জাতীয়

সরকারকে বুঝতে হবে মানুষ কেবল ক্ষমতার নয়, সিস্টেমেরও বদল চেয়েছিল: ডেল এইচ খান

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমান সরকারকে বুঝতে হবে ৫ আগস্টের পর মানুষ কেবল ক্ষমতার বদল নয়, সিস্টেমের বদল চেয়েছিল। সরকার যদি সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে না পারে তাহলে মানুষের ক্ষোভ আবার আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জনতার দলের মুখ্য সমন্বয়ক ও মুখপাত্র মেজর (অব.) দেলোয়ার হোসেন খান (ডেল এইচ খান)।

 

 

ডেল এইচ খান বলেন, ৫ আগস্ট আমাদের রাষ্ট্রটি একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল। রাষ্ট্র তখন এমন অবস্থায় ছিল যেন তাকে আইসিইউতে নিতে হয়েছে। প্রায় দেড় বছর এই রাষ্ট্রকে বিভিন্ন ‘লাইফ সেভিং ড্রাগ’ দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছু সংস্কার প্রস্তাব বা ‘প্রেসক্রিপশন’ তৈরি করেছিলেন যাতে রাষ্ট্র পুনরায় সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।

‘কিন্তু সমস্যাটা শুরু হলো তখন, যখন ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে নির্বাচিত সরকারের হাতে অর্থাৎ বিএনপির হাতে তুলে দেওয়া হলো। তারা বিপুল জনমত নিয়ে ক্ষমতায় এলো ঠিকই, কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনই বিএনপি ঘোষণা করল যে, তারা সংবিধান সংস্কারের বা রিফর্মের কোনো শপথ নেবে না। অর্থাৎ তারা সংস্কারের প্রক্রিয়াটিকে শুরুতেই প্রত্যাখ্যান করল। এটা একটা বড় জাতীয় সংকট।’

 

জনতার দলের এই নেতা বলেন, আমরা যদি গত ৫৪ বছরের পচা সিস্টেমকেই আবার ফিরিয়ে আনি, তবে এই জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্ত বৃথা যাবে। নির্বাচিত সরকারকে বুঝতে হবে যে, মানুষ কেবল ক্ষমতার বদল চায়নি, মানুষ সিস্টেমের বদল চেয়েছিল। যদি সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হয়, তবে মানুষের ক্ষোভ আবার আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়তে পারে।

‘বিএনপিকে খুব পরিষ্কারভাবে একটি সত্য বুঝতে হবে যে—জুলাই অভ্যুত্থান না হলে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হওয়ার কোনো বাস্তব সম্ভাবনাই ছিল না। শেখ হাসিনা যেভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছিলেন, তাতে নির্বাচন ছাড়াই তিনি আরও বহু বছর ক্ষমতায় থাকতেন। এখন যদি কেউ এই জুলাইয়ের অর্জনকে বা গণআকাঙ্ক্ষাকে অস্বীকার করতে চায়, তবে সেটা হবে চরম পর্যায়ের জাতীয় গাদ্দারি।’

 

ডেল এইচ খান বলেন, সাধারণ মানুষ বা বর্তমানের এই ‘জেন-জি’ জেনারেশন কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রতারণা মেনে নেবে না। ১৭ বছরের লৌহমানবী শেখ হাসিনা এবং তার বিশাল বাহিনীকে যদি সাধারণ ছাত্র-জনতা এক ধাক্কায় দেশছাড়া করতে পারে, তবে নতুন সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও তারা রাজপথে নামতে দ্বিধা করবে না। তাই বিএনপির উচিত হবে সংস্কারের কাজগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং জনগণের পালস বোঝা। যদি তারা তা না করে কেবল ক্ষমতার দাপট দেখাতে চায়, তবে তারা নিজেদের জন্য একটি আত্মঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
সরকার প্রথম দিন থেকেই নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে : সংস্কৃতি মন্ত্রী

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার প্রথম দিন থেকেই নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।   তিনি বলেন, আমাদের সরকার জনগণের সরকার| তাই কে ভোট দিয়েছে, আর কে দেয়নি সেটি বিবেচনা না করে আমরা সবার জন্যই কাজ করব। আজ শুক্রবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি আয়োজিত ‘মহানগর পরিবার দিবস উদ্বোধন, গুণীজন সম্মাননা ও কৃতী শিক্ষার্থীদের মেধা বৃত্তি’ প্রদান অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।  তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে বিভিন্ন মত ও আদর্শ থাকবেই, আর এই ˆবচিত্র্যের মাঝে ঐক্য আনয়নই আমাদের নীতি| সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে, আইনের দৃষ্টিতে রাষ্ট্রের সকল নাগরিক সমান| জাতিগতভাবে আমরা বাঙালি হলেও ভৌগোলিক সীমারেখায় আমরা সবাই বাংলাদেশি| আমাদের লক্ষ্য বিভাজন বা সংঘাত নয়, বরং শান্তি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা করা| সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সমস্যা ও ˆবষম্য প্রসঙ্গে সংস্কৃতি মন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, আপনাদের যেখানে ব্যথা, আমারও সেখানেই ব্যথা| এগুলো নিয়ে চিন্তার কারণ নেই| সরকারের ঘোষিত নীতি অনুসারে সব সমস্যা সমাধান করা হবে| গত নির্বাচনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নীতিগতভাবে ধানের শীষে ভোট দিয়ে যে সমর্থন দেখিয়েছে, এর জন্য আমরা কৃতজ্ঞ| ঢাকেশ্বরী মন্দিরকে ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে সংরক্ষণের ঘোষণা দিয়ে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে এই মন্দিরকে সংরক্ষণ ও উন্নয়নের আওতায় নেওয়া হবে, যাতে এর ঐতিহাসিক মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকে| মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ¯^াগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ড. তাপস চন্দ্র পাল| অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম|  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য মো. হামিদুর রহমান, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ দেবাশীষ পাল|  অনুষ্ঠানে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সদস্য মঞ্জু ধর ও বাবুল দাসকে তাদের বিশেষ অবদানের জন্য ‘গুণীজন সম্মাননা’ প্রদান করা হয়| এছাড়া মন্ত্রী বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে মেধা বৃত্তির চেক ও সনদ তুলে দেন|  অনুষ্ঠানে বক্তারা পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করার পাশাপাশি একটি ˆবষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান|

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0

দেশের কৃষিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে কাজ করছে সরকার : কৃষিমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত

হজযাত্রীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা উপহার

চট্টগ্রামে ৬ কোটি টাকার চিংড়ি রেণু জব্দের পর কর্ণফুলী নদীতে অবমুক্ত

কক্সবাজারে রাখাইনদের জলকেলি উৎসব শুরু

নববর্ষ বরণে কক্সবাজারের রাখাইন সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব জলকেলি উৎসব আজ শুরু হয়েছে। শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী, বৃদ্ধরা নেচে-গেয়ে একে অপরের শরীরে জল ছিটিয়ে এই উৎসব পালন করে। এ যেন এক মহা আনন্দযজ্ঞ। এ সময় তারা বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র নিয়ে দল বেঁধে নাচতে নাচতে বিভিন্ন প্যান্ডেল পরিদর্শন করেন। আয়োজকরা জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ১৩৮৭ রাখাইন বছর বিদায় নিয়েছে। শুক্রবার সূর্যোদয়ের সময় বর্ষবরণের মধ্য দিয়ে ১৩৮৮ রাখাইন বছর শুরু হয়। পুরনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করতে শুক্রবার থেকে তিন দিনব্যাপী রাখাইন সম্প্রদায় মেতে উঠবে সাংগ্রাইন বা জলকেলি উৎসবে। কক্সবাজার শহরের পূর্ব-পশ্চিম মাছ বাজার, ফুলবাগ সড়ক, ক্যাং পাড়া, হাঙর পাড়া, টেকপাড়া, বার্মিজ স্কুল রোড, বৌদ্ধ মন্দির সড়ক ও চাউল বাজারে চলছে এই উৎসব। এছাড়াও জেলার মহেশখালী, টেকনাফ, চকরিয়া, হারবাং, রামু, চৌফলদন্ডীসহ বিভিন্নস্থানে অন্তত অর্ধশত প্যান্ডেলে চলছে বর্ষবরণ উৎসব। জানা গেছে, বাংলা বর্ষের চৈত্র সংক্রান্তির দিন থেকে এই উৎসবের নানা আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ওই দিন থেকে রাখাইনরা বৌদ্ধ বিহারগুলোতে পালন শুরু করেন নানা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান। এসব অনুষ্ঠান পালন শেষে নতুন বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১৭ এপ্রিল থেকে শুরু হয় জলকেলি বা সাংগ্রাইন, যা চলবে তিন দিনব্যাপী। রাখাইন বুড্ডিস্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মংছেন হ্লা রাখাইন বলেন, উৎসব উপলক্ষে শুক্রবার সকালে প্রতিটি রাখাইন পল্লী থেকে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী, বৃদ্ধরা শোভাযাত্রা সহকারে বৌদ্ধ বিহারে যান। এতে অল্প-বয়সীরা মাটির কলস এবং বয়স্করা কল্পতরু বহন করেন। এরপর সেখানে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের পর্ব শেষ করেন। বিকেলে তরুণ-তরুণীরা বাদ্যযন্ত্র সহকারে দল বেঁধে ঘুরে বেড়ান জলকেলি উৎসবের প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে। তিনি বলেন, নানা প্রজাতির ফুল আর রং-বেরংয়ের কাগজে সাজানো হয় প্রতিটি প্যান্ডেল। প্যান্ডেলের মাঝখানে থাকে পানি রাখার ড্রামসহ নানা উপকরণ। এতে পানির রাখার এসব উপকরণের এক পাশে অবস্থান করেন তরুণীরা আর অন্য পাশে থাকেন তরুণের দল। তারা নাচে-গানে মেতে উঠে একে অপরের প্রতি ছুড়তে থাকেন মঙ্গল জল। রাখাইনদের বিশ্বাস, এই মঙ্গলজল ছিটানোর মধ্য দিয়ে মুছে যায় পুরাতন বছরের সব গ্লানি, ব্যথা, বেদনা, অপ্রাপ্তিসহ নানা অসঙ্গতি। মংছেন হ্লা রাখাইন বলেন, এই উৎসব চলবে আগামী রোববার পর্যন্ত। জলকেলি ছাড়াও আয়োজন করা হয়েছে রাখাইনদের ঐতিহ্যবাহী নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বাসস’কে বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্ম-বর্ণের জাতিগোষ্ঠীর একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ। এদেশের আবহমান সংস্কৃতি অসাম্প্রদায়িক। জলকেলি উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে সেটা প্রমাণিত হয়েছে। রাখাইনদের পাশাপাশি স্থানীয়রাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই উৎসব উপভোগ করায় এটি সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।  তিনি বলেন, রাখাইন সম্প্রদায়ের তিন দিনের এই উৎসবকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি : মন্ত্রণালয়

বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের প্রস্তাব তুরস্কের একে পার্টির

ছবি : সংগৃহীত

দেশে আসছে ১ লাখ ৪১ হাজার টন ডিজেল, জ্বালানি সরবরাহে স্বস্তির আশা

যুক্তরাষ্ট্রের ‘বেস্ট ফিউচার জেনারেশনস’ বিষয়ক বিশেষ দূত চার্লস জে. হার্ডার। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা সফরে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত চার্লস জে. হার্ডার

ছবি : সংগৃহীত
আজ হজযাত্রার প্রথম ফ্লাইট উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হজ ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এ বছর বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রীদের প্রথম ফ্লাইটটি শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাত ১২টা ২০ মিনিটে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে।   এদিন মোট ১৪টি ফ্লাইট পরিচালিত হবে। এর মধ্যে ছয়টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, চারটি সৌদি আরবের সাউদিয়া এবং চারটি ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স।   বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।   এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যাবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ এবং বেসরকারি হজ এজেন্সির মাধ্যমে ৭৩ হাজার ৯৩৫ হজযাত্রী হজ পালন করবেন।   সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত হজচুক্তি অনুযায়ী মোট হজযাত্রীর ৫০ শতাংশ পরিবহন করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বাকি অংশের মধ্যে ৩৫ শতাংশ পরিবহন করবে সাউদিয়া এবং ১৫ শতাংশ পরিবহন করবে ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স।   প্রি-হজ ফ্লাইট চলবে ২১ মে পর্যন্ত। মোট ২০৭টি প্রি-হজ ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১০২টি, সাউদিয়া ৭৫টি এবং ফ্লাইনাস ৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে।   চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে এবং তা ১ জুলাই পর্যন্ত চলবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ফেরি থেকে চালকসহ শীতলক্ষ্যায় প্রাইভেটকার

ছবি: সংগৃহীত

বিসিএস নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বৈষম্য ও অনিয়মের অভিযোগ, ৫ দফা দাবি প্রত্যাশীদের

ছবি: সংগৃহীত

চাচাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ গেল ৫ বছরের শিশুর

0 Comments