়ে মঙ্গলবার শাকসু নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ চালিয়ে যান শিক্ষার্থীরা। পরে দুপুর সোয়া ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে প্রায় ৩ ঘণ্টা সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের অবরোধ প্রত্যাহার করে প্রশাসনের ভবন ঘেরাও করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এদিকে দুপুর থেকে রাত রাত ৮টা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন ও রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদিরসহ ভবনে কর্মরত কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ের সামনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। পরে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের সাথে বৈঠকে বসছেন। নির্বাচনের একদিন আগে বিএনপিপন্থি ৮ জন শিক্ষক নির্বাচন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেছেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বের হতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক আশরাফ উদ্দিন। এ সময় ‘দালাল, দালাল, ভুয়া-ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে শিক্ষকের পেছন-পেছন গিয়ে একটি দোকানে নিয়ে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ ২৮ বছর পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিতের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াত নেতারা। এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিতের জন্য হাইকোর্টে রিট করা শিক্ষার্থী ভিপি প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভে ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেল’, ছাত্রদল সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের একাংশ, ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেল, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এদিকে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার বিকেলে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে এ আবেদন করা হয়। আবেদনে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সাদ্দাম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘যথাসময়ে এই আবেদনের ওপর শুনানি হবে।’ অবরোধ প্রত্যাহার করে স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী ফয়সাল হোসেন কালবেলাকে বলেন, ‘আমরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেছি। প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বসব। পরে আমাদের সিদ্ধান্ত জানান। এদিকে, সোমবার দুপুরে শাবিপ্রবির সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের শিক্ষক মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনের একদিন আগে বিএনপিপন্থি ৮ জন শিক্ষক নির্বাচন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেছেন। জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। এ সময় অন্য শিক্ষকদেরও দায়িত্ব পালন না করার আহ্বান করেন তিনি। অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দীন বলেন, আমরা এখানে জাতীয়তাবাদী শিক্ষকরা এখানে আছি। শাবিপ্রবির নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও সবার অংশগ্রহণে হয়, সে জন্য চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছি। ৫ আগস্টের পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা হল দখল করা হলো। হলে ওঠার জন্য একটা নীতিমালা তৈরি করে আবার তারাই সেই নীতিমালা বাতিল করে দিয়েছে। ইউটিএলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলো, নির্বাচন বন্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এখন নির্বাচন বন্ধে তাহলে শিক্ষকদের একটা অংশই ষড়যন্ত্র করছে। আমাদের এই ট্যাগিং দেওয়া হয়েছে। আমরা যদি নির্বাচন পরিচালনা করি, তাহলে জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের দোষ দেওয়া হবে। সবশেষে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি বলেন, ইলেকশন কমিশন গঠন হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তন হয়েছে। উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী এককভাবে তারিখ ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন গঠন হয়েছে। তিনি ১৫ জনের নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। বিএনপিপন্থি শিক্ষকেরা নির্বাচনের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বক্তব্য বা বিবৃতি দেন নাই। গত ৫ তারিখ শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটা চিঠি আসে। নির্বাচন স্থগিত করতে অনুরোধ করা হয়। এই চিঠির বিষয়ে আমরা শিক্ষকরা জানি না। আমরা আশা করছিলাম উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। শিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী দেলোয়োর হাসান শিশির বলেন, শাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রশাসন কি রকম ভূমিকা রাখে তা আমরা দেখছিলাম কিন্তু তারা কোনো কার্যকর ভূমিকা দেখাতে পারেনি। নির্বাচন নিয়ে প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। তারা যদি কোন ধরনের আশ্বাস না দিতে পারে তাহলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাবো। আমাদের আন্দোলন চলমাব থাকবে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক সমন্বয়ক ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সালেহ মো. নাসিম কালবেলাকে বলেন, আমাদের সব প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে এসে একটি দলের ইচ্ছে নির্বাচন স্থগিত হয়ে গেল। আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আজ মঙ্গলবার নির্বাচন না হলে আর কবে শাকসু হবে, নাকি আরও ২৮ বছর পর নির্বাচন পরে সেটি আমরা কেউ জানি না। প্রশাসন শুরু থেকেই নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করেছে, আমরা প্রতিবাদ করে নির্বাচনের তারিখ আদায় করেছিলাম কিন্তু এটিও আর হলো না। এদিকে, সোমবার বিকেলে নগরীতে শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে সিলেট মহানগর ছাত্রশিবির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে করেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।