জাতীয়

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রাম চূড়ান্তে জুরিবোর্ডের সভা

আক্তারুজ্জামান জুন ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

নবপ্রতিষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রাম নির্বাচনের লক্ষ্যে জুরিবোর্ডের এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বিডিরেন কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইস্রাফীলের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় দেশের খ্যাতিমান শিল্পী ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুস, কার্টুনিস্ট অধ্যাপক শিশির ভট্টাচার্য্য এবং চিত্রশিল্পী অধ্যাপক মো. মাকসুদুর রহমান।

 

এ ছাড়া অনলাইনের মাধ্যমে সভায় যুক্ত হন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক মির্জা ফয়সল আমিন, ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহাম্মদ শহীদ উজ জামান এবং শিক্ষাবিদ ড. শেখ মেহেদী হাসান।

 

সভায় মনোগ্রামের নকশায় ঠাকুরগাঁওয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, শিল্পভাবনা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন কীভাবে প্রতিফলিত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। জুরিবোর্ডের সদস্যরা একটি আধুনিক, নান্দনিক ও ব্যতিক্রমধর্মী মনোগ্রাম নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

 

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইস্রাফীল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রামে শিল্পশৈলী, জ্ঞানচর্চা, ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ ভাবনার সমন্বিত প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন। প্রতিযোগীদের জমা দেওয়া নকশাগুলোর মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই শেষে একটি চূড়ান্ত মনোগ্রাম নির্বাচন করা হবে।

 

তিনি আরও জানান, নির্বাচিত মনোগ্রাম শিগগিরই একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উন্মোচন করা হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

লবণ কারখানায় বিস্ফোরণ: মৃত্যু বেড়ে ৫

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় কনফিডেন্স লবণ কারখানায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ওই শ্রমিকের নাম মাহমুদুল হক (৪০)। এ দুর্ঘটনায় বর্তমানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ জনে।   বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাহমুদুল হক মারা যান। তিনি পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গোরনখাইন এলাকার মৃত খায়ের আহমদের ছেলে।   চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. রাশেদ উল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, লবন কারখানায় বিস্ফোরণে দগ্ধ মাহমুদুল হকের শরীরের প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে বার্ন ইউনিটে আনা হলে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। আজ বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি মারা যান।   গত ১৬ জুলাই সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দিদারুল আলম (৩২) ও মোহাম্মদ আলম (৪৫)। এরপর ১৯ জুলাই মারা যান নুর নবী হৃদয় (২৫) এবং একইদিন রাত মারা যান উজ্জ্বল দাশ (৫৩)।   গত ১৬ জুলাই বেলা ১১টার দিকে বোয়ালখালী পৌরসভার পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকার কনফিডেন্স লবণ কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কারখানায় শ্রমিকরা কাজ করার সময় হঠাৎ বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের এ সূত্রপাত হয়। এতে ১০ শ্রমিক দগ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি চাইলে পদত্যাগ করতে পারবেন, সেই সুযোগ আছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ঘিরে রাজনৈতিক নতুন সমীকরণ

ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিন নীতি সুরক্ষা ও জুলাই শহীদদের সম্মানে নতুন পাসপোর্ট

ছবি: সংগৃহীত
খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়া পুলিশ কর্মকর্তা ফরিদাকে ঘিরে বিতর্ক

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি চেয়ারপারসন (প্রয়াত) বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিন ডিএমপির প্রশাসন বিভাগের যুগ্ম কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর এই পদায়ন নিয়ে পুলিশের একটি অংশে আলোচনা ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।     বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার স্বীকৃতি স্বরুপ ২০ ব্যাচের কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিনকে দেওয়া হয় ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক-বিপিএম’।   অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ফরিদাকে ডিএমপিতে পদায়ন করা হয়। এরপর থেকেই তিনি ডিএমপির প্রশাসন বিভাগের যুগ্ম-কমিশনারের দায়িত্বে রয়েছেন। কারান্তরীণ ডিএমপির সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ফরিদার মাধ্যমে পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য বিদেশে পলাতক সাবেক কর্মকর্তাদের কাছে চলে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।     জানা গেছে, তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মিথ্যা মামলায় পাঁচবছরের সাজা দেওয়া হয়। এদিন পুরানো ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত প্রাঙ্গণ থেকে ঢাকা মেট্রো ঘ-১১-৭০৪৪ সাদা রঙের গাড়িতে নাজিম উদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে তাকে নেয়া হয়। খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়িটি ফরিদা ইয়াসমিনের দাপ্তরিক ব্যবহারের পাজেরো ছিল। ফরিদা তখন ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) ছিলেন; যিনি ডিসি পদমর্যাদার হলেও পাজেরো গাড়িতে চড়তেন।     রায়ের দিন কারাগারে নেওয়ার সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বসেছিলেন গাড়ির পেছনের আসনে। তাঁর পাশে বসেছিলেন গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম এবং তার পাশে ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা অতিরিক্ত ডিআইজি সালমা সৈয়দ পলি। আর পাজেরো গাড়ির সামনের আসনে ছিলেন ডিএমপির তৎকালীন ডিসি (বর্তমান যুগ্ম কমিশনার, প্রশাসন) ফরিদা ইয়াসমিন।   গত ২৮ জুন অতিরিক্ত ডিআইজি সালমা সৈয়দ পলিকে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হলেও ডিএমপিতে বহাল রয়েছেন ফরিদা।     সূত্র বলছে, ডিএমপিতে যখন যে কমিশনার এসেছে তাকে ম্যানেজ করে নিজের চেয়ার পোক্ত করে রেখেছেন ফরিদা। এই ফরিদার স্বামী আরেক পুলিশ কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম বর্তমানে পুলিশ সদরদপ্তরে ক্রাইম মেট্রো বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি। আওয়ামী লীগ সরকার তাকেও বিপিএম পদক দিয়েছে।   পুলিশ কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে চিনিকল-সংক্রান্ত উচ্ছেদ অভিযানের সময় জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। ওই অভিযানে পুলিশের গুলিতে তিনজন সাঁওতাল নিহত হন এবং পরবর্তীতে সাঁওতাল পল্লীতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।   ফরিদার স্বামী আশরাফুল পরবর্তীতে তাকে চাকরিচ্যুত না করে খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে ৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে বদলি করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিজেকে বঞ্চিত পুলিশ কর্মকর্তা দাবি করে আশরাফুল ইসলাম ঢাকায় পুলিশ সদরদপ্তরে পদায়ন করিয়ে নেন। আর তার স্ত্রী নেন ডিএমপিতে।   নথিতে পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ফরিদা ইয়াসমিন ২০১৫ সালের ১০ জুন থেকে ২০২২ সালের ১৩ জুলাই পর্যন্ত ডিএমপিতে কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিলে বিরোধী দলকে দমনে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ আছে।     পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ নথি পর্যালোচনা করে আরও দেখা গেছে, ২০১৮ সালে ৪ মার্চ ডিএমপির তৎকালীন ডিসি ফরিদা ইয়াসমিন নিজের ব্যবহৃত পাজেরোর জন্য ৪৮৬ লিটার অকটেন বরাদ্দ নিয়েছিলেন। কারণ, আগে থেকেই তৎকালীন সরকার খালেদা জিয়াকে কী সাজা দেওয়া হবে তা অবগত করেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াকে। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতিও নিতে বলা হয়েছিলো। যার অংশ হিসেবে রায় ঘোষণার আগে সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন ডিএমপি কমিশনার।   সেখানে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিতে নিজের গাড়ি ব্যবহারের আগ্রহ দেখান ফরিদা ইয়াসমিন। এরপরেই তেল নেয়া থেকে সবধরণের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। নিজের গাড়ি ব্যবহার করে খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে আসার পর নিজে দম্ভ করে বলতেন ‘আমি ছাত্রলীগ করা নেত্রী। আমার চেয়ার ধরে টানবে কে?’     খালেদা জিয়াকে বহনকারী সেই পাজেরো এখন কোথায়? অনুসন্ধান বলছে, মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে যেই পাজেরো গাড়িতে নেওয়া হয় সেটি ব্যবহার করতেন ডিএমপির তৎকালীন ডিসি ফরিদা ইয়াসমিন। পরবর্তীতে তিনি ডিএমপি থেকে অন্যত্র বদলি হলে গাড়িটি পুলিশ সদরদপ্তরে চলে যায়। বর্তমানে পুলিশ সদরদপ্তরে গাড়িটি রয়েছে। যাতে এখন কেউ চড়েন না।   পুলিশের একটি অংশ বলছে, বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতি হিসেবে গাড়িটি সংরক্ষণ করা উচিত। কারণ, এই গাড়িতে করেই খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

মারিয়া রহমান জুলাই ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা পিছানো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সাধারণ পরিষদে

ছবি : সংগৃহীত

এমপি পদ ছাড়তে গাজী নজরুলকে চূড়ান্ত আলটিমেটাম জামায়াতের

বাংলাদেশি (বাঁয়ে) ও উগান্ডার পাসপোর্ট (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

ভিসা সুবিধায় উগান্ডার চেয়েও পিছিয়ে বাংলাদেশি পাসপোর্ট

এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় জানালেন মন্ত্রী

চলতি বছরের শেষে অথবা আগামী বছরের প্রথমেই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।   বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে রাজধানীতে আয়োজিত বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেম্বার অ্যাসোসিয়েশন আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি নির্বাচনের জন্য সবাইকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।   মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ইচ্ছা করলেই বরখাস্ত করা উচিত না। ত্রাণ যেন সঠিকভাবে বণ্টন করা হয়। গরিবের হক যেন নষ্ট না হয়। চেয়ারম্যান-মেম্বারদের ভাতার ব্যাপার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলে সম্মানজনক জায়গায় আনার চেষ্টা করব। স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হলে রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে।’   এ বছর ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী এই কাজে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান। এ ছাড়াও সরকারি ত্রাণ সঠিকভাবে বণ্টনের পরামর্শ দেন তিনি।   সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী জানান, আগে ত্রাণের বরাদ্দ এপ্রিল মাসে দেওয়া হলেও এবার থেকে সেপ্টেম্বর মাসে বরাদ্দ দেওয়া হবে। এতে বছরের বাকি চার মাসের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের কাজ সম্পন্ন করা সহজ হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২২, ২০২৬
ভারী বৃষ্টিতে বাড়ছে নদ-নদীর পানি। ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টিতে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, ফের বন্যার শঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত

গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার কারণ জানালেন জ্বালানিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

পিপলস লীগকে নিবন্ধন দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

0 Comments