জাতীয়

সংসদ সদস্যরা যেসব সুযোগ-সুবিধা পান

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে নতুন সংসদ গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নতুন সরকারের সংসদ সদস্যরা আগামী মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) শপথ নিতে যাচ্ছেন। এরপর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান।

 

বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ সদস্যরা (এমপি) শুধু আইন প্রণয়ন ও জনগণের প্রতিনিধিত্বই করেন না, রাষ্ট্র তাদের জন্য নির্ধারণ করেছে সম্মানী-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার একটি বিস্তৃত কাঠামো।

এসব সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে ‘সংসদ সদস্য (পারিশ্রমিক ও ভাতা) আদেশ, ১৯৭৩’ অনুযায়ী, যা সময় সময় সংশোধনের মাধ্যমে হালনাগাদ করা হয়েছে। নিচে আইনি কাঠামো থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এমপিদের প্রাপ্ত প্রধান সুবিধাগুলো তুলে ধরা হলো—

মাসিক সম্মানী

সংসদ সদস্যরা মাসিক ৫৫ হাজার টাকা হারে সম্মানী পান। এটি তাদের মূল পারিশ্রমিক, যা পুরো দায়িত্বকালজুড়েই প্রযোজ্য।

নির্বাচনী এলাকা ভাতা

সংসদ সদস্যরা নির্বাচনী এলাকায় কাজ পরিচালনা, জনসংযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতার জন্য পান মাসিক ১২ হাজার ৫০০ টাকা।

আপ্যায়ন ভাতা

অতিথি আপ্যায়ন, সামাজিক যোগাযোগ ইত্যাদির জন্য সংসদ সদস্যরা মাসিক পাঁচ হাজার টাকা ভাতা নির্ধারিত।

শুল্কমুক্ত গাড়িসুবিধা

সংসদ সদস্যদের একটি বড় সুবিধা হলো—দায়িত্বকালীন একটি গাড়ি/জিপ/মাইক্রোবাস; কাস্টমস ডিউটি, ভ্যাট, ডেভেলপমেন্ট সারচার্জ ও আমদানি পারমিট ফি ছাড়া আমদানির সুযোগ এবং পাঁচ বছর পর একই শর্তে আরেকটি নতুন গাড়ি আমদানির সুযোগ।

পরিবহন ভাতা

যাতায়াত, জ্বালানি, গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতন মিলিয়ে এমপিরা মাসিক ৭০ হাজার টাকা পরিবহন ভাতা পান।

অফিস ব্যয় ভাতা

নির্বাচনী এলাকায় অফিস পরিচালনার জন্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

লন্ড্রি ও আনুষঙ্গিক ভাতা

সংসদ সদস্যরা প্রতি মাসে লন্ড্রি ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য ব্যয় (রান্নার সরঞ্জাম, লিনেন, টয়লেট্রিজ) ছয় হাজার টাকা।

ভ্রমণ ভাতা (সেশন ও কমিটি)

সংসদ অধিবেশন বা কমিটির বৈঠকে অংশ নিতে—বিমান/রেল/জাহাজে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড় গুণ পর্যন্ত ভাতা এবং সড়কপথে ভ্রমণে কিলোমিটার প্রতি ১০ টাকা পান।

দৈনিক ভাতা

দায়িত্ব পালনের সময় অবস্থান ভাতা—দৈনিক ভাতা ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং যাতায়াত ভাতা ৭৫ থেকে ২০০ টাকা (উপস্থিতি রেকর্ডভিত্তিক) পান।

দেশে অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ

প্রতি বছর সংসদ সদস্যরা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ-ভাতা অথবা সমপরিমাণের নন-ট্রান্সফারেবল ট্রাভেল পাস পান।

চিকিৎসা সুবিধা

সংসদ সদস্যরা ও তাদের পরিবার সদস্যরা প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা-সুবিধা এবং মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান।

টেলিফোন সুবিধা

বাসভবনে সরকারি খরচে টেলিফোন সংযোগ এবং কল ও ভাড়া বাবদ মাসিক ৭ হাজার ৮০০ টাকা পান।

বিমা-সুবিধা

দায়িত্বকালীন দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে ১০ লাখ টাকার বিমা-সুবিধা পান।

ঐচ্ছিক অনুদান

জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয়ের জন্য বছরে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ পান।

কর সুবিধা

এই আদেশ অনুযায়ী প্রাপ্ত ভাতাগুলো আয়করমুক্ত।

প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব বনাম রাষ্ট্রীয় সুবিধা

আইন অনুযায়ী এই সুবিধাগুলো সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা, নির্বাচনী এলাকায় উপস্থিতি নিশ্চিত করা, গণসংযোগ জোরদার এবং প্রশাসনিক কাজ সহজ করার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভাতার পরিমাণ, সুবিধার পরিধি ও জবাবদিহি নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, বিশেষ করে স্বচ্ছতা, কার্যকারিতা ও জনসেবার সঙ্গে সুবিধার সামঞ্জস্য নিয়ে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপ সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়ায় সরকারি সফর শেষ করে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।   শুক্রবার (৩ জুলাই) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   আইএসপিআরের তথ্যমতে, সফর চলাকালে সেনাপ্রধান দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ এবং চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামরিক সম্পর্কের সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।   এ ছাড়া তিনি সফরকালে বিভিন্ন সামরিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিরক্ষা শিল্প-কারখানা পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন।   উল্লেখ্য, গত ২৮ জুন সরকারি সফরে চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ভাঙ্গার হত্যা মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে প্রধান আসামি, উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই শহীদদের স্মরণে আজ সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

খামেনি হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে বড় স্ক্রিনে খেলা দেখার স্থানগুলোতে নজরদারি করবে ডিবি

ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা থেকে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা এড়াতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বড় স্ক্রিনে খেলা দেখার স্থানগুলোতে বিশেষ নজরদারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ।   শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজধানীর আদাবরে ব্রাজিলের খেলা দেখা নিয়ে সংঘর্ষে বিএনপি নেতা মো. আবুল বাশার বাদশা নিহত হওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিষয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।   তিনি বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বড় পর্দায় বিশ্বকাপের খেলা দেখার আয়োজন করা হচ্ছে। এসব স্থানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য সব থানাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের সঙ্গে সমন্বয় করে থানা-পুলিশ ও ডিবি সদস্যরা নজরদারিতে থাকবেন।   নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, খেলার আনন্দ যেন আনন্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং তা কোনো সহিংসতা বা বিষাদে পরিণত না হয়। খেলায় জয়-পরাজয় স্বাভাবিক বিষয় উল্লেখ করে তিনি সমর্থকদের পরস্পরের প্রতি সহনশীল থাকার আহ্বান জানান।   ডিবি সূত্র জানায়, গত সোমবার রাতে ব্রাজিলের জয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, উদযাপনের সময় কয়েকজন কিশোর ঢোল ও বাঁশি বাজালে হাবিব নামে এক ব্যক্তি নিরব নামে এক যুবককে মারধর করেন। সেই ঘটনার জের ধরে বুধবার রাতে সংঘটিত হামলায় স্থানীয় বিএনপি ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল বাশার বাদশা নিহত হন।   এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ময়মনসিংহ থেকে নিরব, রিপন, মজনু ও মিজানুর রহমান নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবির তেজগাঁও বিভাগ। পুলিশের দাবি, রিপন সরাসরি ছুরিকাঘাত করেন এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে।   এদিকে একই ঘটনায় আহত স্থানীয় ইউনিট বিএনপির সভাপতি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করেই এলপিজির দাম কমানো হয়েছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

ভারতীয় ভিসা নিয়ে হাইকমিশনের বিশেষ বার্তা

ছবি: সংগৃহীত

নদীভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ নেবে সরকার

সংগৃহীত ছবি
শক্তিশালী গণমাধ্যমই শক্তিশালী গণতন্ত্রের ভিত্তি: মির্জা ফখরুল

সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করার আহ্বান জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সাংবাদিকরা সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলবেন। রাজনীতিবিদদের ভুলত্রুটি তুলে ধরে সঠিক পথ দেখানোই সাংবাদিকতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। যে দেশের গণমাধ্যম যত শক্তিশালী, সে দেশের গণতন্ত্রও তত শক্তিশালী।   শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের আনিসুল হক মিলনায়তনে প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনীতিবিদরা সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে গিয়ে ভুলত্রুটি হতেই পারে। সেই ভুল তুলে ধরা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের সামনে সত্য তুলে ধরাই গণমাধ্যমের দায়িত্ব। তিনি বলেন, অনেক সময় সত্য সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকরা হামলা ও হয়রানির শিকার হন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।   সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে দুটি নতুন উপজেলা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই চলবে না; দক্ষ, সৎ ও জনবান্ধব নেতৃত্ব গড়ে তোলার পাশাপাশি নতুন উপজেলা পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।   সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ব্যক্তি নয়, কাজকে মূল্যায়ন করতে হবে। যারা ভালো কাজ করবেন, তাদের সাফল্য যেমন তুলে ধরতে হবে, তেমনি অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও নির্ভয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে হবে।   অনুষ্ঠানের শেষে নবনির্বাচিত ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব কমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে তারা গণমানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করবেন এবং প্রেসক্লাবকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।   অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত সভাপতি ও এনটিভির স্টাফ রিপোর্টার লুৎফর রহমান মিঠু, সাধারণ সম্পাদক ও একাত্তর টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার তানভীর হাসান তানুসহ জেলার প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

১ আগস্ট থেকে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার আবেদন: জেনে নিন নিয়ম

টাকার নোট, সরকারের লোগো ও নবম পে-স্কেল। ছবি : সংগৃহীত

বাস্তবায়িত পে-স্কেলের গেজেট চূড়ান্ত, কার কত বেতন বাড়ল

ছবি: সংগৃহীত

দুই বছরেও শুরু হয়নি আবু সাঈদ স্মৃতিস্তম্ভ-জাদুঘর প্রকল্প, ভিত্তিপ্রস্তরেই সীমাবদ্ধ উদ্যোগ

0 Comments