মালয়েশিয়ায় স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায় বিদেশিদের অবৈধ অংশগ্রহণ ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় কঠোর অবস্থান নিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী Anwar Ibrahim। সরকার জানিয়েছে, স্থানীয় নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত ব্যবসা খাতে বিদেশিদের অবৈধ মালিকানা, প্রক্সি ব্যবসা পরিচালনা এবং লাইসেন্স অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালানো হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকরা স্থানীয়দের নামে লাইসেন্স ব্যবহার করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, যা আইনবিরোধী এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য অসম প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও ব্যবসায়িক নীতিমালার পরিপন্থী বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারের নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে বাজার, খুচরা দোকান, পাইকারি বাণিজ্য এবং বিভিন্ন সেবা খাতে নজরদারি জোরদার করবে। অবৈধভাবে পরিচালিত ব্যবসা শনাক্ত হলে লাইসেন্স বাতিল, জরিমানা এবং প্রয়োজন হলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়া সরকার একদিকে বৈধ বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানালেও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য সংরক্ষিত খাতে আইনের ব্যত্যয় ঘটুক তা চায় না। তাই বৈধ বিনিয়োগ ও অবৈধ ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য টেনে আইন প্রয়োগে আরও কঠোর হওয়ার বার্তা দিয়েছে প্রশাসন।
এ পদক্ষেপের মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সুরক্ষা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং ব্যবসা খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগের ফলে স্থানীয় ব্যবসার ওপর বিদেশিদের অবৈধ দখলদারিত্ব কমবে এবং দেশীয় উদ্যোক্তারা আরও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ পাবেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ইউক্রেনের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরবরাহে যুক্তরাজ্যের পরিকল্পনাকে ‘সন্দেহজনক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে বাণিজ্যিক স্বার্থের চেয়ে কিয়েভ সরকারকে সমর্থনের রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যই বেশি কাজ করছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাখারোভা বলেন, পরিকল্পনাটি সম্ভবত ইউক্রেনের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি তৈরিতে ব্যবহৃত নিম্ন-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরবরাহের সঙ্গে সম্পর্কিত। বর্তমানে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান ইউরেনকো এ ধরনের পণ্যের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী। তিনি জানান, ইউক্রেনের নিজস্বভাবে পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদনের শিল্প সক্ষমতা রয়েছে বলে রাশিয়ার জানা নেই। তাই তার ধারণা, ইউরেনিয়াম সরাসরি ইউক্রেনে নয়, বরং তৃতীয় কোনো দেশের পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদনকারী কারখানায়—সম্ভবত ওয়েস্টিংহাউস-এ পাঠানো হবে। জাখারোভা বলেন, লন্ডনের বক্তব্য অনুযায়ী এই চুক্তির সঙ্গে তথাকথিত ‘ডার্টি বোমা’ বা তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে দেওয়ার মতো অস্ত্র তৈরির কোনো সম্পর্ক নেই। তবে রপ্তানিকারক দেশকে নিশ্চিত করতে হবে যে ইউক্রেন পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) অনুযায়ী তাদের দায়বদ্ধতা কঠোরভাবে পালন করবে এবং সরবরাহ করা উপাদান নির্ধারিত উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করবে। তিনি আরও বলেন, এসব শর্ত পূরণ হলে এই সরবরাহ আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করবে না। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পারমাণবিক উপাদানকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে। তবে জাখারোভার দাবি, যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য বাণিজ্যিক নয়, বরং প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরকারকে সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা অর্জন করা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ব্রিটিশ সরকারের এই অবস্থান এমন সময় এসেছে, যখন ইউক্রেনীয় বাহিনী জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং এর কর্মীদের আবাসস্থল এনারহোদার শহরে সরাসরি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে রাশিয়ার দাবি। এ বিষয়ে লন্ডনের পক্ষ থেকে কোনো নিন্দা বা উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জাখারোভা বলেন, এই নীরবতাই পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাজ্যের অবস্থানকে স্পষ্ট করে। তাই ইউক্রেনকে দেয়া ব্রিটিশ সহায়তার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে রাশিয়ার কোনো বিভ্রম নেই।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ‘নতুন যুগের চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন সম্প্রদায়’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার (২৬ জুন) বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ ঘোষণা দেন দুই নেতা। বৈঠকে শি জিনপিং বলেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের উন্নয়নকে বেইজিং সবসময়ই অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। বিশ্ব পরিস্থিতি যেভাবেই বদলাক না কেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে চীন অটল থাকবে এবং বাংলাদেশকে বিশ্বস্ত বন্ধু, প্রতিবেশী ও অংশীদার হিসেবে পাশে রাখবে। তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সমর্থন করে এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে। একই সঙ্গে দুই দেশের মূল স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পারস্পরিক সমর্থন অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। শি জিনপিং জানান, চীন উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) সহযোগিতা এগিয়ে নিতে এবং সবুজ ও স্বল্প-কার্বন উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। এছাড়া চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোরের উন্নয়নেও একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠার ১০৫তম বার্ষিকীতে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে চীন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশ্বস্ত অংশীদার। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে চীনের আধুনিকায়ন বাংলাদেশের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ। বাংলাদেশ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, বিআরআই সহযোগিতা এবং বাণিজ্য, যোগাযোগ, কৃষি, প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায়। প্রধানমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে ‘এক চীন নীতি’ অনুসরণ করে এবং তাইওয়ানকে চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তিনি তাইওয়ানের স্বাধীনতার যেকোনো উদ্যোগের বিরোধিতা এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২৭৫৮ নম্বর প্রস্তাবের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায় গঠন এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রস্তাবিত চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ বিশ্ব শান্তি, উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ বিষয়ে চীনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে সমন্বয় জোরদারে বাংলাদেশ প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বিষয়ে জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বাহিনীটি জানিয়েছে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজকে ইরানের নির্ধারিত রুট অনুসরণ করতে হবে। শুক্রবার (২৬ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। আইআরজিসির বরাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিসহ এ অঞ্চলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এবং আইআরজিসির নৌবাহিনীর আইন ও নির্দেশনাই কার্যকর থাকবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, অন্তত তিনটি বিদেশি তেলবাহী ট্যাঙ্কার অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে আইআরজিসির হুঁশিয়ারি পাওয়ার পর তারা ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। এদিকে গতকাল সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি জাহাজে অজ্ঞাত উৎস থেকে ক্ষেপণাস্ত্রসদৃশ হামলা হয়েছে। এ ঘটনার পর প্রণালিতে আটকে পড়া ১১ হাজারের বেশি নাবিককে উদ্ধারের মিশন স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে জাতিসংঘ। তেহরান এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে ইরান তাদের অনুমতি ছাড়া এ নৌপথ ব্যবহার করে চলাচল না করার জন্য বারবার সতর্কবার্তা দিয়ে আসছে। এর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য একটি অস্থায়ী সামুদ্রিক করিডোর চালুর ঘোষণা দিয়েছে ওমান। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ নিরাপদ রাখতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি। ওমান নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও)-এর সঙ্গে সমন্বয় করে এবং নৌ-চলাচল ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির প্রতি ওমান সালতানাতের দায়িত্ব এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে এর গুরুত্ব বিবেচনায় কোনো ধরনের ফি ছাড়াই নৌ-চলাচল অব্যাহত রাখতে আইএমওর সঙ্গে সমন্বয় করে অস্থায়ী করিডোর চালু করা হয়েছে। করিডোরটি আইএমও এবং সংশ্লিষ্ট ওমানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাবে। এ রুটে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।