জাতীয়

থানায় রক্ষা পেলেও ডিসি অফিসে মার খেলেন বৈষম্যবিরোধী নেতা মাহাদী

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

থানায় রক্ষা পেলেও হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহাদী হাসানকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

 

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে মাহাদী হাসানকে বলতে শোনা যায়, ডিসি অফিসের ভেতরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তার ওপর হামলা চালিয়েছে।

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আহত মাহাদী হাসানকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

 

এর আগের দিন বুধবার রিকশায় করে মাহাদী হাসান যাওয়ার পথে তার ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে থানায় গিয়ে রক্ষা পান।

 

 

জানা যায়, গতকাল বুধবারের হামলা চেষ্টার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ যাচাইয়ের জন্য মাহাদী হাসান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি লিখিত আবেদন জমা দেন। আবেদন জমা দিয়ে ফেরার পথে কতিপয় লোকজন তাকে ডিসি অফিস প্রাঙ্গণে গতিরোধ করে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন।

 

 

হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়িভাবে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে গুরুতর আহত করে। এ সময় মাহাদীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং দ্রুত হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠান। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হামলার কারণ এবং জড়িতদের পরিচয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হামলার ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংগঠনের নেতারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

 

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হক জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব মাহাদী হাসানকে লাথি, কিল, ঘুষি মারার প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে৷ ডিসি অফিসের সামনে মাহাদীকে কতিপয় লোকজন মারধর করেছে৷ তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে৷ বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন আছে৷ বিষয়টি যাচাই বাছাই করে গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

 

 

হামলার সঙ্গে ছাত্রদলের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে ওসি জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

 

 

মাহাদী হাসান এর আগেও একাধিক ঘটনায় আলোচনায় এসেছেন। চলতি বছরের ২ জানুয়ারি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় এক যুবককে ছাড়িয়ে নিতে গিয়ে ওসির কক্ষে প্রবেশ করে বিতর্কিত বক্তব্য দেন তিনি।

 

 

সে সময় তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা জুলাই আন্দোলনকারীরা সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম।’

 

 

ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরদিন তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি।

 

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় বানিয়াচং থানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা এসআই সন্তোষ চৌধুরী নিহত হন। পরবর্তীতে ওই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে দেওয়া মাহাদীর বক্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।

 

 

এদিকে গত ফেব্রুয়ারিতে ভারত সফর শেষে দেশে ফেরার সময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। বিমানবন্দর সূত্র জানায়, তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মামলা এবং বিদেশ ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের অংশ হিসেবে ওই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।

 

 

সর্বশেষ ডিসি অফিসে হামলার অভিযোগ এবং পরে থানায় আশ্রয় নেওয়ার ঘটনায় মাহাদী হাসানকে ঘিরে আবারও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে হামলার ঘটনায় কারা জড়িত, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
জনগণের আস্থা ও দায়িত্ব আমানত হিসেবে পালন করতে হবে: শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণ তাদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব দিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে বিরোধীদলীয় ভূমিকায় এনেছে। জনগণের দেওয়া এই দায়িত্বকে আমানত হিসেবে গ্রহণ করে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে।   শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বগুড়ার মম ইন কনভেনশন সেন্টারে জামায়াতে ইসলামী বগুড়া মহানগর ও জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত রুকন সম্মেলন-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   বগুড়া মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নতুন সরকার জুলাই সনদ ও গণভোটের বিষয়ে জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলে তিনি মনে করেন। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।   আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, এই নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের নেতাকর্মীদের এখন থেকেই সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে হবে। দেশ ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে দৃঢ় বিশ্বাস, মনোবল ও সাহস নিয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।   বগুড়াকে ইসলামী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শহীদ আব্দুল মালেক, ফকির আব্দুর রাহমান ও অধ্যক্ষ মাওলানা তায়েব আলীর স্মৃতির সঙ্গে এ এলাকার মানুষের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ভবিষ্যতেও বগুড়ার মানুষ দেশ ও জনগণের মুক্তির আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।   তিনি আরও বলেন, উত্তরবঙ্গের রাজধানী হিসেবে পরিচিত বগুড়ার দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও সমস্যাগুলো আগামী দিনে দূর হবে বলে তিনি আশা করেন।   সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও বগুড়া অঞ্চল পরিচালক এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দীন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি গোলাম রাব্বানী, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বগুড়া অঞ্চল সহকারী পরিচালক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার, সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শাহীনূর আলম এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিভাগের সদস্য সৈয়দ আব্দুল আজিজ।   বগুড়া মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি আসম মালেক ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মানছুরুর রহমানের যৌথ সঞ্চালনায় সম্মেলনে জেলা ও মহানগরের প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার পুরুষ ও নারী রুকন অংশ নেন।   সম্মেলনে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম, দায়িত্বশীলদের করণীয় এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে রুকনদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।   এর আগে সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে ডা. শফিকুর রহমান বগুড়ার ধুনট উপজেলায় শহীদ আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারত করেন। পরে তিনি শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং শহীদ আব্দুল মালেক ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।   এ ছাড়া দুপুরে বগুড়া সার্কিট হাউসে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জামায়াতের আমির।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

২৩ সেপ্টেম্বর পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম

ছবি: সংগৃহীত

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে: আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

একদিনে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল, গোয়েন্দা সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন

জাতির প্রয়োজনে সরকারকে সহযোগিতা করবে বিরোধী দল: জামায়াত আমীর

  দেশ ভালো নেই মন্তব্য করে জাতির প্রয়োজনে সরকার চাইলে যেকোনো সময় বিরোধী দল সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।   শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইলে সাংগঠনিক সফর শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।   ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ শুধু সরকারের নয়, বিরোধী দলও দায়িত্বহীন নয়। সরকার ও বিরোধী দল উভয়েরই দেশের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গড়তে হবে।   তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছিল। এ বিষয়ে তিনি সংসদের ৬৮ বিধিতে একটি নোটিশ দিয়েছিলেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়েছে। সেখানে সরকার ও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেয়া হয়েছে।   জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশে ও বিদেশে দক্ষ টেকনিক্যাল টিম রয়েছে উল্লেখ করে জামায়াত আমীর বলেন, জাতির স্বার্থে এসব বিশেষজ্ঞকে সরকারের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব দেয়া হলেও এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী একটি টিম গঠন করে প্রস্তাব উপস্থাপনের কথা বলেছেন।   তিনি আরও বলেন, ছয় দফা জনদাবি নিয়ে তারা দ্বিতীয়বারের মতো রাজপথে নেমেছেন। তবে আন্দোলনের নামে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ কিংবা দেশের ক্ষতি করতে চান না তারা। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের জন্য আন্দোলন করে জনগণের ক্ষতি করতে চান না তারা। একসময় সরকার জনগণের দাবি বিবেচনায় নিয়ে তা মেনে নিতে বাধ্য হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

সুগন্ধি চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে নজরদারি করবে সরকার

বাংলাদেশের ইতিহাসে শ্রমিকদের রক্তের দাগ লেগে আছে: হেলাল উদ্দিন

ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন প্রবাসীরা

ছবি: সংগৃহীত
চলমান সংকট মোকাবিলায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান রিজভীর

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।   তিনি বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় যারা কাজ করছেন, তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।   শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে ১২ দলীয় জোট আয়োজিত ‘দেশের চলমান সংকট ও দেশপ্রেমিক শক্তির করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রিজভী।   বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে যা বললেন রিজভী   রিজভী বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করবে, সংসদে কথা বলবে, রাজপথেও কর্মসূচি পালন করবে। তবে বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্ক নেই এমন বিষয় নিয়ে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা সৃষ্টি করলে তা সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নেবে না।   তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্নমত ও সমালোচনা থাকবেই। তবে সেই সমালোচনা হতে হবে গঠনমূলক। কোনো রাজনৈতিক মতবিরোধ যেন অপপ্রচার বা ব্যক্তিগতভাবে কলঙ্ক লেপনের পর্যায়ে না যায়, সেদিকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।   জ্বালানি সংকট নিয়ে রিজভীর বক্তব্য   দেশের গ্যাস, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তার দাবি, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যে এই সংকট তৈরি করেনি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির যে চাপ তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থাতেও পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।   রিজভী বলেন, জ্বালানি সংকটকে শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার বিষয় হিসেবে দেখলে বাস্তব পরিস্থিতি পুরোপুরি বোঝা যাবে না। এর সঙ্গে বৈশ্বিক পরিস্থিতিরও সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।   সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রশংসা   সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে রিজভী বলেন, প্রান্তিক ও অসহায় মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ধরনের কার্ডের মাধ্যমে সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।   তিনি জানান, বয়স্ক ভাতা ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভাতার আওতাভুক্ত মানুষের সংখ্যাও আগের তুলনায় এক লাখ বাড়ানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   রিজভীর ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির ক্ষেত্রে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।   আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিয়েও মন্তব্য   আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী দলটির অতীত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। তিনি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের ওপর সহিংসতার অভিযোগ তুলে ধরেন।   এ সময় তিনি আওয়ামী লীগের বিচার দাবি করেন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ১২ দলীয় জোটের প্রধান ও জাতীয় পার্টি কাজী জাফরের চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার। সভায় জোটের শীর্ষ নেতাসহ বিভিন্ন জাতীয় নেতা বক্তব্য দেন।

মোঃ নাহিদ হোসেন সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দেশে পর্যাপ্ত সার আছে, মজুতদারদের কারসাজিতে সংকট: কৃষিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মধুখালীতে তিন কার্টন থেকে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় মেলেনি

ছবি: সংগৃহীত

মুক্তাগাছায় পেট্রোল ঢেলে যুবককে হত্যার অভিযোগ, অজ্ঞাত দুজনের বিরুদ্ধে মামলা

0 Comments