ইউক্রেইন যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিক থেকেই রাশিয়া ও ইউক্রেইনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছেন রুশ ধনকুবের আব্রামোভিচ।
ইউক্রেইনে শান্তি আলোচনা নতুন করে শুরু করতে রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ধনকুবের রোমান আব্রামোভিচের সাহায্য চেয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
তিনি আব্রামোভিচকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
মে মাসে তাদের মধ্যে এই আলাপ হয় বলে রোববার প্রকাশ করা এক খবরে জানিয়েছে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস (এফটি) । সংশ্লিষ্ট চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি এই তথ্য জানিয়েছে।
আর রোববার স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আব্রামোভিচের সঙ্গে ওই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলেনস্কি নিজেই।
ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, “আব্রামোভিচ এসেছিলেন আর তিনি আমাকে এই বার্তা দিতে চেয়েছিলেন যে, আমরা (ইউক্রেইন) কী করতে প্রস্তুত, তা তারা (রাশিয়া) জানতে চায়।”
জেলেনস্কি জানান, তিনি আব্রামোভিচকে পুতিনের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে বলেন যে ‘ইউক্রেইন কখনোই দনবাস অঞ্চল সমর্পণ করবে না’।
পাশাপাশি রাশিয়া বা বেলারুশের বাইরে যেকোনো দেশের এক শহরে পুতিনের সঙ্গে সরাসরি মুখোমুখি বৈঠকে বসতে তিনি প্রস্তুত বলেও জানান।
জেলেনস্কি বলেন, “আমি বলেছি আপনি আগামীকাল থেকে যেকোনো সময়, যেকোনো দিন এবং যেকোনো ফরমেট বেছে নিতে পারেন।”
অবশ্য এই বৈঠক নিয়ে জেলেনস্কির বক্তব্য এবং ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনের তথ্যের মধ্যে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে বলে জানিয়েছে কিইভ ইনডিপেন্ডেন্ট।
ইনডিপেন্ডেন্টের সূত্রগুলো জানিয়েছে, জেলেনস্কিই মে মাসে আব্রামোভিচকে কিইভে আমন্ত্রণ জানান এবং পুতিনের কাছে একটি বার্তা পাঠাতে বলেন, যেখানে ইউক্রেইনীয় প্রেসিডেন্ট মুখোমুখি শীর্ষ বৈঠকে বসার বিষয়ে তার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ ভিন্ন দিকে থাকা সত্ত্বেও ইউক্রেইন যে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, কিইভ মূলত সেটিই দেখাতে চেয়েছিল।
তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
শুক্রবার সেন্ট পিটার্সবার্গ অর্থনৈতিক ফোরামে পুতিন বলেন, গত ২১ মে কিইভ সফর শেষে আসা রাশিয়ার ব্যবসায়িক মহলের এক প্রতিনিধির সঙ্গে তিনি বৈঠক করেছেন।
পুতিন জানান, তিনি সেই প্রতিনিধিকে স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের কোনো যৌক্তিকতা তিনি দেখছেন না। পুতিন আরও উল্লেখ করেন, ওই ব্যবসায়ী (নাম উল্লেখ করেননি) কোনো দাপ্তরিক বা আনুষ্ঠানিক ক্ষমতাবলে এই বার্তা বহন করেননি।
অন্যদিকে, ইউক্রেইনীয় সরকারের একটি সূত্র দেশটির সংবাদমাধ্যম 'সুসপিলনে'-কে ঘটনার যে বিবরণ দিয়েছে, তা জেলেনস্কির বক্তব্যের সঙ্গেই বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ওই সূত্রটি জানায়, যুদ্ধ অবসানে ইউক্রেইনের শর্তগুলো কী, তা জানতেই মূলত রাশিয়ার পক্ষ থেকে জেলেনস্কি ও আব্রামোভিচের মধ্যকার এই বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
রোমান আব্রামোভিচ হলেন রাশিয়ার একজন বিলিয়নেয়ার এবং ফুটবল ক্লাব চেলসির সাবেক মালিক। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে যুক্তরাজ্য তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং তাকে চেলসি ক্লাবটি বিক্রি করে দিতে বাধ্য করা হয়।
জেলেনস্কি-পুতিন শীর্ষ বৈঠক আয়োজনে আব্রামোভিচের এই মধ্যস্থতার চেষ্টাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যার মাত্র তিন দিন আগে পুতিনকে সরাসরি আলোচনার চ্যালেঞ্জ জানিয়ে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছিলেন জেলেনস্কি।
ওই চিঠিতে যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি রাশিয়ার জনগণকে এই বার্তা দেওয়া হয়েছিল, এই যুদ্ধ মস্কোর জন্য একটি কানাগলি। ২০২২ সালের পর পুতিনের কাছে এটিই ছিল জেলেনস্কির প্রথম কোনো সরাসরি বার্তা।
এফটি-কে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আব্রামোভিচের মাধ্যমে পুতিনের কাছে পাঠানো বার্তাটির মূল কথা খোলা চিঠির মতোই ছিল, তবে এর ভাষা ছিল তুলনামূলক কম আক্রমণাত্মক।
অবশ্য খোলা চিঠিটিকে ‘অশোভন’ আখ্যা দিয়ে পুতিন ইতিমধ্যেই জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব পুনরায় নাকচ করে দিয়েছেন।
২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিক থেকেই রাশিয়া ও ইউক্রেইনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছেন আব্রামোভিচ। তিনি এর আগে বন্দী বিনিময় এবং কৃষ্ণসাগর শস্য চুক্তির আলোচনা সফল করতে সহায়তা করেছিলেন।
আব্রামোভিচের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, ডনাল্ড ট্রাম্প ফের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর রাশিয়া সরাসরি মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করায় এই ধনকুবেরের ভূমিকা কিছুটা আড়ালে চলে গেলেও, তিনি এখনো কিইভ ও মস্কোর মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বৃহৎ সামরিক হামলা চালানোর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছেন। তার দাবি, ইরান এখনো যথেষ্ট মূল্য দেয়নি। বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমি একটি ব্যাপক হামলার কথা বিবেচনা করছি। আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বড়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার খুব কাছাকাছি আছি। আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে তিনি স্বীকার করেন, এমন সিদ্ধান্তের বড় ধরনের পরিণতি হতে পারে। একই সঙ্গে জানান, এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি এবং এ বিষয়ে কোনো সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়নি। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তিনি আহ্বান জানালে ইসরায়েল দুই মিনিটের মধ্যেই অভিযানে যোগ দেবে। তবে তিনি যোগ করেন, আমাদের কারও প্রয়োজন নেই। এছাড়া ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েল হামলায় অংশ নিলে তারও পরিণতি হতে পারে, যা ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের কর্মকর্তারা আলোচনায় আগ্রহী হলেও বর্তমানে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুত নন।
ইয়েমেনের হুথি (আনসারুল্লাহ) গোষ্ঠী সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। গোষ্ঠীটির ভাষ্য, তাদের জারি করা সমুদ্রপথে চলাচল নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় ট্যাংকার দুটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। শাফাক নিউজের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার আনসারুল্লাহর সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, এনসেলা ও লায়লা নামের দুটি ট্যাংকারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়। তিনি দাবি করেন, হামলায় জাহাজ দুটিতে বড় ধরনের আগুন লাগে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে প্রায় ১০টি জাহাজকে পথ পরিবর্তন করে ফিরে যেতে বাধ্য হতে হয়। হুথিদের দাবি, এটি তাদের ‘অবরোধের জবাবে অবরোধ’ কৌশলের অংশ। এর উদ্দেশ্য সৌদি আরবকে ইয়েমেনের ওপর ১২ বছরের অবরোধ প্রত্যাহার এবং দেশটির অধিকার ও সম্পদ ফিরিয়ে দিতে চাপ সৃষ্টি করা। তবে এ হামলার দাবির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে চলতি সপ্তাহে হুথিরা সৌদি আরব-সংশ্লিষ্ট নৌ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছিল, রিয়াদ যদি সামরিক অভিযান আরও বাড়ায়, তাহলে তার জবাবে ‘ব্যাপক ও কঠোর’ প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। হুথিদের অভিযোগ, গত ১৩ জুলাই সৌদি বাহিনী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়ে চার বছর ধরে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে বিক্ষোভ আরও তীব্র হচ্ছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে হওয়া এই আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে। তিনি এখনো পদত্যাগ না করায় আন্দোলনও বেগবান হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল সকাল নতুন ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, যারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং এ বিচার হবে দ্রুত বিচার আদালতে। ফেসবুকে মোদি লিখেছেন, “আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না! প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষায় নেওয়া ধারাবাহিক উদ্যোগগুলোরই অংশ এটি।” “যারা আমাদের তরুণদের ভবিষ্যতের ক্ষতি করার চেষ্টা করবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।” এদিকে বিক্ষোভকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষমা চাইতে বলেছে। বিক্ষোভস্থলে বাড়ছে ভিড়, ফের বন্ধ করা হলো ১৬ মেট্রো স্টেশন নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে আবারও ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দিয়েছে দিল্লি মেট্রোরেল কর্পোরেশন (ডিএমআরসি)। আজ বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ করে এমন ঘোষণা দেয় সংস্থাটি। এতে করে হাজার হাজার অফিসগামী চাকরিজীবী এবং শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। দিল্লির জন্তর মন্তরে গত দুই মাস ধরে আন্দোলন করছে ককরোচ জনতা পার্টি। তাদের এ আন্দোলন গত কয়েকদিন ধরে বেগবান হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল বুধবার ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। জন্তর মন্তরে ভিড় আরও বাড়তে থাকায় আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৬টি স্টেশন বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে এক পোস্টে দিল্লি মেট্রো কর্পোরেশন বলেছে, “পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চক, প্যাটেল চক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারাকহাম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোর বাগ এবং শিবাজি স্টেডিয়াম মেট্রো স্টেশন বন্ধ থাকবে।” গতকাল ঠিক এই স্টেশনগুলোই বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর প্রায় ৮ ঘণ্টা পর মেট্রো খুলে দিয়ে আবারও আজ সকালে স্টেশনগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যম দ্য উইক জানিয়েছে, স্টেশন বন্ধের পর সাধারণ মানুষ অনেক বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। চাকরিজীবীদের দেখা গেছে লম্বা লাইন ধরে বাসে উঠছেন। অনেকে ট্যাক্সিক্যাব ভাড়া করে গন্তব্যে যাচ্ছেন।