আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং সাবেক বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের দৃষ্টিনন্দন বাগানবাড়ি ‘আলেয়া গার্ডেন’ এখন পরিত্যক্ত পড়ে আছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বাগানবাড়িটি বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত পড়ে থাকায় এটি এখন মাদকসেবীদের নিরাপদ আড্ডাখানা ও নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত টানা সাত বার আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা আজম। ১৯৯১ সালে সংসদ সদস্য, ১৯৯৬ সালে সরকার দলীয় সাংসদ এরপর ২০০১ সালে হন সংসদে বিরোধী দলীয় হুইপ এবং ২০০৮ সালে সরকারদলীয় হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ২০১৪ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হন। পরে ২০১৯ সালে তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। এরপর ২০২৪ সালে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি সপ্তমবারের মতো একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার কারণে মির্জা আজম গড়ে তোলেন অর্থ-সম্পদ আর প্রাচুর্যের সাম্রাজ্য। জামালপুরের দেউরপাড় চন্দ্রা এলাকায় প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয় একর জমির ওপর স্ত্রী আলেয়ার নামে আলেয়া গার্ডেন গড়ে তোলেন মির্জা আজম। স্থানীয়ভাবে এই রিসোর্ট ‘রং মহল’ নামে পরিচিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বাগানবাড়িটি নির্মাণের সময়ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জমি দখল করা হয়েছিল।
আলেয়া গার্ডেনে দেশি-বিদেশি ফলজ, বনজ, ওষধি এবং সৌন্দর্যবর্ধক প্রায় দুই শতাধিক প্রজাতির গাছ ছিল। পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণে বিশেষ অবদানের জন্য এই বাগানের মালিক হিসেবে মির্জা আজমের স্ত্রী আলেয়া আজম ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক জাতীয় পদক পেয়েছিলেন। এই বাগানবাড়িতে একটি বিলাসবহুল আবাসিক ভবন, বিভিন্ন প্রশিক্ষণ বা অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য সুপরিসর একাধিক ভবন ছিল। ছিল আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত উন্নত জাতের গরু ও মুরগির খামার। বাগানবাড়িটি প্রথমে মির্জা আজমের পরিবার ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনদের অবসর কাটানোর জন্য ব্যবহৃত হলেও পরবর্তীতে এটিকে পার্ক হিসেবে গড়ে তোলা হয়। এক সময় সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয় এবং দর্শনার্থীরা একশ টাকা প্রবেশমূল্য দিয়ে আলেয়া গার্ডেনে প্রবেশ ও সময় কাটাতে পারতেন।
এখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে সভা, সেমিনার, প্রশিক্ষণসহ তাদের নানা কর্মসূচি ও বনভোজন আয়োজন করা হতো। আলেয়া গার্ডেনে দর্শনার্থীদের জন্য বসার জায়গা, শিশুদের খেলাধুলাসহ বিভিন্ন রাইড স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু গত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে আলেয়া গার্ডেনে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এরপর কয়েকদিন ধরে সেখানে লুটপাট চলেছে। আলেয়া গার্ডেন এখন যেন বিরাণভূমি।
সরেজমিনে দেখা যায়, জামালপুর পৌর শহরের দেউড়পাড় এলাকায় অবস্থিত আলেয়া গার্ডেনের আশপাশে তেমন জনবসতি নেই। নির্জন পরিবেশের কারণে স্থানটি এখন নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুটি দ্বিতল ভবনের বিভিন্নস্থানে মাদক সেবনের আলামত দেখা গেছে। ভবনের ভেতরে ও আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ব্যবহৃত মাদকের বিভিন্ন উপকরণ।
দিনের বেলায় বাগানবাড়ির পুকুরে স্থানীয়দের গোসল, ঘোরাঘুরি এবং কৃষি জমিতে কাজ করা মানুষের যাতায়াত দেখা যায়। অনেক শিক্ষার্থীও সেখানে অবাধে সময় কাটাতে আসে। তবে সন্ধ্যা নামার পর পুরো এলাকার চিত্র বদলে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্জনতার সুযোগ নিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদকসেবীরা সেখানে জড়ো হয়। সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত, কখনো কখনো ভোর পর্যন্ত চলে নেশার আসর।
স্থানীয়দের দাবি, মদ, গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবনের পাশাপাশি সেখানে নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডও ঘটে। এ কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলতে থাকলে স্থানীয় তরুণদের একটি অংশও বিপথগামী হতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক কৃষক বলেন, চাষাবাদের সুবিধা, ফসল ও মাছ পাহারা দেওয়ার জন্য আমরা পালা করে কয়েকজন এখানে রাতে থাকি। দিনের বেলাতে উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েরা স্কুল-কলেজে না গিয়ে এখানে আসে। তাদের অনেকেই অসামাজিক কার্যকলাপ করে। সন্ধ্যার পরে এখানে মাদকাসক্তদের আড্ডা জমে উঠে। শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদকসেবীরা এখানে এসে নির্বিঘ্নে মাদক সেবন করে। আগে মাঝে মধ্যে পুলিশকে ফোন দিতাম। কিন্তু পুলিশ এসে উল্টো আমার কাছে তেল খরচের জন্য টাকা চায়। এজন্য এখন আর পুলিশকে ফোন দেই না।
স্থানীয় তরুণ রায়হান (২৩) বলেন, এই বাগান বাড়িটি অপরাধ করার জন্য আদর্শ একটি জায়গা হয়ে গেছে। এখানে প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই। এজন্য এখানে নির্দ্বিধায় অপরাধ এবং অসামাজিক কাজ করা যাচ্ছে। প্রশাসন যদি নজরদারি করে তবে এখানে অপরাধ বা অসামাজিক কার্যক্রম বন্ধ হবে। তাই আমি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
চন্দ্রা এলাকার বাসিন্দা হযরত আলী (৪৫) বলেন, ৫ আগস্টের পর আলেয়া গার্ডেন মাদকাসক্তদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। শুধু আখড়া নয় এখন এখান থেকে মাদকসেবী তৈরি হচ্ছে। এলাকার যারা মাদক চিনত না তারাও মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। শহর থেকে যেসব মাদকসেবী এখানে আসে তারা এলাকার যুবকদের মাদক সেবনে উদ্বুদ্ধ করছে। নানা ধরনের মাদকের গন্ধে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা একাধিকবার তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করলেও উল্টো মাদকসেবীরা মব সৃষ্টি করে। ভয়ে-আতঙ্কে কেউ প্রতিবাদ করে না এবং এই জায়গাটিতে স্থানীয়রা খুব একটা যাওয়া-আসা করে না। জায়গাটি নিরিবিলি হওয়ায় মাদবসেবনের পাশাপাশি মাদক কেনাবেচার নিরাপদ স্থানে পরিণত হয়েছে।
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব ঢাকা পোস্টকে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান সার্বক্ষণিক চলমান রয়েছে। ওই স্থানটিতে গুরুত্ব সহকারে অভিযান পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত আদমজী ইপিজেডের অনন্ত অ্যাপারেলস লিমিটেড নামে পোশাক কারখানার গোডাউনে আগুন লেগেছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। বুধবার (১৫ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে কারখানাটির কাপড়ের গোডাউনে আগুনের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর ৪টার দিকে অনন্ত অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানার কাপড়ের গোডাউন থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন গোডাউনের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে প্রথমে আদমজী ইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের আরও আটটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়। এতে সকাল ৭টা ১০মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর আগুন নির্বাপন করতে আরও অনেক সময় লেগেছে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। তবে আগুনে কারখানার কাপড় পুড়ে গেছে। ধারণা করা হয়, গোডাউনে বিপুল পরিমাণ ফ্যাব্রিক্স (কাপড়) ও দাহ্য কেমিক্যালজাতীয় উপকরণ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে বেশি সময় লেগেছে। আদমজী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মিরন মিয়া বলেন, প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুনের কারণে গোডাউনে থাকা বিপুল পরিমাণ কাপড়, কাঁচামাল ও অন্যান্য মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তদন্ত শেষে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে। ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা ডিভিশনের উপপরিচালক ছালেহ উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের নারায়ণগঞ্জ, কাঁচপুরসহ মোট ৯টি ইউনিটের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে ভেতরে অনেক কাপড় থেকে আগুন জ্বলে উঠছে। ফলে আগুন নির্বাপন করতে আরও অনেক সময় লেগেছে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। তবে কাপড়ের গোডাউনের শেড ভেঙে পড়েছে। এছাড়া গোডাউনে থাকা কাপড়সহ অন্যান্য মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তদন্ত করে আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বলা সম্ভব হবে।
কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে আগামী বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এক সরকারি গেজেটের মাধ্যমে এই শোক পালনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এ উপলক্ষে কাল দেশের সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। সরকারি গেজেটে জানানো হয়েছে, গত ১২ জুলাই ইন্তেকাল করেন আধুনিক কাতারের রূপকার হিসেবে পরিচিত শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি। বাংলাদেশ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই অকৃত্রিম বন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই রাষ্ট্রীয়ভাবে এই শোক পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। শোক পালন উপলক্ষে বুধবার দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সকল সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় শোকের অংশ হিসেবে শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির রুহের মাগফেরাত কামনায় বুধবার দেশের সকল মসজিদে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও তার আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা ছিলেন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে কাতারের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত নারী বিষয়ক নবম ওআইসি মিনিস্ট্রিয়াল সম্মেলনে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। দুই দিনব্যাপী (১২-১৩ জুলাই) এ সম্মেলনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল যোগ দেয়। ইসলামাবাদের জিন্নাহ কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ওআইসি সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে রয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন, মন্ত্রীর একান্ত সচিব ড. মো. মাহমুদুল হক এবং পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান। সম্মেলনের সাইডলাইনে বাংলাদেশের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন ইরানের নারী ও পরিবার বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জাহরা বেহরুজ আজারের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান এবং ইরানের ডেপুটি হেড অব মিশন নাবি উল্লাহ শিরাজিও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক সমাজ গঠনে মুসলিম উম্মাহর পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশে নারীর উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি নারীদের জন্য সম্প্রতি চালু হওয়া ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী ও শিশু উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান। ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার জানাজায় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশকে একটি রোল মডেল হিসেবে উল্লেখ করে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে শিক্ষা ক্ষেত্রে ইরানের নারীদের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন এবং মুসলিম উম্মাহর নারীর উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের মন্ত্রীকে ইরান সফরের আমন্ত্রণও জানান।