জাতীয়

সংসদে বেসরকারি সদস্যদের ৯ বিল পাস

মারিয়া রহমান মে ১২, ২০২৬
জাতীয় সংসদ ভবন। ফাইল ছবি
জাতীয় সংসদ ভবন। ফাইল ছবি

জাতীয় সংসদে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে নেই- এমন সংসদ সদস্যদের বেসরকারি সদস্য বলা হয়। তাদের উত্থাপিত বিলগুলো বেসরকারি বিল হিসেবে পরিচিত। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ থেকে দ্বাদশ সংসদ পর্যন্ত বেসরকারি সদস্যদের আনা মোট নয়টি বিল পাস হয়েছে। এর মধ্যে একটি ছিল বিরোধী দলের সদস্যের উত্থাপিত, আর বাকি আটটি বিল এসেছে ক্ষমতাসীন দল বা জোটের সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে।

মঙ্গলবার (১২ মে) জাতীয় সংসদের ‘বেসরকারি সদস্যদের বিল ও বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব’ সম্পর্কিত কমিটির প্রথম বৈঠকে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

সূত্র জানায়, অতীতের ১২টি সংসদের মধ্যে প্রথম, ষষ্ঠ ও দ্বাদশ সংসদে বেসরকারি সদস্যরা কোনো বিল উত্থাপন করেননি। এর মধ্যে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদের মেয়াদ ছিল মাত্র ১২ দিন। প্রথম সংসদের মেয়াদ ছিল ২ বছর ৭ মাস এবং দ্বাদশ সংসদের মেয়াদ ছিল ৬ মাস ৮ দিন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় গত ১২ মার্চ এবং শেষ হয় ৩০ এপ্রিল। প্রথম দিনের বৈঠকেই ‘বেসরকারি সদস্যদের বিল ও বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব’ সম্পর্কিত কমিটি গঠন করা হয়।


কমিটির সভাপতি করা হয়েছে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহানকে। তার সভাপতিত্বে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বেসরকারি সদস্যদের বিলের খসড়া প্রস্তুতে সংসদ সদস্যদের সহায়তা দিতে সংসদ সচিবালয়ের লেজিসলেটিভ ড্রাফটিং ইউনিটকে আরও সক্রিয় হওয়ার সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি মো. শাহজাহান ছাড়াও বৈঠকে আরও অংশ নেন কমিটির সদস্য ও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, আমানউল্লাহ আমান, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, তাহসিনা রুশদীর, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, শাহজাহান চৌধুরী এবং নূরুল ইসলাম।

সংসদ অধিবেশন চলাকালে বৃহস্পতিবার সাধারণত বেসরকারি সদস্যদের কার্যদিবস হিসেবে প্রাধান্য পায়, যা ‘বেসরকারি দিবস’ নামে পরিচিত। তবে স্পিকার চাইলে দিনটি সরকারি কার্যদিবস হিসেবেও নির্ধারণ করতে পারেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
মেয়রের অভিযোগের কয়েক ঘণ্টার পরই খুলশীর ওসি বদলি

চট্টগ্রামের খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিমকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। তাকে সিএমপির বিশেষ শাখা সিটিএসবিতে সংযুক্ত করা হয়েছে।   বুধবার নগরীর ঈদগাঁও এলাকায় ডেঙ্গু সচেতনতামূলক একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ওসি আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তার বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওসি বদলির আদেশ আসে।   মেয়র অভিযোগ করেন, আবদুর রহিম আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাকলিয়া থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার দাবি, খুলশী থানায় দায়িত্ব নেওয়ার পর ওসি আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি; বরং ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের দমনে পক্ষপাতমূলকভাবে কাজ করছেন।   এ ছাড়া কিশোর হৃদয় হত্যা মামলার তদন্ত নিয়েও ওসি রহিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন মেয়র। তার দাবি, মামলার এক আসামিকে নির্যাতন করে জোরপূর্বক বহিষ্কৃত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ওয়াকিল হোসেন বগার নাম জবানবন্দিতে যুক্ত করা হয়েছে।   মেয়র আরও দাবি করেন, আসন্ন সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে তার বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে এবং ওসি রহিম ওই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত।   এর আগে মঙ্গলবার রাতে মতিঝর্ণা এলাকায় চসিক ভবনের কাছাকাছি পুলিশের একটি দল অবস্থান নেয়। ওই সময় গুঞ্জন ছড়ায়, একাধিক মামলার আসামি ওয়াকিল হোসেন বগা মেয়রের কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং পরে সেখান থেকে বেরিয়ে যান।   তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে মেয়র বলেন, ওয়াকিল তার সঙ্গে চলে যাওয়ার বিষয়টি কেউ প্রমাণ করতে পারলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। একই সঙ্গে প্রমাণ দিতে না পারলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।   মেয়র ওয়াকিলকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলনের একজন ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক নিপীড়নের কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছিল বলে দাবি করেন।   তবে পুলিশের নথি অনুযায়ী, ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগার বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক, বিস্ফোরক ও পুলিশের ওপর হামলাসহ অন্তত ১৭টি মামলা রয়েছে। জমি দখলকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে গোলাগুলির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চলতি বছরের জুনে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।   পুলিশ জানায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর ওয়্যারলেস এলাকায় ওয়াকিলকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলে পুলিশের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ওসি আবদুর রহিমসহ সাত পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে ১৩ সেপ্টেম্বর ওয়াকিলের পরিবারের পক্ষ থেকে ওসিসহ আটজনের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা করা হয়। মামলাটি বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে।   এদিকে ওসি বদলির সঙ্গে মেয়রের বক্তব্যের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। তার দাবি, এটি পুলিশের নিয়মিত বদলি কার্যক্রমের অংশ। মেয়রের বক্তব্য সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলেও জানান কমিশনার।   এ বিষয়ে সদ্য সাবেক ওসি আবদুর রহিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ছয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মীদের বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে নতুন নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনের আগে চাপে নেতানিয়াহু, রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা

ছবি: সংগৃহীত

সারের জন্য দীর্ঘ লাইন, নাটোর-মানিকগঞ্জে কৃষকদের ভোগান্তি

ছবি: সংগৃহীত
বরগুনায় অটোরিকশা-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২

বরগুনা সদর উপজেলায় প্রাইভেটকার ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে তাওহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে।   বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে বরগুনা-বাকেরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের সোনারবাংলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তাওহিদুল ইসলাম বরগুনা সদর উপজেলার বদরখালী এলাকার বাসিন্দা।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গৌরীচন্না এলাকা থেকে বরগুনার দিকে যাচ্ছিল একটি প্রাইভেটকার। গাড়িটিতে গাজী টেলিভিশনের (জিটিভি) একটি স্টিকার লাগানো ছিল। পথে সোনারবাংলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে গাড়িটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।   সংঘর্ষের পর অটোরিকশাটি সড়কের পাশের একটি খাদে পড়ে যায়। এতে অটোরিকশার যাত্রী তাওহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই মারা যান।   দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবলু নামে এক আহতের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।   বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রাইভেটকারটিতে জিটিভির স্টিকার ছিল। তবে গাড়িটি কে চালাচ্ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার ঘটনায় উভয় পক্ষের কেউ থানায় অভিযোগ করলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, নীলফামারীতে ইউএনওর বিরুদ্ধে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে প্রাণ গেল চালকের

ছবি: সংগৃহীত

শালিসি বৈঠকে উত্তেজনা, ঝিনাইদহে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০

ছবি: সংগৃহীত
আবরারের আত্মত্যাগ প্রতিরোধের প্রেরণা হয়ে থাকবে : রিজভী

শহীদ আবরার ফাহাদের আত্মত্যাগ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, দেশের প্রশ্নে এবং জাতির স্বার্থে জাতীয়তাবাদী শক্তি কখনো আত্মসমর্পণ করবে না।   বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অডিটোরিয়ামে শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্রদল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছি, সবকিছু করছি। কিন্তু দেশের প্রশ্নে, জাতির প্রশ্নে আমরা কখনোই আত্মসমর্পণ করব না। আমরা আমাদের যে অস্তিত্ব, আমাদের যে ভূমি, এটিকে রক্ষার জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই করব।’ আবরার ফাহাদকে জাতীয়তাবাদী শক্তির অনন্য এক উজ্জ্বল প্রতীক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই প্রতীককে কেউ অবগুণ্ঠন করে রাখতে পারবে না, একে কখনও কুণ্ঠিত করতে পারবে না।’   আবরারের আত্মদানকে নিছক হত্যাকাণ্ড হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘আবরারের আত্মদান শুধু একটি নিছক হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখলে হবে না। তার ফেসবুক পোস্টের প্রতিটি শব্দ ছিল অত্যন্ত ধারাল, শানিত ও তীক্ষ্ণ। দেশের শত্রুদের বিরুদ্ধে, যারা বাংলাদেশকে করায়ত্ত করতে চায় এবং আগ্রাসী থাবার মধ্যে রাখতে চায়, তার বক্তব্য ছিল তাদের বিরুদ্ধে’।   তিনি বলেন, ‘আবরার আক্রমণ ও হত্যার মধ্য দিয়ে তাকে ভয় পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, যাতে এ ধরনের কথা লিখলে আর কেউ সাহস না করে। কিন্তু সেই বার্তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বরং, আবরারের মৃত্যু গোটা জাতিকে আরও বেশি সংগঠিত করেছে এবং আগ্রাসী ও সম্প্রসারণবাদী শক্তির বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিরোধের শক্তির স্ফুরণ ঘটেছে।’   বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, সে সময় দেশের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে পার্শ্ববর্তী দেশের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, ভারতকে যা দেওয়া হয়েছে তা তারা মনে রাখবে। এই নতিস্বীকারের বিরুদ্ধে আবরার ফাহাদ যে প্রতিবাদ করেছিলেন, সেটিই তার অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।   রিজভী বলেন, ‘আবরার ফাহাদের আত্মদানের মধ্য দিয়ে ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচাগ্র মেদিনী’ কথাটি নতুন করে প্রমাণিত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘তোমরা হয়তো অনেক কিছুই করতে পার, অনেক চুক্তি করতে পার। কিন্তু জনগণ বিনা যুদ্ধে আমার স্বার্থের বাইরে কিছু যায়, সেখানে আপস করবে না।’   আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহর সঙ্গে কথোপকথনের স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, অনুষ্ঠানে তার পাশে বসেছিলেন তিনি। বরকত উল্লাহ তাকে জানিয়েছিলেন, তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ১৯৯০ সালের রাকসু নির্বাচনে রিজভীকে ভোট দিয়েছিলেন। বিষয়টি তাকে আবেগাপ্লুত করেছে বলেও জানান তিনি।   ছাত্রদলের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, রাজপথে বারবার রক্তাক্ত হলেও সংগঠনটি বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন ধারাকে ধারণ করে কোনো গোপন বা ছদ্মবেশী রাজনীতির আশ্রয় নেয়নি। আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের স্বাধীন অস্তিত্ব ধরে রেখেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘শহীদ আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ২০১৯ সালের ৮ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সর্বপ্রথম ছাত্রদল প্রতিবাদে নামে। ছাত্রলীগের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে সেদিন হাজার হাজার ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থী প্রতিবাদে শামিল হয়েছিলেন’।   তিনি আরও বলেন, ‘আবরার ফাহাদের মতোই ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে শত শত ছাত্রদল নেতাকর্মীকে পৈশাচিক নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। অনেকের হত্যাকাণ্ডের কোনো সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বা ডকুমেন্টস পাওয়া যায়নি।’   ২০২৪ সালে গুম কমিশন গঠনের পরও অসংখ্য ছাত্রদল ও বিএনপি নেতাকর্মীকে চোখ বেঁধে এবং বালুর বস্তা বেঁধে বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন রাকিব। আবরার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে প্রতিটি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের তালিকা করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান তিনি।   ছাত্রলীগের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুন্তাসির আল জেমির কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন রাকিব। এর পেছনে বিশেষ কোনো গোষ্ঠী জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের বিচার ও তাদের প্রতিহত করার ক্ষেত্রে অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।   ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গনেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন এবং শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ।   এ সময় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব ইউনিটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৮, ২০২৬
বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (বিএস-১)। ছবি: সংগৃহীত

মহাকাশে বড় বিপদ থেকে যেভাবে রক্ষা পেল বাংলাদেশের স্যাটেলাইট

ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে অনুমোদন

0 Comments