জাতীয়

শেখ মুজিব-হাসিনা বন্দনায় সরব, আলোচনায় সিলেটের সেই ডিসি

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারের ডেক সিলগালা করার ৩ দিনের মাথায় প্রত্যাহার হওয়া ডিসি সারওয়ার আলমের অন্দরমহলের খবর নিয়ে আলোচনায় সরব সোস্যাল মিডিয়া, টকশো অ্যাক্টিভিস্ট, বুদ্ধিজীবী ও সচেতন মহল। ফিল্মের ফাটাকেস্ট চরিত্রের মতো জনপ্রিয় অভিযানের পেছনে তার আসল উদ্দেশ্য নিয়েও কথা উঠছে। স্বচ্ছতার নামে শাহজালালের মাজারের ৭০০ বছরের ঐতিহ্য ও প্রথাকে তাড়াহুড়ো করে ডিসির ক্ষমতাবলে তছনছ করার পেছনে রাজনৈতিক কোন এজেন্ডা আছে কি না এমন জিজ্ঞাসা তৈরি হয়েছে।

 

শাহজালালের মাজারের দানের টাকার হিসাব নিকাশের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে মাজারের ৩টি ডেক ও একটি দানবাক্স সিলগালা করা হলেও ডিসি অফিসের এলআর ফান্ড, কবি নজরুল অডিটোরিয়ামের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা, সারওয়ার আলমের উপর ঋণের শর্তভঙ্গ করার দায়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিপুল জরিমানার বিষয়টি এখন সিলেটে আলোচিত। এছাড়া শাহজালালের মাজারে তাড়াহুড়ো করে নিজে উপস্থিত থেকে দানের টাকা গণনা ও ডিসির পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকা মাজারে প্রদানকে ডিসির ‘রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি’ বলা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলনের সিলেটের সমন্বয়ক আব্দুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘সদ্য বিদায়ী ডিসি মাজার বিরোধী কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়ে বদলি হন। যেখানে মাজারের দানের টাকা গুনে গুনে ডিসি দেখালেন প্রচুর টাকা আসে, সেখানে যাওয়ার আগে মাজার তহবিলে ৫ লাখ টাকা দিয়ে রীতিমতো পলিটিক্যাল স্ট্যান্টবাজি করলেন।’

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভেজাল বিরোধী অভিযানের মধ্য দিয়ে এই সারওয়ার আলমের জনপ্রিয়তার (!) অভিষেক হয়। সে সময় আওয়ামী লীগের আস্থাভাজন হতে গিয়ে শেখ মুজিব, শেখ হাসিনাকে বন্দনা করে ফেইসবুকেও নিয়মিত পোস্ট করতেন তিনি। ২০১৮ সালে রাজনৈতিক বিরোধের সূত্রে আওয়ামীলীগ প্রয়াত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রতিষ্ঠিত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ রাখার ভূয়া অভিযোগের ভিত্তিতে ১৫ লক্ষাধিক টাকা জরিমানা করায়। আর এই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্টেট এই সারওয়ার আলম। আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়নে এই সারওয়ার আলম গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে একরকম তছনছ করে দেন। অবশ্য আওয়ামীলীগের ক্ষমতার শেষের দিকে রহস্যজনক কারণে সারওয়ার আলমের প্রমোশন আটকে দেওয়া হয়।

 

এদিকে স্বচ্ছতার জন্য বিভিন্ন অভিযান ও মাজারের ডেক সিলগালা করলেও খোদ সারওয়ার আলমের বিরুদ্ধে গাড়ি ক্রয়ে শর্তভঙ্গ করায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাকে ৬ লক্ষ ২৫ হাজার টাকারও বেশি জরিমানা করে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গাড়ি সেবা শাখা থেকে প্রাধিকারপ্রপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ ও গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা অনুযায়ী এই জরিমানা করা হয়। চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গাড়ি সেবা শাখার স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সিলেট থেকে বিদায় নেওয়ার আগে এই জরিমানা আদায় করা হয়েছিল কি না তা জানা যায়নি।

 

এছাড়া জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে সদ্য বিদায়ী ডিসি ৫ লাখ টাকা দান করার পর ডিসি অফিসের ‘এলআর ফান্ড’ (যা বেসরকারি খাত থেকে আসে) এর টাকার স্বচ্ছতা ও হিসাব-নিকাশ নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এ ব্যাপারে। ২৪ জুন বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক বলেন, ‘এটা দীর্ঘদিনের প্র্যাকটিস। এটি আমাদের নজরে আছে। তবে যা করার আলোচনার মাধ্যমে করতে হবে। পরিবর্তন করতে হলে সময় দিতে হবে। হুট করে কিছু করা যাবে না।’

 

বদলি হওয়া ডিসি সারওয়ার আলমের ব্যাপারে ক্ষমতাসীনদের ‘মর্জি’ বুঝে চলা এমন কথা প্রচলিত আছে। এর সত্যতা খোঁজতে ২০১৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর তারিখে সারওয়ার আলমের ফেইসবুক পোস্টের একটি স্ক্রিনশট এই প্রতিবেদকের হাতে আসে। যেখানে তিনি শেখ হাসিনার প্রশংসা করে লিখেন ‘আমাদের প্রেরণার বাতিঘর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার দীঘায়ূ ও সুস্বাস্থ্য কামনা করছি। ধন্য পিতার ধন্য কন্যা আপনি বাঙালির হৃদয়ে বেঁচে থাকুন হাজার বছর। আপনার নেতৃত্বে আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে উন্নত বাংলাদেশ ইনশাআল্লাহ।’ এর আগে ২০১৭ সালের ২০ জুলাই ‘আমি হতবাক !!!’

 

শিরোনামে তিনি শেখ মুজিবর রহমানকে নিয়ে শিশুদের ছবি আঁকা প্রসঙ্গে ভিন্নধর্মী একটি পোস্টে লিখেন ‘আমরা ভাবি না পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীর মতো শিশুরা যারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে স্বচক্ষে না দেখে মানসপটে ধারণ করে তুলির মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। সে সেমস্থ শিশুরা আমাদের মতো তথাকথিত সুবিধাবাদীদের চেয়ে কত পবিত্র এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে সত্যিকারভাবে অনুপ্রাণিত।’

 

এদিকে গত ১৭ জুন মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনকে স্বাগত জানিয়ে তিনি লিখেন ‘পূণ্যভূমি সিলেটে স্বাগতম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। একজন অসাধারণ মানুষের সাধারণ চলাফেরা। আপনার জন্য শুভকামনা। এগিয়ে যাক বাংলাদেশ।’

 

৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের একান্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করেন সারওয়ার আলম। ইন্টেরিম সরকারের আমলে সিলেটের ভোলাগঞ্জের পাথরকান্ডে গত বছরের ১৮ আগস্ট সিলেটের ডিসি হিসাবে নিয়োগ পান তিনি। ছাত্রাবস্থায় একটি ইসলামি সংগঠনের হল সভাপতি ছিলেন বলে জানা গেলেও এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করা যায়নি। কিন্তু হযরত শাহজালালের মাজারে ডিসি সারওয়ারের নাটকীয়তায় তার গোপন রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে কৌতুহল তৈরি হয়েছে। এদিকে ডিসিকে প্রত্যাহারের প্রতিবাদে ও তাকে পূণর্বহালের দাবিতে সিলেটে মাজার সংস্কৃতি বিরোধী মতের মানুষ মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। ডিসিকে শ্লোগান দিয়ে তার অফিস পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন। ডিসি তাদের সাথে করমর্দন করেছেন ও চক্ষুসজল হয়েছেন। প্রশ্ন উঠছে তাহলে রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডে পেছনে রেখে ডিসি মাজারে ‘প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ’ করতে নেমেছিলেন।

 

একটি সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরের প্রাক্ষালে ডিসি সারওয়ারের এ ধরনের স্পর্শকাতর পদক্ষেপ ভিন্ন কিছুর ইঙ্গিত দেয়। মাজারের ডেগ সিলগালার পরপর তাকে প্রত্যাহার করা না হলে সিলেটের মাজার সংস্কৃতির পক্ষের লোকজনের সাথে ডিসির পক্ষে বিক্ষোভ মিছিলে নামা লোকদের বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটতে পারতো। এ থেকে একপক্ষের রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতো।

 

বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে মাজার কর্তৃপক্ষ, ওলি আউলিয়াভক্ত মানুষ ও বিপক্ষের লোকজন দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছেন। মাজারের পক্ষের লোকেরা ৭০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মাজারে ডিসির এই প্রশাসনিক হস্তক্ষেপকে সুনির্দিষ্ট একটি দলের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ মনে করছেন। মাজারপন্থীদের বিরুদ্ধে ন্যারেটিভ উৎপাদনের উপলক্ষ তৈরি করতে পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনিক এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেককে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

 

সিলেটের কবি ও সাংবাদিক কবির য়াহমদ তার ফেইসবুক পোস্টের দীর্ঘ লেখার এক জায়গায় লিখেন- ‘মাজারপুজা ও শরীয়ত বিরোধী’ যে চিরাচরিত প্রোপাগান্ডা, তা এখনও সমানভাবে চলমান থাকলেও এর সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন এক মাত্রা। তা হলো- মাজারের সংশ্লিষ্টরা আর্থিকভাবে চরম দুর্নীতিগ্রস্থ এবং তারা মানুষের মানত ও দানের টাকার ছয়-নয় করে। এই অর্থ আত্মসাতের ন্যারেটিভটি আগে আড়ালে-আবডালে উচ্চারিত হলেও তা প্রমাণ করতে হলে যে মাজারে গিয়ে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, সেই সুযোগ এতাদিন মাজার বিদ্ধেষীরা করে উঠতে পারেনি’।

 

উল্লেখ্য, এই মাজারের ব্যাপারে উচ্চ আদালতের রায় থাকার পরও ডিসি কেন এককভাবে ডাইরেক্ট অ্যাকশনে গেলেন তা বোধগম্য নয় বলে মাজার কর্তৃপক্ষের অভিযোগ। ডিসির এই দ্রুত পদক্ষেপের ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গত বুধবার (২৪ জুন) সিলেটে সাংবাদিকদের প্রসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আর্থিক হিসাব নিকাশে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগে কিছুটা তাড়াহুড়ো হয়েছে। এ বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনাই করা হয়নি। এটা ৭০০ বছরের একটি ট্রাডিশন।’ এদিকে ২৬ জুন শুক্রবার শাহজালালের মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে শুক্রবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ১২ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করেছেন। মন্ত্রী নিজে এই কমিটির প্রধান হিসাবে দায়িত্বে আছেন। এই কমিটি একমাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার একটি ‘যৌক্তিক পদ্ধতি’ নির্ধারণ করবে।

 

শাহজালালের মাজারের ডেক সিলগালা ইস্যুতে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও বুদ্ধিজীবী ব্রাত্য রাইসু লিখেন, ‘সারওয়ার আলম সাহেবকে প্রশংসা করার আগে ১ মিনিট থামতে হবে। ভাবতে হবে. যিনি মাজার ধ্বংস ঠেকানোর ব্যাপারে কী কী কাজ করেছিলেন? যদি কিছু না কইরা থাকেন, তাইলে আরো ১ মিনিট থামতে হবেভ ভাবতে হবে, মাজার ধ্বংস যারা করছেন তাদের অপরাধকে সারোয়ার আলমের কারণে তেমন অপরাধ না বইলা মনে হইতেছে কি না? যদি তেমন মনে হয়, তবে সারোয়ার আলমের সাম্প্রতিক মাজার বিয়য়ক অ্যাকশন একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতেছে, তিনি চান বা না চান। এই পর্যায়ে আইসা ১ মিনিট নীরবতা পালন করতে হব। কেন সেইটা বলবো না।’

 

সাংবাদিক ও কথা সাহিত্যিক মাহবুব মোর্শেদ লিখেন, মাজার ভাঙার সময় বড়কর্তাদের এগিয়ে আসতে দেখা না গেলেও মাজারের দানবাক্সের হিসাব নিতে দেখা যায় তাদের আগ্রহের শেষ নাই।’

 

এ ব্যাপারে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও টকশো আলোচক সারোয়ার তুষার বলেন, ‘সারওয়ার আলম সাহেব ট্রাংক কিনলেন। সিসি ক্যামেরা ফিট করলেন। টাকা কে দিলো? এই অর্থ কি সরকারি নাকি স্থানীয়ভাবে আহরিত এল আর ফান্ড? এই অর্থের আয় ব্যয় কি অডিট হয়? এই ফান্ডে যারা টাকা দেন তারা কি সবাই সৎ পথে আয় করে?

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
এক বছরের মধ্যেই দেশের পুঁজিবাজারে বড় পরিবর্তন আসবে: অর্থমন্ত্রী

পুঁজিবাজার পুনরুজ্জীবিত ও প্রসারিত করতে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের চেহারা বদলে যাবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।   অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা সামগ্রিক উদ্যোগের মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছি। ইনশাআল্লাহ, আগামী এক বছরের মধ্যে আপনারা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের পরিবর্তিত চেহারা দেখতে পাবেন।   তিনি বলেন, পুঁজিবাজার শক্তিশালী করতে সরকার ইতিমধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অটোমেশন, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) প্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।   তিনি আরো বলেন, কিছু প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন হয়েছে, অটোমেশন চালু হয়েছে, সিডিবিএল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং অবকাঠামো গড়ে উঠেছে।   কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে পরবর্তীতে বিষয়গুলো সেভাবে এগোয়নি।   অর্থমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজারে এখন বাস্তবভিত্তিক ‘উদ্ধার কার্যক্রম’ ও ‘পুনরুদ্ধার কার্যক্রম’ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে কোনো কোনো অংশীজনের জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।   তিনি বলেন, প্রচলিত অর্থায়নের উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বাংলাদেশ এখন তার আর্থিক কাঠামোতে মৌলিক পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে।   ‘আমরা বাংলাদেশের আর্থিক কাঠামো পরিবর্তন করছি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার দেশের সরকারি অর্থব্যবস্থা এবং বেসরকারি খাতে অর্থায়নের কাঠামোও পরিবর্তন করতে চায়। উচ্চ সুদে ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ তৈরি করতে হবে।   বিশ্বমানের অর্থনীতির সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের এখন ‘হাই স্ট্রিট থেকে ওয়ার্ল্ড স্ট্রিট’-এর দিকে যাত্রা করতে হবে। আমাদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য বন্ড মার্কেট, ডেরিভেটিভস, সিকিউরিটাইজেশন এবং ইক্যুইটি মার্কেটের ওপর জোর দিতে হবে।   আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রসঙ্গ তুলে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক অর্থায়নের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে হবে।   তিনি বলেন, আমরা আইএমএফ কর্মসূচি বাতিল করেছি। কারণ তাদের শর্তগুলো আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না।   মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক বাজারের ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে ওয়াল স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের রূপান্তর ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপে প্রখ্যাত বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা গভীর আস্থা প্রকাশ করেছেন।   বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান, মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক) তানভীর শাহরিয়ার গনি, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নিত্যপণ্য ও এলপি গ্যাস বিক্রিতে অনিয়ম, ১০২ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

সংগৃহীত ছবি

১০টি এয়ারবাস কিনতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ, চুক্তিসই বুধবার সন্ধ্যায়

ছবি: সংগৃহীত

চকবাজারে প্লাস্টিক কারখানায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কিশোর শ্রমিকের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
ফেসবুক মন্তব্য ঘিরে উত্তেজনা, রাবিতে লাঠি-বেসবল ব্যাট নিয়ে ছাত্রদল নেতা

ফেসবুকে দেওয়া মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ছাত্রদলের এক নেতা ও রাকসুর এক নেতার মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে হকিস্টিক ও বেসবল ব্যাট নিয়ে অবস্থান করেন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবিব ও তার কয়েকজন অনুসারী।   রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তারা পরিবহন চত্বরে অবস্থান নেন। এর আগে একই স্থানে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অবস্থান করেন রাকসুর সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম।   ঘটনার সূত্রপাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে। জানা গেছে, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে আহসান হাবিব একটি পোস্ট দেন। পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে রাকিবুল ইসলাম তার বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে মেসেঞ্জারে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও হুমকির অভিযোগ ওঠে।   পরে রাকিবুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আহসান হাবিবের পাঠানো কথোপকথনের স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন। এরপর তিনি রোববার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে থাকার ঘোষণা দেন।   ঘোষণা অনুযায়ী, রাকিবুল সকাল থেকে বিকেল ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। তবে ওই সময়ের মধ্যে আহসান হাবিব সেখানে উপস্থিত হননি। পরে রাকিবুল চলে যাওয়ার পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে আহসান হাবিব কয়েকজন নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে একই স্থানে আসেন। এ সময় তাদের কয়েকজনের হাতে হকিস্টিক ও বেসবল ব্যাট দেখা যায়।   আহসান হাবিব পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থানের বিষয়টি জানান। তিনি সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পরিবহন চত্বরে থাকার ঘোষণা দেন।   রাকসুর সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বলেন, তিনি সকাল থেকেই পরিবহন চত্বরে ছিলেন এবং বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন। ওই সময় আহসান হাবিব সেখানে আসেননি। পরে তিনি চলে আসার পর ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী হকিস্টিক নিয়ে সেখানে আসেন বলে জানতে পারেন।   অন্যদিকে আহসান হাবিব দাবি করেন, একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাকিবুল ইসলাম তার ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেছেন। এ বিষয়ে তিনি রাকিবুলকে ব্যক্তিগত বার্তায় নিজের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার আহ্বান জানান।   আহসান হাবিব আরও বলেন, অসুস্থ থাকায় তিনি রাকিবুলের দেওয়া অবস্থানের পোস্টটি সময়মতো দেখতে পারেননি। পরে পোস্টটি দেখার পর ক্যাম্পাসে এসে তাকে আর পাননি। তিনি জানান, এরপর সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন।   রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানেন না। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি দেখবেন।   এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, বিকেলের পর থেকে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি অবগত হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উভয় পক্ষকে নিবৃত্ত ও শান্ত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ, বাগেরহাটে এসআই প্রত্যাহার

সংগৃহীত ছবি

উপকূলীয় ১৪ জেলায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার নতুন প্রকল্প

ছবি: সংগৃহীত

সংবিধানে শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব ও ক্ষুদ্র জাতিসত্তার স্বীকৃতির দাবি

সংগৃহীত ছবি
টেকসই নগরায়নে প্রতিটি সিটি ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যানের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পরিকল্পিত নগরায়নের লক্ষ্যে সরকার দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছে। নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার পাশাপাশি সবার জন্য পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।     আগামীকাল ‘বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে রবিবার  (৪ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।       তিনি বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ন ও টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও বসবাসযোগ্য নগর গড়ে তোলাই বিশ্ব বসতি দিবস উদযাপনের অন্যতম উদ্দেশ্য। ১৯৮৬ সাল থেকে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার বিশ্ব বসতি দিবস পালিত হয়ে আসছে। ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ন’ প্রত্যয় সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে।     প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান আবাসন চাহিদার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ ঘোষিত এবারের প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন’ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ।     সবার জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন নিশ্চিত করা এবং পরিকল্পিত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই নগরায়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে আবাসন, নগর পরিকল্পনা, নাগরিক সেবা, পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতাকে সমন্বিত করে দীর্ঘমেয়াদি নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।     তিনি বলেন, নগর উন্নয়নের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর নগর জীবন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন নিশ্চিতকরণ ও সুষম নগর উন্নয়নকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।     প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকল নাগরিকের জন্য পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী বাসস্থান এবং এমন নগর ও বসতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন— যেখানে মানুষ প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা, সুস্থ পরিবেশ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ পায়। বিশ্ব বসতি দিবস আমাদের সেই দায়িত্বের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।     তিনি বলেন, সর্বজনীন বাসস্থান নিশ্চিত করা এবং টেকসই নগরায়নের মাধ্যমে সবার জন্য বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা আজ আমাদের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য শহর ও নগর দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও অপরিকল্পিত নগরায়ন, যানজট, দূষণ, অপর্যাপ্ত নাগরিক সেবা, আবাসন সংকট এবং জলবায়ুজনিত অভিবাসন নগরজীবনে নানা চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।     এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ন এবং নিম্ন আয়ের পরিবার ও বস্তিবাসীদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।     তিনি বলেন, বস্তিবাসী মানুষের দীর্ঘদিনের আবাসনের মালিকানা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি এবং সমন্বিত পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।     ‘সবার জন্য বাসস্থান’কে শুধু একটি ঘরের নিশ্চয়তা হিসেবে নয়, বরং নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবার সমন্বিত নিশ্চয়তা হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পিত নগরায়নের লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে।       তিনি বলেন, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের মাধ্যমে পরিকল্পিত ও সুষম নগর উন্নয়নের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তুলতে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-১১ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।     প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেকসই আবাসন ও নগরায়ন নিশ্চিত করা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। এক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগকারী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, এনজিও, সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।     বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন, বস্তি উন্নয়ন, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।     প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে নগর ও গ্রাম নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষ নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন, প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা এবং সুস্থ, পরিচ্ছন্ন ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পাবে।     পরিকল্পিত ও সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে একটি মানবিক, বাসযোগ্য ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে ফিক্সেশন শুরু, অক্টোবরেই মিলবে বকেয়া

সংগৃহীত ছবি

জান্তা-আরাকান আর্মির সংঘাতের প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশ সীমান্তে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি

এলডিসি উত্তরণের পরও বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে যুক্তরাজ্য

0 Comments