জাতীয়

‘সিন্ডিকেট ভেঙে’ কম খরচে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে সরকার ‘আন্তরিক’: মাহ্‌দী আমিন

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ‘সিন্ডিকেট’ ভেঙে স্বল্প খরচে জনশক্তি রপ্তানিতে সরকার আন্তরিক বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন।

 

রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফর নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সিন্ডিকেট ভাঙার বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মাহ্‌দী আমিন বলেন, “আমরাই প্রথম স্পষ্টভাবে সিন্ডিকেট ভাঙার কথা বলেছি। আমরা চাই স্বল্প খরচে ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আমাদের মানুষ বিদেশে যেতে পারেন। এ বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারকেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।”

 

তিনি আরও বলেন, এ উদ্যোগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যেমন আন্তরিক, তেমনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীও ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সাল থেকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ রয়েছে। ওই বছর দেশটির সরকার ঘোষণা দেয়, পূর্বে অনুমোদন পাওয়া কর্মীদের ৩১ মে’র মধ্যে প্রবেশ করতে হবে, এরপর নতুন করে আর কাউকে কর্মী ভিসায় নেওয়া হবে না। এরপর থেকে দেশটিতে বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানো কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

 

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও শ্রমবাজারটি আর চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ এই বাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ জোরদার করা হয়।

এ লক্ষ্যে গত বুধবার মালয়েশিয়া সফর করেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন। সফরকালে তারা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান আনোয়ার ইব্রাহিম।

 

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে মালয়েশিয়ার সম্মতি পাওয়া গেছে।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের যৌথ বিবৃতিতে ‘ক্রেডিবল রিপ্রেজেনটেটিভ’-এর মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মাহ্‌দী আমিন বলেন, মালয়েশিয়া সব ‘সেন্ডিং কান্ট্রি’র ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড অনুসরণ করে।

 

তিনি বলেন, “আমাদের দৃষ্টিতে ‘ক্রেডিবল’ বলতে তাদেরকেই বোঝানো হবে, যারা দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং যাদের মাধ্যমে ধীরে ধীরে অভিবাসন ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।”

তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে—অভিবাসন ব্যয় কমানো, বেশি সংখ্যক মানুষকে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া এবং সিন্ডিকেট পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া।

তবে ঠিক কবে নাগাদ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার চালু হবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে পারেননি তিনি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
হজযাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

  পবিত্র হজ পালনকে সামনে রেখে হজযাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে হজ ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, হজযাত্রীদের সেবায় নিয়োজিত সবাইকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে, যাতে কোনো হাজীকে ভোগান্তির শিকার হতে না হয়। হজ ব্যবস্থাপনায় যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের নির্দেশও দেন তিনি।   এবারের হজ ব্যবস্থাপনা আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে তথ্য ব্যবস্থাপনাকে অনলাইনে যুক্ত করা, হজ এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম মূল্যায়ন এবং অভিযোগপ্রাপ্ত এজেন্সিগুলো চিহ্নিত করার বিষয়েও আলোচনা হয় সভায়। এছাড়া হজযাত্রীদের গাইড বা মোয়াল্লেম হিসেবে সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসীদের নিয়োগের বিষয়েও নীতিগত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। সভা সূত্রে জানা যায়, আগামী ১৮ এপ্রিল রাত থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে। এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী পবিত্র হজ পালন করতে সৌদি আরব যাবেন।   এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজ পালন করবেন। হজযাত্রীদের পরিবহনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স ব্যবহার করা হবে। সভায় ধর্মমন্ত্রী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও হজ এজেন্সি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

আটকে থাকা বাংলাদেশি জাহাজ দ্রুত হরমুজ প্রণালী পার হবে—ইরানি রাষ্ট্রদূত

ছবি : সংগৃহীত

সব দেশের শ্রমবাজার খুলতে কাজ করছে সরকার—প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

‘সিন্ডিকেট ভেঙে’ কম খরচে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে সরকার ‘আন্তরিক’: মাহ্‌দী আমিন

১৪ মে হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে ইসি

আগামী ১৪ মে হালনাগাদকৃত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ রোববার ইসি’র পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক এ তথ্য জানান। এদিন ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ ও চূড়ান্তকরণ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেশের সব উপজেলা ও থানা নির্বাচন অফিসে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত নিবন্ধিত ভোটারযোগ্য ব্যক্তিদের (যাদের জন্ম ১ জানুয়ারি ২০০৮ বা তার আগে) নিয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ খসড়া ভোটার তালিকার পিডিএফ প্রস্তুত করে সিএমএস পোর্টালে ১৫ এপ্রিল লিংক সরবরাহ করবে। এ তালিকার ভিত্তিতে ২০ এপ্রিল খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর যোগ্য ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা, মৃত্যুজনিত বা অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অযোগ্য ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়া, ভোটার স্থানান্তর এবং যেকোনো অন্তর্ভুক্তি, সংশোধন বা ত্রুটি-বিচ্যুতি দূরীকরণের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩ মে। এসব আবেদন, সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রেজিস্ট্রেশন কর্মকর্তা ৬ মে’র মধ্যে নিষ্পত্তি করবেন। আবেদনের ওপর গৃহীত সিদ্ধান্ত সন্নিবেশনের শেষ তারিখ ১০ মে। এরপর ১৪ মে হালনাগাদকৃত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। চিঠিতে আরও বলা হয়, এ কার্যক্রম চলাকালে মুদ্রিত খসড়া ভোটার তালিকা জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। ভুলত্রুটি সংশোধনের জন্য আবেদন করতে এবং জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে মসজিদ ও মন্দিরসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ে ইমাম ও পুরোহিতদের মাধ্যমে নামাজ বা প্রার্থনার আগে-পরে ঘোষণা দিতে হবে। এছাড়া স্থানীয় ক্যাবল অপারেটর ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি প্রচারের ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে বলা হয়, মুদ্রিত খসড়া তালিকায় যোগ্য ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা, মৃত বা অযোগ্য ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়া, ভোটার স্থানান্তর, অন্তর্ভুক্তি সংশোধন, ত্রুটি-বিচ্যুতি দূরীকরণ, পুরুষ তালিকায় নারী বা নারী তালিকায় পুরুষ ভোটার অন্তর্ভুক্তি এবং ধর্মসংক্রান্তসহ অন্যান্য ত্রুটি সংশোধনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। চিঠিতে, উল্লিখিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0

প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে নবনির্বাচিত দুই এমপির শপথ গ্রহণ

তথ্য অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি অপতথ্য থেকে সুরক্ষা দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ : তথ্যমন্ত্রী

লিগ্যাল এইডের টোল ফ্রি নম্বরে ২ লাখের বেশি ব্যক্তিকে আইনি সেবা প্রদান

প্রথম পর্যায়ে ১১ উপজেলায় ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষককে কার্ড দেওয়া হবে: কৃষি মন্ত্রী

 সারাদেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ। তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। আজ রোববার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন পিআইডি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কৃষি মন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এ সময় উপস্থিত ছিলেন। কৃষি মন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতেই দেশের কৃষকের অর্থনৈতিক মুক্তির অন্যতম পুরোধা গণতন্ত্রের রক্ষক বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশ নেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার নাম গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। এ সময় কৃষি মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র নির্বাচনী ইশতেহারে কৃষকের আর্থ-সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতকরণ, কৃষি খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন ও  নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সুস্পষ্ট রূপরেখা দিয়েছেন। যার মূল লক্ষ্য হলো, আত্মনির্ভর জলবায়ু সহিষ্ণু প্রযুক্তি নির্ভর ও কৃষি কেন্দ্রিক একটি আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ আরও বলেন, যেখানে উৎপাদন ও বিপণন হবে তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক।  তিনি বলেন, কৃষক হবে ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা ও কৃষি কাজ জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তিÑ এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে  প্রধানমন্ত্রী সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি কৃষকের জন্য কৃষক কার্ড প্রদান কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। মন্ত্রী বলেন,  কৃষক কার্ড প্রবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ মর্যাদা ও সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত কৃষকদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং কৃষি খাতে ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা গঠন করা। মন্ত্রী জানান, কৃষি কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে জমির মালিকানা অনুযায়ী কৃষককে পাঁচটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছেÑ ভূমিহীন কৃষক, প্রান্তিক কৃষক, ক্ষুদ্র কৃষক, মাঝারি কৃষক ও  বড় কৃষক। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সকল কৃষককে কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে। কার্ড বিতরণ কার্যক্রম তিন ধাপে বাস্তবায়িত হবেÑ প্রি-পাইলটিং, পাইলটিং ও দেশব্যাপী কার্যক্রম গ্রহণ। সেই পাইলটিং পর্যায়ে আটটি বিভাগের ১০টি জেলায় ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকের ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের পাশাপাশি মৎস্য চাষী, মৎস্য আহরণকারী, প্রাণিসম্পদ খাতে নিয়োজিত খামারি ও দুগ্ধ খামারিসহ ভূমিহীন প্রান্তিক ক্ষুদ্র মাঝারি ও বড় শ্রেণীর কৃষককেও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, প্রাক পাইলট পর্যায়ে কৃষক কার্ড বিতরণের জন্য নির্বাচিত জেলা ও কৃষি ব্লকসমূহ হচ্ছে : পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার কমলাপুর ব্লক, বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি ব্লক, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলায় কৃপালপুর ব্লক, পিরোজপুর জেলায় নেসারাবাদ উপজেলায় রাজাবাড়ি ব্লক, কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলায় রাজারছড়া ব্লক, কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার অরণ্যপুর ব্লক, টাঙ্গাইল জেলার টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সুরুজ ব্লক, রাজবাড়ী জেলার গোয়ালনন্দ উপজেলায় তেনাপঁচা ব্লক,  মৌলভীবাজার জেলায় জুড়ি উপজেলায় ফুলতলা ব্লক, পঞ্চগড় জেলার গোদা উপজেলার পাঁচপীর ব্লক ও জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ব্লক। মন্ত্রী বলেন, এই ১১টি ব্লকের কৃষক, মৎস্য চাষী প্রাণিসম্পদ খামারি ও লবণ চাষীগণকে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। কৃষক কার্ড সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, এটি একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় পর্যায়ের শাখাসমুহে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের নামে এই কার্ডের বিপরীতে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ১১ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত মোট ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের সকল তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তার মধ্যে ভূমিহীন কৃষক ৪৬ জন, প্রান্তিক কৃষক ৯ হাজার ৪৫৮ জন, ক্ষুদ্র কৃষক ৮৯৬ জন, মাঝারি কৃষক ১ হাজার ৩০৩ জন ও বড় কৃষক ৫১ জন। মন্ত্রী জানান, বাছাইকৃত কৃষকগণের ধরণÑ ফসল উৎপাদনকারী কৃষক ২ হাজার ১৪১ জন মৎস্যজীবী ৬৬ জন, প্রাণিসম্পদ খামারি ৮৫ জন, লবণ চাষী তিন জন মোট বাছাইয়ের ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের মধ্যে কেবল প্রণোদনার জন্য নির্বাচিত ভূমিহীন প্রান্তিক ক্ষুদ্র কৃষকের সংখ্যা ২০ হাজার ৬৩১ জন যা মোট কৃষকের ৯৩ দশমিক ৭ শতাংশ। মন্ত্রী বলেন, পাইলটিং পর্যায়ে ভূমিহীন প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকগণকে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে বার্ষিক নগদ সুবিধা প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, উক্ত কার্ডের মাধ্যমে কৃষকগণ প্রণোদনা ও সেবা গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট ডিলারের নিকট সরবরাহিকত্ব পিওএস প্রিন্ট সেল মেশিন  ব্যবহার করে সার বীজ মৎস্য, প্রাণী ও খাদ্যসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ ক্রয় করতে পারবে। মন্ত্রী জানান, প্রাক পাইলটিং কার্যক্রমের জন্য ব্যয় হবে ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। প্রাক পাইলটিং সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর ২০২৬ পর্যন্ত দেশের ১৫টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। তিনি আরও বলেন, পাইলটের অভিজ্ঞতা আলোকে আগামী চার বছরে সারাদেশে এই কার্ড বিতরণ ও ডাটাবেস তৈরির কাজ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। মন্ত্রী বলেন, আগামী পহেলা বৈশাখ তারিখে নতুন বছরের প্রথম দিন পাক পাইলটিং পর্যায়ে কৃষক কার্ড বিতরণ উদ্বোধন হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাঙ্গাইলের শহীদপুর মারুফ স্টেডিয়ামে এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন। তিনি আরও বলেন, কুমিল্লা জেলা আদর্শ সদর উপজেলা অরুণ্যপুর ব্লক বাদে দেশের বাকি নয়টি ব্লকে একই দিনে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে। কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার অরণ্যপুর ব্লক ১৭ এপ্রিল ২০২৬ কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে। মন্ত্রী জানান, কৃষি একটি সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ পেশা। এই কৃষক কার্ড কৃষকের মর্যাদাকে আরও মহিমান্বিত করবে। এই কার্ডের মাধ্যমে বিধিবদ্ধ সেবার বাইরেও সময় উপযোগী নতুন নতুন সেবা যুক্ত হবে। তিনি বলেন, কৃষি খাত দেশের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড বাংলাদেশের আগামীর ভবিষ্যৎ কৃষকের হাতে আমাদের কৃষি জমির উর্বরতা মাটির গুনাগুন ফসলের বৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনা হবে।  মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে দেশের কৃষি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত একটি স্মার্ট ডাটাবেজের আওতায় আসবে। সারের অপচয় রোধ ও চাহিদা মাফিক ফসল উৎপাদন, সর্বোপরি কৃষকের ক্ষতিপূরণ সরকারের নজরে আনতে এই কার্ড সহায়ক হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0

বৈশাখী শোভাযাত্রাসহ দেশব্যাপী নববর্ষ উদযাপনে সরকারের নানা কর্মসূচি গ্রহণ

পহেলা বৈশাখকে ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে পটুয়াখালীর পালপাড়ার মৃৎশিল্পীদের

ফাইল ছবি

হত্যা চেষ্টা মামলায় সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিন মঞ্জুর

0 Comments