জাতীয়

‘শেখ হাসিনা আর বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন না’—রাশেদ খাঁন

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে এবং শেখ হাসিনা ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগকে দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী ষড়যন্ত্র করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

 

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙা কবরস্থানে বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত করেন রাশেদ খাঁন। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

 

রাশেদ খাঁনের দাবি, আওয়ামী লীগ দেশে গণহত্যা চালিয়েছে এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃতি রয়েছে। তার ভাষায়, আওয়ামী লীগের অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে এবং দলটির নতুন করে বাংলাদেশে রাজনৈতিকভাবে ফিরে আসার সুযোগ নেই। তবে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেন তিনি।

 

এ সময় আওয়ামী লীগকে ফেরানোর প্রচেষ্টায় জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতা করছে বলেও অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন।

 

জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট একটি জাতীয় সমস্যা। এই সংকটকে রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে আরও জটিল করা উচিত নয়। তিনি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোকে সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

 

রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে রাষ্ট্রে অস্থিরতা তৈরি হলে এর সুযোগ আওয়ামী লীগ নিতে পারে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলে অতীতে আবরার ফাহাদ হত্যার মতো ঘটনা আবারও ঘটতে পারে।

 

জামায়াতে ইসলামীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যদি আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আন্দোলনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে জনগণ জামায়াতের বিরুদ্ধেও আন্দোলনে নামবে। আবরার ফাহাদ হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের বাংলাদেশে রাজনৈতিকভাবে ফিরে আসার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

আবরার ফাহাদের আদর্শ ও চেতনার প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, দেশের রাজনীতিতে আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার আবরার ফাহাদের চেতনা বাস্তবায়নে কাজ করছে।

 

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আবরার ফাহাদ হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মামলার আসামিদের ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ভারত স্পষ্ট অবস্থান না নিলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের প্রশ্ন নেই। একই সঙ্গে অতীতের নির্ভরশীল সম্পর্কের পরিবর্তে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সম্মান ও মর্যাদাভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

 

রাশেদ খাঁন আরও বলেন, আবরার ফাহাদের স্মৃতি ধরে রাখতে কুষ্টিয়ায় তার নামে স্টেডিয়ামসহ দেশের বিভিন্ন স্থাপনা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে হলের নামকরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশেই আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

এ সময় শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার, কুমারখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার, কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিনসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
চলমান সংকট মোকাবিলায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান রিজভীর

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।   তিনি বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় যারা কাজ করছেন, তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।   শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে ১২ দলীয় জোট আয়োজিত ‘দেশের চলমান সংকট ও দেশপ্রেমিক শক্তির করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রিজভী।   বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে যা বললেন রিজভী   রিজভী বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করবে, সংসদে কথা বলবে, রাজপথেও কর্মসূচি পালন করবে। তবে বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্ক নেই এমন বিষয় নিয়ে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা সৃষ্টি করলে তা সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নেবে না।   তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্নমত ও সমালোচনা থাকবেই। তবে সেই সমালোচনা হতে হবে গঠনমূলক। কোনো রাজনৈতিক মতবিরোধ যেন অপপ্রচার বা ব্যক্তিগতভাবে কলঙ্ক লেপনের পর্যায়ে না যায়, সেদিকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।   জ্বালানি সংকট নিয়ে রিজভীর বক্তব্য   দেশের গ্যাস, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তার দাবি, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যে এই সংকট তৈরি করেনি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির যে চাপ তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থাতেও পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।   রিজভী বলেন, জ্বালানি সংকটকে শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার বিষয় হিসেবে দেখলে বাস্তব পরিস্থিতি পুরোপুরি বোঝা যাবে না। এর সঙ্গে বৈশ্বিক পরিস্থিতিরও সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।   সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রশংসা   সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে রিজভী বলেন, প্রান্তিক ও অসহায় মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ধরনের কার্ডের মাধ্যমে সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।   তিনি জানান, বয়স্ক ভাতা ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভাতার আওতাভুক্ত মানুষের সংখ্যাও আগের তুলনায় এক লাখ বাড়ানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   রিজভীর ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির ক্ষেত্রে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।   আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিয়েও মন্তব্য   আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী দলটির অতীত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। তিনি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের ওপর সহিংসতার অভিযোগ তুলে ধরেন।   এ সময় তিনি আওয়ামী লীগের বিচার দাবি করেন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ১২ দলীয় জোটের প্রধান ও জাতীয় পার্টি কাজী জাফরের চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার। সভায় জোটের শীর্ষ নেতাসহ বিভিন্ন জাতীয় নেতা বক্তব্য দেন।

মোঃ নাহিদ হোসেন সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দেশে পর্যাপ্ত সার আছে, মজুতদারদের কারসাজিতে সংকট: কৃষিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মধুখালীতে তিন কার্টন থেকে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় মেলেনি

ছবি: সংগৃহীত

মুক্তাগাছায় পেট্রোল ঢেলে যুবককে হত্যার অভিযোগ, অজ্ঞাত দুজনের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: সংগৃহীত
৭৫ কোটি টাকায় নতুন রূপে ধানমন্ডি লেক, থাকছে ‘নজরুল সরোবর’

দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, অবকাঠামোগত সমস্যা ও পরিবেশগত নানা সংকটে ধুঁকছে রাজধানীর অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্র ধানমন্ডি লেক। এসব সমস্যা কাটিয়ে লেকটিকে আরও নিরাপদ, সবুজ ও আধুনিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ৭৫ কোটি টাকার একটি সংস্কার প্রকল্প হাতে নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।   প্রস্তাবিত প্রকল্পে ধানমন্ডি লেকের সংস্কার ও বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। বাকি ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হবে একটি নতুন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, যার নাম দেওয়া হচ্ছে ‘নজরুল সরোবর’। এটি ‘বিদ্রোহী চত্বর’ নামেও পরিচিতি পাবে।   প্রায় ৮৬ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত ধানমন্ডি লেকের জলাশয় অংশ প্রায় ৫৫ একর। পুরোনো পাণ্ডু নদীর অবশিষ্টাংশকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই জলাভূমি ষাটের দশক থেকে ধীরে ধীরে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সবুজ ও বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এখানে হাঁটাহাঁটি ও অবসর কাটাতে আসেন।   তবে দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণ ঘাটতি ও জলাবদ্ধতার কারণে লেকের বিভিন্ন অংশে ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেও লেকের আশপাশ এবং সংলগ্ন রবীন্দ্র সরোবর এলাকায় পানি জমে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।   ডিএসসিসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, লেক সংস্কারের সময় পাড় সংরক্ষণ, ঢাল শক্তিশালী করা, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং হাঁটার পথ সংস্কার করা হবে। পাশাপাশি উন্নত করা হবে আলোকসজ্জা, সীমানাপ্রাচীর ও নিরাপত্তা রেলিং।   প্রকল্পের আওতায় তিনটি ভাসমান ডেক, বিভিন্ন কিয়স্ক, আধুনিক জিমনেসিয়াম, লাইব্রেরি ও প্রদর্শনী গ্যালারি, ক্যাফেটেরিয়া এবং উন্মুক্ত মঞ্চ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ব্যাডমিন্টন কোর্ট, উন্মুক্ত শরীরচর্চার স্থান এবং পার্কিং সুবিধাও রাখা হবে।   লেকের সবুজ পরিবেশ রক্ষায় গাছের পরিচর্যা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি বিশেষ ‘ট্রি হাসপাতাল’ স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা, দিকনির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড, সিসিটিভি নজরদারি ও অ্যানাউন্সমেন্ট সিস্টেম স্থাপনের কথাও রয়েছে প্রকল্পে।   নির্মাণ হবে ‘নজরুল সরোবর’: প্রকল্পের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো আনুমানিক ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নজরুল সরোবর নির্মাণ। ধানমন্ডির ১৩/এ ও ৮/এ সড়কের কাছে কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের বিপরীতে প্রায় ৫০ দশমিক ৯৬৭ কাঠা জায়গায় এটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। নজরুল সরোবরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নজরুলসংগীত পরিবেশনা ও আলোচনা সভার জন্য একটি উন্মুক্ত অ্যাম্ফিথিয়েটার থাকবে। শিল্পীদের প্রস্তুতির জন্য রাখা হবে গ্রিনরুমও। এ ছাড়া কবি কাজী নজরুল ইসলামের পছন্দের খাবার নিয়ে একটি রেস্তোরাঁ, জনসাধারণের জন্য শৌচাগার এবং কবির জীবন ও সাহিত্যকর্মের বিভিন্ন তথ্যসমৃদ্ধ ফলক স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব তথ্যফলকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসও তুলে ধরার কথা রয়েছে। নজরুলের বিদ্রোহী চেতনা ও সাহিত্যকর্মকে কেন্দ্র করে একটি বুক কর্নার, নগর বন এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য কেন্দ্রীয় প্লাজা তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। লেকের সঙ্গে সংযোগের জন্য একটি ঘাট এবং পথচারীদের জন্য আলাদা হাঁটার পথ নির্মাণ করা হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নজরুল সরোবর বাস্তবায়িত হলে একদিকে কবি নজরুলের সাহিত্য ও দর্শন সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বাড়বে, অন্যদিকে এটি রাজধানীতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের একটি নতুন স্থান হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।   কাজ শুরুর আগে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম: সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ডিএসসিসির নিজস্ব অর্থায়নে ৭৫ কোটি টাকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদন, অর্থ বরাদ্দ ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর মূল কাজ শুরু হবে। প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিএসসিসির প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, লেকের তলদেশ পরিষ্কারের আগে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে পরীক্ষামূলক বা পাইলট কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের ফলাফল পাওয়ার পর ধানমন্ডি লেকের তলদেশ পরিষ্কার, লেক সংস্কার এবং নজরুল সরোবর নির্মাণের কাজ সমন্বিতভাবে শুরু করা হবে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রস্তুতি

ছবি: সংগৃহীত

১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে থাকা অনেকেই দেশ ছেড়েছেন: স্পিকার

ছবি: সংগৃহীত

দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে জনগণ: রফিকুল ইসলাম খান

ছবি: সংগৃহীত
পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সব পক্ষকে দায়িত্বশীল হতে হবে: চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীর যানজট কমানো ও পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।   তিনি বলেছেন, শুধু প্রশাসনের উদ্যোগে সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং বন্ধ, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং সড়ক নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রে পরিবহন মালিক, কন্ট্রাক্টর, চালক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।   শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম বন্দর ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক ও কন্ট্রাক্টর অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত নেতাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মেয়র।   ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরীর জন্য সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা অপরিহার্য। নগরীর যানজট ও জনদুর্ভোগ কমাতে পরিবহন খাতের প্রতিটি পক্ষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।   তিনি বলেন, রাস্তায় যেখানে-সেখানে গাড়ি রাখা এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকে নগরীর বৃহত্তর স্বার্থে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   মেয়র আরও বলেন, নগরীর পরিবহন ব্যবস্থাপনায় টেকসই শৃঙ্খলা আনতে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। নতুন নেতৃত্বকে শুধু সংগঠনের সদস্যদের স্বার্থ বিবেচনা না করে নগরবাসীর সুবিধা ও নিরাপত্তাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।   অনুষ্ঠানে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি-২০২৬-এর চেয়ারম্যান আলহাজ নুরুল আমিন সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত সভাপতি হাজী মোহাম্মদ আবু সাইদ হারুন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরসহ কার্যকরী পরিষদের অন্যান্য নেতারা শপথ নেন।   অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ইসরাফিল খসরু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আমিরুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ আজিজ।   এ সময় চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক বিভিন্ন পরিবহন মালিক, কন্ট্রাক্টর ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

‘শেখ হাসিনা আর বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন না’—রাশেদ খাঁন

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার রাখার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

0 Comments