আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং সাবেক বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের দৃষ্টিনন্দন বাগানবাড়ি ‘আলেয়া গার্ডেন’ এখন পরিত্যক্ত পড়ে আছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বাগানবাড়িটি বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত পড়ে থাকায় এটি এখন মাদকসেবীদের নিরাপদ আড্ডাখানা ও নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত টানা সাত বার আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা আজম। ১৯৯১ সালে সংসদ সদস্য, ১৯৯৬ সালে সরকার দলীয় সাংসদ এরপর ২০০১ সালে হন সংসদে বিরোধী দলীয় হুইপ এবং ২০০৮ সালে সরকারদলীয় হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ২০১৪ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হন। পরে ২০১৯ সালে তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। এরপর ২০২৪ সালে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি সপ্তমবারের মতো একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার কারণে মির্জা আজম গড়ে তোলেন অর্থ-সম্পদ আর প্রাচুর্যের সাম্রাজ্য। জামালপুরের দেউরপাড় চন্দ্রা এলাকায় প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয় একর জমির ওপর স্ত্রী আলেয়ার নামে আলেয়া গার্ডেন গড়ে তোলেন মির্জা আজম। স্থানীয়ভাবে এই রিসোর্ট ‘রং মহল’ নামে পরিচিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বাগানবাড়িটি নির্মাণের সময়ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জমি দখল করা হয়েছিল।
আলেয়া গার্ডেনে দেশি-বিদেশি ফলজ, বনজ, ওষধি এবং সৌন্দর্যবর্ধক প্রায় দুই শতাধিক প্রজাতির গাছ ছিল। পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণে বিশেষ অবদানের জন্য এই বাগানের মালিক হিসেবে মির্জা আজমের স্ত্রী আলেয়া আজম ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক জাতীয় পদক পেয়েছিলেন। এই বাগানবাড়িতে একটি বিলাসবহুল আবাসিক ভবন, বিভিন্ন প্রশিক্ষণ বা অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য সুপরিসর একাধিক ভবন ছিল। ছিল আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত উন্নত জাতের গরু ও মুরগির খামার। বাগানবাড়িটি প্রথমে মির্জা আজমের পরিবার ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনদের অবসর কাটানোর জন্য ব্যবহৃত হলেও পরবর্তীতে এটিকে পার্ক হিসেবে গড়ে তোলা হয়। এক সময় সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয় এবং দর্শনার্থীরা একশ টাকা প্রবেশমূল্য দিয়ে আলেয়া গার্ডেনে প্রবেশ ও সময় কাটাতে পারতেন।
এখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে সভা, সেমিনার, প্রশিক্ষণসহ তাদের নানা কর্মসূচি ও বনভোজন আয়োজন করা হতো। আলেয়া গার্ডেনে দর্শনার্থীদের জন্য বসার জায়গা, শিশুদের খেলাধুলাসহ বিভিন্ন রাইড স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু গত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে আলেয়া গার্ডেনে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এরপর কয়েকদিন ধরে সেখানে লুটপাট চলেছে। আলেয়া গার্ডেন এখন যেন বিরাণভূমি।
সরেজমিনে দেখা যায়, জামালপুর পৌর শহরের দেউড়পাড় এলাকায় অবস্থিত আলেয়া গার্ডেনের আশপাশে তেমন জনবসতি নেই। নির্জন পরিবেশের কারণে স্থানটি এখন নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুটি দ্বিতল ভবনের বিভিন্নস্থানে মাদক সেবনের আলামত দেখা গেছে। ভবনের ভেতরে ও আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ব্যবহৃত মাদকের বিভিন্ন উপকরণ।
দিনের বেলায় বাগানবাড়ির পুকুরে স্থানীয়দের গোসল, ঘোরাঘুরি এবং কৃষি জমিতে কাজ করা মানুষের যাতায়াত দেখা যায়। অনেক শিক্ষার্থীও সেখানে অবাধে সময় কাটাতে আসে। তবে সন্ধ্যা নামার পর পুরো এলাকার চিত্র বদলে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্জনতার সুযোগ নিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদকসেবীরা সেখানে জড়ো হয়। সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত, কখনো কখনো ভোর পর্যন্ত চলে নেশার আসর।
স্থানীয়দের দাবি, মদ, গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবনের পাশাপাশি সেখানে নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডও ঘটে। এ কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলতে থাকলে স্থানীয় তরুণদের একটি অংশও বিপথগামী হতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক কৃষক বলেন, চাষাবাদের সুবিধা, ফসল ও মাছ পাহারা দেওয়ার জন্য আমরা পালা করে কয়েকজন এখানে রাতে থাকি। দিনের বেলাতে উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েরা স্কুল-কলেজে না গিয়ে এখানে আসে। তাদের অনেকেই অসামাজিক কার্যকলাপ করে। সন্ধ্যার পরে এখানে মাদকাসক্তদের আড্ডা জমে উঠে। শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদকসেবীরা এখানে এসে নির্বিঘ্নে মাদক সেবন করে। আগে মাঝে মধ্যে পুলিশকে ফোন দিতাম। কিন্তু পুলিশ এসে উল্টো আমার কাছে তেল খরচের জন্য টাকা চায়। এজন্য এখন আর পুলিশকে ফোন দেই না।
স্থানীয় তরুণ রায়হান (২৩) বলেন, এই বাগান বাড়িটি অপরাধ করার জন্য আদর্শ একটি জায়গা হয়ে গেছে। এখানে প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই। এজন্য এখানে নির্দ্বিধায় অপরাধ এবং অসামাজিক কাজ করা যাচ্ছে। প্রশাসন যদি নজরদারি করে তবে এখানে অপরাধ বা অসামাজিক কার্যক্রম বন্ধ হবে। তাই আমি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
চন্দ্রা এলাকার বাসিন্দা হযরত আলী (৪৫) বলেন, ৫ আগস্টের পর আলেয়া গার্ডেন মাদকাসক্তদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। শুধু আখড়া নয় এখন এখান থেকে মাদকসেবী তৈরি হচ্ছে। এলাকার যারা মাদক চিনত না তারাও মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। শহর থেকে যেসব মাদকসেবী এখানে আসে তারা এলাকার যুবকদের মাদক সেবনে উদ্বুদ্ধ করছে। নানা ধরনের মাদকের গন্ধে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা একাধিকবার তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করলেও উল্টো মাদকসেবীরা মব সৃষ্টি করে। ভয়ে-আতঙ্কে কেউ প্রতিবাদ করে না এবং এই জায়গাটিতে স্থানীয়রা খুব একটা যাওয়া-আসা করে না। জায়গাটি নিরিবিলি হওয়ায় মাদবসেবনের পাশাপাশি মাদক কেনাবেচার নিরাপদ স্থানে পরিণত হয়েছে।
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব ঢাকা পোস্টকে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান সার্বক্ষণিক চলমান রয়েছে। ওই স্থানটিতে গুরুত্ব সহকারে অভিযান পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম মহান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ ও প্রত্যাশার বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। আজ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘আসুন, মহান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, বৈষম্যহীন ও সুখী-সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি। একই সঙ্গে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্বপ্ন, আদর্শ ও আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করি।’ বাণীতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে এবং প্রবল গণরোষে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বীর জুলাই যোদ্ধাসহ দেশপ্রেমিক সব নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। তিনি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, ইয়ামিন, ফারহান, নাফিজ, তাইম, নাঈমা, শিশু রিয়া গোপ ও আহাদসহ আত্মোৎসর্গকারী হাজারো বীর শহীদকে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনে পঙ্গুত্ববরণকারী জুলাইযোদ্ধাদের প্রতিও গভীর সম্মান ও আন্তরিক সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, তাঁদের বিরল আত্মত্যাগ, অসীম সাহস ও অসামান্য অবদান জাতি চিরকাল স্মরণ করবে এবং তা অনন্তকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে গত দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন, বৈষম্য, সীমাহীন দুর্নীতি, শোষণ, গুম-খুন, দলীয়করণ; গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা হরণ এবং জেল-জুলুমের বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের অপ্রতিরোধ্য বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেন। বাণীতে উল্লেখ করা হয় যে, দীর্ঘ সময়ের রাষ্ট্রীয় অনিয়ম, নিপীড়ন, দুর্নীতির ফলে জনমনে সঞ্চিত ক্ষোভ ও তীব্র অসন্তোষ কোটা সংস্কার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় নিরস্ত্র শিক্ষার্থী-জনতার ওপর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর সর্বব্যাপী গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সবাইকে জুলাইযোদ্ধা হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এই গণ-অভ্যুত্থানে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী-শিক্ষক, তরুণ-যুবসমাজ, রাজনৈতিক কর্মী, শ্রমজীবী, কর্মজীবী, ভ্রাতা-ভগ্নি, কন্যা-জায়া, জননীসহ সর্বস্তরের মানুষ অসীম সাহস ও ত্যাগের প্রতিজ্ঞা নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসেন এবং তাঁরা সবাই জুলাইযোদ্ধা। তিনি বলেন, জনগণই সব রাষ্ট্রক্ষমতার উৎস। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই চিরন্তন সত্য আবারও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় এমন একটি মানবিক ও গণমানুষের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে আর কখনো ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার এবং উগ্রপন্থার ঠাঁই হবে না। একই সঙ্গে বৈষম্য, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও অন্যায়ের অবসান, ভোটাধিকার, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও মৌলিক অধিকার সমুন্নত রাখা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে সুশাসন, জনস্বার্থ, জবাবদিহি ও প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। আন্দোলনে শহীদ ও আহত জুলাইযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান প্রদান, তাঁদের পরিবারের কল্যাণ, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি আশ্বাস প্রদান করেন। বাণীর শেষে তিনি বাংলাদেশকে শান্তি, সাম্য, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে আরো দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সব শহীদের রুহের মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন।
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় এক গৃহবধূর ঘর থেকে এক ব্যক্তিকে আটক করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে মামলা দায়েরের পর আদালতে পাঠিয়েছে। পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে মামলার পর আটক ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে সোমবার (৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার টাউনশ্রীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আটক শরিফুল ইসলাম মোড়ল (৪০) পার্শ্ববর্তী আজিজপুর গ্রামের মোজাম্মেল মোড়লের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টাউনশ্রীপুর উত্তরপাড়ার এক গৃহবধূর সঙ্গে শরিফুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছিল। সোমবার রাতে তিনি ওই বাড়িতে গেলে বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় লোকজন বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। পরে তারা ঘরে প্রবেশ করে দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শরিফুল ইসলামকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবলুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রাত পর্যন্ত এলাকাবাসী দুজনকে আটকে রেখেছিল। শরিফুল ইসলাম স্থানীয়ভাবে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত। এ বিষয়ে দেবহাটা ইউনিয়ন জামায়াতের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুস সালাম মাস্টার বলেন, শরিফুল ইসলাম সংগঠনের একজন সক্রিয় কর্মী। ঘটনার বিষয়ে প্রথমে তিনি অবগত ছিলেন না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দেবহাটা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রেজাউল করিম বলেন, অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটকে রাখার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং তাকে হেফাজতে নেয়। পরে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংশোধন করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। প্রথম বিজ্ঞপ্তিতে অতিরিক্ত বিল নিয়ে ‘মিথ্যা তথ্য’ বা ‘অপপ্রচার’ ছড়ালে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। পরে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে সেই অংশ বাদ দেওয়া হয়। সোমবার (৩ আগস্ট) বিদ্যুৎ বিভাগ সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিষয়টি স্পষ্ট করে। বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ বা গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনও কি ‘অপপ্রচার’ হিসেবে বিবেচিত হবে? অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে এমন ভাষা ব্যবহারেরও সমালোচনা করেন অনেকে। সমালোচনার পর ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই ওই বিজ্ঞপ্তি সংশোধন করে মন্ত্রণালয়। ফেসবুকের এডিট হিস্টোরিতে দেখা যায়, অধিকাংশ বক্তব্য অপরিবর্তিত রাখা হলেও আইনানুগ ব্যবস্থার হুঁশিয়ারিসংবলিত অংশটি বাদ দেয়া হয়েছে। সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে। বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, অতিরিক্ত বিল সংক্রান্ত এ পর্যন্ত পাওয়া সব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, কোনো গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেশি মনে হলে তিনি প্রয়োজনীয় নথিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন। প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে এবং কোনো অনিয়মের প্রমাণ মিললে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। এর আগে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে অতিরিক্ত বিল নিয়ে ‘মিথ্যা তথ্য’ বা ‘অপপ্রচার’ ছড়ানোর অভিযোগে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। তবে কয়েক ঘণ্টা পর প্রকাশিত সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে ওই সতর্কবার্তার অংশটি আর রাখা হয়নি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং বিভিন্ন স্থানে কয়েকজন গ্রাহকের অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ সামনে আসার পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ বিভাগের এ ব্যাখ্যা এসেছে। বিদ্যুৎ খাত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছেন, মিটার রিডিং সময়মতো সংগ্রহ না হওয়া, আনুমানিক রিডিংয়ের ভিত্তিতে বিল প্রস্তুত, তথ্য হালনাগাদে বিলম্ব, বিলিং চক্রের সমন্বয় এবং গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিল বেশি আসতে পারে। বিদ্যুৎ বিভাগ বলেছে, প্রকৃত অভিযোগ থাকলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তা জানাতে হবে। অভিযোগের যথাযথ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।