বিশ্ব

রাশিয়ার তেল ক্রয়ে ছাড়ের সময়সীমা বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেল ও জ্বালানি পণ্য আমদানির বিশেষ ছাড়ের মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মূল্য অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

 

শনিবার (১৮ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাম্প প্রশাসন রুশ তেল আমদানির ক্ষেত্রে সাময়িক এই ছাড়ের মেয়াদ বাড়িয়েছে।

 

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নথিতে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার পর্যন্ত জাহাজে বোঝাই করা রাশিয়ার তেল আগামী ১৬ মে পর্যন্ত কেনার অনুমতি থাকবে। এর আগে এই বিশেষ ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ১১ এপ্রিল।

 

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের মনোনীত দূত কিরিল দিমিত্রিভ বলেন, প্রথম দফার এই ছাড়ের ফলে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল রুশ অপরিশোধিত তেল আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করবে, যা বিশ্বের প্রায় এক দিনের মোট তেল উৎপাদনের সমান।

 

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে সমালোচনা দেখা দিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েনসহ অনেক নেতা এ পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন।

 

সমালোচকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়ন বন্ধ করতে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখা জরুরি। এমন অবস্থায় রুশ তেল ক্রয়ে বিশেষ ছাড় দেওয়া হলে মস্কো তেলের রাজস্ব থেকে যুদ্ধ চালানোর অর্থ সংগ্রহের সুযোগ পাবে, যা পশ্চিমাদের কৌশলকে দুর্বল করতে পারে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
হরমুজ খুলে দেওয়ায় শি খুব খুশি, দাবি ট্রাম্পের

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং খুব খুশি বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত করার খবরে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শি। ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যালে এক বার্তায় বলেছেন, বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি পুনরায় সচল হওয়ায় চীনা প্রেসিডেন্ট সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।   পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, প্রেসিডেন্ট শি খুব খুশি। কারণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছে অথবা এটি দ্রুত খোলার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।   সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি আমদানির জন্য হরমুজ প্রণালির ওপর চীনের ব্যাপক নির্ভরশীলতা রয়েছে। দীর্ঘদিন অবরোধের পর এই পথ খুলে দেওয়ার খবরে বেইজিংয়ের স্বস্তি ফিরেছে।   ট্রাম্প তার আসন্ন চীন সফরের বিষয়ে ইঙ্গিত করে আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট শির সঙ্গে তার বৈঠকটি হবে একটি বিশেষ এবং সম্ভাব্য ঐতিহাসিক ঘটনা। আমি শির সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় আছি। পোস্টের শেষে এই সফরের মাধ্যমে অনেক গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্জিত হবে বলেও বার্তা দিয়েছেন তিনি।   শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়েছে। আরাঘচির ঘোষণা অনুযায়ী, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তির সঙ্গে সংগতি রেখে কৌশলগত জলপথটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা হয়েছে।   পরে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রণালিটি খোলার বিষয় নিশ্চিত করেছেন। তার দাবি, ইরান আর কখনোই হরমুজ প্রণালি বন্ধ না করার বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে তিনি পোস্টে উল্লেখ করেছেন, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ কার্যকর থাকবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার তেল ক্রয়ে ছাড়ের সময়সীমা বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র

ছবি : সংগৃহীত

দ্বিতীয় দফার আলোচনায় বসছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, নির্ধারিত দিন ঘোষণা

হরমুজ প্রণালি। ছবি: সংগৃহীত

দুই শর্তে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিল ইরান

ছবি: সংগৃহীত
নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র, ফিরে গেল ১৯ জাহাজ

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এখনো বহাল রয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, ১০ হাজারের বেশি নৌসেনা, মেরিন ও বিমান বাহিনীর সদস্য এই অবরোধ কার্যকর করছে।   সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, অবরোধের অংশ হিসেবে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে ইরানি বন্দরে ফিরে যেতে নির্দেশ দেয়। এখন পর্যন্ত অন্তত ১৯টি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশ মেনে ফিরে গেছে। অন্যদিকে, ইরান বলছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন কোনো সমঝোতা হয়নি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো যুদ্ধবিরতির কাঠামোর মধ্যেই রয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) নৌ কমান্ড জানিয়েছে, বেসামরিক জাহাজগুলো শুধু ইরানের নির্ধারিত পথ দিয়ে চলাচল করতে পারবে। তবে সামরিক জাহাজের চলাচল পুরোপুরি নিষিদ্ধ থাকবে। এছাড়া তারা আরও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ইরানের অনুমতির ওপর নির্ভর করবে। এটি লেবাননের যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। সূত্র : শাফাক নিউজ

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক উপকরণ নিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

ফাইল ছবি

যুদ্ধবিরতির পরও থামেনি সহিংসতা, দক্ষিণ লেবাননে বিস্ফোরণ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীতে অশান্তির পর কি শান্তির পথে ট্রাম্প?

ছবি: সংগৃহীত
সংঘাত নিরসনে সোমবার ফের আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আগামী সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার উচ্চ-পর্যায়ের শান্তি আলোচনা সম্ভাবনা রয়েছে। আলোচনা সম্পর্কে অবগত ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।    কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, মার্কিন-ইরানি প্রতিনিধিদলগুলো আগামীকাল রোববার পাকিস্তানের রাজধানীতে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।  এরআগে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) পাকিস্তানের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার থেকেই উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়। এই প্রচেষ্টা সফল হয়েছে, কারণ উভয় পক্ষই দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি মেনে চলছে, যা পাকিস্তানকে তার মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা পুনরায় শুরু করার সুযোগ করে দিয়েছে। পর্দার আড়ালে কাজ করার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বুধবার ত্রিদেশীয় সফরে বের হন, একই দিনে দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির তেহরানে পৌঁছান। সৌদি ও কাতারের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর শেহবাজ বৃহস্পতিবার রাতে তুরস্কে পৌঁছেছেন। আর ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে সেখানে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় কাটিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান। যদিও পাকিস্তান এসব আলোচনার ফলাফল নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি, তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা হঠাৎ সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ইসলামাবাদের কর্মকর্তাদের মতে, ইসলামাবাদ এবং পার্শ্ববর্তী শহর রাওয়ালপিন্ডিতে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে, কারণ অন্যান্য প্রদেশ থেকে হাজার হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী আসতে শুরু করেছে। সাধারণত ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন হলে ইসলামাবাদ প্রশাসন অনান্য প্রদেশগুলোর কাছে সহায়তা চেয়ে থাকে। গত শনিবার ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার প্রথম দফায় রাজধানীতে ১০ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করেছিল পাকিস্তান। এদিকে শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা আরও জোরদার হয়েছে যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে তিনি ইসলামাবাদে যেতে পারেন। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে আলোচনাধীন ‘প্রায় সবকিছুই’ তেহরান মেনে নিয়েছে। প্রসঙ্গত, টানা ৪০ দিন যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তারপর একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বৈঠকে বসেন মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা, যা ১৯৭৯ সালের পর মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ এবং ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। তবে ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পরও কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয় এবং উভয় দেশের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন।   বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনার জন্য এখনো কোনো তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আলোচনা নিয়ে গণমাধ্যমগুলোকে যাচাইবিহীন প্রতিবেদন প্রকাশ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। সূত্র: সিএনএন, এনডিটিভি

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে শিথিল হচ্ছে ইন্টারনেট বিধিনিষেধ, স্বস্তি ব্যবহারকারীদের

ছবি: সংগৃহীত

অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুঁশিয়ারি

ছবি : সংগৃহীত

সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে শর্ত রাখল ইরান

0 Comments