দীর্ঘ নয় মাস পর আগামীকাল (১ নভেম্বর) থেকে আবারও সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ভ্রমণে যেতে পারবেন পর্যটকেরা। প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারের ১২টি নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগের মতো এবারও কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজ চলবে। আইনগত কারণে উখিয়ার ইনানী থেকে কোনো জাহাজ চলাচল করবে না।
গত ২৭ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরকে পাঠানো চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
যে ১২ নির্দেশনা মানতে হবে, ২২ অক্টোবর পরিবেশ মন্ত্রণালয় জারি করা প্রজ্ঞাপনে দ্বীপে ভ্রমণ সংক্রান্ত নিম্নলিখিত নির্দেশনাগুলো দেওয়া হয়েছে,
১️. বিআইডব্লিউটিএ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া কোনো নৌযান সেন্ট মার্টিনে যেতে পারবে না।
২️. পর্যটকদের অবশ্যই বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে।
৩️. নভেম্বরে শুধুমাত্র দিনের বেলায় ভ্রমণ করা যাবে, রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ।
৪️. ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাত্রিযাপনের অনুমতি থাকবে, ফেব্রুয়ারিতে ভ্রমণ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
৫️. প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন।
৬️. রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি বা বারবিকিউ পার্টি করা নিষিদ্ধ।
৭️. কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা বিক্রি করা যাবে না।
৮️. সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
৯️. সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ মোটরচালিত যান চলাচল নিষিদ্ধ।
১০. নিষিদ্ধ পলিথিন বহন করা যাবে না।
১১️. একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক পণ্য (চিপসের প্যাকেট, চামচ, স্ট্র, ছোট বোতল ইত্যাদি) বহনে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
১২️. ভ্রমণকারীদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে অংশ নিয়েছেন ১১৪ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে জামায়াত এবং এনসিপির দুজনসহ মোট ৭৮ প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছেন— গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, বিএসপি, লেবার পার্টি, জাতীয় পার্টি, গণফোরাম, জাসদ, বাসদ (মার্কসবাদী), ইনসানিয়াত বিপ্লব, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, এনডিএম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দলের প্রায় সব প্রার্থী। এছাড়া চট্টগ্রাম-১৬ আসনের লেয়াকত আলী ছাড়া সব স্বতন্ত্র প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন। তবে জেলার দুই আসনে হারলেও বিএনপির প্রার্থীরা জামানত হারাননি। চট্টগ্রাম জেলার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ জানান, সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে প্রত্যেক প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা করে জামানত জমা দিতে হয়। কোনো প্রার্থী প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে সেই জামানত রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দপ্তর থেকে ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম-১ আসনে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তাদের মধ্যে জাসদের একেএম আবু ইউছুপ ২৫৮, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী ২ হাজার ১০৮, ইনসানিয়াত বিপ্লবের রেজাউল করিম ৭৮০, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএলের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী ২৬৯ ও জাতীয় পার্টির সৈয়দ শাহাদাত হোসেন ১ হাজার ৬৫৯ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে ০৮ জন প্রার্থীর মধ্যে বিএসপির শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ ১২ হাজার ৪১৫, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ জুলফিকার আলী মান্নান ২ হাজার ১৬৯, জনতার দলের গোলাম নওশের আলী ৩৮০, স্বতন্ত্র প্রার্থী জিন্নাত আকতার ২৭০, আহমদ কবির ২৬২, গণঅধিকার পরিষদের রবিউল হাসান ২৫১ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোয়াহেদুল মাওলা ৩০৮ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন ৫ হাজার ১৪৫ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে ৯ প্রার্থীর মধ্যে গণঅধিকার পরিষদের এটিএম পারভেজ ১৬৬, গণসংহতি আন্দোলনের জাহিদুল আলম ৩০১, নেজামে ইসলাম পার্টির জাকারিয়া খালেদ ১৯৩, ইসলামী আন্দোলনের দিদারুল মাওলা ১ হাজার ৩৩৭, কমিউনিস্ট পার্টির মো. মছিউদদৌলা ৮৩৮, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির শহীদুল ইসলাম চৌধুরী ৯২৩ ও ইসলামী ফ্রন্টের সিরাজুদ্দৌলা ৭ হাজার ২৬৭ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে ৬ প্রার্থীর মধ্যে ইসলামিক ফ্রন্টের রফিকুল ইসলাম ১২ হাজার ২২৫, ইসলামী আন্দোলনের মতি উল্লাহ নূরী ১ হাজার ৩১৯, স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমাম উদ্দিন রিয়াদ ৮৫৭ ও লেবার পার্টির আলা উদ্দিন ২০৭ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে ৪ প্রার্থীর মধ্যে গণসংহতি আন্দোলনের নাছির উদ্দিন তালুকদার ৮২৯ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে ৮ প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের আবদুল্লাহ আল হারুন ১ হাজার ৩০৭, কমিউনিস্ট পার্টির প্রমোদ বরণ বড়ুয়া ৪৪১, এবি পার্টির মো. আবদুর রহমান ১৫৮, গণঅধিকার পরিষদের বেলাল উদ্দীন ১২৯ ও জাতীয় পার্টির মেহেদী রাসেদ ৪১১ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ এমদাদুল হক ৮৮৪, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ নুরুল আলম ১ হাজার ২০৮ ভোট, এনসিপির জোবায়ারুল হাসান আরিফ ৩ হাজার ৩৪৯ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী ফ্রন্টের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ ৪ হাজার ১১০, গণসংহতি আন্দোলনের সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ ১ হাজার ৪০, ইসলামী আন্দোলনের আব্দুস শুক্কুর ৯৪১, বাসদ (মার্কসবাদী) শফি উদ্দিন কবির ৪৯৪, জেএসডির’র আবদুল মোমেন চৌধুরী ১২৮ ও ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ নঈম উদ্দীন ১১২ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর) আসনে ৯ প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আরমান আলী ৩৫৭, বাসদ (মার্কসবাদী) আসমা আক্তার ৩০৫, ইসলামিক ফ্রন্টের লিয়াকত আলী ২ হাজার ৪৪১, জাতীয় পার্টির এমদাদ হোসাইন চৌধুরী ১ হাজার ৭৯, ইনসানিয়াত বিপ্লবের সাবিনা খাতুন ৯৬০, লেবার পার্টির ওসমান গনি ১৬১ ও ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মদ জান্নাতুল ইসলাম ৩ হাজার ৮৮০ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় পার্টির আবু তাহের ১ হাজার ৪, গণফোরামের উজ্জ্বল ভৌমিক ৩০৭, বাসদ (মার্কসবাদী) দীপা মজুমদার, ২৩১, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ আবু তাহের ৫ হাজার ১২৭, গণঅধিকার পরিষদের মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন ১০৪, স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাঙ্গীর ভুঁইয়া ১৭৮, ইনসানিয়াত বিপ্লবের আজিজ মিয়া ২১০, বাসদের নিজামুল হক আল কাদেরী ১২০ ও ইসলামী আন্দোলনের মো. নুর উদ্দিন ২ হাজার ৫৫৭ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে ৮ প্রার্থীর মধ্যে এলডিপির এম এয়াকুব আলী ১১৮, ইসলামী আন্দোলনের এমএম বেলাল নুর ৯০১, জাতীয় পার্টির ফরিদ আহম্মদ চৌধুরী ৭৩২, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসাইন ২৪৩, ইনসানিয়াত বিপ্লবের আবু তালেব হেলালী ৯২৯ ও জামায়াতের মোহাম্মদ ফরিদুল আলম ২১ হাজার ৭০৭ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে ৭ প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় পার্টির আবদুর রব চৌধুরী ৪৪০, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মু. রেজাউল মোস্তফা ১৯১, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএমের মোহাম্মদ এমরান ২০৪, গণঅধিকার পরিষদের মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী ১৬৮ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে ৮ প্রার্থীর মধ্যে ইনসানিয়াত বিপ্লবের এইচ এম ইলিয়াস ১৪৯, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ আবদুল হামিদ ১ হাজার ৫৩৯, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ বাদশা মিয়া ২৯৩, স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুল হক চৌধুরী ৩ হাজার ৬৩০ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম রাহী ১ হাজার ১৬৫ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে তিন প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ২ হাজার ৯০৯ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে ৭ প্রার্থীর মধ্যে ইসলামিক ফ্রন্টের আব্দুল মালেক ৮৪৪, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এহছানুল হক ১০৫, গণঅধিকার পরিষদের আরিফুল হক ২৪৩ ও ইসলামী আন্দোলনের হাফেজ রুহুল্লাহ ৪ হাজার ৫৪ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
সদ্য অনুষ্ঠিত গণভোটের ফল প্রকাশে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ার পর তা সংশোধন করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথমে প্রকাশিত তথ্যে কয়েকটি আসনে অস্বাভাবিক কাস্টিং হার দেখানো হয়, যা নিয়ে আলোচনা শুরু হলে পরে সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। প্রাথমিক ফলাফলে জানানো হয়, দেশব্যাপী প্রায় ৬২ দশমিক ৪৭ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ এবং ২৯ দশমিক ৩২ শতাংশ ভোটার ‘না’ ভোট দিয়েছেন। অধিকাংশ আসনে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেও ১১টি আসনে ‘না’ ভোট বিজয়ী হয়। রাজশাহী-৪ আসনে অস্বাভাবিক কাস্টিং হার প্রথম প্রকাশিত তথ্যে রাজশাহী-৪ আসনে গণভোটের কাস্টিং হার দেখানো হয় ২৪৪ দশমিক ২৯৫ শতাংশ। সেখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৯ হাজার ৯০৯ জন হলেও কাস্ট ভোট দেখানো হয় ৭ লাখ ৮১ হাজার ৫২৩টি। ‘না’ ভোট ৬ লাখ ১২ হাজার ২২৯ এবং ‘হ্যাঁ’ ভোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮২ উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে ইসি সংশোধিত ফল প্রকাশ করে। সংশোধিত তথ্যে ওই আসনে কাস্টিং হার দেখানো হয় ৭২ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং কাস্ট ভোট ২ লাখ ৬ হাজার ৬১১টি। উল্লেখ্য, এই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর প্রার্থী আবদুল বারী সরদার। সিরাজগঞ্জ-১ আসনেও গরমিল একই ধরনের অসঙ্গতি দেখা যায় সিরাজগঞ্জ-১ আসনে। প্রথমে সেখানে গণভোটের কাস্টিং হার দেখানো হয় মাত্র ৭ দশমিক ৮৯৯ শতাংশ, যা একই দিনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের হার (৬০ দশমিক ৮৩ শতাংশ) থেকে অনেক কম। জাতীয় ফলাফলেও সংশোধন ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন প্রশ্নে আয়োজিত এ গণভোটে প্রথমে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে মোট ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ এবং ‘না’-এর পক্ষে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ ভোট দেখানো হয়। ২৯৯টি সংসদীয় আসনে গড় কাস্টিং হার প্রকাশ করা হয়েছিল ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। পরে সংশোধিত ফলাফলে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৬৬০ এবং ‘না’-এর পক্ষে ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ ভোট দেখানো হয়। একই সঙ্গে গড় কাস্টিং হার ৬০ দশমিক ৮৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। ইসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে তথ্য প্রদর্শনে এসব অসঙ্গতি দেখা দিয়েছিল, যা যাচাই-বাছাই শেষে সংশোধন করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটে পরিবর্তনের পক্ষে অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছে। দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত এই গণভোটে মোট প্রদত্ত ভোটের হার ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। আজ শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে এ ফলাফল ঘোষণা করেন ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। ফলাফল বিস্তারিত তুলে ধরে ইসি সচিব জানান, গণভোটে পরিবর্তনের পক্ষে অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন ভোটার। অন্যদিকে, বিপক্ষে অর্থাৎ ‘না’ ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন। সংসদ নির্বাচনের তুলনায় গণভোটে ভোটের হার কিছুটা বেশি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ, কিন্তু গণভোটে তা ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। এর কারণ হলো, আদালতের নির্দেশনায় চট্টগ্রামের দুটি সংসদীয় আসনের (চট্টগ্রাম ২ ও ৪) ফলাফল স্থগিত থাকলেও সেখানে গণভোটের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। ফলে ওই দুই আসনের ভোটও গণভোটের সার্বিক ফলাফলে যুক্ত হয়েছে।’ গেজেট প্রকাশ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল আলাদাভাবে নয়, বরং একটি সমন্বিত গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে চূড়ান্ত ফলাফলের হার্ডকপি পাওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।