অন্যান্য

রমজানে হাইস্কুল বন্ধের হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করলেন আপিল বিভাগ

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬

পুরো রমজান মাসে সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

 

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এ আদেশ দেন।

 

এদিন, রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক। তাকে সহযোগিতা করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মারিয়া তানজিমা।

 

উল্লেখ্য, রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ পুরো রমজান মাসে সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. ইলিয়াস আলী মন্ডল, অ্যাডভোকেট তানজিনা ববি লিজা।

 

এছাড়া, পবিত্র রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মন্ডল। ৫ জানুয়ারি তিনি সরকারের কাছে আইনি নোটিশ পাঠান।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
৭ ইসলামি দলের প্রস্তাব হেফাজতের কাছে, কী আছে সেই রূপরেখায়?

হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে কওমি ধারার সাত ইসলামি দলকে নিয়ে নতুন রাজনৈতিক ঐক্যের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তাতে সাত দলই তাদের প্রস্তাবনা ও রূপরেখা জমা দিয়েছে। তবে এসব প্রস্তাবনায় কী কী বিষয় রয়েছে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি হেফাজত বা সংশ্লিষ্ট কোনো দল।   সাত দলের মহাসচিব ও দায়িত্বশীল নেতাদের বক্তব্যে জানা গেছে, ঐক্যের আদর্শিক ভিত্তি, অন্য রাজনৈতিক জোটের সঙ্গে সম্পর্ক, নির্বাচন ও রাজনৈতিক কর্মকৌশল, নেতৃত্ব কাঠামো, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নতুন দলকে যুক্ত করার প্রক্রিয়া নিয়ে দলগুলো পৃথক প্রস্তাব দিয়েছে।   গত ১৬ জুলাই হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে সাত ইসলামি দলকে নিয়ে ঐক্যের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সাধারণ রাজনৈতিক জোটের বাইরে ইসলামপন্থিদের স্বতন্ত্র একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলাই ছিল এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। এর অংশ হিসেবে দলগুলোকে ৩ আগস্টের মধ্যে হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর কাছে জোট গঠনের রূপরেখা জমা দিতে বলা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাত দলই তাদের প্রস্তাবনা জমা দিয়েছে।   দলগুলোর বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মোটামুটি অভিন্ন অবস্থান থাকলেও এর কাঠামো ও রাজনৈতিক চরিত্র নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। কেউ অন্য রাজনৈতিক জোটের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে নতুন প্ল্যাটফর্মে থাকার পক্ষে, আবার কেউ অন্য জোটে থেকেও নতুন ঐক্যের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ রাখতে চায়। একইভাবে কেউ জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে, আবার কেউ নির্বাচনকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত নিজ নিজ দলের এখতিয়ারে রাখার কথা বলেছে।   আদর্শিক ভিত্তি কী হবে? সাত দলের প্রস্তাবনায় সবচেয়ে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে আদর্শিক সামঞ্জস্যের বিষয়টি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং ইসলামী ঐক্যজোটের বক্তব্যে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা ও আদর্শকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি এসেছে।   ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, রাজনৈতিক ও ধর্মীয়ভাবে কাছাকাছি দৃষ্টিভঙ্গি, হাক্কানি উলামায়ে কেরামের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা পোষণের কারণে প্রাথমিকভাবে নিবন্ধিত সাতটি ইসলামি রাজনৈতিক দল এই ঐক্যে থাকবে।   জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা বলেন, তাদের রূপরেখায় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের নীতি ও আদর্শের ওপর অবিচল থাকাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আদর্শিক কোনো আপত্তি বা মতপার্থক্য থাকলে সম্পৃক্ত না থাকার বিষয়েও দলটির অবস্থান রয়েছে।   বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মহিউদ্দীন বলেন, জোটে অন্তর্ভুক্ত হতে হলে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা ও আদর্শ অনুসরণ করতে হবে। কোনো দলের নীতি, আদর্শ বা কর্মকাণ্ড আকিদাবিরোধী হলে উপদেষ্টা পরিষদ সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার রাখবে।   ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী বলেন, যেহেতু এটি ইসলামি দলগুলোর ঐক্য, তাই আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা এখানে প্রাধান্য পাবে। কেউ তা লঙ্ঘন করলে ঐক্যে থাকতে পারবে না।   তবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস ও নেজামে ইসলাম পার্টি এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব প্রকাশ্যে জানায়নি।   অন্য জোটে থাকা যাবে কি না? নতুন ঐক্যের সঙ্গে অন্য রাজনৈতিক জোটের সম্পর্ক থাকবে কি না, এ প্রশ্নেই সাত দলের মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে।   ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রস্তাবনায় অন্য কোনো রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে সমঝোতা বা ঐক্য বজায় না রাখার কথা বলা হয়েছে। দলটির নেতা শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, ঐক্যে যুক্ত দলগুলো নিজেদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলেও অন্য কোনো রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে সমঝোতা বা ঐক্য করতে পারবে না।   অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনে করছে, সাত দলের ঐক্য হলেও তাদের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানে এর প্রভাব পড়বে না। দলটির মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, রাজনৈতিক ও নির্বাচনকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যেক দলের নিজস্ব এখতিয়ার থাকা উচিত।   দলটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন বলেন, কোনো রাজনৈতিক জোটে থাকা অবস্থাতেও ইসলামি দলগুলো ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করতে পারে। হেফাজতের পক্ষ থেকেও তাদের বর্তমান জোট ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।   এর বিপরীত অবস্থান খেলাফত মজলিসের। দলটির নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমি বলেন, হেফাজতের আহ্বানে গঠিত নতুন জোটের কোনো দল একই সঙ্গে অন্য জোটে থাকলে নতুন করে একত্রিত হওয়ার উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।   বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনও অন্য বড় রাজনৈতিক দল বা জোটের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করে নতুন জোটে শরিক হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।   নির্বাচন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে সাত দল কীভাবে অংশ নেবে, সেটিও প্রস্তাবনাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।   ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। দলটির নেতা শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, সমঝোতার ভিত্তিতে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।   অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নির্বাচনকেন্দ্রিক সিদ্ধান্তকে নিজ নিজ দলের এখতিয়ারে রাখার পক্ষে।   খেলাফত মজলিসও দলগুলোর নিজেদের রাজনৈতিক কৌশল নিজেরাই নির্ধারণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দলটির নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমি বলেন, পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে প্রত্যেক দল নিজেদের চলার পথ ও কৌশল নির্ধারণ করবে।   বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রস্তাবনায়ও নতুন জোটকে দেশের রাজনীতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখার উপযোগী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   এ বিষয়ে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোট ও নেজামে ইসলাম পার্টির প্রস্তাব এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।   নেতৃত্ব কীভাবে হবে? নতুন জোটের নেতৃত্ব কাঠামো নিয়েও একাধিক দলের প্রস্তাবনায় পৃথক পরিকল্পনা রয়েছে।   ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ স্থায়ী একক নেতৃত্বের পরিবর্তে সাত দলের শীর্ষ নেতাদের সম্মানজনক অবস্থান এবং লিয়াজোঁ কমিটির মাধ্যমে কর্মসূচি ও নীতি নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে। প্রত্যেক দল থেকে দুজন করে প্রতিনিধি নিয়ে লিয়াজোঁ কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে।   বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন স্থায়ী বা নির্দিষ্ট দায়িত্বশীল না রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। দলটির প্রস্তাব অনুযায়ী, জোটের বিভিন্ন কর্মসূচি ও বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর আমিররা পর্যায়ক্রমে নেতৃত্ব দেবেন।   জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের পক্ষ থেকে নির্দিষ্টসংখ্যক সদস্য নিয়ে একটি বিশেষ ফোরাম গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জোটের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনও প্রতিটি শরিক দল থেকে দুজন বা তিনজন প্রতিনিধি নিয়ে সমন্বয় কমিটি বা মজলিসে শূরা গঠনের প্রস্তাব করেছে।   তবে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস ও ইসলামী ঐক্যজোটের নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।   নতুন দল যুক্ত করার প্রক্রিয়া নতুন কোনো দল বা সংগঠনকে ঐক্যে যুক্ত করার বিষয়েও কয়েকটি দলের প্রস্তাবনায় নির্দিষ্ট কাঠামো রয়েছে।   ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, নতুন কোনো রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক সংগঠনকে ঐক্যে যুক্ত করতে হলে সাত দলের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হবে।   বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনও এককভাবে নতুন কোনো দলকে যুক্ত করার বিপক্ষে। দলটির প্রস্তাব অনুযায়ী, শূরা সদস্য ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ আলোচনার মাধ্যমেই নতুন দল অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।   অন্য দলগুলোর এ বিষয়ে প্রস্তাব এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।   হেফাজতের ভূমিকা কতটা থাকবে? হেফাজত এই ঐক্যপ্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী বা তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কতটা ভূমিকা রাখবে, সে বিষয়েও দলগুলোর প্রস্তাবনায় ভিন্নতা রয়েছে।   ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রস্তাবনায় হেফাজতের মধ্যস্থতায় ঐক্যের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনও হেফাজতের তত্ত্বাবধান বা নিগরানিতে ঐক্যের পক্ষে।   খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের চলার পথ ও কৌশল নিজেরাই নির্ধারণ করা উচিত।   তবে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও ইসলামী ঐক্যজোটের এ বিষয়ে অবস্থান এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।   শর্ত ভাঙলে কী হবে? ঐক্যের শর্ত ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট দলের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়েও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রস্তাবনায় কাঠামোর কথা বলা হয়েছে।   দলটির নেতা সুলতান মহিউদ্দীন বলেন, কোনো দলের নীতি, আদর্শ বা কর্মকাণ্ড আকিদাবিরোধী হলে উপদেষ্টা পরিষদ সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।   ইসলামী ঐক্যজোটও আকিদা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে একই ধরনের অবস্থানের কথা জানিয়েছে।   ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রস্তাবনায় হেফাজতের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেতৃত্বশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও শর্ত রাখা হয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঐক্যের বাইরে কোনো রাজনৈতিক পক্ষকে হেফাজতের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেতৃত্বশীল ব্যক্তিরা সমর্থন দিতে পারবেন না।   মূল পার্থক্য কোথায়? সাত দলের বক্তব্যে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বড় ধরনের বিরোধ নেই। তবে ঐক্যটি কী ধরনের হবে, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।   ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাইছে রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে সাত দলের ঐক্য, জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে সমন্বিতভাবে অংশগ্রহণ এবং অন্য রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে আলাদা সমঝোতা না করা।   জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ জোর দিচ্ছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের নীতি ও আদর্শের ওপর অবিচল থাকা এবং একটি বিশেষ ফোরামের মাধ্যমে ঐক্যের কার্যক্রম পরিচালনার ওপর।   বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চাইছে সমমনা কওমিপন্থি দলগুলোর ঐক্য বজায় থাকুক, তবে রাজনৈতিক ও নির্বাচনকেন্দ্রিক সিদ্ধান্তে প্রতিটি দলের নিজস্ব এখতিয়ার থাকুক। একই সঙ্গে দলটি তাদের বর্তমান রাজনৈতিক জোটে থাকার বিষয়টিকেও নতুন ঐক্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে করছে না।   খেলাফত মজলিস চাইছে নতুন ঐক্যে যুক্ত দলগুলো অন্য কোনো জোটে একসঙ্গে না থাকুক। তবে দলগুলোর নিজেদের রাজনৈতিক কৌশল নিজেরাই নির্ধারণের পক্ষে তারা।   বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি সমমনা দলগুলোর ঐক্যের কথা বলেছে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে সক্রিয় থাকার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে।   বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন চায় হেফাজতের তত্ত্বাবধানে কওমি স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে নতুন ঐক্য গড়ে উঠুক। একই সঙ্গে অন্য বড় রাজনৈতিক দল বা জোটের সংস্রব ত্যাগ করে নতুন জোটে যুক্ত হওয়া এবং সমন্বয় কমিটি বা মজলিসে শূরার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।   ইসলামী ঐক্যজোট চায় ঐক্যের ভিত্তি হিসেবে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা প্রাধান্য পাক এবং কেউ তা লঙ্ঘন করলে ঐক্যে রাখা না হয়।   শনিবারের বৈঠকের দিকে নজর সাত দলের প্রস্তাবনার এসব বিষয় নিয়ে এখনো হেফাজতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। প্রস্তাবনাগুলো নিয়ে আলোচনা করেই পরবর্তী কাঠামো নির্ধারণের কথা রয়েছে।   হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী জানান, সাত দলের ঐক্য ও তাদের প্রস্তাবিত রূপরেখা নিয়ে দায়িত্বশীলরা বৈঠক করবেন। শনিবার ঢাকায় অনুষ্ঠেয় বৈঠকের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হতে পারে।   ফলে ওই বৈঠকেই স্পষ্ট হতে পারে, সাত দলের প্রস্তাবনার কোন কোন বিষয় গ্রহণ করা হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত উদ্যোগটি আদর্শিক সমঝোতা, নাকি একটি কার্যকর রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

শেখ হাসিনা ফিরলে বিচার নিশ্চিত করতে প্রস্তুত: আসিফ মাহমুদ

ছবি: সংগৃহীত

ছাত্রদলের শীর্ষ পদে জোর আলোচনা, এগিয়ে যাদের নাম

ছবি: সংগৃহীত

ছয় মাসে অধিকাংশ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি রিজভীর

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।। ছবি: সংগৃহীত
গণভোটের রায় কার্যকর হলে অলি আহমদ রাষ্ট্রপতি হতেন: জামায়াত

গণভোটের রায় প্রতিষ্ঠিত হলে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদ রাষ্ট্রতপতি হতেন বলে মনে করছে জামায়াতে ইসলামী।  বৃহস্পতিবার ( ১২ আগস্ট) তার পক্ষে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে এ মন্তব্য করেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। জামায়াতের এই নেতা বলেন, সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মতামত দিতে পারার কথা ছিল। গণভোটের রায় প্রতিষ্ঠিত হলে কর্নেল অলি বিপুল ভোটে বিজয়ী হতেন সাংসদদের ভোটে। গণভোটের রায় কার্যকর করলে বিএনপি বিতর্কমুক্ত থাকতে পারতো। সচিবালয়ে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ বৈঠক কাম্য নয় বলে এ সময় মন্তব্য করেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। সব তথ্য উপাত্ত সুনিপুনভাবে জমা দেওয়া হয়েছে। এ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ব্যতিক্রম। বরাবর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকেই প্রার্থী দিতে দেখা গেছে। এবার ১১ দল প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র চর্চার নতুন ধারা তৈরি করতে ১১ দল প্রার্থী দিয়েছে। হার–জিত ১১ দলের কাছে মুখ্য নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতাই মূল। বিএনপি কলা কৌশল করে সংসদে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে। 

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৩, ২০২৬
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন মির্জা ফখরুল

শরীরে জমছে প্লাস্টিকের কণা, ঝুঁকিতে গর্ভের শিশু ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ফাইল ছবি

আ.লীগের কৃপা পেতে জামায়াত সবসময় চেষ্টা করে: রিজভী

ছবি: সংগৃহীত
ঘরে বসেই থাইরয়েডের সমস্যা বোঝার সহজ উপায়

থাইরয়েডের সমস্যা এখন অনেকের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে। শরীরের ওজন হঠাৎ বেড়ে বা কমে যাওয়া, সবসময় ক্লান্ত লাগা, চুল পড়া, মাসিক অনিয়ম কিংবা হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে থাইরয়েডের সমস্যা আছে কি না, তা নিয়ে সচেতন হওয়া দরকার। থাইরয়েড হলো গলার সামনের দিকে থাকা ছোট, প্রজাপতির মতো একটি গ্রন্থি। এটি শরীরের শক্তি ব্যবহার, তাপমাত্রা, হৃদস্পন্দন, ওজনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। থাইরয়েড বেশি সক্রিয় হলে তাকে অতিসক্রিয় থাইরয়েড এবং কম সক্রিয় হলে স্বল্পসক্রিয় থাইরয়েড বলা হয়। তবে ঘরে বসে থাইরয়েডের সমস্যা পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায় না। আয়নার সামনে ঘাড় পরীক্ষা করে শুধু কিছু দৃশ্যমান পরিবর্তন বোঝা সম্ভব। নিশ্চিত হতে রক্ত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন। ঘরে বসে ঘাড় পরীক্ষা করবেন যেভাবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, কয়েকটি সহজ ধাপে ঘাড় পরীক্ষা করা যায়। প্রথমে আয়নার সামনে দাঁড়ান। ভালো আলোতে দাঁড়িয়ে গলার নিচের অংশ পরিষ্কারভাবে দেখুন। থাইরয়েডের জায়গাটি চিহ্নিত করুন। এটি চিবুকের নিচে ও কলারবোনের ওপরের দিকে গলার সামনের অংশে থাকে। ঘাড় সামান্য পেছনে হেলান। এরপর এক চুমুক পানি পান করুন। পানি গেলার সময় ঘাড়ের দিকে তাকান। গলার ওই অংশে কোনো ফোলা, পিণ্ড, উঁচু হয়ে থাকা জায়গা বা অস্বাভাবিক নড়াচড়া দেখা যাচ্ছে কি না, খেয়াল করুন। কয়েকবার পানি পান করে একইভাবে দেখুন। কোনো অস্বাভাবিকতা চোখে পড়লে নিজে থেকে সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। থাইরয়েড কম কাজ করলে থাইরয়েড কম সক্রিয় হলে শরীরের বিভিন্ন কাজ ধীর হয়ে যেতে পারে। তখন দেখা দিতে পারে—   সবসময় ক্লান্ত বা দুর্বল লাগা কারণ ছাড়াই ওজন বেড়ে যাওয়া ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা বেশি পড়া কোষ্ঠকাঠিন্য মন খারাপ বা বিষণ্নতা অন্যদের তুলনায় বেশি ঠান্ডা লাগা মাসিক অনিয়ম শরীরে শক্তি কমে যাওয়া   থাইরয়েড বেশি কাজ করলে থাইরয়েড বেশি সক্রিয় হলে শরীরের অনেক কাজ দ্রুত হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে—   কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া অতিরিক্ত ঘাম হওয়া শরীর কাঁপা অস্থিরতা বা দুশ্চিন্তা ঘুমের সমস্যা গরম সহ্য না হওয়া   যেসব লক্ষণ অবহেলা করবেন না ঘাড়ে দৃশ্যমান ফোলা বা পিণ্ড দেখা গেলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। বিশেষ করে পিণ্ড দ্রুত বড় হতে থাকলে, খাবার বা পানি গিলতে সমস্যা হলে, গলায় চাপ বা ভার অনুভূত হলে, কণ্ঠস্বর বসে গেলে কিংবা শ্বাস নিতে কষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ঘাড়ে কোনো পিণ্ড দেখা গেলেই সেটি ক্যানসার—এমন নয়। থাইরয়েডের অনেক পিণ্ড ক্ষতিকর নয়। তবে পিণ্ডের ধরন জানতে চিকিৎসকের পরীক্ষা প্রয়োজন। প্রয়োজনে আল্ট্রাসনোগ্রাম ও কোষের পরীক্ষা করা হতে পারে। কারা বেশি ঝুঁকিতে থাইরয়েডের সমস্যা যে কারও হতে পারে। তবে নারীদের মধ্যে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া ৬০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি, পরিবারে থাইরয়েড রোগের ইতিহাস থাকা ব্যক্তি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি এবং গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মের পরের সময়ে নারীদের ঝুঁকি বেশি থাকতে পারে। শরীরে আয়োডিনের ঘাটতিও থাইরয়েড সমস্যার একটি কারণ হতে পারে। কোন রক্ত পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায় শুধু ঘাড় দেখে বা লক্ষণ মিলিয়ে থাইরয়েডের সমস্যা নিশ্চিত করা যায় না। চিকিৎসকের পরামর্শে কয়েকটি রক্ত পরীক্ষা করা হয়। থাইরয়েড উদ্দীপক হরমোন পরীক্ষা: থাইরয়েড স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে কি না, তা বোঝার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। মুক্ত থাইরক্সিন পরীক্ষা: রক্তে সক্রিয় থাইরক্সিনের মাত্রা জানতে করা হয়। মুক্ত ট্রাই-আয়োডোথাইরোনিন পরীক্ষা: বিশেষ করে থাইরয়েড বেশি সক্রিয় কি না, তা বুঝতে এই পরীক্ষা করা হতে পারে। থাইরয়েড অ্যান্টিবডি পরীক্ষা: শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাইরয়েডকে আক্রমণ করছে কি না, তা বোঝার জন্য করা হয়। কোন পরীক্ষা প্রয়োজন এবং পরীক্ষার ফলাফলের অর্থ কী—তা চিকিৎসকই ঠিক করবেন। ঘরে পরীক্ষা কেন যথেষ্ট নয় ঘাড়ে কোনো ফোলা বা পিণ্ড না থাকলেও থাইরয়েডের সমস্যা থাকতে পারে। আবার ঘাড়ে সামান্য পরিবর্তন দেখা গেলেও সেটি থাইরয়েডের সমস্যা নাও হতে পারে। তাই ঘরে বসে করা পরীক্ষা শুধু প্রাথমিকভাবে সতর্ক হওয়ার একটি উপায়। কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্লান্তি, ওজনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন, মাসিকের অনিয়ম, চুল পড়া, হৃদস্পন্দনের পরিবর্তন বা অন্য কোনো উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পরিবারে থাইরয়েড রোগের ইতিহাস থাকলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে সেটি দীর্ঘদিন অবহেলা না করাই ভালো। সময়মতো পরীক্ষা করলে থাইরয়েডের সমস্যা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব।   সূত্র: এনডিটিভি

মারিয়া রহমান আগস্ট ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হেফাজতে নির্যাতন ও গুম প্রতিরোধে মানবাধিকার কমিশনের নতুন আইনের খসড়া

ছবি: সংগৃহীত

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে শিক্ষামন্ত্রীর গুরুতর অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি তাদের খেয়াল-খুশিমতো দেশ চালাচ্ছে: জামায়াত আমির

0 Comments