অন্যান্য

ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীকে নিজেই জেরা করার অনুমতি চাইলেন জুনাইদ আহমেদ পলক

মারিয়া রহমান জুন ২৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাক্ষীকে নিজেই জেরা করার অনুমতি চেয়েছেন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।


বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে তিনি এ অনুমতি চান।

 

এ মামলার আরেক আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে সপ্তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া কবির হোসেন মৃধার জেরার নির্ধারিত দিন ছিল আজ। তবে আরও কিছু সময় দেওয়ার প্রার্থনা করেন পলকের আইনজীবী লিটন আহমেদ।

 

তিনি ট্রাইব্যুনালকে বলেন, আইনজীবী আমিনুল গণি টিটোর মৃত্যুর পর মুনসুরুল হক চৌধুরীকে এ মামলায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ব্যক্তিগত কারণে তিনি আজ আসতে পারেননি। এজন্য আমরা সময় চাই। কিন্তু তার আবেদনটি মঞ্জুর করেননি ট্রাইব্যুনাল।

 

কার্যতালিকায় থাকা আরেকটির কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর এ মামলার সাক্ষীর জেরা শুরু করতে বলা হয়। সেই অনুযায়ী দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে জয়-পলকের মামলার জেরার কাজ শুরু হয়। 

 

এ সময় পলককে ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষে থাকা আসামির কাঠগড়ায় তোলা হয়। কাঠগড়ায় উঠেই সাক্ষীকে নিজে জেরা করার অনুমতি চান তিনি।

 

ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে পলক বলেন, মাননীয় আদালত, আমি জেরা করার অনুমতি চাই। এ পর্যায়ে পলকের আইনজীবী লিটনও জানান, তার মক্কেল ১৫ মিনিট জেরা করতে চান। কিন্তু এতে আপত্তি জানান প্রসিকিউশন। 

 

প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান বলেন, আইনে এ সুযোগ নেই। শুধুমাত্র আসামির আইনজীবীই জেরা করতে পারেন।

 

তখন আইনজীবী লিটন বলেন, পলক নিজেও একজন আইনজীবী। তিনি আইন সম্পর্কে ভালো জানেন। 

 

এরপরও অনুমতি না মেলায় কবির হোসেনকে জেরা শুরু করেন লিটন আহমেদ।

 

জেরায় আইনজীবীর প্রশ্নে কবির বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর আমি বিজয় মিছিলে অংশ নেইনি। ওই দিন রাতে হাসপাতালে পৌঁছে আমার ছেলেসহ আরও আটজনের লাশ দেখতে পাই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে একটি কাগজ দিয়েছিল।

 

এ সময় সাক্ষীর উদ্দেশে আইনজীবী লিটন বলেন, বিজয় মিছিলে আনন্দ প্রকাশের কারণে গোলাগুলি হয়। সেই গুলিতেই আপনার ছেলে মারা গেছেন।

 

প্রশ্নটি পুরোপুরি বুঝতে না পেরে সাক্ষী প্রথমে হ্যাঁ জবাব দেন। তখন প্রসিকিউশন থেকে পুনরায় জিজ্ঞেস করতে বলা হয়। কিন্তু কাঠগড়ায় বসে আপত্তি জানিয়ে পলক বলেন, প্রসিকিউশন নিজে সাক্ষ্য দিলে কীভাবে সম্ভব।

 

এরপর সাক্ষী কবির বলেন, ৫ আগস্ট আমার ছেলে পুলিশ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়। এ পর্যায়ে জেরার কার্যক্রম অসম্পন্ন রাখেন আইনজীবী লিটন আহমেদ।  

 

ঠিক তখনই ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে পলক বলেন, মাননীয় আদালত, আমি বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করতে চাই যে, সর্বশেষ সংশোধিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বি থেকে ই পর্যন্ত পড়েছি। এখানে আসামি নিজেই মামলা পরিচালনা করতে পারেন। আমরা ন্যায়বিচারের স্বার্থে সহায়তা করতে চাই। আইনি সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। তবে আমাদের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো মারা গেছেন। তাকে হারিয়ে নাবিকবিহীন নৌকার মতো চলছি। এজন্য কিছু অধিকার দিলে মামলায় আমিও কাজ করতে চাই। একইসঙ্গে প্রিভিলেজ কমিউনিকেশনের জন্য সহায়তা চাই।

 

পরে পলকের সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় কথা বলার জন্য মৌখিক আবেদন করেন আইনজীবী লিটন আহমেদ। একপর্যায়ে তাকে আধাঘণ্টা সময় দেন ট্রাইব্যুনাল।

 

এর আগে, ১৫ জুন সাক্ষ্য দেন কবির হোসেন। তিনি শহীদ সানজিদ হোসেন মৃধার বাবা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট উত্তরার বিএনএস এলাকায় বিজয় মিছিলে অংশ নিয়ে প্রাণ হারান তার ছেলে।

 

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মার্জিনা রায়হান, মামুনুর রশিদসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
শিক্ষা ও সংস্কৃতির সঠিক মিলন না হলে সভ্যতা গড়ে উঠবে না: বিএনপি এমপি ফজলুর রহমান

মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতার সঙ্গে অন্য কারও সম্মানী ভাতার কোনো তুলনা হতে পারে না—এমন মন্তব্য করে বিএনপির সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের মাসিক ভাতা ২০ হাজার টাকা, ঠিক আছে। মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা এক টাকা হলেও বাড়াতে হবে।   আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে ফজলুর রহমান এ দাবি জানান।   বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ২০ হাজার টাকা অপরিবর্তিত রাখা এবং খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা, যেমন বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম, বীর প্রতীকদের ৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।   ফজলুর রহমান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানকে তিনি শ্রদ্ধা করেন। জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের মাসিক ভাতা ২০ হাজার টাকা। এটাকে সমর্থন করে তিনি বলেন, অন্যান্য ক্যাটাগরিতে আহতদের ২০–১৫–১০ হাজার টাকা রাখা হয়েছে।   ফজলুর রহমান বলেন, কোনো কারণেই মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতার সঙ্গে অন্য কারও সম্মানী ভাতার কোনো তুলনা হতে পারে না। যদি হয়, তাহলে এ জন্য পাঁচ বছর পরে খেসারত দিতে হবে। কারণ, বিএনপির যাঁরা সংসদ সদস্য হয়েছেন, তাঁদের ৯৯ শতাংশকে শেষ পর্যন্ত বলতে হয়েছে, ‘আমরা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের দল, আমরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে।’ বিরোধী দলের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আর তারা বলছে তারা জুলাইয়ের পক্ষে এবং সৎ নেতৃত্বের পক্ষে, সৎ রাজনীতির পক্ষে।   সরকারি দলের উদ্দেশে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা আর জুলাই যোদ্ধা, আমি জুলাই যোদ্ধাকে অসম্মান করছি না; কিন্তু মুক্তিযোদ্ধার সাথে কাউকে তুলনা করলে কিন্তু ভবিষ্যতে পাঁচ বছর পরে আর উত্তরটা দিতে পারবেন না।’   শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাবকে সমর্থন করে সংস্কৃতিতেও বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, ভাত এবং তরকারির যেমন সম্পর্ক, শিক্ষা এবং সংস্কৃতির ঠিক তেমন সম্পর্ক। একটাকে অনাহারে রেখে আরেকটা সুস্থভাবে চলতে পারে না। শিক্ষার সঙ্গে সংস্কৃতির সঠিক মিলন না হলে সভ্যতা গড়ে উঠবে না।   এ সময় নিজের শৈশবে ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং বিভিন্ন গ্রামীণ সংষ্কৃতিক চর্চার কথা তুলে ধরেন ফজলুর রহমান। কারও নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, তাদের নাটক, ফুটবল খেলা পছন্দ না।   আর্জেন্টিনার খেলা দেখা যাবে না, ব্রাজিলের খেলা দেখা যাবে না—এমনও বলা হচ্ছে, উল্লেখ করে ফজলুর রহমান বলেন, তারা মধ্যযুগে ফেরত নিতে চায়, বর্বরতার দিকে নিয়ে যেতে চায়।   সেই বর্বরতার দিকে কি আমরা যাব?—এমন প্রশ্ন রেখে ফজলুর রহমান বলেন, না গেলে তাদের সঙ্গে পার্থক্য রাখতে হবে।   ফজলুর রহমান বলেন, মেসি ও রোনালদোকে যদি ঢাকা আনা হয় এবং যদি ফ্রেন্ডলি খেলা (প্রীতি ম্যাচ) হয়, তাহলে একজন মানুষ একদিন খেলা দেখতে যাবে। দ্বিতীয় দিন আর যাবে না।   বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, পার্লামেন্টে যে গেমটা হচ্ছে, এই গেমটা চললে কিন্তু কিছু দিন পরে মাঠ খালি পড়ে থাকবে।   গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রামমন্দির ও মূর্তি নির্মাণের প্রতিবাদে প্রতিদিন স্লোগান হচ্ছে উল্লেখ করে ফজলুর রহমান বলেন, ‘তাদের পোশাকটা দেখলেই বুঝি আমি, তারা কারা। সেই পোশাকি লোকজনের সংখ্যা এখন বেড়ে গেছে। এমন বাড়া বাড়ছে যে তারা পৃথিবীর কোনো সভ্যতা, সংস্কৃতি, কোনো কিছু শুনতে চায় না। কোনো কথা শুনতে চায় না। ধর্মকে নিয়ে শুধু ব্যবসা করতে চায়। তারা হল ধর্ম ব্যবসায়ী।’   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, সরকার যদি মনে করে সেখানে মন্দির বা রামমূর্তি নির্মাণ করা ঠিক হবে না, তাহলে বন্ধ করে দিতে পারে।   ফজলুর রহমান বলেন, ‘কিন্তু আমি মনে করি, ওই ১০০ না, ৩০০ মন্দির মূর্তি বানাক, আমি মুসলমান, আমার কি আইলো গেল? আমি তো ওই দিকে তাকাই না। আমি প্রয়োজনে ২৫ তলা মসজিদ করব। অসুবিধা কী? ওরা মন্দিরে পূজা করবে, আমি আমার মসজিদে নামাজ পড়ব, অসুবিধা কি? এক সাথে কি আমরা থাকব না?’   ফজলুর রহমান বলেন, ‘পীর সাহেবদের দোষটা কী? কুষ্টিয়াতে কুপাইয়া মারলেন কেন? ফরিদপুরে আগুন জ্বালায়া মারলেন কেন? শাহজালালের মাজার ভাঙার জন্য আমার এক ভাই চার কোটি টাকা ঘোষণা করে কেন? এখানে মাজার থাকবে। আপনি যদি মাজারে ইচ্ছা হয় যাবেন, না হয় যাবেন না।’

মারিয়া রহমান জুন ২৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীকে নিজেই জেরা করার অনুমতি চাইলেন জুনাইদ আহমেদ পলক

ছবি : সংগৃহীত

তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর জামিন আবেদন ‘আউট অব লিস্ট’ করল হাইকোর্ট

ছবি : সংগৃহীত

বিএনপি এমপির অভিযোগের জবাবে সংসদে পদত্যাগের চ্যালেঞ্জ হাসনাতের

ছবি : সংগৃহীত
বসুন্ধরার সঙ্গে ‘আন্ডারটেবিল’ সমঝোতা হয়েছে কি না, সংসদে প্রশ্ন হাসনাতের

বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলার বিষয়ে ‘আন্ডারটেবিল’ কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না, সংসদে এমন প্রশ্ন তুলেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এই সংসদ সদস্য বলেছেন, যদি সমঝোতা না হয়ে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধা কোথায়, সেটা মানুষের সামনে প্রকাশ করতে হবে।   আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে হাসনাত আাবদুল্লাহ এ কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, বসুন্ধরার বিরুদ্ধে যাঁরা কথা বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মিডিয়া (সংবাদমাধ্যম) লেলিয়ে দেওয়া হয়।   একই সঙ্গে ঋণখেলাপি, অর্থ পাচারকারী ও ‘ফ্যাসিবাদের পক্ষে বয়ান উৎপাদনকারীদের’ বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান হাসনাত আবদুল্লাহ। বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি করনীতি, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান ও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন।   অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর প্রকাশ করা শ্বেতপত্রের কথা উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সেখানে দেখানো হয়েছে, ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। যাঁরা পাচার করেছেন, তাঁরা এখন সদর্প দেশে বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করেন।   হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা দেখেছি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বসুন্ধরার পুত্র সুবহান দেশে ঢুকার সাহস পায় নাই। আমরা দেখেছি, আনভির দেশে ঢুকার সাহস পায় নাই। কিন্তু এই সরকার নির্বাচিত হয়ে আসার পরে আমরা দেখেছি, সদর্পে এই সুবহানের পুত্র, এই ধর্ষক, দেশে ঢুকেছে।’   বসুন্ধরার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দুর্নীতি দমন কমিশন বসুন্ধরার বিরুদ্ধে মামলা করেছে আমরা দেখেছি। এই মামলার কী অগ্রগতি হয়েছে, সেটা আমরা জানতে চাই। আমরা জানতে চাই, আন্ডারটেবিল কোনো ধরনের সমঝোতা হয়েছে কি না। যদি সমঝোতা না হয়ে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধাটা কোথায়, সেটা বাংলাদেশের মানুষের সামনে প্রকাশ করতে হবে।’   হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, ‘এই বসুন্ধরা গ্রুপ, যারা বিদেশে টাকা পাচার করেছে, মানুষের সম্পদ দখল করেছে এবং মিডিয়ার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের গুম–খুন–হত্যাকে যারা বৈধতা দিয়েছে, তাদের খুঁটির জোর কোথায়, সেটা আমরা জানতে চাই।’   এনসিপির এই সংসদ সদস্য বলেন, সরকারি দলের অনেকে তাঁদের কাছে এসে দুঃখ প্রকাশ করেন। তাঁদের দলের কিছু মানুষ বসুন্ধরার পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন। যে মিডিয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেশদ্রোহী হিসেবে ফ্রেমিং করেছে, সেই মিডিয়ার পরামর্শক হিসেবে, বসুন্ধরা গ্রুপে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের অনেকেই সেখানে যুক্ত।   ঋণখেলাপি, ব্যাংক দখলকারী, গুম ও খুনের বৈধতা উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ দেখতে চান উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিশোধপরায়ণ হননি, সে জন্য সাধুবাদ। কিন্তু প্রতিশোধপরায়ষ না হওয়া আর সুবিচার নিশ্চিত না করা এক নয়।   হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা এটা উনার (প্রধানমন্ত্রী) কাছ থেকে শুনতে চাই, উনার দলের কাছ থেকে শুনতে চাই, গুম–খুনের–হত্যার উনি সুবিচার নিশ্চিত করবেন। উনি আইনের শাসন নিশ্চিত করবেন। এত দিন ধরে যারা মিডিয়াকে, নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ার মাধ্যমে এই ফ্যাসিবাদের পক্ষে যারা বয়ান উৎপাদন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে উনি সুবিচার নিশ্চিত করবেন।’   এনবিআরের সক্ষমতা বিবেচনায় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কতটা অর্জিত হবে, কীভাবে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে আনা হবে, এসব স্পষ্ট নয়।   বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তুলনা করে করপোরেট কর কমানোর দাবি জানান হাসনাত। কর প্রস্তাবের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিদেশিরা বাংলাদেশে ব্যবসা করতে আসবে না। আশা করা হয়েছিল, এ বাজেট বিনিয়োগবান্ধব হবে, করপোরেট কর সহনশীল মাত্রায় কমানো হবে। তা না হওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।   অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আপনি একই সাথে বলছেন, আপনি মাছ মুচমুচে করে ভাজবেন। আবার একই সাথে বলছেন, আপনি তেলটা কম দেবেন। এই যে স্ববিরোধী অবস্থানটা, এটা আমাদের সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট হতে হবে।’   নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকানে কর আরোপের পরিকল্পনা নিয়ে এনসিপির এই সংসদ সদস্য বলেন, দিন শেষে ক্রেতাদের কাছ থেকেই এই কর আদায় করা হবে। একদিকে বলা হয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমানো হবে, আবার বলা হচ্ছে ট্যাক্স বাড়ানো হবে; এটি সাংঘর্ষিক।   বিএনপি পাঁচ বছরে এক কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সে হিসাবে এই চার মাসে ছয় লাখ কর্মসংস্থান বাড়ার কথা। আদৌ কি ছয় লাখ কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে? যদি হয়ে থাকে, সেসব কর্মসংস্থান কোথায়? ‘ঋণ করে ঘি খাওয়া’র কথা উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, সরকারি দলের কিছু সদস্য এটিকে খুব ‘সিরিয়াসলি’ নিয়েছেন। কীভাবে ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়, তা বর্ণনা করে তিনি বলেন, জনগণের টাকা নিয়ে এই বিলাসিতা বন্ধ করতে হবে। ঋণখেলাপিদের ঋণখেলাপি বলতে হবে।   ঋণখেলাপিদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা লজ্জা পাই একই সংসদ একসাথে শেয়ার করার জন্য। কারণ, তারা জনগণের টাকা মেরে, যারা জনগণের টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নিয়ে ঋণখেলাপি হয়ে আবার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে আসে।’   একজন প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলায় একজন সম্পাদককে জেলে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, তাঁরাও কথা বলতে ভয় পান। কারণ তাঁরা সরকার বা মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো কথা বললে তাঁর এলাকার বাজেট যে বন্ধ করে দেওয়া হবে না, তার নিশ্চয়তা নেই।

মারিয়া রহমান জুন ২৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই স্মরণে জামায়াত জোটের ৩৬ দিনের কর্মসূচি

ছবি : সংগৃহীত

দুর্নীতিবাজদের স্বার্থেই কি সিলেট থেকে সরানো হলো ক্লিন ইমেজের ডিসি সারোয়ারকে?

ছবি: সংগৃহীত

এআই যুগে চিন্তার গভীরতা কেন আরও জরুরি: ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

ফাইল ছবি
দিল্লি বিমানবন্দর ইস্যুতে ভারতের জবাবে সন্তুষ্ট নয় ঢাকা

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে দিল্লি বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়া ব্যাখ্যাকে ‘সন্তোষজনক নয়’ অভিহিত করে ঘটনাটিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক ও দুঃখজনক’ বলে উল্লেখ করেছে ঢাকা।   বুধবার (২৪ জুন) রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা বাসসকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, এ ঘটনায় ভারতীয় পক্ষ যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, তা সন্তোষজনক নয়।   তিনি বলেন, কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে আগেই যথাযথভাবে জানানো হয়েছিল যে ডা. জাহেদ উর রহমান ভারত মহাসাগরীয় উপকূলীয় দেশগুলোর জোটের (আইওআরএ) বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।   মুখপাত্র বলেন, ‘এ বিষয়ে পূর্বেই অবহিত করার পরও দিল্লি বিমানবন্দরে তার সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তা দুর্ভাগ্যজনক ও দুঃখজনক।’   চলতি মাসের শুরুতে আইওআরএ’র একটি বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ডা. জাহেদ উর রহমানের। তবে দিল্লি বিমানবন্দরে তাকে যাত্রা অব্যাহত রাখতে বাধা দেওয়া হয়।   ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিষয়ে করা মন্তব্য সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে যে প্রত্যেক রাষ্ট্রের নিজ নিজ ভূখণ্ডে বসবাসরত সব নাগরিকের, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সমান দায়িত্ব রয়েছে।   তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ দেশের সব নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

মাত্র ৪ দিনেই হাইকোর্টে ২০ হাজারের বেশি পুরনো মামলার নিষ্পত্তি

কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগকে রুখে দিতে রাজধানীর পল্টন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে পদবঞ্চিত যুবদল নেতারা।

‘আওয়ামী লীগকে কোনোভাবেই রাজপথে বিশৃঙ্খলা করতে দেওয়া হবে না’: যুবদল নেতারা

ছবি : সংগৃহীত

ইউপি মেম্বার থেকে এমপি হওয়ার এক অবিরাম যাত্রার গল্প

0 Comments