দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ হবে। সংসদ সদস্য হওয়ায় মির্জা ফখরুল ভোট দিতে পারবেন। তবে সংসদ সদস্য না হওয়ায় অলি আহমদ ভোটার তালিকায় নেই। তাই ভোট দিতে তো পারবেনই না, এমনকি ভোটকেন্দ্র সংসদ কক্ষেও প্রবেশের সুযোগ পাবেন না।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন ৩৪৯ সংসদ সদস্য। তাদের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ৫০ জন। চট্টগ্রাম-৪ আসন শূন্য থাকায় মোট ৩৪৯ জন ভোটারের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সংসদের ‘বিভক্তি নম্বর’ অনুযায়ী ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
অসুস্থতাজনিত কারণে দেশের বাইরে থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। এ বিষয়ে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন তিনি। চিঠি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজয়ী হতে একজন প্রার্থীকে ১৭৫ ভোট পেতে হবে। সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির সদস্য ২৪৭ জন। দলটির মিত্র বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণ অধিকার পরিষদ ও গণসংহতি আন্দোলনের একজন করে সংসদ সদস্য রয়েছেন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের সংসদ সদস্য রয়েছেন ৯০ জন। তাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর ৭৭ জন এবং জামায়াতের সমর্থনে নির্বাচিত জাগপার একজন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির আটজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তিনজন এবং খেলাফত মজলিসের একজন সংসদ সদস্য রয়েছেন।
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের শুরুতে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনরত স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের ভোট দেওয়ার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। একই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ভোটদানও সম্প্রচার করা হবে। এরপর ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সম্প্রচার বন্ধ থাকবে। ভোট গণনার সময় আবার সরাসরি সম্প্রচারে ফিরবে বিটিভি।
গতকাল বুধবার ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি জানান, ভোট গ্রহণের শুরুতে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনরত স্পিকার ও প্রধানমন্ত্রীর ভোটদান বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এরপর সম্প্রচার বন্ধ থাকবে এবং ভোট গণনার সময় আবার সরাসরি সম্প্রচার শুরু হবে। ভোট গণনা শেষে সংসদ কক্ষেই ফল ঘোষণা করবেন নির্বাচনী কর্তা। পরে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন। সংসদের অধিবেশন বর্তমানে চলমান না থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণের জন্য সংসদ সদস্যদের আলাদা বৈঠক ডাকা হয়েছে। ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করার পাশাপাশি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বও পালন করবেন সিইসি।
সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসে ভোট দেবেন। ভোট দেওয়ার আগে ব্যালট পেপারের মুড়ি অংশে নিজের পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করে ব্যালট গ্রহণ করবেন তাঁরা। এরপর মূল ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করতে হবে।
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনরত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালও সংসদ সদস্য হিসেবে ভোট দিতে পারবেন। তাঁদের ভোট দেওয়ার জন্য সংসদ কক্ষে পৃথক আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে।
বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদ সদস্য হওয়ায় ভোট দেওয়ার অধিকার রাখছেন। তবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের দিন তাঁর সংসদীয় আসন শূন্য হবে। অন্যদিকে অলি আহমদ সংসদ সদস্য নন। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি ভোট দিতে পারবেন না এবং সংসদ কক্ষে প্রবেশের সুযোগও থাকছে না।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। এর আগে গত ২৪ জুলাই আওয়ামী লীগ আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। এরপর সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা পূরণে গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ওই বছরই প্রথম সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে নির্বাচনে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। বিএনপি ১৪০টি এবং আওয়ামী লীগ ৮৮টি আসন পেয়েছিল। জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনে সরকার গঠন করে বিএনপি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।
এরপর অনুষ্ঠিত সাতটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী পক্ষ থেকে কোনো প্রার্থী দেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকায় ভোট গ্রহণের প্রয়োজন পড়েনি। এবার বিরোধী জোট প্রার্থী দেওয়ায় প্রায় ৩৫ বছর পর আবারও সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, দুর্নীতির অভিযোগ এনে মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে আমার মানহানি করা হচ্ছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে প্রেসক্লাবে দুদকে দায়ের হওয়া অভিযোগের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। আসিফ মাহমুদ বলেন, বিএনপির সময়ে হওয়া পদোন্নতি এবং বদলি হওয়া অভিযোগ এনে আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করা হচ্ছে, যা মিথ্যা এবং বানোয়াট। তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতেই দুদক আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে নেমেছে। অতীতেও নানা মিথ্যা অভিযোগ এনে প্রতিপক্ষকে দমন করতে দুদককে ব্যবহার করা হয়েছিল। এখনও রাজনৈতিক কায়দায় দুদককে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ এনে মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে আমার মানহানি করা হচ্ছে। এনসিপির মুখপাত্র বলেন, উপদেষ্টা থাকাকালীন সময়ে দেশের জন্য কাজ করতে গিয়ে আমাকে অনেক সিদ্ধান্তই নিতে হয়েছে। জনগণের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে অনেকের বিরাগভাজন হতে হয়েছিল, তারাই এখন রাজনৈতিকভাবে আমার পিছনে লেগেছে। তিনি বলেন, দুদক যদি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অনুসন্ধান করে, তাহলে দুদককে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। কিন্তু শুরু থেকেই দুদককে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে, যা দুদকের মুখপাত্রের কথায় প্রমাণ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দুদক যদি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অনুসন্ধান করে, তাহলে সমস্যা নেই। সেখানে আমি সহায়তা করতে প্রস্তুত। তবে এই দুদক নিরপেক্ষ নয়। রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। দুদকের চেয়ারম্যান নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুদকে চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে এটা করা হয়েছে বলে দেখছি আমি। আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, দুদক স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অনুসন্ধান করলে সহায়তা করতে প্রস্তুত। তবে এই দুদক নিরপেক্ষ নয়, দুদককে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী অন্তর্ভুক্তি এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকারের বিষয়ে সংসদীয় নেতৃত্ব শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে, আজ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার বিষয়ক প্রস্তাবিত সংসদীয় ককাসের সদস্য হতে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। আজ, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ঢাকায় সাইটসেভার্স, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল (ডিআই) এবং ব্লাইন্ড এডুকেশন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (বার্ডো)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার বিষয়ক সংসদীয় ককাস গঠন’ শীর্ষক উচ্চ-পর্যায়ের পরামর্শ সভায় এই অঙ্গীকার ব্যক্ত হয়। এই পরামর্শ সভার অংশ হিসেবে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত, এমপি, প্রস্তাবিত ককাসটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনে সম্মতি জানিয়েছেন। এছাড়া, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, এমপি, এবং জামায়াতে ইসলামীর মহিলা শাখার সম্পাদক নুরুন্নিসা সিদ্দিকী, এমপি, সহ-আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনে সম্মতি দিয়েছেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত, এমপি, প্রধান অতিথি হিসেবে এই পরামর্শ সভায় অংশগ্রহণ করেন। বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে এই সভায় উপস্থিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান; মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান; অ্যাডভোকেট নেওয়াজ হালিমা আরলী; ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম; মোস্ত নাজমুন নাহার; নুরুন্নিসা সিদ্দিকী; নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি; নীলুফার চৌধুরী মনি; সানসিলা জেবরিন; এবং তাসমিয়া প্রধান। পাশাপাশি ওপিডি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, উন্নয়ন সহযোগী, জাতিসংঘ সংস্থা, এনজিও, আন্তর্জাতিক এনজিও, শিক্ষাঙ্গন এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারী এমপিরা এই উদ্যোগের প্রতি জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, মর্যাদা ও অন্তর্ভুক্তি এগিয়ে নিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। সংসদ সদস্যরা একমত হন যে, প্রতিবন্ধী অধিকার একটি জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে থাকা উচিত এবং আইন প্রণয়ন, নীতি তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সংসদের অভ্যন্তরে একটি বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, ওপিডি প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী এবং সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ এমপিদের দেওয়া অঙ্গীকারকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং প্রস্তাবিত এই ককাসকে সংসদীয় তদবির জোরদার করার ও আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের দিকে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ডাঃ নাফিসুর রহমানের উপস্থাপিত একটি মূল বক্তব্যে তুলে ধরা হয়, কীভাবে একটি সংসদীয় ককাস আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন তদারকি জোরদার করতে, নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার সংক্রান্ত অঙ্গীকারগুলোর বাস্তবায়নকে ত্বরান্বিত করতে পারে। এই আলোচনা সভায় প্রস্তাবিত ককাসটির ভূমিকা, দায়িত্ব এবং কার্যাবলী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা কীভাবে এই ককাস প্রতিবন্ধিতা-অন্তর্ভুক্তিমূলক আইন ও নীতির পক্ষে কাজ করতে, মন্ত্রণালয়-ভিত্তিক প্রতিবন্ধিতা বাজেট বরাদ্দকে উৎসাহিত করতে, প্রতিবন্ধীতা- ম্পর্কিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নের তদারকি জোরদার করতে পারে তা তুলে ধরেন এবং আইনপ্রণেতা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন (ওপিডি), সুশীল সমাজ ও উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে নিয়মিত সম্পৃক্ততা সহজতর করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন । বক্তারা উল্লেখ করেন, প্রতিবন্ধী আইন প্রণয়নে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করলেও, একটি সংসদীয় ককাস রাজনৈতিক অঙ্গীকার বজায় রাখতে, বিভিন্ন খাতের মধ্যে কার্যক্রম সমন্বয় করতে এবং জাতীয় উন্নয়ন প্রচেষ্টায় প্রতিবন্ধিতা-অন্তর্ভুক্তি দৃঢ় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারবে । সাইটসেভার্স-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর অমৃতা রেজিনা রোজারিও, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল-এর চিফ অফ পার্টি আমিনুল এহসান এবং বারডো -এর নির্বাহী পরিচালক মো. সাইদুল হক সংলাপে বক্তব্য রাখেন এবং বাংলাদেশে সংসদীয় ককাস প্রতিষ্ঠা এবং সকল অংশীজনের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির পরবর্তী পদক্ষেপসমূহে সমর্থন দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৃষ্টির পর চট্টগ্রামে আবারও বাড়ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ। চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম সাত দিনেই জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। এর আগে আগস্ট মাসে একাই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ হাজার ২০২ জন। আর জুলাই পর্যন্ত বছরের প্রথম সাত মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮৩৪ জন। চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৫৪৮ জন। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে ছয়জনের। এর মধ্যে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসেই মারা গেছেন পাঁচজন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও চট্টগ্রামের ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। নগরী ও জেলার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপও তুলনামূলক কম। তবে সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিবেচনায় নিয়ে এখনই সমন্বিতভাবে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৩ জন, ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতালে ১৮ জন, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১০ জন, চট্টগ্রাম সিএমএইচে একজন, বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৬ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ১৩ জন চিকিৎসাধীন ছিলেন। বৃষ্টিতে বাড়ছে এডিসের প্রজননস্থল: বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক সময়ে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে পানি জমছে। এসব জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ফুলের টব, ডাবের খোসা, পুরোনো গাড়ির টায়ারসহ বিভিন্ন পরিত্যক্ত পাত্র ও সামগ্রীতে জমে থাকা পানি এডিস মশার বংশবিস্তারের জন্য উপযোগী হয়ে উঠছে। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিকদেরও নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু এনএস১ পরীক্ষার ফল পজিটিভ হলেই প্রত্যেক রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন নেই। রোগীর শারীরিক অবস্থা এবং রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষার ফল বিবেচনা করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ডেঙ্গুর জটিল পর্যায়ে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পরের সময়টি রোগীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলেছেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি প্লাটিলেট কমে গেলেই আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিনই বৃষ্টি, বাড়ছে উদ্বেগ: চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, প্রায় প্রতিদিনই থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে এডিস মশার বংশবিস্তারের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদেরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। তিনি জানান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের জরিপেও চট্টগ্রাম নগরীতে এডিস মশার উপস্থিতির উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৮টি ওয়ার্ডে পরিচালিত জরিপে প্রায় ২৭ শতাংশ বাড়িতে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। জরিপে বলা হয়েছে, এসব এলাকায় লার্ভার উপস্থিতি স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। আগের বছরগুলোর তুলনায় পরিস্থিতি: চট্টগ্রামে ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৪ হাজার ৮৬৪ জন। ওই বছর মারা যান ২৭ জন। এর আগের বছর ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৩২৩ জন এবং মৃত্যু হয় ৪৫ জনের। ২০২৩ সালে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার ৮৭ জন। ওই বছর মারা যান ১০৭ জন। আর ২০২২ সালে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৫ হাজার ৪৪৫ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৪১ জনের। চলতি বছর সংক্রমণ আরও বাড়তে থাকায় বৃষ্টির পানি জমতে না দেওয়া, নিয়মিত মশক নিধন এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।