ভারতের কাছে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু একজন প্রতিবেশী নন; তিনি কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ, এমন এক মিত্র যাকে নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্য দিয়ে দেখেছে। ক্ষমতায় থাকার ১৫ বছরে তিনি ভারতের জন্য যে সুবিধাগুলো নিশ্চিত করেছেন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সরাসরি যোগাযোগ এবং ভারতের সঙ্গে কৌশলগত স্বার্থ সমন্বয় করার ইচ্ছা সেগুলোকে নয়াদিল্লি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে।
বর্তমানে শেখ হাসিনা ভারতের সীমান্তের ওপারে অবস্থান করছেন। কিন্তু তার দেশে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। অভিযোগের ভিত্তি হলো ২০২৪ সালের ছাত্র নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে দমন–পীড়নের ঘটনা, যা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিল। সেই বিক্ষোভের পর শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন এবং নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। আগামী বছরের শুরুতে বাংলাদেশে নির্বাচনের কথা রয়েছে।
এই পরিস্থিতি ভারতের জন্য এক জটিল কূটনৈতিক ধাঁধা তৈরি করেছে। ঢাকায় শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাওয়া হলেও নয়াদিল্লি এতে সাড়া দেয়নি। ফলে কার্যত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ভারতের জন্য এটি একটি দীর্ঘ ও অস্বস্তিকর পরীক্ষা, যা দেখাবে তারা কতদূর যেতে ইচ্ছুক এবং এ প্রক্রিয়ায় কতটা কূটনৈতিক সক্ষমতা ব্যয় করতে প্রস্তুত।
দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা বিষয়টিকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। একই সঙ্গে ভারতও বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজার। দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১,৩০০ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ভারতের কাঁচামাল, জ্বালানি ও ট্রানজিট রুটে ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। গত এক দশকে ভারত স্বল্প সুদের ঋণ, শুল্কমুক্ত পণ্যের প্রবেশাধিকার, আন্তসীমান্ত রেল যোগাযোগ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ করেছে। এর ফলে দুই দেশের সম্পর্ক এমন যে কোনো পক্ষই সহজে এটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারবে না।
অন্যদিকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা করছে। অতীতের অভ্যাস থেকে সরে এসে তারা বিচার বিভাগীয় অভিজ্ঞতা বিনিময় বাতিল, ভারতীয় জ্বালানি চুক্তি পর্যালোচনা এবং ভারত পরিচালিত যোগাযোগ প্রকল্পের গতিশীলতা কমাচ্ছে। পাশাপাশি কৌশলগত অংশীদারিত্বের জন্য বেইজিং, ইসলামাবাদ ও আঙ্কারার দিকে নজর দিচ্ছে। জনমতও পরিবর্তিত হয়েছে; সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৭৫ শতাংশের বেশি বাংলাদেশি বেইজিংকে ইতিবাচক মনে করছেন, যেখানে ভারতের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব মাত্র ১১ শতাংশ।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করান, দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পর্ক রাজনৈতিক ওঠানামার মধ্যেও টিকে থাকে। অতীতের অভিজ্ঞতা দেখায়, রাজনৈতিক বন্ধুত্বপূর্ণতা কমলেও বাণিজ্য বা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক প্রায়শই অটুট থাকে।
ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ কেবল নির্বাসিত এক মিত্রকে সামলানো নয়, বরং এমন এক প্রতিবেশীকে আস্থায় রাখা যা দেশটির নিরাপত্তার কেন্দ্রে অবস্থান করছে। এতে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, সন্ত্রাস দমন এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশাধিকার অন্তর্ভুক্ত। তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করান, ভারতের তাড়াহুড়া করা উচিত নয়; ধৈর্যশীল ও নীরব কূটনীতি এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
নতুন অর্থবছর থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল কার্যকরের ঘোষণা থাকলেও এখনো প্রকাশ হয়নি বহুল প্রতীক্ষিত গেজেট। বেতন কত বাড়বে, কোন গ্রেডে কী পরিবর্তন আসবে- এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না জানালেও প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, সরকারের পর্যালোচনা শেষে নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এখন পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের কোন গ্রেডে কত বেতন বাড়ছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। পাশাপাশি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গঠিত জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ হুবহু কার্যকর হবে, নাকি বর্তমান সরকার সংশোধিত কোনো কাঠামো গ্রহণ করবে- সেটিও স্পষ্ট নয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি ইতোমধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর একটি খসড়া রূপরেখা তৈরি করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেই রূপরেখার ভিত্তিতেই বর্তমানে গেজেট তৈরির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। জানা গেছে, নতুন কাঠামোয় বেতন কত বাড়বে, কত ধাপে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা হবে এবং মূল্যস্ফীতির প্রভাব মোকাবিলার উপায় কী হবে- এসব বিষয় নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো কবে কার্যকর হবে, কত শতাংশ বেতন বাড়বে এবং কীভাবে বাস্তবায়ন হবে- এসব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন অর্থবছরের শুরু থেকেই নতুন বেতন কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। প্রশাসনিক আদেশ, গেজেট প্রকাশ এবং আইনি প্রক্রিয়ার কারণে বাস্তবায়নে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে বলেও তিনি জানান। যদিও তিনি বলেন, নতুন কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর বকেয়াসহ বেতন-ভাতা পরিশোধের বিষয়টি সরকারের আলোচনায় রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যথাসময়েই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। এদিকে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোয় পরিবর্তন সময়ের দাবি। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই সরকারকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর প্রতি বছর মূল বেতনে ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হলেও নতুন পে-স্কেল আর ঘোষণা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই নতুন বেতন কাঠামোর অপেক্ষায় রয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। ২০২৫ সালে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত 'জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫' গত ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত যাতায়াত ভাতায়ও বড় ধরনের সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছিল। কমিশনের প্রধান জাকির আহমেদ খান সে সময় জানিয়েছিলেন, গত এক দশকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সূচকে বড় পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই এই সুপারিশ করা হয়েছে। তবে পুরো প্রস্তাব বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে, যা জাতীয় বাজেটের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। তিনি বলেন, ইশতেহারে বলা হয়েছে যে যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা হবে এবং সেই অনুযায়ীই একটা রিভিউ করা হয়েছে। গেজেট কবে প্রকাশ হতে পারে- এ প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নটা করা হবে। জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছিলেন, সরকারি কর্মচারীরা বিগত প্রায় ১১ বছর যাবৎ একই বেতন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে মূল্যস্ফীতিজনিত কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো আগামী পহেলা জুলাই ২০২৬ হতে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিচ্ছি। নতুন পে-স্কেল একসঙ্গে কার্যকর না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, আমরা কয়েকটা ধাপে এটা করব, প্রথমেই বেতন বা বেসিকটা বাড়ানো হবে। যদিও কোন গ্রেডে কত বেতন বাড়তে পারে, সে বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। তার ভাষ্য, গেজেট চূড়ান্ত করতে সরকার পর্যালোচনা করছে এবং সেই পর্যালোচনা ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার আলোকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে। এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, চলতি মাসের মাঝামাঝি বা শেষ নাগাদ বেতন বৃদ্ধির গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে। সূত্র: বিবিসি বাংলা
উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশের ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সারদার উদয় রায়হান বলেন, ‘জলবায়ুগত কারণে বাংলাদেশে জুলাই ও আগস্ট মাসে সব সময়ই বন্যার ঝুঁকি থাকে।এ সময়ে দেশের প্রধান নদীগুলোর অববাহিকা ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হয়, যা দেশে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।’ তিনি বলেন, ‘সে কারণেই চলতি বছরের জুলাই ও আগস্টে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ বৃহস্পতিবার এফএফডব্লিউসি প্রকাশিত বন্যা পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদী ব্যবস্থার পানির স্তর কমেছে। তবে আগামী চার দিনে পানির স্তর বৃদ্ধি পেতে পারে এবং পঞ্চম দিনে তা স্থিতিশীল থাকতে পারে। পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামী ৪ থেকে ৭ জুলাই (দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম দিন) পর্যন্ত কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এতে সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে আরও বলা হয়, আগামী পাঁচ দিনে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে তা বিপৎসীমার নিচেই প্রবাহিত হবে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা (উচ্চ মেঘনা) নদ-নদীর পানি সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। ফলে সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত থাকতে পারে। বর্তমানে নীলফামারীর ডালিয়া ও লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর তারাপুর পয়েন্ট, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলিতে কুশিয়ারা নদী এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি নিজ নিজ সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। সারদার উদয় রায়হান বলেন, বর্তমানে এফএফডব্লিউসি দেশের অভ্যন্তরীণ নদী অববাহিকার জন্য ১০ থেকে ১৫ দিন আগেই বন্যার পূর্বাভাস দিতে সক্ষম। তবে উপকূলীয় নদীগুলোর ক্ষেত্রে তিনদিন আগে পূর্বাভাস দেওয়া যায়। দেশের নদ-নদীর বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র নদ অববাহিকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। তবে আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে পারে। তিনি বলেন, অববাহিকা ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আগামী কয়েক দিন মেঘনা নদী অববাহিকার পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে। এফএফডব্লিউসির এই নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার ফলে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রসঙ্গত, ঐতিহাসিকভাবে বর্ষা মৌসুমের এই মধ্যবর্তী সময়েই দেশে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যাগুলো ঘটেছে। ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় আগস্ট-সেপ্টেম্বরে অতিবৃষ্টির ফলে দেশের প্রায় ৮২ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা, অর্থাৎ প্রায় ৬০ শতাংশ ভূখণ্ড প্লাবিত হয়েছিল। একইভাবে ১৯৯৮ সালের ঐতিহাসিক বন্যা জুলাই ও আগস্টজুড়ে দুই মাসেরও বেশি সময় স্থায়ী হয়। ওই বন্যায় এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় এবং প্রায় ৩ কোটি (৩০ মিলিয়ন) মানুষ সাময়িকভাবে বাস্তুচ্যুত বা পানিবন্দি হয়ে পড়েন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা—এই দুই বৃহৎ নদী অববাহিকায় একই সময়ে পানির উচ্চপ্রবাহ দেখা দেওয়াই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। ২০০৪ সালে জুলাইয়ের শেষ দিকে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর পানির সর্বোচ্চ প্রবাহ একসঙ্গে মিলিত হওয়ায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয় এবং শুধু উত্তর-পূর্বাঞ্চলেই প্রায় ৩০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়। এ ছাড়া ২০২২ সালের মেঘনা অববাহিকার বন্যা এবং ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় সম্মিলিতভাবে ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন, যা উজানের অতিবৃষ্টির ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স (স্নাতক) প্রোগ্রাম বন্ধের বিষয়ে ভাবতে হবে— বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। বুধবার (১ জুলাই) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কথা’ শিরোনামে এক পোস্টের মাধ্যমে এ কথা বলেন তিনি। মাহফুজ আলম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চার-পাঁচ প্রজন্ম মধ্যবিত্ত শ্রেণি উপহার দিয়েছে। এখন ফেইজ বাই ফেইজ কিভাবে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে অনার্স প্রোগ্রাম বন্ধ করে দেয়া যায়, সে নিয়ে ভাবতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ আবাসিক ও গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে হবে। কেবল মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রাম থাকবে। দেশব্যাপী কন্সটিটুয়েন্ট কলেজগুলোতে পড়ে যেকেউ অনার্স করে ‘গর্বিত’ ঢাবিয়ান হতে পারবে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়/কলেজ থেকে অনার্স করে এসে মাস্টার্স বা পিএইচডি করেও ‘গর্বিত’ ঢাবিয়ান হওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ ও সেন্টারগুলো পুনর্গঠন করতে হবে। গবেষক শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পাবেন এবং রাষ্ট্রের চাহিদা-ভবিষ্যত পরিকল্পনা মোতাবেক গবেষণা পরিচালিত হবে। জাতীয়তাবাদের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেবল ইতিহাস ও বাংলা ভাষার উপর বিশেষ নজর দিয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষ সেটা রাজনৈতিক দালালির পর্যায়ে চলে গেছে। ভাষা শিক্ষাকে বিশেষায়িত করতে হবে এবং ইতিহাস চর্চার সাথে সমাজবিদ্যার যোগ ঘটাতে হবে। আধুনিক সমাজবিদ্যা ও বিজ্ঞানের উপর জোর দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার ক্ষেত্রকে ঢেলে সাজাতে হবে। শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছাত্র রাজনীতি হবে ডাকসু নির্ভর। শিক্ষক ও গবেষণা সহকারী নিয়োগ করতে হবে মেধা ও পার্ফরমেন্সের ভিত্তিতে। বিদেশে ভালো ডিগ্রি-রেজাল্ট থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ না করার প্রচলন বন্ধ করতে হবে। অযোগ্য এবং দালাল শিক্ষকদের এ পবিত্র পেশা থেকে বিদায় করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, লালবাগ, হোসেনি দালান, কেন্দ্রীয় কারাগার সহ পুরান ঢাকার প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোকে আলাদা প্রশাসনিক ইউনিটে- কাঠামোতে নিয়ে আসতে হবে। এটাকে বিশ্ববিদ্যালয় ও হেরিটেজ সিটি ঘোষণা করতে হবে। এখানে আলাদা মেয়র নির্বাচন ও সংসদীয় আসন আলাদা করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ প্রস্তাবিত শহরে নতুন কোন ভবন হবে না। কোন গাছ কাটা যাবে না। কোন জলাশয় ভরাট করা যাবে না। এ শহর দীর্ঘমেয়াদে বুড়িগঙ্গা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে আহসান মঞ্জিল, ফরাশগঞ্জ, নর্থব্রুক হল সহ আরো হেরিটেজ সাইটগুলোকে সন্নিবেশ করবে। এখানে সন্নিবেশিত হবে কয়েকশ' মুগল -ব্রিটিশ আমলের মসজিদ, মন্দির, উপাসনালয়, ভবন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে এর প্রতিষ্ঠাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং সকল এলামনাই ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন তিনি।